ভারতে সাংবাদিক প্রশিক্ষণ : গোয়েন্দা এজেন্ট তৈরির নীলনকশা
১ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৩৫
সোনার বাংলা রিপোর্ট : ভারতীয় দূতাবাসের উদ্যোগে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ভারতে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ভারতে সাংবাদিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গোয়েন্দা এজেন্ট তৈরির নীলনকশা বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এ জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্তরালে স্বল্প খরচে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রভাব বিস্তার এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশ্বস্ত ‘তথ্যপ্রবাহক’ বা এজেন্ট তৈরির একটি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া।
বাংলাদেশের বিশ্লেষকরা মনে করেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের গণমাধ্যমকর্মীরা যখন ভিনদেশের সরকারি আতিথেয়তায় দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষিত হন, তখন তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক ধরনের স্বার্থের সংঘাত (ঈড়হভষরপঃ ড়ভ ওহঃবৎবংঃ) তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি হচ্ছে নিরপেক্ষতা; কিন্তু এ ধরনের কৌশলগত আয়োজন সাংবাদিকদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে একপেশে করে তুলতে পারে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নানা টানাপড়েন ও বাংলাদেশবিরোধী মনোভাব নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তর আলোচনার এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে বিশ্লেষকরা সন্দেহের চোখে দেখছেন। দেশের জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীন সাংবাদিকতার নিরপেক্ষতা রক্ষায় এ ধরনের বিতর্কিত ও প্রভাব বিস্তারী প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। নিজস্ব সক্ষমতায় নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের মূল দাবি।
ঢাকাস্থ ভারতীয় দূতাবাস সূত্রে প্রকাশ, ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটেক) স্কিমের আওতায় আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর হায়দরাবাদের ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে কোর্সটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ থেকে নির্বাচিত সাংবাদিকদের যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে ভারত। গত ২২ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অর্থনীতি, অর্থ সংস্থান, বাণিজ্য এবং জ্বালানি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের যাদের ৫ থেকে ১০ বছরের পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, কেবল সেই সাংবাদিকরাই এতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। প্রাথমিক মনোনয়নের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দাখিল করতে হবে।