সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


৫ নভেম্বর ২০২৬ ১৬:০৮

ভারতে মসজিদ-মাদরাসায় বুলডোজার অভিযান বন্ধের দাবি, তিন দফা প্রস্তাব
ভারতে মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনায় বুলডোজার অভিযান বন্ধ, মাদরাসার বিরুদ্ধে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (ইউসিসি) সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটির সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানির সভাপতিত্বে হরিয়ানার নুহ জেলার মেওয়াতে অনুষ্ঠিত বার্ষিক পরিচালনা পরিষদের সভায় এসব দাবিতে তিনটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। গত ৩০ অক্টোবর শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর শেষ হওয়া এ সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় দুই হাজার প্রতিনিধি, আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। মসজিদ রক্ষার প্রশ্নে জমিয়তের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মসজিদ কেবল একটি স্থাপনা নয়; এটি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস, সামষ্টিক পরিচয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ধর্মীয় স্বাধীনতার বাস্তব প্রকাশ। সংগঠনটির মতে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মসজিদ, ঈদগাহ, দরগাহ ও অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে বিরোধ এবং উচ্ছেদ অভিযান উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনো স্থাপনা অবৈধ বলে দাবি করা হলেও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তা ভেঙে ফেলা যায় না। সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে এবং আইনলঙ্ঘনকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ বিষয়ে জমিয়ত ১৯৯১ সালের প্লেসেস অব ওয়ারশিপ (স্পেশাল প্রভিশনস) আইনের কঠোর প্রয়োগের দাবি জানিয়েছে। আইনটির মূল উদ্দেশ্য হলো ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট উপাসনালয়গুলোর যে ধর্মীয় চরিত্র ছিল, তা সংরক্ষণ করা এবং ঐতিহাসিক ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে নতুন বিরোধ সৃষ্টি হওয়া প্রতিরোধ করা। তবে অযোধ্যার রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ বিরোধকে এ আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৯ সালের অযোধ্যা মামলার রায়ে ১৯৯১ সালের আইনটিকে ধর্মনিরপেক্ষতার সাংবিধানিক অঙ্গীকারের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের জ্ঞানবাপী মসজিদসংক্রান্ত মামলাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনার বিরোধে আইনটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশনা এ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। আদালত নির্দেশ দেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো মামলা গ্রহণ করে উপাসনালয়ের ধর্মীয় চরিত্র নির্ধারণের জন্য জরিপ বা এ ধরনের কার্যক্রমের নির্দেশ দেওয়া যাবে না। একইসঙ্গে চলমান মামলাগুলোয় নতুন করে কার্যকর কোনো নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। জমিয়ত কেন্দ্রীয় সরকার ও উচ্চতর বিচার বিভাগের কাছে এ নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। প্রস্তাবে উত্তর প্রদেশের সম্ভলের ঐতিহাসিক শাহী জামা মসজিদের ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে। মসজিদটির ঐতিহাসিক পরিচয় নিয়ে আদালতে মামলা এবং জরিপের নির্দেশের পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সেখানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুলিশের গুলিতে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। জমিয়তের মতে, একতরফা জরিপের নির্দেশের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি শান্তি ও আইনশৃঙ্খলার জন্য গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এ ধরনের বিরোধে আদালত ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে সংগঠনটি মনে করে। মাকতুব মিডিয়া, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের নিজস্ব ওয়েবসাইট।

তুরস্কের পরমাণু প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়াকে অংশীদার করার ইঙ্গিত এরদোগানের
তুরস্কের পরিকল্পিত সিনোপ পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়া অংশীদার হতে পারে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। গত ২ নভেম্বর সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ সম্ভাবনার কথা জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পে অংশীদারত্বের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। এরদোগান জানান, তুরস্কের সিনোপ পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক দিকগুলো নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশনের (কেইপিসিও) সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত অংশীদার নির্বাচনের আগে প্রকল্পের অর্থায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং তুরস্কের অর্থনীতিতে এর সামগ্রিক সুফল বিবেচনা করবে আঙ্কারা। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে গত ২ নভেম্বর সোমবার সিউলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে এরদোগানের। ২০১৮ সালের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় এটিই তার প্রথম সফর। সফরকালে গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসবেন তিনি। সিউলের প্রেসিডেন্ট কার্যালয় এ বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ইয়োনহাপকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরদোগান পারমাণবিক শক্তির পাশাপাশি প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবটিকসকে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি তুরস্কে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানো এবং যৌথ উৎপাদনের আহ্বান জানান। দুই দেশ ১৫ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে বলেও জানান এরদোগান। তবে বাণিজ্য ভারসাম্য বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার অনুকূলে থাকায় এ ব্যবধান কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী তুরস্কের বড় পরিবহন ও লজিস্টিকস প্রকল্পগুলোয় অংশ নিতে দক্ষিণ কোরীয় কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট। রয়টার্স।

পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের বিরল সম্মাননা পেলেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা আহমেদ তিনুবু সৌদি আরবে উমরাহ পালনকালে মক্কার মসজিদ আল-হারামে অবস্থিত পবিত্র কাবা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছেন। একে তিনি এক ‘বিরল ও ঐতিহাসিক আধ্যাত্মিক সম্মান’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০১৬ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারির পর বোলা তিনুবুই দ্বিতীয় নাইজেরীয় প্রেসিডেন্ট, যিনি কাবা শরীফের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পেলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট তিনুবু পবিত্র কাবা ঘরে প্রবেশ করছেন এবং পরবর্তীতে হাজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুম্বন করছেন। ভিডিওটিতে তার সফরসঙ্গী ও প্রতিনিধিদলের সদস্যদেরও কাবার ভেতরে তার সঙ্গে অবস্থান করতে দেখা যায়। এই বিরল সম্মান ও সুযোগ করে দেওয়ার জন্য নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে তিনুবু এই মুহূর্তটিকে ‘গভীরভাবে লালিত এক আধ্যাত্মিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতি আস্থা রাখা এবং এমন সম্মান দেওয়ার জন্য আমি অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই। কাবা ঘরের আশপাশের গালিচা ও নকশায় সবুজ আর সাদা রঙের উপস্থিতি দেখে আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। কারণ এটি হুবহু আমাদের নাইজেরিয়ার জাতীয় পতাকার রঙের কথা মনে করিয়ে দেয়।’ সৌদি নেতৃত্বের আতিথেয়তার প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘এটি এমন একটি সম্মান যা আমি সত্যিই উপভোগ করেছি। তারা আমাকে পবিত্র কাবার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে যে উদারতা দেখিয়েছেন, তা সত্যিঐতিহাসিক।’ আল্লাহর ঘরের ভেতরে নিজের প্রার্থনার বিষয়ে তিনুবু জানান, নাইজেরিয়ার জনগণের সেবা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রজ্ঞা ও সহনশীলতা চেয়েছেন। তিনি ২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ওমরাহ করতে এসে আল্লাহর রহমত প্রার্থনা করেছিলাম এবং প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, বিজয়ী হলে কৃতজ্ঞতা জানাতে আবার ফিরে আসব।’ এ সময় তিনি পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ইমরানের ২৬ নম্বর আয়াতের কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে— আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সার্বভৌম ক্ষমতা ও রাজত্ব দান করেন, আর যার কাছ থেকে ইচ্ছা তা ছিনিয়ে নেন। আয়াতটির পঙক্তি উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের প্রকৃত মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ এবং এই দায়িত্ব অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পালন করা উচিত। নাইজেরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়াকে আল্লাহর ঐশ্বরিক অনুগ্রহ হিসেবে অভিহিত করে তিনি দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনুবু জানান, এই আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা নাইজেরিয়াকে সমৃদ্ধ ও উন্নত করার ক্ষেত্রে তার দৃঢ়সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করেছে। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী নাইজেরিয়াকে নতুন এক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আমার প্রতিশ্রুতি এখন আরও দৃঢ়।’ ন্যাশনাল ডেইলি নিউজ পেপার।

