জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব ও ভারতের নদ-নদীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ

বরেন্দ্র অঞ্চলে তীব্র পানি সংকট

সোনার বাংলা অনলাইন
১০ নভেম্বর ২০২৫ ০৮:১৫

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব ও ভারতের নদ-নদীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বরেন্দ্র অঞ্চলে তীব্র পানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে তীব্র পানি সংকট

গত কয়েক দশকে জলবায়ুর আমূল পরিবর্তনের প্রভাব ও দেশের উজানে ভারতের ফারাক্কাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের বরেন্দ্র অঞ্চলে তীব্র পানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বদলে গেছে এ অঞ্চলের জীবন ও জীবিকা। পরিবেশবিদ ও গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি।
গত কয়েক দশকে জলবায়ুর আমূল পরিবর্তনের প্রভাবে বরেন্দ্র অঞ্চলে তীব্র পানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে বদলে গেছে এ অঞ্চলের জীবন ও জীবিকা। পরিবেশবিদ ও গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি। ৪০ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়। গত ১০ বছরে বৃষ্টির পরিমাণ একেবারেই কম। বছরের আট মাসই থাকে বৃষ্টিহীন। এ অঞ্চলে শক্ত এঁটেল মাটির কারণে ভূগর্ভে পানি নামে না। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৮ মিটার উঁচু। ভারতের পানি বৈষম্যের কারণে নদীগুলোয়ও নাব্যতা নেই। এসব কারণে ২০০০ সালের পর থেকে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ব্যাপক হারে নেমেছে। যার প্রভাব পড়েছে মানুষের জীবন ও জীবিকায়।

বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) তথ্যমতে, বৃহত্তর রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া ও পাবনা জেলা নিয়ে গঠিত বরেন্দ্র অঞ্চল। এ অঞ্চলে রয়েছে বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমি, যাতে ধান-গমের পাশাপাশি অন্যান্য ফসল চাষাবাদ হয়। বাংলাদেশের সিংহভাগ চালের জোগানদাতাও এ অঞ্চল। ধান বোনা থেকে শুরু করে কর্তনের আগ পর্যন্ত প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়, যা অন্য কোনো ফসলে লাগে না। প্রাকৃতিকভাবে পানির জোগান না থাকায় এসব ধানি জমিতে পানির জোগান দেয় বিএমডিএ। এ অঞ্চলজুড়ে বিএমডিএর রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডিপ টিউবওয়েল, যা ভূগর্ভের পানি তুলে জমিতে দেয় চাষাবাদের জন্য। তীব্র পানি সংকটের কারণে ২০০৯ সাল থেকে বরেন্দ্রভূমিতে খরাপ্রবণতা বেড়েছে। গত ১০ বছর এ অঞ্চলে বৃষ্টিও হচ্ছে অনিয়মিত ও স্বল্প। এদিকে দিনের পর দিন সারা বছর চাষাবাদের জমিতে পানি সরবরাহের কারণে ভূগর্ভের পানি উল্লেখযোগ্য হারে নামছে। সম্প্রতি বরেন্দ্র অঞ্চলের রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়পুরহাটের ৫০টির মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে ছোট-বড় কয়েকটি প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। এ বিষয়ে কথা হয় ব্র্যাকের সিনিয়র ম্যানেজার মিথুন মজিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে পানির। আগে এ এলাকায় ধান চাষ হতো। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ সেই ধানি জমিতে শ্রমিক হিসেবে খাটত, কেউবা জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করত। দিনে দিনে পানি সমস্যা তীব্র হওয়ায় এখন মানুষ ধান-গমের বিকল্প হিসেবে আম চাষের দিকে ঝুঁকেছে। এ কারণে প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের একটা বড়সংখ্যক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি এ ধরনের জনগোষ্ঠীকে আমরা কৃষি, মৎস্য, পশুপালন ও ক্ষুদ্র-কুটির শিল্পের ট্রেনিং, লোন ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে তাদের জীবন ও জীবিকার উন্নয়নে কাজ করছি। এখন তারা বৃষ্টির পানি নিজের বাড়ি ও আশপাশের ডোবা-নালায় প্লাস্টিকের পলি ব্যবহার করে জমিয়ে সবজি চাষের জন্য দীর্ঘদিন ব্যবহার করছে। গ্রামীণ এলাকায় পুকুরে পলিথিন ব্যবহার করে তারা বৃষ্টির পানি জমিয়ে সেই পানি চাষাবাদসহ দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে পারছে। বর্তমানে তারা মাছ চাষ, পশুপালন, সবজি চাষ, জৈব সার তৈরিসহ বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে।
নওগাঁর সাপাহার উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর নারী সুশীলা যোসেফ। ব্র্যাক থেকে ট্রেনিং নিয়ে নিজের বাড়ির আশপাশে করছেন চাষাবাদ। পালছেন হাঁস, মুরগি, গরু ও ছাগল। এ নারী বলেন, ‘আমার বাড়ির আশপাশে অনেক জঙ্গল আর পতিত জমি ছিল। ব্র্যাক থেকে ট্রেনিং পেয়ে এসব জঙ্গল পরিষ্কার করে সেখানে গাছপালা, শাক-সবজির আবাদ করি। পানির অভাব দূর করতে বর্ষার পানি কাজে লাগানোর জন্য পলিথিন ব্যবহার করে নালা তৈরি করি এবং সেটি ব্যবহার করছি। এখন আমি ও আমার পরিবার বেশ ভালো আছি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের আব্দুর রহিম মহানন্দা নদীর মাঝি ও জেলে ছিলেন। তবে নদীতে পানি সংকট হওয়ায় মাছও নেই, নৌকায় চড়ার মানুষও নেই। তাই বাধ্য হয়ে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে রাজশাহীতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছেন। তিনি বলেন, ‘নদীই ছিল আমার জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস। কিন্তু গত বছর দশেক ১২ মাসের মধ্যে আট মাসই পানি থাকে না নদীতে। কয়েক বছর যাবত একেবারেই পানি নেই। নদীতে মাছ ধরে, নৌকা চালিয়ে আর চরে কিছু আবাদ করে ভালোই চলত। কিন্তু বাধ্য হয়ে ওই পেশা ছেড়ে রাজশাহী এসে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছি।’
একই এলাকার বাসিন্দা সুকান্ত হেমব্রন বলেন, ‘১৫-২০ বছর আগে এ অঞ্চলে ধান ছাড়া কিছুই চাষ হতো না। কিন্তু পরে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে সবাই আমবাগান করে। এজন্য আমাদের কাজ কমে যায়। তবে বছর খানেক হলো ব্র্যাক আমাদের এলাকায় এসে উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি শেখানোর কারণে আমরা এখন বন-জঙ্গল ও খেত-খামারে শাক-সবজির আবাদ করে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতে সক্ষম হচ্ছি।’
রাজশাহীর তানোর উপজেলার চিনাশো গ্রামের আমপুকুরিয়া এলাকার সিমলি কুণ্ডু নামের এক নারী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তীব্র পানি সংকটের কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের মানুষ বেকার হয়ে পড়ছে। কাজ-কর্ম না থাকায় শহরে গিয়ে লেবারি (শ্রম বিক্রি) করছে। আমাদের আমপুকুরিয়া গ্রামের অধিকাংশ মানুষই শহরে লেবারি করে। কেউ রিকশা চালায়, কেউ হোটেলে কাজ করে আবার কেউ রাস্তা অথবা বিল্ডিং নির্মাণের কাজ করে। গ্রামের পানির সংকট থাকায় কৃষিকাজ খুব কমে গেছে।’
ওয়াটার রিসোর্সেস প্ল্যানিং অর্গানাইজেশন (ওয়ারপো)-এর ‘জুলজিক্যাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড মডেলিং অব দা সারফেস অ্যান্ড গ্রাউন্ড ওয়াটার রিসোর্সেস ইন দা হাই বারিন্দ রিজিওন’ নামক ২০২৩ সালের এক গবেষণা রিপোর্টেও এমন তথ্য পাওয়া যায়। এ গবেষণাটি করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহান। এটি এখনো চলমান রয়েছে।
