ছড়া কবিতা
১ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৩
ফজর হলে ডেকে দিও
রুনা লাইলা
ফজর হলে ডেকে দিও
মা’গো আমায় তুমি,
আমার সিজদায় জাগ্রত হোক
বাংলাদেশের ভূমি।।
অলসতা ভেঙে দেবো
ওজুর পানি দিয়ে,
পড়বো নামাজ ফেলে সব কাজ
তোমার সাথে গিয়ে॥
নামাজ শেষে করবো জিকির
আল্লাহ তায়ালার নামে
লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু
বলবো সকল কামে॥
শুনবো কুরআন তোমার কাছে
বসে জায়নামাজে,
করবো দোয়া গহিন মনে
মোনাজাতের মাঝে॥
জাগবো মা’গো তোমার সাথে
থাকবো না আর ঘুমি
ভালোবেসে দাও না তুমি
আমার কপাল চুমি॥
ছাত্রকাল
আবুবকর সালেহ
দেখরে ওরা কোমলমতি
উঠছে বেড়ে ঊর্ধ্বগতি
পাখির মতো কোলাহলে
কিচিরমিচির কথা বলে।
দেখরে ওরা কুসুমকলি
নেই তো বিভেদ দলাদলি
যেমন তারা পড়া পাঠে
বিকেল হলে খেলার মাঠে।
ছোটাছুটি নেই তো মানা
বনবাদাড়ে পাখির ছানা
খাল পুকুরে ডুব সাঁতারে
দলবেঁধে সব এক কাতারে।
স্বাধীন ছিল ছোট্ট বেলা
হাসি-খুশির মিলনমেলা
চাই ফিরে দিন ধুলোমাখা
ঘাসফড়িংরা মেলুক পাখা।
মায়ের বারণ
খালিদ মাহমুদ
ঠাঠা-পড়া রৌদ্দুরে
যাবি না আজ দূরে
জোরসে থাপড় দেব
অন্ন তুলে নেব
গেলে হঠাৎ বাইরে।
মাটি হলো ঝামা
যেমন তপ্ত তামা।
ঘাম ঝরে দরদরে
দুপুরে থাক ঘরে
যাবি কি আজ বাইরে?
গাছের শাখে দোল নেই
পাখপাখালির বোল নেই
মরেছে মাছ পুঁটি
ধুলোয় চড়ুই জুটি
পাবি না আজ ছুটি।
পথটি হলো ধূলি
ঝরল ফুলের কলি
পুকুরে সব জল উধাও
চৌচির মাটি, তপ্ত বাও,
কথা আমার বুঝে নাও।
ঘামাচি ও আমাশয়
গরমে তা বেশি হয়
জ্বর, বমি, মাথাব্যথা
বাঁধাবি কী আর?
আর নয়!
শরৎ বেলায়!
শ্যামল বণিক অঞ্জন
দূর্বাঘাসে শিশিরবিন্দু নদীর কুলে কাশ
হাওয়াতে পাই হিম হিম ভাব শিউলীরই সুবাস!
শিমুল তুলার মতো উড়ে সাদা সাদা মেঘ
রৌদ্র ছায়ার নিপূণ খেলার দারুণ গতিবেগ!
যায় উড়ে যায় মেঘ ছুঁয়ে অই পাখপাখালির ঝাঁক!
মন কেড়ে নেয় বাঁশের বনে ডাহুকগুলোর ডাক!
বিল ও ঝিলের ডুবো জলে শাপলা শালুক পাতা
চাঁদনী রাতে জোনাক জ্বলে হৃদয়ে রয় গাঁথা!
শরৎ এলো
শারমিন নাহার ঝর্ণা
আকাশজুড়ে নীলের মেলা
সাদা মেঘে করে খেলা,
নদীর পাড়ে কাশের বন
দেখে ভালো হয় যে মন।
শিউলি ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ
প্রভাত হলে জুড়ায় প্রাণ,
শিশির জমে সবুজ ঘাসে
সূর্যমামা মুচকি হাসে।
মাঠে মাঠে কচি ধান
কৃষকেরা গায় যে গান,
মৃদু শীতল বাতাস বয়
মনটা শুধু উদাস হয়।
বিকল্প নেই
সাইদুল ইসলাম সাইদ
নিজের স্বপ্ন ইচ্ছে যদি
পূর্ণ করতে চাও
তাহলে শ্রেয় পড়াশোনা
নিত্য করে যাও।
বাবা মায়ে ধমকাবে আর
যতই বকে যাক,
সেটাই তোমার আশীর্বাদও
সময়ক্রমে লাখ।
পড়াশোনা করলে তুমি
একদিন বড় হবে
তার ক্ষমতায় দেশ-বিদেশে
কিংবা চাঁদেও রবে।
কানাকানি করবে লোকে
পাওয়ার পেল কই?
