কমেছে চালের মূল্য, সবজির মূল্য অর্ধেকেরও কম

উৎপাদন ও সরবরাহে সংকট নেই, স্বস্তিতে ক্রেতারা

স্টাফ রিপোর্টার
১৩ জুন ২০২৫ ০০:৩৭

স্টাফ রিপোর্টার : ঢাকার বাজারে সব ধরনের সবজির মূল্য কম, বলা যায় অনেকটাই কম। মাত্র ২৫ টাকায় এক কেজি ঢেঁড়স কেনা যাচ্ছে। আর পেঁপে ২৫ থেকে ৩০, ধুন্দল ২৫, চিচিঙ্গা ২৫, পটল ৩০ টাকা। এমন মূল্য গত কয়েক মাসেও ছিলো না। এছাড়া সব মুদি পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রয়েছে, কিছু কিছু পণ্যমূল্য কমেছে। চালের মূল্যও অনেকটা কমে গেছে। আলু, ডিম, পেঁয়াজের মূল্যও কম। তবে গত কয়েক মাস ধরেই ঢাকার বাজারে মাছের মূল্য বেশি। ১১ জুন ঢাকার বাজারে গিয়ে এমন তথ্য জানা গেছে।
রয়েল ক্রাউন (নাজিরশাইল) কাটারি ভোগ চালের ২৫ কেজির বস্তা এক মাস আগেও মূল্য ছিল ২১৫০ থেকে ২২০০ টাকা। এখন এই ব্র্যান্ডের একই পরিমাণ চালের মূল্য ১৮৫০ টাকা। অর্থাৎ ২৫ কেজির বস্তায় সাড়ে তিনশ’ টাকা মূল্য কমেছে। সেই হিসেবে প্রতি কেজি চাল ৮৮ টাকার স্থলে এখন কেনা যাচ্ছে ৭৪ টাকা দরে। অন্য সব ব্র্যান্ডের চালের মূল্য একই হারে না কমলেও কমবেশি কমেছে।
গোল আলু দেশের অপরিহার্য একটি সবজি। যা ধনী-গরিব সবার প্রয়োজন। বলা যায়, সব মানুষের খাদ্য তালিকায় এই সবজির প্রয়োজন পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই সবজির মূল্য ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলনের সময় এর মূল্য আরও কম ছিল। অথচ শেখ হাসিনার শাসনামলে এই আলু ৭০ টাকায় কিনতে হয়েছে। কেন এই আলুর মূল্য বেড়েছিল তার কোনো ব্যাখ্যা সরকার বা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। সিন্ডিকেট করে গরিবের অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির মূল্য বাড়িয়ে স্বল্প আয়ের মানুষের পকেট কাটা হয়েছে। ওই সময়ের ব্যবসায়ীরাই এখন ব্যবসা করছেন, আলুর উৎপাদন, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যয় এখনো আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু ২০ টাকার আলু ৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে না কোনো ক্রেতাকে।
ঈদুল আজহা পরবর্তী ঢাকার বাজার এখনো জমে ওঠেনি। অনেকে এখনো গ্রামের বাড়ি থেকে ফেরেননি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলায় রাজধানী স্বরূপে ফিরতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। রাজধানীতে বসবাসকারীরা এখনো না ফেরায় ঢাকার মাছের বাজারেও ক্রেতা কম। ফলে দামও কিছুটা কম, তবে তুলনামূলক অন্যান্য পণ্যের মূল্য কমলেও মাছের মূল্য কমেনি, কোনো কোনো মাছের মূল্য বরং বেড়েছে। বর্তমানে ঢাকার বাজারে কাতল মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, রুই ৩৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে চিংড়ি মাছের মূল্য ১৩০০ টাকা ছাড়িয়েছে। যা স্বল্প আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, চাঁদপুরের বড় ইলিশ ২৯০০ থেকে ৩৫০০ টাকা এবং মিয়ানমারের বড় ইলিশ ২১০০ থেকে ২৯০০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। আর দেশি ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ২২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।