সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:১৫

সিরিয়ায় জর্ডানের বিমান হামলায় ৭ জন নিহত
জর্ডানের সামরিক বাহিনী সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে। গত সপ্তাহে জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের একটি গির্জায় বন্দুকধারীদের হামলার জেরে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ অভিযান চালানো হয়। সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের দাবি, জর্ডানের হামলায় অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গির্জায় হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আস্তানা লক্ষ করে এ অভিযান চালানো হয়েছে। দেশটির দাবি, হামলায় ওই গোষ্ঠীগুলোর বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন এবং তাদের একাধিক যানবাহন ধ্বংস হয়েছে। তবে হতাহতদের নির্দিষ্ট সংখ্যা কিংবা হামলার সুনির্দিষ্ট স্থান জানায়নি জর্ডান। অন্যদিকে, সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, জর্ডানের বিমান হামলায় একই পরিবারের পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনটি শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া দারা ও সুয়াইদা প্রদেশে চালানো অন্য হামলায় ৬০ ও ৮০ বছর বয়সী আরও দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সিরিয়ার কর্তৃপক্ষ। জর্ডানের দাবি, সিরিয়ার সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই অভিযান চালানো হয়েছে। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য এসেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ হামলার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে ও নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। গত ২৩ অক্টোবর (শুক্রবার) জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের হামুদ গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় বন্দুকধারীরা হামলা চালায়। ওই ঘটনায় নয়জন নিহত হন এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হন। পরে জর্ডানের নিরাপত্তা বাহিনী হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে জর্ডানের হামলার পর সিরিয়ার সীমান্ত কর্তৃপক্ষ দেশটির সঙ্গে সংযোগকারী নাসিব সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ ঘোষণা করেছে। এতে দুই দেশের মধ্যে ওই সীমান্তপথে যান চলাচল স্থগিত হয়েছে। আল-জাজিরা, রয়টার্স।

মিশরের পার্লামেন্টে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তার অনুমোদন
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা প্রদানের অনুমোদন দিয়েছে মিশরের সংসদ। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের এক ভোটাভুটিতে প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির প্রতি এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানানো হলে দেশটির সুরক্ষায় ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা’ গ্রহণ করতে পারবেন প্রেসিডেন্ট আল-সিসি। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা জোরদার করায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে কায়রো পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, মিশরের সামরিক পদক্ষেপ কেবল সৌদি আরবের ভূখণ্ড ও সীমান্ত সুরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে; ইয়েমেনের অভ্যন্তরে সরাসরি কোনো হামলা চালাবে না তারা। এর আগে গত সপ্তাহে রিয়াদ সফর শেষে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলআত্তি জানান, কায়রো সংকট সমাধানে এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই জোরালো ভূমিকা রাখছে। মিশরের সংবিধানে কোনো দেশের ভূখণ্ডের বাইরে সৈন্য প্রেরণের জন্য সংসদের দুই-তৃতীয়াংশের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কৌশলগতভাবে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা এবং সুয়েজ খালের বাণিজ্যিক পথ সচল রাখাও মিশরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত উপসাগরীয় অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আল-জাজিরা।