অলৌকিক নয় বলবে সবাই
আসল পাওয়ার বই।
ডেঙ্গু মশা
শেখ সালমান শাহী
ডেঙ্গু মশা দেখতে ছোট
পিঠে বীণা আকৃতি থাক,
সাদা কালো রং-বেরঙের
বাঘের ন্যায় ডোরা কাটা দাগ।
সকাল বিকাল ঘুরে যে
পেলে সবারে কামড়ায়,
মুহূর্তেই যায় নাকো বুঝা
চুলোনি ব্যথা কোনো কিছু তাই।
বাস করে স্বচ্ছ পানিতে
টায়ার টবে ক’দিন ধরে,
নিমেষে চার ছয়শো ফুট
শূন্যে উঠে উড়তে পারে দূরে।
খবর
মোহাম্মদ শামীম মিয়া
প্রতিদিনই নানা রকম খবর আসে,
দূর দিগন্তের হাওয়ার ভেলায় ভাসে।
খবর আসে কাগজের পাতা ভরে,
কথার নাচন থাকে যে থরে থরে।
খবর আসে জীবন নামের খামে,
আঁধার ঘোরে হঠাৎ ঠিকই থামে।
ভাসছে কেউ সাগর অথৈ বন্যায়,
হচ্ছে কোথা জুলুম শত অন্যায়।
যুদ্ধ মাঠের খবর আসে দৈনিক,
অকাতরে মরছে হাজার সৈনিক।
অনাহারে অসহায়ের কাটছে রাত,
লুটেপুটে করছে কেউ বাজিমাত।
সড়ক পথে দুর্ঘটনায় ঝরছে প্রাণ,
শুঁকছে কেউ অবৈধ টাকার ঘ্রাণ।
দুর্নীতি-ভেজাল করে আজকাল,
হচ্ছে কেউ পোয়াবারো লালে লাল।
বাড়ছে কারো শক্তি সাহস ঈমানী,
করছে কেহ চলচাতুরী বেঈমানী।
হাতের মুঠোয় পুরো পৃথিবী এখন,
খবর আসে নিমিষে যখন তখন।
আমার দেশ
আব্দুস সালাম
আমার এ দেশ পাহাড়ঘেরা
নদী ভরা মাছে
হরেক পাখির সুর শোনা যায়
ছোট বড় গাছে।
ভোমর অলি নেচে বেড়ায়
ফসল ভরা মাঠে
পল্লীগানের সুর শোনা যায়
নদীর বাঁটে বাঁটে।
সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে
রঙিন ফুলের হাসি
মধুর সুরে প্রাণটা জুড়াই
রাখাল বাজায় বাঁশি।
ছোট-বড় নদীগুলো
সাগর পানে ছোটে
রোজ সকালে পুব আকাশে
সূর্যি মামা ওঠে।
শরৎ হাসি
সাদমান হাফিজ শুভ
রাশি রাশি শরৎ হাসি
ঝলমলানো দেশ,
ঝিকিমিকি কাশের সারি
সাদা-সাদা মেঘের বাড়ি
দারুণ পরিবেশ!
শিশু-কিশোর উড়ায় ঘুড়ি
এ থেকে ও মাঠ,
ঝিলের বুকে পদ্ম ফোটে
সোনা রোদের ঝিলিক ছোটে
বসে রূপের হাট।
ধানের শীষে ফড়িং নাচে
চাষার বুকে সুখ,
নীল নোয়ানো আকাশপাড়ে
রংধনুটা উঁকি মারে
সাতরঙা তার মুখ।
হিম শিশিরের মুকুট পরে
সাজে ঘাসের বন,
শিউলি-বকুল বাঁধে জুটি
হাওয়ায় খায় লুটোপুটি
গন্ধে ভাসে মন।
তালের পিঠা আহা মিঠা
কে না খেতে চায়?
আলো-ছায়ার লুকোচুরি
খানিক পরেই ইলশেগুঁড়ি
শান্তি নামে গাঁয়।
আমার খুকি
নুরুল হুদা নুরী
ছোট্ট খুকির নাচের তালে
নাচে ফুল আর পাখি,
ডালিম গাছে ফিঙে নাচে
কিচিরমিচির ডাকি।
হেলে-দুলে নাচতে পারে
আমার ছোট খুকি,
কে আছে আর খুকির মতো
পরিবারে সুখি।
কচি পায়ে নাচের তালে
কী যে দারুণ ছন্দ,
খুকির নাচে মুগ্ধ হয়ে
গোলাপ ছড়ায় গন্ধ।
তালের পিঠা
শেখ সোহেল রেজা
ভাদ্র মাসে তালের পিঠা
খোকন সোনা খাবে,
মিঠাই চিনি আনতে কে?
বাজারেতে যাবে।
তালের পিঠা অনেক মিঠা
খেতে মজা লাগে,
তাইতো আজ পিঠা খাবে
খোকন সোনা আগে।
হরেক রকম তালের পিঠা
এই ভাদ্র মাসে,
পিঠা দেখে খাঁচার টিয়া
আনন্দেতে হাসে।
তালের পিঠা ভারি মজা
বানাও তাড়াতাড়ি,
পিঠা নিয়ে ময়না টিয়ার
দেখো কাড়াকাড়ি।