সম্পাদকীয়

৭ নভেম্বর চেতনার পুনর্জাগরণ ৩৬ জুলাই


৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:১১

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠার শপথ নিন
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর কেবল একটি তারিখ নয়, এটি বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতি ও সার্বভৌমত্বের এক অনন্য সন্ধিক্ষণ। ১৯৭৫ সালের এই দিনে আধিপত্যবাদী শক্তির চক্রান্ত ও সেনা-চক্রান্তের নাগপাশ ছিন্ন করে দেশের সিপাহি-জনতা রাজপথে নেমে এসেছিল। এই ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নতুন দিশা।
রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের অভিষেক ঘটে এই পটভূমিতেই। তার গতিশীল নেতৃত্বে দেশে প্রবর্তিত হয় বহুদলীয় গণতন্ত্র, যা গণমানুষের অধিকার ও মতপ্রকাশের পথকে উন্মুক্ত করেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ১৯৮১ সালে আধিপত্যবাদী ও বাকশালী চক্রের ষড়যন্ত্রে শহীদ হন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান। এর মধ্য দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের মর্মান্তিক অপমৃত্যুর পথ তৈরি হয়। পরবর্তী বিএনপি সরকার ও নেতৃত্বের অযোগ্যতা, স্বার্থের দ্বন্দ্ব, দুর্নীতি ও লুটপাটের সুযোগ নেন জেনারেল এরশাদ। তিনি ভারতের গোপন সংকেত এবং হাসিনা ও আওয়ামী বাকশালীদের মৌন সমর্থনে ক্ষমতা দখল করেন।
আমরা দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় ১৯৯১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে এবং প্রবীণ রাজনীতিবিদ অধ্যাপক গোলাম আযমের কেয়ারটেকার বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফর্মুলার আলোর দিশায় দেশে পুনরায় গণতন্ত্রের পথে নবযাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য, পরবর্তী সময়ে বিএনপির ভুল রাজনীতি এবং আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী ও অসহিষ্ণু আচরণের সুযোগ নিয়ে ১/১১-এর সরকার ক্ষমতা দখল করে। হাসিনাকে ক্ষমতায় বসানোর নিশ্চয়তা নিয়ে ক্ষমতা দখল করা অপশক্তি ১/১১-এর সরকার পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে নীলনকশার বাস্তবায়ন করে। আওয়ামী লীগ ও হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় ফ্যাসিস্টদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়। পরবর্তীতে দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের পথ প্রশস্ত হয়।
এরপর ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই ফ্যাসিস্ট হাসিনার পলায়ন ঘটে। ২০২৪-এর ৩৬ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আবারও ৭ নভেম্বরের চেতনার পুনর্জাগরণ ঘটেছে। ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সংশয়ের চোরাবালিতে বন্দি হতে চলেছে। বিএনপি সরকার গণভোট এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে। জনমনে প্রশ্ন— তবে কি বিএনপির ভুলের কারণে আবার একটি বিপ্লবের চেতনার অপমৃত্যু ঘটতে যাচ্ছে। অতীত পরিণতি থেকে কি তারা কোনো শিক্ষা নেয়নি। দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসন থেকে তারা কি কোনো শিক্ষা দেবে না। আমরা মনে করি, এর পরিণতি হবে খুবই ভয়াবহ। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো চক্রান্ত বা টালবাহানা জনগণের মুক্তির প্রত্যাশাকে দাবিয়ে রাখতে পারে না।
এবারের ৭ নভেম্বরের দীপ্ত শপথ হোক— যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার। জনগণের মৌলিক অধিকার ও ভোটের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হবে। আশা করি, সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্বে সাথে বিবেচনা করবেন এবং দেশের শতকরা ৭০ ভাগ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে কসুর করবেন না।