ভাঙছে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্র কটকা, জৌলুস হারাচ্ছে জামতলা সী-বীচ
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫২
কবির হোসেন কিবরিয়া, শরণখোলা : সাগরে ভাঙছে সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র কটকা। সাগরে বিলীন হয়েছে বনরক্ষীদের ব্যারাক, চলাচলের রাস্তা, পুকুর, রেস্ট হাউসসহ বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা এবং গাছপালা। অপরদিকে জৌলুস হারাচ্ছে কটকার আরেকটি পর্যটন স্পট জামতলা সী-বীচ।
গত ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সরেজমিন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের অন্যতম কটকা পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ক্রমান্বয়ে বঙ্গোপসাগরে ভাঙছে কটকার বনভূমি। গত দুই বছরে কটকা অভয়ারণ্য পর্যটন কেন্দ্রের কয়েকটি পাকা স্থাপনা, রাস্তা, ও গাছপালা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মো. মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন যাবত সাগরের ভাঙনের কবলে পড়েছে কটকা বনাঞ্চল। প্রতিনিয়ত বনভূমি ও গাছপালা সাগরে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের কারণে গত দুই বছরে কটকার বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্ট হাউস ভবন, লোক চলাচলের রাস্তা, পুকুর এবং বিপুল গাছপালা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। কয়েকবার স্টাফ ব্যারাক সরাতে হয়েছে। বর্তমানে সাগর অতি কাছে চলে এসেছে।
আগামী বর্ষা মৌসুমে এখন বিদ্যমান ব্যারাক, অফিস ও রেস্ট হাউস সাগরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে কংক্রিটের ব্লক ফেলা দরকার বলে কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান।
অপরদিকে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্পট কটকার জামতলা সী-বীচ তার জৌলুস হারাতে বসেছে। সী-বীচে এখন তেমন বালু নেই। বীচ এখন অনেকটা কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক কারণে বীচের বালু জোয়ারের পানিতে সুন্দরবনের মধ্যে উঠে গেছে। জামতলা সী-বীচে ঘুরতে আসা পঞ্চগড়ের পর্যটক মোজাম্মেল হোসেন বলেন, জামতলা সী-বীচের রূপ জৌলুস এখন অনেকটা হারিয়ে গেছে বলা যায়। এখানে এখন সী-বীচের সৌন্দর্য নেই। কর্দমাক্ত বীচে হাঁটা যায় না বলে জানালেন ঐ পর্যটকসহ অনেকে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনের কবলে পড়েছে কটকাসহ অনেক বনাঞ্চল। কটকায় বেশকিছু পাকা স্থাপনা পুকুর সাগরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত স্থান পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা জমা দিলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ডিএফও।