অধ্যাপক শাহ আক্তারের হাতে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী স্বাবলম্বী

সোনার বাংলা অনলাইন
২৫ অক্টোবর ২০২৫ ১০:৩৩

অধ্যাপক শাহ আক্তারের হাতে সাড়ে ৩ হাজার শিক্ষার্থী স্বাবলম্বী

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা

কুষ্টিয়ার মিরপুরে কম্পিউটার শিক্ষার এক আলোকবর্তিকার নাম অধ্যাপক শাহ আক্তার মামুন। পেশায় একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক হলেও তিনি তার শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রায় ৩ হাজার ৭০০জন মানুষকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। বর্তমানে এসব প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ ব্যক্তিরা বিভিন্ন সরকারি-বেসবকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। অনেকে আবার প্রশিক্ষণের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে গড়ে তুলেছেন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ২৫ বছর ধরে নীরবে-নিভৃতে কম্পিউটার শিক্ষায় অবদান রেখে চলেছেন অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক। তার হাত ধরে সাফল্যের দেখাও পেয়েছেন অনেকে। প্রচার বিমুখ এই মানুষটির বদৌলতে বদলে গেছে অনেকের জীবন।

জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার সুলতানপুর গ্রামের বাসিন্দা অধ্যাপক শাহ আক্তার মামুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগে লেখাপড়া শেষে ১৯৯৪ সালে মিরপুর মাহমুদা চৌধুরী কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য ভালো কিছু করার তাগাদা অনুভব করেন।

এরপর ২০০০ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর “চলার পথে আপনাকে এক ধাপে এগিয়ে দিতে…” শ্লোগানে স্থানীয় মিরপুর নতুন বাজারে বনলতা কম্পিউটার সেন্টার নামে ছোট্ট একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তিনি। পরবর্তীতে ২০১২ সালে এই প্রতিষ্ঠানটি ওয়ার্ল্ড ইনফরমেশন টেকনোলোজি, পাবনার রেজিষ্ট্রেশনভুক্ত হয়। এ ছাড়াও ২০১৫ সালের ১জানুয়ারী বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের অনুমোদন পায় এই প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে এই ট্রেনিং সেন্টারে দুটি ট্রেড চালু রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গোড়ে ওঠার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭০০জন শিক্ষার্থী এখান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এসব শিক্ষার্থীদেরকে শাহ আক্তার মামুন নিজেই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

জাকারিয়া মুজাহিদ নামে বেসরকারি এক চাকুরীজীবি বলেন, স্থানীয় মফস্বল পর্যায়ে এমন একজন ব্যক্তি আছে বিধায় অনেকে এখান থেকে সহজে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন। এই এলাকার মানুষকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে জেলা শহরে যেতে হয় না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিরলস ভাবে মানুষকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী করে তুলছেন।

শারমিন আক্তার নামে স্থানীয় এক শিক্ষার্থী বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে আমি নিজে এবং আমার পরিবারের আরও অনেক সদস্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে। অনেক শিক্ষার্থী অধ্যাপক শাহ আক্তার মামুন স্যারের কাছে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে আসেন।

স্থানীয়রা জানায়, অধ্যাপক শাহ আক্তার মামুন দীর্ঘদিন ধরে নানান সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন। এলাকায় সমাজ সেবক হিসেবেও বিশেষ পরিচিতি রয়েছে তার।

অধ্যাপক শাহ আক্তার মামুন বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে ৪৩ হাজার টাকায় একটি কম্পিউটার কিনে মাত্র দুইজন শিক্ষার্থী নিয়ে বনলতা কম্পিউটারের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখানে এখন প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছে। প্রতিদিন ৪টি ব্যাচে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালানো হয়। কম্পিউটার প্রশিক্ষনার্থীদের মধ্যে বেশিরভাগ স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী রয়েছে। এছাড়াও অনেক পেশাজীবি কম্পিউটার শিখতে আসেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমি ছাড়াও এখনে আরো তিনজন আমার সহযোগী প্রশিক্ষক রয়েছেন। এখানে শুধু মানুষকে কম্পিউটার শিক্ষা দেয়া হয় না। এর পাশাপাশি ইংরেজি ভাষায় দক্ষ করে তুলতে বনলতা কম্পিউটারে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে স্পিকিং ক্লাস করানো হয়। আমার কাছ থেকে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করে অনেকেই আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন এবং তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। অনেকেই আবার এখান থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। যতদিন বেঁচে আছি মানুষের ভালোর জন্য এভাবে কাজ করে যেতে চাই।