সুবিধাভোগী ৩৩ লাখ পরিবার, বেতন বাড়বে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৮
স্টাফ রিপোর্টার : দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ‘জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬’ অনুমোদন করেছে সরকার। গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত নতুন এই বেতনকাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে নতুন বেতনের পুরো সুবিধা একবারে হাতে পাবেন না চাকরিজীবীরা। মূল বেতন তিন ধাপে বাস্তবায়ন হবে এবং নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। নতুন বেতন স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। যারা সরকারি এ সুবিধার বাইরে রয়েছেন তাদের জন্য বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা, সে প্রশ্ন সামনে এসেছে। সরকারি পে-স্কেলের আওতায়ভুক্ত নন এমন চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা সরকার যেন সর্বক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
সরকারের হিসাবে, নতুন বেতন স্কেলের সরাসরি সুবিধা পাবেন প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী। এর সঙ্গে প্রায় সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী যুক্ত হওয়ায় মোট উপকারভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৩৩ লাখ। নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।
তিন ধাপে মূল বেতন
নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— নতুন নির্ধারিত মূল বেতন একবারে কার্যকর হবে না। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে তিন ধাপে মূল বেতন পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।
১ম থেকে ৯ম গ্রেড
প্রথম ধাপে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ কার্যকর হবে। দ্বিতীয় ধাপে জানুয়ারি ২০২৭ থেকে আরও ৩০ শতাংশ এবং তৃতীয় ধাপে জুলাই ২০২৭ থেকে বাকি ৩০ শতাংশ কার্যকর হবে। ফলে জুলাই ২০২৭ থেকে এই গ্রেডগুলোর নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হবে।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড
স্বল্প আয়ের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই গ্রেডগুলোয় প্রথম ধাপেই বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন নির্ধারিত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, জানুয়ারি ২০২৭ থেকে আরও ২৫ শতাংশ এবং জুলাই ২০২৭ থেকে বাকি ২৫ শতাংশ কার্যকর হবে। অর্থাৎ ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা জুলাই ২০২৬ থেকেই নতুন বেতন বৃদ্ধির অর্ধেক সুবিধা পাবেন। অন্যদিকে ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রথম ধাপে নতুন বর্ধিত অংশের ৪০ শতাংশ পাবেন।
ভাতা মিলবে ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে
নতুন বেতন স্কেলের মূল বেতন ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে পুরোপুরি কার্যকর হলেও বিভিন্ন ভাতা নতুন হারে কার্যকর হবে ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে। অর্থাৎ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা নতুন মূল বেতনের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে।
কোন গ্রেডে কত বেতন
নতুন বেতন স্কেলের তথ্যানুযায়ী, ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ করে বাড়ানো হয়েছে। আর ১২তম গ্রেড থেকে নিচের গ্রেডগুলোয় বৃদ্ধির হার ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছে। ১ম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২য় গ্রেডে ৬৬ হাজার থেকে ৭৬ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ৩য় গ্রেডে বর্তমান ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৯৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। ৪র্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ৯১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা। ৫ম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ৮৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা। ৬ষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৬৭ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ৭১ হাজার থেকে ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। ৭ম গ্রেডে বর্তমান ২৯ হাজার থেকে ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ৫৮ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার ৮০০ টাকা। ৮ম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৫৫ হাজার ৪৭০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ৪৬ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা। ৯ম গ্রেডে ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। ১০ম গ্রেডে ১৬ হাজার থেকে ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ৩২ হাজার থেকে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। এই ১১টি গ্রেডেই প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ।
এরপর ১২তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১১৫ শতাংশ। এই গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা। ১৩তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১১৮ শতাংশ। এই গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা। ১৪তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩০ শতাংশ। এই গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৪ হাজার ৬৮০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা। ১৫তম ও ১৬তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৫ শতাংশ। ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২২ হাজার ৮০০ থেকে ৫৫ হাজার ২০০ টাকা। ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা। ১৭তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৩৮ শতাংশ। এই গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার ৪০০ থেকে ৫১ হাজার ৯০০ টাকা। ১৮তম গ্রেডে বৃদ্ধির হার ১৩৯ শতাংশ। এই গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার ৩১০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২১ হাজার থেকে ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। ১৯তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১৪১ শতাংশ। এই গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত বেতন বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার ৫০০ থেকে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। সবশেষে ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ। এই গ্রেডে ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত বর্তমান মূল বেতন বেড়ে হয়েছে ২০ হাজার থেকে ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা। নতুন বেতন স্কেলে এভাবেই উচ্চতর গ্রেডগুলোয় ১০০ শতাংশ থেকে শুরু করে নিচের গ্রেডগুলোয় সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও আসছেন