অধ্যাপক সারোয়ার জাহান বলেন, ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট রয়েছে। গ্রীষ্মকালে মানুষ পানির অভাবে অনেক সময় ৮-১০ দিনও গোসল করতে পারে না। দূর-দূরান্ত থেকে তারা ডিপ টিউবওয়েলের পানি সংগ্রহ করে জীবন অতিবাহিত করে। এ অঞ্চলের পানি সংকটের কারণ শুধু যে আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রভাবেই তা কিন্তু নয়। যেমন শহরে পুকুর ভরাট ও গ্রামে পুকুর খনন, অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে বৃক্ষ নিধন, নদী-খাল-বিল দখল-দূষণ, কৃষিভিত্তিক ও পরিবেশ সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ কর্তব্যে অবহেলা ও অনিয়মসহ বিভিন্ন কারণে আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে; যার ফলে জীব-বৈচিত্র্যে ক্ষতিসাধিত হয় বা হচ্ছে।’
পানি সংকটের কারণে জীবন-জীবিকার পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ যখন ধান কিংবা অন্য ফসল চাষে পানি পাচ্ছে না তখন সে স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প কাজে জড়াচ্ছে। যেমন কৃষকরা আম চাষে ঝুঁকছে। আমে তারা তিন মাস ধরে ফসল পাচ্ছে আবার সারা বছর সে টাকা দিয়ে চলতেও পারছে। আবার তিন মাস আমে সময় দেয়ার পর সে পর্যাপ্ত সময় পাচ্ছে। সে সময়ে শহরে রিকশা চালাচ্ছে, নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করছে অথবা তার স্কিল অনুযায়ী কোনো না কোনো কাজে জড়াচ্ছে। জলবায়ুর প্রভাবে জব মার্কেটে যে শিফটটা হচ্ছে সেক্ষেত্রে লেবার প্রডাক্টিভিটি বাড়লেও কৃষিক্ষেত্রে লেবার কমছে এবং কৃষিতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। যেমন ধানের মৌসুমে ধান কাটার লেবার পাওয়া যাচ্ছে না। তারা ধান কাটলে ৫০০ কিংবা ৭০০ টাকা পাচ্ছে সারা দিনে। কিন্তু শহরে সারা দিনে রিকশা চালিয়ে সে কামাচ্ছে হাজার কিংবা ১২০০ টাকা। যেমন কোস্টাল (উপকূলীয়) এলাকায় অধিকাংশ মানুষ চিংড়ি চাষে ঝুঁকেছে। ধান কিংবা অন্য চাষাবাদে যে পরিমাণ শ্রমিক লাগত, চিংড়ি চাষের জন্য তো আর সে পরিমাণ লাগে না। তাই তারা বেকারত্ব থেকে বাঁচতে হয়তোবা ইটভাটায় কাজ করছে, নতুবা রিকশা কিংবা নির্মাণ শ্রমিকের কাজে শহরমুখী হচ্ছে। ঠিক তেমন বরেন্দ্রভূমিতে পানি সংকটের কারণে আম চাষ বাড়ায় মানুষ বেকার হয়ে শহরমুখী হচ্ছে।’
গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে ছিটকে পড়া এসব জনগোষ্ঠীর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণ যে বিপুলসংখ্যক গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বেকার হয়েছে কিংবা মূল পেশা ছেড়ে অন্য কাজে জড়িয়ে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছে তাদের আইডেন্টিফাই করে রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে দক্ষ জনবল তৈরি করা উচিত। অন্যথায় পরবর্তীকালে তারা দেশের বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। পানি সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে ওয়ারপো, ব্র্যাক, সুইস এবং পিকেএসএফসহ কয়েকটি সরকারি, বেসরকারি ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছি। যেখানে ভূগর্ভের পানির স্তর বৃদ্ধি, সেফ ড্রিংকিং ওয়াটার সাপ্লাই, আর্সেনিক দূরীকরণ, ওয়াটার রিজার্ভেশন অ্যান্ড রিইউজিংয়ের মতো বেশকিছু প্রকল্প নিয়ে আমরা কাজ করছি, যা গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলা সভাপতি সফি উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়াও মানবসৃষ্ট কারণে বরেন্দ্র অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানি শেষ হওয়ার পথে। অপরিকল্পিতভাবে কাছাকাছি শত শত ডিপ টিউবওয়েল বসিয়ে ভূগর্ভের পানি শূন্য করা হয়েছে। চিরাচরিত পদ্ধতিতে সেচ হতো বরেন্দ্রর উঁচুতে পুকুরকে গভীর করে। তা কাজে লাগানো হয়নি। পদ্মার পানি ব্যবহারের জন্যও পরিকল্পনা হয়নি। উন্নয়নের নামে শত শত জলাশয়ের বিচিত্র মাছ ও জলজ উদ্ভিদ বিলুপ্ত। প্রাকৃতিক জঙ্গল ধ্বংস করা হয়েছে। পশু-পাখি, সাপ-ব্যাঙ, বানরসহ বহু প্রাণী আজ বিলুপ্ত। বিখ্যাত অভয়ারণ্য বাবু ডাইংয়ের প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য আজ বিলুপ্ত। সেচ ও বিদ্যুৎ নিয়ে চলছে জুলুম করে অর্থ আদায়। গড়ে উঠেছে চক্র। পানির অভাবে কৃষক আত্মহত্যা করছে। এসব বিষয়ে ডিসি, ইউএনও, বিএমডিএ এবং রাজনীতিবিদরা এর দায় এড়াতে পারে না। রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত না হলে সবার জীবন ও জীবিকার ওপরেই প্রভাব পড়বে। দেশে আইন করে খাল-বিল-নদী ও শহরের বড় বড় জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে। ভূগর্ভের পানির ব্যবহার রোধ করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে; তবেই বরেন্দ্রের মানুষের জীবন ও জীবিকার পরিবর্তন সম্ভব।’
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের (বিএমডিএ) অধীনে থাকা ডিপ টিউবওয়েলে অপরিকল্পিতভাবে পানির ব্যবহার রোধ এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিতকরণের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক তরিকুল আলম  বলেন, ‘সম্প্রতি ওয়ারপোর একটি মিটিংয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের তিনটি জেলা—রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁকে সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ সংকটের কথা চিন্তা করে আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহানন্দা নদী থেকে ডাবল লিফটিং পদ্ধতির মাধ্যমে পানিকে কৃষিকাজে ব্যবহার করছি। এতে করে ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমবে। অপরদিকে ভূগর্ভে পানির স্তরও ধীরে ধীরে বাড়বে।’ বিএমডিএর ডিপ টিউবওয়েলের অপরিকল্পিত সেচ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।’
আবহাওয়া ও জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবের ফলে জীববৈচিত্র্য, জীবন ও জীবিকার নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার আপাতত কিছু জানা নেই। লিখিত কোনো ডকুমেন্ট বা প্রতিবেদন আমাকে দিলে মন্তব্য দিতে পারব।’

জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাব ও ভারতের নদ-নদীতে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