দীর্ঘ লড়াইয়ের পর প্রতীকসহ নিবন্ধন ফিরে পেয়েছি
২৬ জুন ২০২৫ ১০:২৪
সোনার বাংলা রিপোর্ট: জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমরা দীর্ঘ আইনি লড়াই-সংগ্রাম করেছি। অবশেষে আপনারা জানেন, গত ১ জুন ২০২৫ তারিখে হাইকোর্টের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর আমরা আমাদের সেই অধিকার ন্যায্যভাবে ফিরে পেয়েছি এবং সেই আদেশের ভিত্তিতে আজ (গত ২৪ জুন মঙ্গলবার) নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আমাদের সেই নিবন্ধন দলীয় প্রতীকসহ ফেরত দেয়া হলো।
গত ১ জুন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এক সর্বসম্মত রায়ের মাধ্যমে দশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ নিবন্ধন ফিরিয়ে দেয়ার আদেশ প্রদান করেন। গত ৪ জুন নির্বাচন কমিশন আপিল বিভাগের রায়ের প্রেক্ষিতে দলীয় প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’র সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ফেরত দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং গত ২৪ জুন মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করে।
গত ২৪ জুন রাত পৌনে ৮টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার খাস মেহেরবানিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’সহ নিবন্ধন আদালতের রায়ের সূত্রে আজকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে আমরা অফিসিয়ালি ফিরে পেলাম। এজন্য মহান রব আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রাণ খুলে তৃপ্তির সাথে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি, আলহামদুলিল্লাহ।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আপনারা সমাজের সচেতন, বিবেকবান মানুষ। আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের চিন্তা-চেতনা, মন-মানসিকতা, রাজনীতিকরণ, ভোটাধিকারসহ সবকিছুর অভিব্যক্তি ও আকাক্সক্ষা জাতির কাছে দেশ-বিদেশে প্রতিফলিত হয়। এজন্য আপনাদের বলা হয় জাতির বিবেক। কীভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি গণতান্ত্রিক নিয়মতান্ত্রিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের ওপর পতিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকার জুলুম চালিয়েছিল, আমাদের অধিকারগুলো কীভাবে কেড়ে নিয়েছিল সব ইতিহাস দেশবাসীর জানা আছে। আপনাদের জানাতে চাই, ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের নিবন্ধন আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে বৈধভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধিত হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ২০১৮ সালের ২৮ অক্টোবর আদালতের মাধ্যমে আমাদের এ অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছিল। ২০০৯ সালের একটি রিট পিটিশনের সূত্র ধরে ২০১৮ সালে আদালতের এক আদেশে আমাদের নিবন্ধন বাতিল করেছিল।
তিনি আরো বলেন, এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আমাদের অধিকার কেড়ে নেয়ার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক এবং আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এ আইনি লড়াইয়ে আমাদের দেশের বরেণ্য আইনজীবীরা সহযোগিতা করেছেন; গণমাধ্যমের কর্মীরা সহযোগিতা করেরেছন। ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে সংবাদ পরিবেশন করে জাতির সামনে আপনারা বিবেককে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিকতার পেশার মহত্ত্বকে আপনারা তুলে ধরেছেন এবং বহাল রেখেছেন, সেজন্য আপনাদের সকলকে শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমি আবারও সর্বোপরি মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে বার বার শুকরিয়া আদায় করছি। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য দোয়া করেছেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর পক্ষ থেকে দেশে বিদেশে সকল সুধী, শুভাকাক্সক্ষী, প্রবাসী এবং দেশি সকল মানুষের কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।