চতুর্থবার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন লুলা
ব্রাজিলে ৮০ বছর বয়সে ইতিহাস গড়ে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন বামপন্থী নেতা লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা। রোমাঞ্চকর এক নির্বাচনী লড়াইয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে তথা সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোকে পরাজিত করে তিনি এই নজির গড়লেন। জনমত সমীক্ষার পূর্বাভাস ও দক্ষিণপন্থী শিবিরের প্রবল চাপকে উপেক্ষা করে লুলার এই জয় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল। ব্রাসিলিয়া থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, গত রোববারের (২৫ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয় ছিনিয়ে নেন ৮০ বছর বয়সী লুলা দ্য সিলভা। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটানা ব্রাজিলের মসনদে থাকা এই নেতার রাজনৈতিক জীবন বহু উত্থান-পতন ও প্রত্যাবর্তনে ভরপুর। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালে কারাবাসের আইনি জটিলতা পেরিয়ে ২০২২ সালে বলসোনারোকে হারিয়ে ক্ষমতায় ফিরেছিলেন তিনি। এবার বয়সের রেকর্ড ও নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জকে পেছনে ফেলে চতুর্থবারের মতো দেশের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে আসীন হতে চলেছেন তিনি। ব্রাজিলের আধুনিক গণতান্ত্রিক ইতিহাসে প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থেকেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার নজির গড়লেন তিনি। এই জয়কে লাতিন আমেরিকার সর্ববৃহৎ অর্থনীতি ব্রাজিলের গণতন্ত্র, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অ্যামাজন বনাঞ্চল রক্ষার ক্ষেত্রে এক বিশাল স্বস্তি হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে লুলার বিগত মেয়াদে আমাজন অঞ্চলে অবৈধ খনি ও বন উজাড় প্রায় ৭০ শতাংশের বেশি হ্রাস পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে পরিবেশবাদীরা এই ফলাফলকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, লুলার এই জয় কেবল ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র রক্ষাই নয়, বরং ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপমূলক এজেন্ডার বিরুদ্ধেও এক বিরাট ধাক্কা। লাতিন আমেরিকায় নিজের পছন্দের ডানপন্থী প্রার্থীদের জয়ের পর ট্রাম্প নিজেকে একের পর এক সরকারের ‘কিংমেকার’ বা ক্ষমতাধর অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরে আসছিলেন। তবে ব্রাজিলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে তার সেই প্রভাবের কৌশল বড় ধাক্কা খেয়েছে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে সাবেক ফার-রাইট নেতা জেইর বলসোনারোর ছেলে ফ্ল্যাভিও বলসোনারোকে সমর্থন না করলেও, পুরো নির্বাচন জুড়ে ট্রাম্পের উপস্থিতির ছায়া স্পষ্ট ছিল। গত বছর ট্রাম্প তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জেইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচার প্রক্রিয়াকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। বলসোনারোর বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক নিপীড়ন দাবি করে ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর অস্বাভাবিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন তিনি। তবে লুলা মার্কিন প্রশাসনের এসব পদক্ষেপকে ‘উপনিবেশবাদী মনোভাব’ হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিরুদ্ধে নিজ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই চালিয়েছেন। লুলার এই ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের বহুপাক্ষিক পররাষ্ট্রনীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রাগম্যাটিক বা ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি আরও শক্তিশালী হলো। পাশাপাশি পেন্টাগনের সঙ্গে যৌথভাবে লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলবিরোধী সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার মার্কিন প্রস্তাবও লুলা প্রত্যাখ্যান করেছেন, যা ব্রাজিলীয় ভূখণ্ডে মার্কিন সামরিক প্রভাব বিস্তার রোধে বড় ভূমিকা রেখেছে। রয়টার্স।

‘মক্কা প্রতিরক্ষা’ জোটের বৈঠকে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে ঐকমত্য
মধ্যপ্রাচ্যসহ বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে ইরান এবং ‘মক্কা এলায়েন্স’ (গবপপধ অষষরধহপব)-এর সদস্য রাষ্ট্রগুলো। বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মক্কা এলায়েন্সের সদস্য দেশগুলোর সাথে ইরানের এই বৈঠকটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী পক্ষগুলো চার আঞ্চলিক দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন। বৈঠকে মূলত আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ভূরাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমন এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে ভূমিকা রাখবে। ফার্স নিউজ এজেন্সি।

