দেশ গড়ার আহ্বান আমীরে জামায়াতের
২৪ জুলাই ২০২৫ ০৯:০৬
গত ১৯ জুলাই শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান -ছবি : আব্দুল আজীজ ফারুকী
আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
তোমরা শুধু দর্শক হয়ে থাকবে না, এই দেশ গড়ার যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে। এটা শুধু কোনো শ্রেণির যুদ্ধ নয়, এটা চাষি, মজুর, ছাত্র, যুবক- সব শ্রেণির মানুষের যুদ্ধ। ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ করে এসব কথা বলেছেন। গত ১৯ জুলাই শনিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের বিশাল জনসমুদ্রে সভাপতির বক্তব্যে তিনি দেশবাসীর কাছে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ায় সহযোদ্ধা হিসেবে পাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশটা কেমন হবে? আমি বলি আরেকটা লড়াই হবে, ইনশাআল্লাহ। একটা লড়াই হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। আরেকটা লড়াই হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে, ইনশাআল্লাহ। এ দুর্নীতির মূলোৎপাটন করার জন্য যা দরকার, আমরা তারুণ্য এবং যৌবনের শক্তিকে একত্র করে সেই লড়াইয়েও যুক্ত হবো এবং বিজয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।
বিপ্লবোত্তর বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশ দেশের জাতীয় নেতা এবং লাখো জনতার দেশ গড়ার শপথের এক সুশৃঙ্খল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল। শহীদ আবদুল মালেকের শহীদি রক্তরাঙা সোহরাওয়ার্দী উদ্যান জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়, ‘শহীদি ঈদগাহে’ পরণিত হয়েছিল। নতুন বাংলাদেশ গড়ার শপথে সবাই স্লোগানে স্লোগানে ফিরেছেন যার যার জেলা, উপজেলা ও গ্রামগঞ্জে।
জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মজলুম জননেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মো. সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞ আইনজীবী এডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, অন্যতম জুলাইযোদ্ধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম প্রমুখ।
আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, গণঅধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হক নূর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, নেজামে ইসলামের মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির সভাপতি এডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এসএম মোস্তাফিজুর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের আমীর আবু জাফর কাসেমী, জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বিশিষ্ট মিডিয়াব্যক্তিত্ব ড. ফয়জুল হক, কয়েকটি শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং কয়েকজন জুলাইযোদ্ধা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিমের যৌথ পরিচালনায় জাতীয় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, আবদুর রব, অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, মোবারক হোসাইন প্রমুখ।
এ সংগ্রামে আসবেই বিজয়
‘পড়ে যাওয়া মানে হেরে যাওয়া নয়, নবশক্তির উদ্বোধন এ সংগ্রামে আসবেই বিজয়।’ প্রতিবেদকের মনে শুধু নয়, এ উদ্যম আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান জাগিয়েছেন সমাবেশে আগত-অনাগত কোটি কোটি দেশবাসীর মনে। জামায়াতে ইসলামীর আমীর শুরুতেই জনগণের উদ্দেশে সালাম দেন। এরপর উপস্থিত অতিথি, নেতাকর্মী, জুলাই আন্দোলনে আহত ও শহীদদের পরিবারের সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। এক মিনিট পরই আবার উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, তত সময় মানুষের জন্য লড়াই করব, ইনশাআল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না। বাংলার মানুষের মুক্তি অর্জন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।’ চিকিৎসকদের পরামর্শে মঞ্চে বসেই বক্তব্য শেষ করেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিন নেতাকর্মীর মৃত্যুর খবর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজকের সমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে আমাদের তিন ভাই ইন্তেকাল করেছেন। আল্লাহ তাদের জান্নাত দিন। পরিবারকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। তিনি বলেন, জাতির সামনে আমাদের অনেক করণীয়। অতীতে বুক পেতে দিয়ে জামায়াত শহীদ দিয়েছে। আজ যারা নতুন কথা বলছেন, তাদের অতীতের অবস্থান ইতিহাসে নেই। সুতরাং আমরা জাতীয় ঐক্য চাই। কিন্তু কারোর জাতিকে ছোট করে কথা বলার অধিকার নেই। চিকিৎসকদের অনেকে মনে করেন, আন্দোলন সংগ্রামের প্রশ্নে আমীরে জামায়াত আপসহীন দৃঢ়চিত্ত। কিন্তু তার মনটা কুসুমকোমল। কয়েকদিনের টানা পরিশ্রম, সমাবেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শাহাদাতের ঘটনা, শহীদ পরিবারের সদস্যদের বিচার না পাওয়া মলিন মুখ, দীর্ঘসময় খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ না করা এবং প্রচণ্ড গরম সব মিলিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত এবং তার দৃঢ় মনোবলের কারণে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
শোক প্রকাশ ও দোয়া
জাতীয় সমাবেশে এসে একজন এবং আসার পথে দুজনসহ মোট তিনজন ইন্তেকাল করায় আমীরে জামায়াত তাদের জন্য শোক প্রকাশ করে তাদের জন্য দোয়া করেন। আওয়ামী দুঃশাসনে নির্যাতিত ও শাহাদাতবরণকারীদের জন্য দোয়া করে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বৈরাচারের কঠিন অন্ধকার যুগের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে যারা তিলে তিলে দুনিয়া থেকে নির্যাতিত হয়ে বিদায় নিয়েছেন, অপশক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিদায় নিয়েছেন, যারা লড়াই করে আহত হয়েছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। যাদের ত্যাগ ও কুরবানির বিনিময়ে স্বৈরাচার বিদায় নিয়েছে, আমরা তাদের সবার কাছে গভীরভাবে ঋণী। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্ব যতদিন থাকবে, আল্লাহ যেন তাদের ঋণ পরিশোধ করার শক্তিটাও ততদিন আমাদের দান করেন। জামায়াত আমীর বলেন, এতগুলো মানুষ এমনি এমনি জীবন দেয় নাই। জীবন দিয়েছে জাতির মুক্তির জন্য।
দেশ গড়তে লড়াইয়ের আহ্বান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আজীবন সবার রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করেছি, জেল-জুলুমের পরোয়া করি নাই। আমার আফসোস! ২৪ সালে জাতিকে মুক্তি দিতে গিয়ে যারা জীবন দিয়ে শহীদ হলো, আমি তাদের একজন হতে পারলাম না। আপনাদের কাছে দোয়া চাই, ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ গড়ে তোলার জন্য আগামীতে যে লড়াই হবে- আমার আল্লাহ যেন সেই লড়াইয়ে আমাকে একজন শহীদ হিসেবে কবুল করেন।
জামায়াত আমীর বলেন, আমাদের প্রিয় শহীদ নেতৃবৃন্দ, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু করে শাপলা গণহত্যা, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, সারা দেশের গণহত্যা, ‘২৪-এর গণহত্যা যারা করেছে তাদের সবার বিচার বাংলাদেশের মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে। এদের বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু না করা পর্যন্ত পুরনো ব্যবস্থাপত্রে বাংলাদেশ আর চলবে না। এতগুলো মানুষ কেন জীবন দিলো। যারা পচা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে আবার ফেরত নিতে চান, তাদের আমরা বলি, জুলাই যুদ্ধ করে যারা জীবন দিয়েছে আগে তাদের জীবনটা ফেরত এনে দেন। যদি শক্তি থাকে ফেরত এনে দেন। কিন্তু আপনারা পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, যদি পুরনো সবকিছুই টিকে থাকবে, তাহলে কেন তারা জীবন দিয়েছিল? যারা ওই বস্তাপচা ব্যবস্থাপনায় আবার বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দিতে চান, তারা কি পারবেন জীবনগুলো ফিরিয়ে দিতে? অবশ্যই পারবেন না। তাই তাদের ভুলে গেলে চলবে না, এতগুলো মানুষ এমনি এমনি জীবন দেয়নি। যে উদ্দেশে নতুন বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই বাংলাদেশ আমরা জীবন দিয়ে হলেও প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ। পুরো পচা ব্যবস্থায় আর এদেশ ফিরবে না।
তিনি বলেন, শহীদ আবু সাঈদরা যদি বুক পেতে না দাঁড়াতো, এ জাতির মুক্তির জন্য যদি বুকে গুলি লুফে না নিতো; হয়তো আজকের এ বাংলাদেশটা আমরা দেখতাম না। ইতোমধ্যে হয়তো আরো অনেক মানুষের জীবন ফ্যাসিবাদীদের হাতে চলে যেত। চব্বিশে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধটা যদি না হতো, তাহলে আজকে যারা বিভিন্ন ধরনের কথা এবং দাবি-দাওয়া পেশ করছেন, তারা তখন কোথায় থাকতেন?