গত ৩১ আগস্ট পে-স্কেল অনুমোদনের পর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছিলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তবে ১ সেপ্টেম্বর শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরাও নতুন পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং সেই অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন। দেশে বর্তমানে সোয়া ৬ লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে ২ লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য পৃথক প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা কী হবে, তা অর্থ বিভাগের পরবর্তী আদেশে স্পষ্ট হবে।
সব গ্রেডে মোবাইল ভাতা
নতুন পে-স্কেলে মোবাইল ভাতার আওতা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন মূলত ৫ম গ্রেডের কর্মচারীরা মোবাইল ভাতা পেতেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী এই সুবিধা পাবেন। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা
সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালু করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে।
পেনশন বাড়ছে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ
অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। সরকার ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ বা ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই ব্যবস্থা এখনই একযোগে চালু না করে আপাতত নিট পেনশন স্ল্যাবভিত্তিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন হারে— ৯ হাজার টাকা বা কম : পেনশন বাড়বে ১০০ শতাংশ, ৯ হাজার ১ থেকে ২০ হাজার টাকা : বাড়বে ৭৫ শতাংশ, ২০ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার টাকা: বাড়বে ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ থেকে ৪০ হাজার টাকা : বাড়বে ৬০ শতাংশ, ৪০ হাজার ১ টাকা বা বেশি : বাড়বে ৫৫ শতাংশ। সরকারের যুক্তি, এতে কম পেনশন পাওয়া এবং দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
জুডিশিয়াল সার্ভিসে আলাদা বেতন স্কেল
বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য আলাদা বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। এটিও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে জাতীয় বেতন স্কেলের মতো ধাপে ধাপে কার্যকর করার কথা রয়েছে।
বেতন বাড়লেও বিশেষ সুবিধা থাকবে না
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন শুরুর সঙ্গে বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীরা যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ‘বিশেষ সুবিধা’ পাচ্ছেন, সেটি সমন্বয় বা বাতিল হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে। ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্তমানে ১০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। নতুন কাঠামোর সঙ্গে এই সুবিধার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।
কখন পুরোপুরি কার্যকর হবে
১ জুলাই ২০২৬ : নতুন পে-স্কেল কার্যকর ধরা হবে এবং মূল বেতনের প্রথম ধাপ কার্যকর হবে। জানুয়ারি ২০২৭ : মূল বেতনের দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর হবে। জুলাই ২০২৭ : নতুন নির্ধারিত মূল বেতন ১০০ শতাংশ কার্যকর হবে। জানুয়ারি ২০২৮ : নতুন হারে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর হবে। অর্থাৎ পে-স্কেল কার্যকর ধরা হয়েছে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে, কিন্তু চাকরিজীবীরা পুরো বেতন ও ভাতার সুবিধা পর্যায়ক্রমে পাবেন।
সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় কত
নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মিডিয়াম টার্ম বাজেট ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এই ব্যয়ের সংস্থান রাখা হয়েছে। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি, ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত বিধান থাকবে। চলতি সপ্তাহেই এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারির কথা জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বাড়লেও বেসরকারি খাত বা অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের বেতন একযোগে বাড়ে না। এতে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধিতে তারা বড় ধাক্কা খান এবং সামাজিক বৈষম্য বাড়ে।
সিপিডি সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির অর্থ যদি কর বা রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে ব্যাংক ঋণ, অতিরিক্ত টাকা ছাপানো বা উন্নয়ন বাজেট কাটছাঁটের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়, তবে তা অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করবে। বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ নিশ্চিত না করতে পারলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে।’
অর্থনীতিবিদ ও চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘অতিরিক্ত আয়ের ফলে যদি বাজারে চাহিদা বাড়ে, কিন্তু খাদ্যে ও শিল্পপণ্য উৎপাদনে সরবরাহ একই গতিতে না বাড়ে, তবে নতুন করে মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে।
ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে সরকারের অর্থায়নে চাপ সৃষ্টি হবে এবং ঘাটতি বাড়বে। যদি রাজস্ব পরিস্থিতির অবনতি ঘটে, তবে তার অপ্রত্যক্ষ চাপ এসে পড়বে বেসরকারি খাতের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর।’
বিশ্লেষকদের অভিমত, সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান ধরে রাখতে বেতন বাড়ানো যৌক্তিক হলেও সঠিক অর্থায়ন ও বাজার ব্যবস্থাপনার অভাবেই মূলত অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।