আরএসএস-এর আদর্শ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ভারতে স্থায়ী শান্তি আসবে না : কংগ্রেস সভাপতি
ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দাবি করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর রাজনৈতিক ও সামাজিক আদর্শকে উপড়ে না ফেলা পর্যন্ত ভারতে কখনো স্থায়ী শান্তি ফিরে আসতে পারে না। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি তার অন্যতম এক শক্ত রাজনৈতিক বার্তা। খাড়গের এই বক্তব্য ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে আরএসএস এবং ভারতের শাসনব্যবস্থায় তাদের আদর্শিক প্রভাব নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অবস্থানেরই প্রতিফলন ঘটেছে। কংগ্রেস দল দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আরএসএস এবং তার সহযোগী সংগঠনগুলো এমন এক ভারতের রূপরেখা প্রচার করছে, যা দেশটির বহুত্ববাদী এবং ধর্মনিরপেক্ষ চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে। বর্তমানে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শগত চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করা আরএসএস মূলত হিন্দু সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের ভারতীয় জাতীয়তাবাদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে। যদিও সংগঠনটি এবং তার সমর্থকরা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সংখ্যালঘু অধিকার সম্পর্কিত সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে দাবি করে যে, তাদের জাতীয়তাবাদী ভাবধারা ভারতের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল। খাড়গের এই মন্তব্য ধর্মনিরপেক্ষতা, ধর্মীয় বহুত্ববাদ এবং রাজনীতিতে ধর্মের অবস্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলো পুনরায় ভারতের মূল রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে এনে দাঁড় করিয়েছে। কংগ্রেস ধারাবাহিকভাবে মনে করে যে, দেশের সাংবিধানিক কাঠামো অনুযায়ী ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া উচিত এবং সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ সামাজিক সম্প্রীতির জন্য এক বড় হুমকি। ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার, ধর্মীয় পরিচয় এবং জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝে আরএসএস-এর আদর্শগত প্রভাব নিয়ে এই দ্বন্দ বহু দিন ধরেই ভারতীয় রাজনীতির অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কংগ্রেসের জন্য দেশের সাংবিধানিক মূল্যবোধ ধরে রাখা এবং বহুত্ববাদী ঐতিহ্য রক্ষা করাই প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য। অন্যদিকে, বিজেপি এবং আরএসএস বিরোধী দলগুলোর সমালোচনাকে প্রতিহত করে নিজেদের জাতীয়তাবাদী ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবস্থানকেই সমর্থন জানিয়ে আসছে। আনন্দবাজার।

পশ্চিমতীরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে ইসরাইল : জাতিসংঘ
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে ইসরাইল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে নির্মূল, নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও অন্যান্য ধরনের যৌন সহিংসতা। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে জমা দেওয়া এক নতুন প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে অধিকৃত পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা একটি ‘ব্যাপক ও পদ্ধতিগত হামলার’ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয়তা, বর্ণ, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ ও বয়সের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ হামলার শিকারদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমতীরে ইসরাইলি বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত অবস্থায় ছিলেন। প্রতিবেদনে গাজা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। কমিশন বলেছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ইসরাইল গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। সেখানে ইসরাইলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার বিস্তৃতি আরও বাড়ায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন আরো বলেছে, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা, বশীভূত রাখা ও তাদের সমাজকে অস্থিতিশীল করে তোলার উদ্দেশ্যে যৌন সহিংসতা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রায় সম্পূর্ণ দায়মুক্তি ভোগ করছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-জাজিরা।

পদত্যাগের কথা বিবেচনা করছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি!
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি আগামী মার্চ মাসে পদত্যাগ করার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করছেন বলে দেশটির রাজনৈতিক মহলে জোরালো গুঞ্জন শুরু হয়েছে। রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোপীয় শীর্ষ সম্মেলনের (ঊঁৎড়ঢ়বধহ ঝঁসসরঃ) ঠিক পরপরই তিনি এই পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। ইতালীয় সংবাদমাধ্যম লা রিপাবলিকা এবং ফ্যানপেজের তথ্যানুযায়ী, এটি কোনো আকস্মিক সরকারি সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি কৌশলগত রাজনৈতিক পরিকল্পনা। সরকারের মেয়াদ স্বাভাবিকভাবে শেষ হওয়ার আগেই তা সংক্ষিপ্ত করে আগাম নির্বাচনের পথ সুগম করার জন্য এই চিন্তা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি তার জোটের শীর্ষ অংশীদার ও মিত্রদের যেমন আন্তোনিও তাজানি, মাতেও সালভিনি এবং মাউরিজিও লিপি সাথে এক বৈঠকে এই কৌশলগত নকশা তুলে ধরেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্চের শেষ দিকে ইউরোপীয় শীর্ষ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বসন্তের শেষ বা জুনের দিকে নির্ধারিত স্থানীয় নির্বাচনের (কমুনাল নির্বাচন) সাথে মিল রেখে একই দিনে বা কাছাকাছি সময়ে একটি আগাম জাতীয় নির্বাচন বা ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক টানাপোড়েন এড়িয়ে একটি দ্রুত নির্বাচনী প্রচারণার মুখোমুখি হতে চায় শাসক দল। ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই ক্ষমতাসীন জোট ও বিরোধীদলগুলোর মধ্যে তৎপরতা বেড়ে গেছে। জুন মাসে সম্ভাব্য ভোটগ্রহণের কথা মাথায় রেখে প্রধান দলগুলো বড় বড় শহরগুলোয় (যেমন-মিলান, রোম, নেপলস ও তুরিন) মেয়র পদপ্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো পদত্যাগের ঘোষণা নয়, বরং কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের প্রাথমিক আলোচনা মাত্র।

