দেশের নিরাপত্তায় সাহসী উদ্যোগ
২১ মে ২০২৬ ০৯:৩৬
॥ হারুন ইবনে শাহাদাত ॥
আবার উদীয়মান বাঘের গর্জন শোনা যাচ্ছে। সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার সোনারহাট সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের গুলির জবাবে পাল্টা গুলি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে এ ঘটনায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্থিতিশীল রয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক।
৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশের সাথে চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সামরিক এবং কৌশলগত যোগাযোগ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন হিসেবে দেখছে, বিশ্বের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। সেই গর্জনে দিল্লির হৃদকম্পন দেখা দিয়েছে। ভারতের আগ্রাসন মোকাবিলায় এ অঞ্চলের শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, ভুটানের মতো দেশও চোখে চোখ রেখে কথা বলছে। তবে কেন বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে?
পিছিয়ে থাকবে না বাংলাদেশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই- বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য একমাত্র হুমকি প্রতিবেশী ভারত। তাই লেন্দুপ দর্জি চরিত্রের শাসক এবং সামান্য ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থের বিনিময়ে দাসখত দেয়া বিশ্বাসঘাতকরা ছাড়া কেউ এ সত্য অস্বীকার করেন না। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ১৯৪৭-এ ব্রিটিশদের নিকট থেকে স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই এ ভূখণ্ডের শাসনকেন্দ্রে বারবার লেন্দুপ দর্জিদের তৎপরতা দেখা গেছে এবং যাচ্ছে। বিশেষ করে ১৯৭১-এর স্বাধীনতা সংগ্রামে ভারতের ভূমিকাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এ গোষ্ঠী দেশে সামরিক ও নিরাপত্তার বিষয়টিকে দুর্বল করে রেখেছে। সামরিক খাতে বাজেট বাড়ানোর বিরুদ্ধে রাজপথে মিছিল করার মতো রাজনৈতিক দলও বাংলাদেশে আছে। তারা ভারতের মতো বড় দেশের মোকাবিলার জন্য সামরিক শক্তির চেয়ে অনুগত দাস হয়ে থাকাকেই নিরাপদ মনে করে।
অথচ ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে কয়েক মিনিটে মানচিত্র থেকে ‘মুছে ফেলার’ এবং এ অঞ্চলকে ফিলিস্তিনে পরিণত করার হুমকি দিয়ে দাদাগিরি ফলায়। অনুগত ঐ গোষ্ঠী এর জবাবে সামরিকশক্তি বাড়ানোর বদলে তোষণ বাড়িয়ে করদরাজ্যের রাজা হিসেবে ক্ষমতায় থাকার মেরুদণ্ডহীন নীতিকেই নিরাপদ বলে মনে করেন দেশের একশ্রেণির আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা। তাদের এমন নতজানু দিল্লির আজ্ঞাবহ পররাষ্ট্রনীতির কারণে বাংলাদেশ সামরিক শক্তি ও কৌশল দুভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে গোয়েন্দা তথ্যের গোপনীয়তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা খুবই দুর্বল বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
সাপ্তাহিক সোনার বাংলার গত সংখ্যায় প্রকাশিত এ প্রতিবেদকের ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান সহযোগিতা চুক্তি চাণক্যপুরিতে অস্বস্তি’- শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতের দাদাগিরির ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ইন্টেরিয়র মিনিস্টার) সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভির বাংলাদেশ সফর। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ সহযোগিতা চুক্তির খবরে ভারতের অসন্তুষ্টির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত অসন্তুষ্ট হলেও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে একটি ভারসাম্য আসবে। বাংলাদেশ স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এ প্রক্রিয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শুরু হলেও বর্তমান সরকার তা এগিয়ে নেবে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ সহযোগিতা চুক্তি সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। এই চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ কারণ ভারতের সাথে মোকাবিলা করার পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা খুবই কার্যকর বলে মনে করেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তান এবং চীনের অভিজ্ঞতা
ভারতের মোকাবিলায় পাকিস্তান এবং চীনের সাথে অভিজ্ঞতা খুবই কার্যকর বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসআইপিজি (সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্স)-এর সিনিয়র ফেলো প্রফেসর এম এ রশীদের অভিমত হলো, ‘পাকিস্তানের সাথে সামরিক সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য কিছু কৌশলগত সুবিধা আনতে পারে, তবে এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও রাজনৈতিকভাবে জটিল।’