জামায়াত আমীর বলেন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালার এ নেয়ামত পাওয়া, তাদের যেন অবজ্ঞা-অবহেলা না করি। অন্য দলকে যেন তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য না করি। অরাজনৈতিক ভাষায় আমরা যেন কথা না বলি। যদি এগুলো আমরা পরিহার করতে না পারি, তাহলে বুঝতে হবে ফ্যাসিবাদের রোগ আমাদের মধ্যে নতুন করে বাসা বেঁধেছে। রাজনৈতিক শিষ্টাচার রক্ষা করে জাতীয় ঐক্যের বীজতলাটা আমরা সবাই মিলে এক সাথে তৈরি করবো, ইনশাআল্লাহ।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ যত সময় হায়াত দিয়েছেন, তত সময় মানুষের জন্য লড়াই করবো, ইনশাআল্লাহ। এ লড়াই বন্ধ হবে না। বাংলার মানুষের মুক্তি অর্জন হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। জামায়াতে ইসলামী যদি আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের ভালোবাসায় বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পায়, তাহলে মালিক হবে না সেবক হবে, ইনশাআল্লাহ। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি আগামীতে সরকার গঠন করে, তাহলে কোনো এমপি ও মন্ত্রী আগামীতে সরকারি প্লট গ্রহণ করবে না। কোনো এমপি বা মন্ত্রী ট্যাক্সবিহীন কোনো গাড়িতে চড়বে না। তারা নিজেদের হাতে কোনো টাকা চালাচালি করবে না। কোনো এমপি বা মন্ত্রী যদি তার নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে দেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে তারা তার প্রতিবেদন তুলে ধরতে বাধ্য হবেন। চাঁদা আমরা নিবো না, দুর্নীতি আমরা করবো না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এখানে জামায়াতের আমীর হিসেবে নয়, ১৮ কোটি মানুষের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি। শিশুদের বন্ধু, যুবকদের ভাই, প্রবীণদের সহযোদ্ধা হয়ে এসেছি, এ জাতির মুক্তির প্রত্যয়ে। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মুক্তির জন্য আমার লড়াই নয়। রাস্তার একজন পরিচ্ছন্নকর্মী, চা-বাগানের একজন শ্রমিক, রক্ত পানি করা, ঘাম ঝরানো রিকশাচালক ভাই, মাঠে-ময়দানে বাংলাদেশের মানুষের মুখে যারা এক মুঠো ভাত তুলে দিতে চায়- আমার সেই কৃষক বন্ধুটি, আমি তাদের হয়ে আজকে কথা বলতে এসেছি। আমি কোনো অভিজাত শ্রেণির হয়ে কথা বলতে আসিনি।
তরুণদের উদ্দেশে আমীরে জামায়াত
তরুণ প্রজন্মকে বিশেষভাবে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, তোমরা শুধু দর্শক হয়ে থাকবে না, এই দেশ গঠনের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে। এটা শুধু কোনো শ্রেণির যুদ্ধ নয়, এটা চাষি, মজুর, ছাত্র, যুবক সব শ্রেণির মানুষের যুদ্ধ। জনগণের উদ্দেশে জামায়াত আমীর বলেন, এ লড়াই শুধু জামায়াতের নয়, এ লড়াই সবার। নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাইলে, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতি চাইলে আসুন আমরা সবাই মিলে এগিয়ে যাই।

অসুস্থ হওয়ার এক মিনিট পর তিনি আবার ওঠে দাঁড়ান। চিকিৎসকদের পরামর্শে না দাঁড়িয়ে বসে বসে আমীরে জামায়াত তাঁর বক্তব্য অব্যাহত রাখেন এবং তাঁর কথা শেষ করেন।
ছবি: সোনার বাংলা
সবার কাছে দোয়া চাইলেন আমীরে জামায়াত
সবার কাছে দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছা, শরীর আমাকে সাময়িকভাবে সহযোগিতা করেনি। এটাও আল্লাহর ইচ্ছা যে এখন আল্লাহ আমাকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। আমার মউত আল্লাহ-নির্ধারিত সময় থেকে এক সেকেন্ড আগে হবে না এবং হায়াত যা দিয়েছেন, তার এক সেকেন্ড আগেও আমি যাব না।’ আমার আফসোস! যারা ২০২৪ সালে শহীদ হয়েছেন, আমি তাদের সঙ্গে শহীদ হতে পারিনি। আপনাদের কাছে দোয়া চাই- আগামী দিনের ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লড়াইয়ে আল্লাহ যেন আমাকে শহীদের মর্যাদা দেন।