যুক্তরাষ্ট্রে গির্জায় যৌন নির্যাতনের মামলায় ৮০ কোটি ডলারের সমঝোতা
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ক্যাথলিক গির্জার যাজকদের (খ্রিস্টান ধর্মীয় আচার পরিচালনাকারী) বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা প্রায় ১ হাজার ৩০০ জনের সঙ্গে ৮০ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস (নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ১০টি কাউন্টি বা অঞ্চল নিয়ে গঠিত ক্যাথলিক গির্জা)। দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর এ সমঝোতা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ক্যাথলিক আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্ষতিপূরণ চুক্তি। গত ২৪ অক্টোবর শনিবার যাজকদের কাছে পাঠানো এক ই-মেইলে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন আর্চবিশপ রোনাল্ড হিকস। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর স্বাক্ষরের পরই চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। আগামী ৬ নভেম্বরের সপ্তাহে চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। নিউইয়র্কের ক্যাথলিক গির্জার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করা ব্যক্তিদের আইনজীবীরা এর আগে সমঝোতার ঘোষণা দেন। চুক্তির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। তবে প্রত্যেক ব্যক্তি কত টাকা পাবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ঘটনায় এর চেয়ে বড় ক্ষতিপূরণ চুক্তি হয়েছিল লস অ্যাঞ্জেলসের ক্যাথলিক গির্জার (আর্চডায়োসিস) সঙ্গে। ২০২৪ সালে প্রায় এক হাজার নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে ৮৮ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে একই ধরনের দাবিতে আরও ৭৪ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল তারা। এছাড়া চলতি বছরের জুনে সান ফ্রান্সিসকোর আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) প্রায় ৫০০টি মামলার নিষ্পত্তিতে ৩৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে সম্মত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নিউ অরলিন্সের আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) অন্তত ২৩ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সমঝোতাও অনুমোদন করেন এক ফেডারেল বিচারক। নিউইয়র্কের আর্চডায়োসিস (খ্রিস্টধর্মের প্রধান ধর্মপ্রদেশ) বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর নিষ্পত্তির জন্য চলতি বছরের মে মাসে একটি সমঝোতার কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। এতে অভিযোগ দায়ের করা প্রত্যেক ব্যক্তির সম্মতি প্রয়োজন ছিল। আর্চবিশপ হিকস তার ই-মেইলে বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য কিছুটা হলেও নিরাময় ও পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে গির্জা আবারও ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার, অসুস্থদের সেবা, দরিদ্র ও অসহায়দের সহায়তা, আশ্রয়প্রার্থীদের স্বাগত জানানো এবং শিশুদের শিক্ষাদানে পুরো মনোযোগ দিতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ২০১৯ সালে প্রণীত একটি আইন অনুযায়ী, শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা নির্যাতনকারী এবং তাদের রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ৫৫ বছর বয়স পর্যন্ত মামলা করতে পারেন। আইনটি কার্যকর হওয়ার সময় যাদের বয়স ইতোমধ্যে ৫৫ বছর পেরিয়েছিল, তারাও নির্যাতনের সময় নির্বিশেষে ২০২১ সালের আগস্ট পর্যন্ত মামলা করার সুযোগ পেয়েছিলেন। এনবিসি নিউজ।

দুই ব্রিটিশ এমপিকে পশ্চিমতীরে প্রবেশে বাধা ইসরাইলের
অধিকৃত পশ্চিমতীরে প্রবেশ করতে গিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বাধার মুখে পড়েছেন যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির দুই সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস ও লারা বার্ড। জর্ডান থেকে পশ্চিমতীরে প্রবেশের সময় তাদের ও তাদের সফরসঙ্গীদের আটকে দেওয়া হয়। পরে আট ঘণ্টারও বেশি সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আটক রাখা হয় বলে জানিয়েছেন দুই এমপি। গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ক্লাইভ লুইস এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি দখলদারত্বের বিরোধিতাকারী সংগঠন প্রগ্রেসিভ ইন্টারন্যাশনালের দ্বিতীয় রামাল্লা কংগ্রেসে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের। এছাড়া জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার শিকার ফিলিস্তিনি কৃষকদের সঙ্গেও সময় কাটানোর কথা ছিল তাদের। লুইস বলেন, ‘আমরা কোনো অন্যায় না করা সত্ত্বেও আট ঘণ্টার বেশি সময় আমাদের আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং তাদের ওপর সংঘটিত ভয়াবহ অবিচার ও সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরতেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।’ অন্যদিকে লারা বার্ড এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তিনি তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন। বার্ড বলেন, ‘ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর নিপীড়ন ও গণহত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এবং নেতানিয়াহু সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আমি আমার সাধ্যমতো সবকিছু করে যাব।’ আল-জাজিরা।

 

‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ বলে মুসলিম প্রার্থীকে ট্রাম্পের কটাক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সিনেট নির্বাচনের প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য আরো জোরালো করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত ২৫ অক্টোবর রোববার এক বক্তব্যে সাবেক এই ডেট্রয়েট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও সিনেট প্রার্থীকে ‘জিহাদি’ আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এল-সাইয়েদের আনুগত্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এল-সাইয়েদকে ‘সন্ত্রাসীদের পক্ষে থাকা’ ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। এমনকি তিনি সিনেটে প্রবেশ করতে গেলে তার নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন। বক্তব্যে ট্রাম্প বারবার ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের (৯/১১) সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টানেন। সিনেট কক্ষে এল-সাইয়েদের প্রবেশ ঠেকানোর বিষয়টির সঙ্গে তিনি ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ৯৩ নম্বর ফ্লাইটের যাত্রীদের প্রতিরোধের ঘটনার তুলনা করেন। ওই ফ্লাইটের যাত্রীরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। নির্বাচিত হলে আবদুল এল-সাইয়েদ হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। তবে তার বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তার আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলেও অভিহিত করেছেন এই প্রার্থী। ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন তার সাবেক আরব-আমেরিকান মিত্রদের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি। ২০২৪ সালের নির্বাচনে আরব-আমেরিকান ভোটারদের কাছে ট্রাম্পের সমর্থন বাড়ানোর প্রচারে ভূমিকা রাখা ‘আরব আমেরিকানস ফর ট্রাম্প’ গোষ্ঠীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিশারা বাহবাহ প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সীমা অতিক্রমকারী বলে মন্তব্য করেছেন। ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাহবাহ বলেন, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, এসব মন্তব্য একটি সীমারেখা অতিক্রম করেছে এবং এগুলো বর্ণবাদী। ট্রাম্প মিশিগানে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্সের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেখানে এল-সাইয়েদকে নিয়ে মন্তব্যের পাশাপাশি র‌্যাপার নিকি মিনাজের শারীরিক গঠন নিয়েও কথা বলেন তিনি। মিশিগানের সমাবেশে এল-সাইয়েদকে নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিমবিদ্বেষ, বর্ণবাদ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহারের বিতর্ককে আবারো সামনে এনেছে। বিশেষ করে, একজন মুসলিম প্রার্থীর জাতীয় নিরাপত্তা ও দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঘটনায় ট্রাম্পের সাবেক আরব-আমেরিকান সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। দ্য গার্ডিয়ান।