ইউক্রেনে ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রুশ হামলায় ২৬ জন নিহত
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে রাশিয়ার বোমা হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। গত সোমবার (২ নভেম্বর) কমিশুভাখা গ্রামে চালানো এই হামলাকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের প্রধান মাইখাইলো সেমিকিন জানান, গ্রামটিতে অন্তত ৯টি তিন হাজার কেজি ওজনের বোমা আঘাত হানে। এতে ২৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ২৭ জন নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গিয়েছিল। জেলেনস্কি জানান, মানবিক সহায়তার কাজে ব্যবহৃত স্থানীয় একটি স্কুলে প্রথমে হামলা চালানো হয়। পরে মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন, এমন একটি স্থানেও দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিওতে হামলার পর তৈরি হওয়া বিশাল গর্ত এবং ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকারীদের তল্লাশির দৃশ্য তুলে ধরেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে জেলেনস্কি নিহতের সংখ্যা ১৮ বলে জানিয়েছিলেন। পরে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ (ডিএসএনএস) ২৪ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করে। নিহতদের মধ্যে দুজন উদ্ধারকর্মী ও চারজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। গত ২ নভেম্বর সোমবার রাতে দেওয়া ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি জানান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ হয়েছে। জেলেনস্কির অভিযোগ, কমিশুভাখায় থেকে যাওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি সোমবার মানবিক সহায়তা নিতে ওই স্থানে আসেন— এ কথা রুশ সেনাদের জানা ছিল। তার মতে, এ হামলা থেকে বোঝা যায়, রাশিয়া পরিস্থিতি শান্ত করা বা উত্তেজনা কমাতে আগ্রহী নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় সাময়িক যুদ্ধবিরতির আওতায় রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ওলেশকি থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার একটি যৌথ অভিযানের কথাও উল্লেখ করেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, একসময় মনে হয়েছিল, পরবর্তী পদক্ষেপের মাধ্যমে শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাশিয়া তার বিপরীত বার্তা দিচ্ছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। গত ফেব্রুয়ারিতে শান্তি আলোচনা স্থগিত হওয়ার পর আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরুর কথা রয়েছে। বিবিসি।

মার্কিন হামলার খবরে ফের বাড়ল তেলের দাম
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান সূচক ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৫ ডলার ২৫ সেন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৪৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৯৬ ডলার ৯৩ সেন্টে পৌঁছায়। এর আগে সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছিল। ওই দিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮ ডলার ৬৬ সেন্ট বা ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ১০৪ ডলার ৭৭ সেন্টে নেমে আসে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, গত ২ নভেম্বর সোমবার ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। কর্মকর্তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা সীমিত করতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কেশম দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত হওয়ায় সামরিক উত্তেজনার ক্ষেত্রে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে সংঘাত অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তবে সামরিক উত্তেজনা ও সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে। আল-জাজিরা।

আসামে শিল্পপার্ক তৈরি করতে নতুন করে উচ্ছেদ ৬৪০টি মুসলিম পরিবার
আসামের ধুবড়ি জেলায় গত ১ নভেম্বর রোববার এক উচ্ছেদ অভিযানে ৬৪০টিরও বেশি বাঙালি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে চার হাজারের বেশি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যশ ‘স্ক্রোল’কে জানিয়েছে হিন্দুত্ববাদী প্রশাসন। আলমগঞ্জ পার্ট-৯ গ্রামে সরকারি মালিকানাধীন দাবি করা ৬৫০ বিঘা জমির ওপর এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ধুবড়ির জেলা কমিশনার দিবাকর নাথ ‘স্ক্রোল’কে জানান, মোট ৮০০ বিঘা জমিতে বসবাসকারীদের উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু জমিতে আদালতের মামলা বিচারাধীন থাকায় বাকি ১৫০ বিঘায় আপাতত অভিযান চালানো হয়নি। দিবাকর নাথ বলেন, ‘এই জমি শিল্প বিভাগকে হস্তান্তর করা হবে, যারা গত দুই বছর ধরে একটি শিল্প পার্ক তৈরির জন্য জমির সন্ধান করছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার।’ তিনি দাবি করেন যে, বাসিন্দারা বিভিন্ন দফায় এই সরকারি জমিতে বসতি গড়ে তুলেছিলেন— কেউ পাঁচ বছর আগে, আবার কেউ দশ বছর আগে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘তাদের অধিকাংশেরই অন্য জায়গায় জমি রয়েছে।’ তবে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোয় দেখা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের আগেই বাসিন্দারা নিজেদের ঘরবাড়ি ভেঙে জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা আলী চাঁদ ফকির ‘স্ক্রোল’কে বলেন, উচ্ছেদের আগেই তিনি তার ঘরের কিছু অংশ নিজে থেকেই ভেঙে ফেলেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আজ বুলডোজার দিয়ে তিনটি বাড়ি, গাছপালা, শৌচাগার সবকিছু গুঁড়িয়ে সমতল করে দেওয়া হয়েছে।’ আলী চাঁদ জানান, ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ও বন্যার কারণে পার্শ্ববর্তী গোয়ালপাড়া জেলা থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তিনি ১৯৬২ সাল থেকে এই গ্রামে বসবাস করছেন। তিনি আরও জানান, ১৯৭২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে এখানকার বহু বাসিন্দা ‘তৌজি’ ব্যবস্থার অধীনে রাজস্ব বা ভূ-কর প্রদান করেছেন। ‘তৌজি’ রসিদ হলো সরকারি জমিতে বসবাসকারীদের কর পরিশোধের এক ধরনের প্রমাণপত্র। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘বিকল্প কোনো জমি না থাকায় বাস্তুচ্যুতদের অধিকাংশই এখন আত্মীয়দের বাড়িতে, রাস্তার পাশে ত্রিপল খাটিয়ে তৈরি অস্থায়ী কুঁড়েঘরে অথবা নিচু চরাঞ্চলে বসবাস করছেন।’ আসামে উগ্র হিন্দুত্ববাদী ও মুসলিমবিদ্বেষী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার সম্প্রতি উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করেছে, যা তারই অংশ। এর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এক দ্বিমুখী অভিযানে নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলাজুড়ে ১,১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। রাজ্য রাজস্ব ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ‘স্ক্রোল’-এর তৈরি হিসাব অনুযায়ী, আসামে বিজেপি শাসনের গত দশ বছরে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশ পরিবারই মুসলিম। সিয়াসত ডেইলি।

ইসরাইলি বাহিনীর পাহারায় আল-আকসায় বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশ
অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে ইসরাইলি বাহিনীর নিরাপত্তায় অনুপ্রবেশ করেছেন কয়েক ডজন ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী। এ সময় তাদের কেউ কেউ মসজিদ প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচারও পালন করেন। জেরুসালেম গভর্নরেটের বরাত দিয়ে ওয়াফা জানায়, কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে বসতি স্থাপনকারীরা আল-আকসা মসজিদের পূর্বাংশে প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের কয়েকজন ডোম অব দ্য রকের বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে কথিত ‘এপিক প্রোস্ট্রেশন’ বা বিশেষ ধরনের ধর্মীয় সিজদা পালন করেন। পুরো সময়জুড়ে তাদের নিরাপত্তা দেয় ইসরাইলি দখলদার বাহিনী। আল-আকসার পূর্বাংশে বসতি স্থাপনকারীদের এ ধরনের ধর্মীয় আচার অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে যেসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা অবস্থান করছেন কিংবা তাদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত পথ রয়েছে, সেসব এলাকায় ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের প্রবেশ ও চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সকাল ও বিকেলে বসতি স্থাপনকারীদের অনুপ্রবেশের সময় মুসল্লিদের ওপর এ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকে বলে জানিয়েছে জেরুসালেম গভর্নরেট। ফানা নিউজ, ফিলিস্তিনের সংবাদ সংস্থা ওয়াফা।