কেন পাকিস্তানের সাথে সহযোগিতা চুক্তিতে বাংলাদেশ লাভবান হবে, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান ভারতের সামরিক কৌশল সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞ। তাদের সাথে তথ্য ও কৌশলগত বিশ্লেষণ বিনিময় করলে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় মূল্যবান অন্তর্দৃষ্টি পেতে পারে। বিশেষ করে কাশ্মীর ও অন্যান্য সীমান্ত সংঘাত থেকে পাকিস্তানের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য উপযোগী হতে পারে।’
এ কথা এখন সর্বজনস্বীকৃত ১৯৭১ সালে ভারত বাংলাদেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা পালন এবং সহযোগিতা করেছে তার নিজের স্বার্থে। এ প্রসঙ্গে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বহুল প্রচলিত উক্তি, যা তিনি ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের পর ভারতের তৎকালীন লোকসভায় (সংসদে) বিজয়ের মুষ্টি উঁচিয়ে বলেছিলেন, ‘আজ হামনে হাজার সাল কা বদলা লে লিয়া’ (আজ আমরা হাজার বছরের প্রতিশোধ নিয়েছি)।
ইন্দিরা তথা ভারত পাকিস্তানকে দুর্বল করতে পেরেছে, এখন সেই দক্ষিণ এশিয়ার মহারাজা- এমন তৃপ্তি প্রকাশ করলেও তাকে চাপে রাখতে ইন্দিারা গান্ধীর উদ্দেশে জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেছিলেন, ‘এক ভারত কো আপনি মাশরিকী অউর মাগরিবী দোনো সারহাদো পার দো পাকিস্তানো কা সামনা কারনা পেড়েগা।’ (এক ভারতকে এখন পশ্চিম ও পূর্ব দুই সীমান্তে দুই পাকিস্তানের মোকাবিলা করতে হবে।)
জুলফিকার আলী ভুট্টোর কথার মর্ম ইন্দিরা গান্ধী বুঝেছিলেন, দেশ দুই ভাগ হলেও তাদের জাতিগত চেতনা ধ্বংস করা না গেলে ভারতের স্বপ্ন দুঃস্বপ্নই থেকে যাবে। তাই ইসলামী চেতনা ও মুসলিম জাতীয়তাবোধের মূলে কুঠারাঘাত হানার নীলনকশা আঁকে। বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার বয়ান তৈরি করে ইসলাম ও মুসলিম চেতনার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশকে কব্জায় রাখাতে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালায় বিলিয়ন বিলিয়ন রুপি খরচ করে।
২০২৪-এর ৩৬ জুলাই বিপ্লবের পর ভারতের সেই ষড়যন্ত্র প্রকাশ্যে আসে। তরুণসমাজ নিজেদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রকৃত অর্থ বুঝতে পারে। তাই তো তাদের মুখের সাহসী উচ্চারণ, ‘যতদিন আমাদের মনে সাঈদ, ওয়াসিম, মুগ্ধ ও সাজিদের রক্ত আছে, ততদিন ভারত আমাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে পারবে না। ভারতের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা হবে, সম্পর্ক হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে।’
এ ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার কৌশল হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস সামরিক ও কূটনৈতিক কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন।
সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের সিনিয়র ফেলো প্রফেসর এম এ রশীদ মনে করেন, ‘চীন ও পাকিস্তানের সাথে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম লাভের সুযোগ পাবে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা পাবে। এটি শুধু প্রতিরক্ষা খাতেই নয়; বরং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে। উদাহরণস্বরূপ চীনের সাথে যৌথভাবে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্থাপন, পাকিস্তানের সাথে মিলিটারি ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু এবং যৌথভাবে নৌ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন করা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতকে আধুনিকীকরণে সহায়ক হতে পারে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের চীন সফরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাত গুরুত্ব পাবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর আমন্ত্রণে ২০২৬ সালের ৫ থেকে ৭ মে পর্যন্ত তিনি সেদেশে সফর করেন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম বেইজিং সফর।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের চীন সফর
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের তিন দিনের সাম্প্রতিক চীন সফর দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বড় সাফল্য এনেছে। এ সফরে বাংলাদেশের মূলত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত দিয়েছে। পাশাপাশি মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, চট্টগ্রাম-গুয়াংজু সরাসরি ফ্লাইট চালু এবং দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ চুক্তি হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেও চীন তার মধ্যস্থতা বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছে। সর্বোপরি আগামী জুনে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বেইজিং সফরের একটি শক্তিশালী ভিত্তি প্রস্তুত করেছে এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, যা দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’কে আরও বেগবান করবে।
সামরিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে কোনো চুক্তি হয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের উত্তরে সূত্রটি কৌশলগত কারণে উত্তর দেয়া সম্ভব নয় বলে জানায়। তবে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে, দুই দেশের মধ্যে কোনো নতুন সামরিক চুক্তি না হলেও, আগের ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ (Comprehensive Strategic Cooperative Partnership) বজায় রেখে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
চীনের প্রযুক্তি কৌশলগত সহযোগিতা
চীনের কারিগরি সহযোগিতায় বগুড়া বিমানবন্দরকে আধুনিক সামরিক বিমানঘাঁটিতে রূপান্তর এবং দেশের প্রথম সামরিক ড্রোন (UAV) উৎপাদন কারখানা স্থাপনের প্রকল্প চূড়ান্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিমানবাহিনী এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজি গ্রুপ করপোরেশন (CETC) ইন্টারন্যাশনালের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে একটি ঐতিহাসিক জি-টু-জি (জিটুজি) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
এই ড্রোন ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট ও প্রযুক্তি হস্তান্তর (TOT) প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০৮ কোটি ৮ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকা বগুড়া এরুলিয়া বিমানবন্দরকে বিমানবাহিনীর একটি প্রধান কৌশলগত হাব হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। ড্রোন কারখানাটি এই ঘাঁটির ভেতরেই স্থাপিত হবে। প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দরের রানওয়ে বাড়িয়ে ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৬ হাজার ফুট পর্যন্ত সম্প্রসারণ এবং আধুনিক নেভিগেশন সিস্টেম যুক্ত করা হবে। এখানে প্রাথমিকভাবে ‘মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এনডিউরেন্স’ (MALE) এবং ‘ভার্টিক্যাল টেক-অব অ্যান্ড ল্যান্ডিং’ (VTOL) শ্রেণির সামরিক ও বেসামরিক ড্রোন উৎপাদন ও সংযোজন করা হবে।
বিষয়টি ভারত ভালো চোখে দেখছে না। তারা তাদের নিরাপত্তার ভিত্তিহীন অভিযাগ তুলে অনেকটা পায়ে পারা দিয়ে ঝগড়ার অজুহাত খুঁজছে। তেমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বাংলাদেশ যেন জবাব দিতে পারে। তার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে পাকিস্তান ও তুরস্ক অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে। কারণ আধুনিক দুনিয়ার উপযোগী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রযুক্তি হস্তান্তর
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য পাকিস্তান এবং চীনের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩’ (JF-17 Block III) যুদ্ধবিমানের একটি পূর্ণাঙ্গ কমব্যাট সিমুলেটর প্রযুক্তি সম্প্রতি বাংলাদেশে সফলভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের (Air Staff Talks) পর এই উন্নত প্রশিক্ষণ সিস্টেমটি হস্তান্তর করা হয়। এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদের নেতৃত্বে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের ৭ সদস্যের প্রতিনিধিদল গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকায় এসে বৈঠক করেছেন। ঢাকা সেনানিবাসে কয়েক দিনব্যাপী চলা এই আনুষ্ঠানিক আলোচনার পরপরই ১৬ মে জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক-৩ যুদ্ধবিমানের পূর্ণাঙ্গ কমব্যাট সিমুলেটরটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে সফলভাবে হস্তান্তর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র।
তুরস্কও বাংলাদেশে একটি ড্রোন কারখানা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাংলাদেশ তুরস্কের থেকে কোনো ড্রোন কারখানা স্থাপন বা প্রযুক্তি হস্তান্তরের চুক্তি এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাক্ষর করেনি। তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তুরস্কের বিখ্যাত কোম্পানি ‘বায়কার’ থেকে সামরিকভাবে অত্যন্ত সফল বায়রাক্তার টিবি২ (Bayraktar TB2) ড্রোন সংগ্রহ করেছে এবং বর্তমানে তা ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের সামরিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করতে ভারত সরকার নিয়ন্ত্রিত সেদেশের এবং এদেশের কিছু মিডিয়া ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ অপপ্রচারের মোকাবিলায় বাংলাদেশের মিডিয়ার জোরালো ভূমিকা পালনের বিকল্প নেই বলে মনে করে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।