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা আর নেই
চীনের সাথে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টার জন্য পরিচিত জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। ক্ষমতাসীন দলের এক কর্মকর্তা গত ২৬ অক্টোবর সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওই কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, গত ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফুকুদা মারা যান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এক বছর জাপানের নেতৃত্ব দেন ফুকুদা। আবের প্রথম দফার প্রধানমন্ত্রিত্ব মাত্র ১২ মাস স্থায়ী হয়েছিল। ক্ষমতায় থাকাকালে ফুকুদা চীনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেন এবং তৎকালীন চীনা প্রেসিডেন্ট হু জিনতাওকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানান। ২০০৮ সালের মে মাসে হু’র ওই সফরের মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীনের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান জাপান সফর করেন। দুই নেতা এক যৌথ বিবৃতিতে ‘অভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের ভিত্তিতে পারস্পরিক কল্যাণকর সম্পর্ক’ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। জনসমর্থন কমে যাওয়ায় ফুকুদা ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন। ২০১২ সালে তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তবে বিতর্কিত দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে টোকিও ও বেইজিংয়ের সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ফুকুদা ২০১৪ সালে চীন সফর করেন। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেন। তার এই উদ্যোগ শি’র সাথে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আবের দ্বিতীয় দফার শাসনামলে অনুষ্ঠিত একটি শীর্ষ বৈঠকের পথ সুগম করে। বেইজিং তাকে ‘পুরোনো বন্ধু’ হিসেবে স্মরণ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মি. ইয়াসুও ফুকুদা চীনা জনগণের পুরোনো বন্ধু ছিলেন এবং চীন-জাপান সম্পর্কের উন্নতি ও বিকাশে ইতিবাচক অবদান রেখেছেন।’ গুও ‘জাপানের প্রবীণ প্রজন্মের রাষ্ট্রনায়কদের সততা ও দায়িত্ববোধের’ কথা উল্লেখ করেন এবং ‘জাপানের বর্তমান নেতৃত্বকে’ গভীরভাবে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানান। চীনের নিজস্ব ভূখণ্ড বলে দাবি করা তাইওয়ানে হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে গত বছর জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ইঙ্গিত দেয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। এএফপি।

ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ফিলিস্তিনের ‘গরিবের ডাক্তার’
ফিলিস্তিনি চিকিৎসক মাজেন আল-রানতিসিকে প্রায় চার মাস আটক রাখার পর ইসরাইলের কুখ্যাত ওফার কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তির পর ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ৭২ বছর বয়সি এই চিকিৎসককে অত্যন্ত শীর্ণকায় অবস্থায় দেখা গেছে। তার কপালে রয়েছে স্পষ্ট লাল ক্ষতচিহ্ন। গত ২৫ অক্টোবর রোববার অধিকৃত পশ্চিমতীরের ওফার কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও শারীরিক নিপীড়নের অভিযোগে কারাগারটি দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচিত। দরিদ্র ও অসচ্ছল ফিলিস্তিনিদের স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য মাজেন আল-রানতিসি ‘দরিদ্রের চিকিৎসক’ হিসেবে পরিচিত। গত ২১ জুন অধিকৃত পশ্চিমতীরের রামাল্লার আল-তিরা এলাকায় তার বাড়িতে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। পরে তার বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি অলাভজনক সংস্থা ইউনিয়ন অব হেলথ ওয়ার্ক কমিটিজের (ইউএইচডব্লিউসি) পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগে অভিযোগপত্র দাখিল করে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি প্রতি বছর হাজারো ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে নিম্ন আয়ের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন আল-রানতিসি। অনেক ক্ষেত্রে তিনি চিকিৎসার ফি নিতেন না। রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহের পাশাপাশি বিনা খরচে চিকিৎসাসেবাও দিতেন তিনি। রামাল্লায় তার ক্লিনিকটি স্বল্প খরচে চিকিৎসা ও ব্যক্তিগত সহায়তা প্রত্যাশী ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্ভরতার জায়গা হয়ে উঠেছিল। রোগীদের ভাষ্য, ক্লিনিকের নির্ধারিত সময়ের বাইরেও তিনি ফোন ও বিভিন্ন বার্তাপ্রেরণ অ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ দিতেন। এসব সেবার জন্য প্রায়ই কোনো অর্থ নিতেন না তিনি। তার আটকের ঘটনায় পশ্চিমতীরজুড়ে নিন্দা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও রোগীরা তার অবস্থান ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফ্রিডম ফর ড. মাজেন আল-রানতিসি’ হ্যাশট্যাগে সংহতি অভিযানও শুরু করেন অধিকারকর্মীরা। আটকের সময় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ তার আটকের কারণ জানায়নি। এমনকি তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ২০২৩ সাল থেকে ইসরাইলি বাহিনী শত শত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীকে আটক করেছে। তাদের অধিকাংশকেই গাজা উপত্যকা থেকে আটক করা হয়েছে। প্রেস টিভি।