ভারতে শপিংমলের নামাজঘর ভেঙে দিলো হিন্দুত্ববাদীরা
গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে ভারতের যে ভাবমূর্তি রয়েছে, তা যেন আরো একবার বড় ধরনের ধাক্কা খেল খোদ বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ে। একটি পরিচিত শপিংমলের ভেতরে তৈরি করা নামাজের ঘর বা প্রেয়ার রুমকে কেন্দ্র করে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর তীব্র প্রতিবাদ এবং শেষ পর্যন্ত সেটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মহারাষ্ট্রের মুম্বাইয়ের মালাড এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত ‘ইনঅরবিট মল’-এ ঘটে যাওয়া এ ঘটনা সংখ্যালঘুদের প্রতি ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতার একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে সামনে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে কীভাবে আধুনিক ও সর্বজনীন পরিসরে থাকা একটি শান্তিপূর্ণ নামাজের স্থান ধ্বংস করা হতে পারে, এ ঘটনা তারই উদাহরণ। বিতর্কের সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিজাব পরিহিত দুই তরুণী শপিংমলের ভেতরের প্রেয়ার রুমটি ঘুরিয়ে দেখাচ্ছে। তারা ক্যামেরার সামনে জানায়, মলের ভেতরেই নামাজ আদায়ের সুন্দর ও সুরক্ষিত ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে পুরুষ ও নারীদের নামাজের জন্য আলাদা কক্ষ এবং ওজু করার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট জায়গা বা ‘অজুখানা’। শপিং করতে এসে কিংবা মলে দীর্ঘসময় অবস্থান করলেও যাতে ধর্মপ্রাণ মানুষের নামাজ আদায়ে ব্যাঘাত না ঘটে, সেই ব্যবস্থার কথাই তুলে ধরেছিল ওই দুই কিশোরী। কিন্তু তাদের এই ভিডিওই যে এত বড় বিতর্কের কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা হয়তো কেউ ভাবেনি। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেন ভারতের বিভিন্ন ডানপন্থি ব্যক্তি ও কট্টরপন্থি হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা। বিশেষ করে ‘সকল হিন্দু সমাজ’ নামের একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন গত ৩০ অক্টোবর এক্সে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি শেয়ার করে আপত্তি জানায়। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের যাতায়াত রয়েছে এমন একটি পাবলিক শপিংমলে কেন শুধু নামাজের জন্য আলাদা জায়গা থাকবে? সংগঠনটি আরো প্রশ্ন তোলে, মুম্বাই কি ধীরে ধীরে পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে? নাকি এটি একটি ‘সফট ইসলামিক ছিটমহল’ হয়ে ওঠার পথে? মলের ভেতরে হিন্দুরা চাইলে একইভাবে নিজেদের ধর্মীয় উপাসনা করতে পারবেন কি না, সেই প্রশ্নও তোলে তারা। এরপর প্রেয়ার রুমটি সরিয়ে ফেলার দাবিতে মল চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করে সংগঠনটির সদস্যরা। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর লাগাতার চাপ, বিক্ষোভ ও হুমকির মুখে শেষ পর্যন্ত নামাজের কক্ষটি ভেঙে ফেলা হয়। এর এক দিন পর, ৩১ অক্টোবর ‘সকল হিন্দু সমাজ’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরো একটি ভিডিও প্রকাশ করে। এতে প্রেয়ার রুমটির আগের ও পরের অবস্থা তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ঘরটির মেঝের টাইলস ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং পুরো জায়গাটি লণ্ডভণ্ড অবস্থায় পড়ে রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্রেতাদের সুবিধার্থে বড় বড় শপিংমলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রার্থনার জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ রাখা হয়, যাতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিজেদের উপাসনা করতে পারেন। কিন্তু মুম্বাইয়ের এ ঘটনা দেখিয়ে দিল, ভারতে উগ্র সাম্প্রদায়িকতার চাপে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনার সুযোগ কতটা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সিয়াসত ডেইলি।

বিজেপি ভোট লুট করে গণতন্ত্রকে হরণ করেছে : মমতা ব্যানার্জী
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, ‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে। ভোট লুট করেছে বিজেপি, দেশের গণতন্ত্রকে হরণ করেছে।’ গত রোববার (১ নভেম্বর) দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র আয়োজিত সমাবেশে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে এ কথা বলেন তিনি। মমতা জানান, দেশের যুবরাই যা উত্তর দেয়ার দেবে। অভিভাবক হয়ে দরকারে তাদের পথ দেখাবেন তিনি। তার অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। শুধু ভোট বা গণতন্ত্র নয়, বাংলার মানুষের চাকরি, সম্মান এবং সাংবিধানিক অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হয়েছে। সমাবেশে দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, শুধু ভোট নয়, পুরোপুরি সেন্ট্রাল হাইজ্যাকিংয়ের মাধ্যমে গণনার প্রক্রিয়াকেও ভ্যানিশ করে দেয়া হয়েছে। বাংলায় এক কোটিরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক লড়াই চলবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মমতা। দ্য ওয়াল।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান