গণতন্ত্রের অভিযাত্রা ও নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যয়
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৪৯
॥ মতিউর রহমান আকন্দ ॥
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সংবিধান তার রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি নির্ধারণ করেছে এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার পরিচালনার বিধান দিয়েছে। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর পঞ্চান্ন বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এই দীর্ঘসময়ে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নানা উত্থান-পতন, আশা-হতাশা, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়েছে।
স্বাধীনতার পর প্রথমে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে। পরবর্তীকালে বিএনপি তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করে এবং দেশের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। এরপর হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। তার স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে একটি ঐতিহাসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
১৯৯১ : গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধারে জামায়াতের ভূমিকা
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। সেই সংকটময় মুহূর্তে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিঃস্বার্থভাবে বিএনপিকে সমর্থন দেয়। এই সমর্থনের ফলে বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পায় এবং দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় সূচিত হয়।
এটি ছিল গণতন্ত্রের প্রতি একটি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রকাশ। ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার চেয়ে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীসহ চারদলীয় জোট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।
এরপর আসে ওয়ান-ইলেভেনের রাজনৈতিক পরিবর্তন। তার পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে এবং দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় এমন এক কর্তৃত্ববাদী পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
সতেরো বছরের জুলুমের অবসান
এই দীর্ঘসময়ে জনগণকে রাষ্ট্রীয় জুলুম নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। রাজনৈতিক নিপীড়ন, বিরোধীমত দমন, গুম, আয়নাঘর, মিথ্যা মামলা, বিচারিক হয়রানি এবং নানা ধরনের রাষ্ট্রীয় নির্যাতন চলেছে। মানুষের ভোটাধিকার সংকুচিত হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে এবং জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়েছে।
কিন্তু কোনো স্বৈরশাসনই চিরস্থায়ী নয়। জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, বঞ্চনা ও অধিকারবোধ একসময় বিস্ফোরিত হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে সেই ঐতিহাসিক পরিবর্তন সংঘটিত হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
জাতির সামনে তখন একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়ায়— কেবল সরকার পরিবর্তনই কি যথেষ্ট, নাকি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ভবিষ্যতে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের জন্ম না হয়?
জুলাই সনদ : নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সংস্কারমূলক পদক্ষেপের প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করে। দীর্ঘ আলোচনার পর একটি সংস্কারভিত্তিক ঐকমত্য গড়ে ওঠে, যা জুলাই সনদ নামে পরিচিত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর করা এবং ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।
এই সংস্কারের প্রস্তাব জনগণের অনুমোদনের জন্য গণভোটে উপস্থাপনের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছায়। পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত আদেশ জারি করেন।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে বিএনপি প্রস্তাব রাখে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে গণভোট সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের পর অন্তর্বর্তী সরকার একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার পর জনগণ উভয় ক্ষেত্রেই তাদের ম্যান্ডেট প্রদান করে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং সরকার গঠিত হয়। কিন্তু জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কারের জন্য যে সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল, তা কার্যকর হয়নি। বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা সেই শপথ গ্রহণ না করায় সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। ফলে জনগণের প্রত্যাশিত সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের কাজও থেমে যায়।
সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্র সংস্কার এক বিষয় নয়
সংস্কার পরিষদ গঠিত না হওয়ার পর সংসদে জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংস্কারের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এই বিষয়টি বিরোধীদলীয় নেতা একাধিকবার সংসদে উত্থাপন করেন এবং আলোচনার জন্য নোটিশ দেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনাকে পাশ কাটিয়ে সরকার দল সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করে।
এখানেই একটি মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংবিধান সংশোধন একটি নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া। কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কার হলো রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান, ক্ষমতার কাঠামো, জবাবদিহি, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা এবং নাগরিক অধিকারকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার বৃহত্তর উদ্যোগ।
যে জনগণ প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ম্যান্ডেট দিয়েছে, তাদের সেই প্রত্যাশাকে কেবল একটি সংশোধনী কমিটি গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।
বিরোধীদলীয় নেতৃবৃন্দ এই অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন। তাদের বক্তব্য ছিল, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করতে হবে। রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার ছাড়া কেবল ক্ষমতার পালাবদল জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে না।
সংসদের বাইরে জনগণের কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত
সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় বিরোধীদল জনগণের দ্বারস্থ হয়। সমাবেশ, জনসভা, পথসভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের সামনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা শুরু হয়।
এই সময়ে দেশের সাধারণ মানুষও নানা সংকটে জর্জরিত ছিল। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুতের ভয়াবহ বিপর্যয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জননিরাপত্তার অভাব এবং ক্রমবর্ধমান জনদুর্ভোগ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তোলে।
জামায়াতে ইসলামী সংসদের বিরোধীদল হিসেবে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং এসব সমস্যার সমাধান দাবি করে। কিন্তু সংসদীয় উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ফল না পাওয়ায় জনগণকে বাস্তব পরিস্থিতি জানানোর উদ্দেশ্যে বিরোধীদল রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এই প্রেক্ষাপটেই লংমার্চের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
লংমার্চ : জনগণের কাছে বিরোধীদলের প্রত্যাবর্তন
গত ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করে। প্রায় ১১২টি স্থানে লংমার্চকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং এর মধ্যে ছয়টি স্থানে বিরোধীদলীয় নেতা ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ জনসভা আকারে জনগণের সামনে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন।
লংমার্চ একটি সাড়াজাগানো কর্মসূচিতে পরিণত হয়। এর মাধ্যমে জনগণ স্পষ্টভাবে জানতে পারে— বিরোধীদল কী চায়, কেন চায় এবং কেন তারা রাজপথে এসেছে।
কেউ কেউ লংমার্চের কর্মসূচিকে অপরিণত বা ইম্যাচিউর বলে মন্তব্য করেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই কর্মসূচিকে অপরিণত বলা যায় না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে ছয় মাসের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করার কথা ছিল। সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে অথচ সংস্কারের কাজ এগিয়ে যায়নি।
যে বিষয়টি জনগণের প্রত্যাশার কেন্দ্রে ছিল এবং যার বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত ছিল, সেই বিষয়টি যখন স্থবির হয়ে পড়ে, তখন বিরোধীদলের দায়িত্ব ছিল জনগণের সামনে তা তুলে ধরা। অতএব লংমার্চ ছিল সময়োপযোগী, যথাযথ এবং রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল একটি উদ্যোগ।
জনদুর্ভোগ ও রাষ্ট্রের জবাবদিহি
বর্তমান সংকট কেবল রাজনৈতিক সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের মানুষ প্রতিদিন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ বিপর্যয় এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।
বিদ্যুতের যে ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তা জনগণের জীবনযাত্রা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পোৎপাদন এবং শিক্ষাব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিগত পঞ্চান্ন বছরের মধ্যে এমন বিপর্যয় আর হয়েছে কি না, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংসদে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যেমন বিরোধীদলের দায়িত্ব, তেমনি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সমাধান না হলে জনগণের কাছে গিয়ে তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরাও গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্বাভাবিক অংশ।
জনগণের অধিকার রক্ষায় বিরোধীদলের কণ্ঠস্বরকে দুর্বল করার পরিবর্তে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ একটি কার্যকর গণতন্ত্রে সরকারের পাশাপাশি শক্তিশালী বিরোধীদলও অপরিহার্য।
নতুন বাংলাদেশের সম্ভাবনা
লংমার্চের মাধ্যমে জনগণের যে সাড়া পাওয়া গেছে, তা আগামী দিনের রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত বহন করে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলের জোটের অগ্রগতি এবং নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যয় এই কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
অবশ্য এই সম্ভাবনাকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার জন্য নানা ধরনের বক্তব্য, প্রচারণা ও অপপ্রয়াস চালানো হতে পারে। কিন্তু জনগণ এখন আর কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য শুনতে চায় না; তারা বাস্তব পরিবর্তন চায়। তারা চায় এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে কোনো দল বা ব্যক্তি জনগণের অধিকার হরণ করে দীর্ঘদিন ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে পারবে না।
জনগণ চায়—
* একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনব্যবস্থা।
* একটি স্বাধীন ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা।
* একটি জবাবদিহিমূলক সংসদ।
* একটি শক্তিশালী বিরোধীদল।
* একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ।
* একটি দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন।
* এবং সর্বোপরি এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করতেই হবে
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস প্রমাণ করে, জনগণ যখন ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো স্বৈরশাসনই তাদের আকাঙ্ক্ষাকে চিরদিন দমিয়ে রাখতে পারে না। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম যেমন একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানও বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।
কিন্তু স্বৈরশাসনের পতনই শেষ কথা নয়। স্বৈরাচারের পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্রের কাঠামোকে এমনভাবে সংস্কার করতে হবে— যাতে ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, বিরোধীমত দমন এবং জনগণের অধিকার হরণের পথ চিরতরে বন্ধ হয়।
জুলাই সনদ সেই প্রত্যাশারই একটি প্রতীক। এর বাস্তবায়ন কেবল কোনো রাজনৈতিক দলের দাবি নয়; এটি জনগণের ম্যান্ডেট। সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকার, বিরোধীদল এবং দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাংলাদেশের মানুষ একটি সুন্দর, নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ চায়। তারা চায় না, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা আবার ফিরে আসুক। তারা চায় এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে রাষ্ট্র জনগণের, ক্ষমতা জনগণের এবং গণতন্ত্র জনগণের অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
এই প্রত্যাশা পূরণ করা রাজনৈতিক দলগুলোর অনুগ্রহ নয়; এটি জনগণের অধিকার এবং রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।