হিন্দুত্ববাদীদের আপত্তিতে ভারতের সরকারি ম্যাগাজিন থেকে বাদ মুসলিম কবির কবিতা
মুসলিমবিদ্বেষী ও হিন্দুত্ববাদী উগ্র সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) আপত্তির মুখে বার্ষিক দিওয়ালি সাময়িকীর অনলাইন সংস্করণ থেকে মুসলিম কবি আজিজ তঙ্কারভির একটি কবিতা সরিয়ে নিয়েছে গুজরাট সরকার। ভিএইচপির অভিযোগ ছিল, ওই কবিতায় হিন্দুদের ভগবান রাম এবং মীরা বাইকে নিয়ে আপত্তিকর নির্দেশনা বা মন্তব্য রয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগ থেকে প্রতি বছর দীপাবলি উপলক্ষে প্রকাশিত ‘গুজরাট দীপোৎসবী অঙ্ক’ সাময়িকীতে কবিতাটি ছাপা হয়েছিল। সেটি সরিয়ে সেখানে কবি প্রকাশ ‘জালাল’-এর লেখা ‘জোইয়ে’ শিরোনামের একটি কবিতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুজরাট ভিএইচপির মুখপাত্র হিতেন্দ্রসিন রাজপূত কবিতাটি সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে তাদের সংগঠন সন্তুষ্ট। হিতেন্দ্রসিন রাজপূত বলেন, ‘আমরা আনন্দিত যে রাজ্য সরকার দ্রুত আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়েছে এবং দিওয়ালি ম্যাগাজিন থেকে বিতর্কিত কবিতাটি সরিয়ে নিয়েছে।’ গত ২৩ অক্টোবর ভিএইচপির পক্ষ থেকে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র প্যাটেলের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে কবিতাটি অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি এর লেখক এবং এটি প্রকাশের অনুমোদন দেওয়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। ভিএইচপির আহমেদাবাদ অঞ্চলের সম্পাদক অশ্বিন প্যাটেল চিঠিতে চলতি বছরের সাময়িকীর ৩৮৯ নম্বর পৃষ্ঠায় প্রকাশিত কবিতাটি নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, কবিতাটিতে ভগবান রাম এবং মীরা বাইকে নিয়ে আপত্তিকর উল্লেখ রয়েছে, যা হিন্দুদের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে। সংগঠনটির যুক্তি ছিল, দীপাবলি উৎসবটি ১৪ বছরের বনবাস শেষে ভগবান রামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তনের স্মৃতি বিজড়িত। তাই এই বিশেষ বার্ষিকী সংখ্যায় এমন একটি কবিতা প্রকাশ করা অত্যন্ত অনুচিত। পাশাপাশি ভিএইচপি দাবি জানিয়েছে যে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকাশনায় কোনো লেখকের কবিতা বা লেখা অন্তর্ভুক্ত করার আগে তাদের পূর্ববর্তী কাজগুলো খতিয়ে দেখা উচিত। তারা আরও দাবি করে যে, আগামীতে সরকারি প্রকাশনাগুলোয় যেন এমন লেখকদেরই সুযোগ দেওয়া হয় যাদের চিন্তাভাবনা দেশ, ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি ইতিবাচক। বিষয়টি নিয়ে মন্তব্যের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার বিভাগের সচিব বিক্রান্ত পান্ডের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, গুজরাট সরকারের তথ্য কমিশনারেটের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ‘গুজরাট দীপোৎসবী অঙ্ক’-এর অনলাইন সংস্করণটি দেখা যায়। সিয়াসত ডেইলি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান