ছড়া কবিতা
৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩৬
অবুঝ শিশুর বায়না
মুকুল হোসেন
ফোকলা দাঁতের মিষ্টি হাসি-
হাসে অবুঝ শিশু,
ইচ্ছে জাগে বলতে কথা
বায়না কতকিছু।
কখন কি তার খুব প্রয়োজন
বলে কান্নার ছলে,
শিশুমনের বায়নাগুলো
না বুঝিলে চলে?
অবুঝ শিশুর মনের ভেতর
যতকিছুর বায়না,
মায়ের মনটা জানি সবার
স্বচ্ছ কাঁচের আয়না।
কেউ বোঝে না শিশুর কান্না
বোঝে কেবল মায়ে,
যেমন করে বোঝে মায়ে
চাচ্ছে কি তার ছায়ে।
এসো তরুণ
আসিফ হোসাইন
এসো তরুণ দলে দলে
সংগ্রামেরই ছায়াতলে,
সত্য ন্যায়ের পন্থা ধরে
গড়বো মোরা স্বদেশটাকে,
রহিবো না কেউ আর গোলাম হয়ে
লড়বো সবাই আজাদির হয়ে
ন্যায়-নীতি আর ইনসাফের পথে,
থাকিলে সদা অটল হয়
সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে
কাঁধে মিলিয়ে কাঁধ
বিদেশি সব তাঁবেদারকে বিদায় দিয়ে,
মুক্ত করবো স্বদেশটাকে
বিজয় মুকুট ছিনিয়ে আনবো
শপথ নিলাম আজ।
কানা বগি কানা না
মজনু মিয়া
কানা বগি কানা না, সবার কিন্তু জানা না
কানা বগি বাঁচে
বসে গিয়ে গাছে
পাশাপাশি বসে যা কাছাকাছি থেকে যা
আনন্দে খুব নাচে।
নিরিখ করে বসে খুব চুপি চুপি মারে খুব
ধরে ছোট মাছ
পেয়ে টেরও আঁচ
যারা দেখে জানে তা, কানা বগি কানা না
ঘুরে খাবার পাছ।
খোকাখুকুর হাসি মুখ ভালো করে দেখে চোখ
ফাঁদে পড়ে গেলে
দু’হাত পেতে মেলে
জানতে হবে বুঝতে হবে তা, কানা বগি কানা না
ঘুরে সুযোগ পেলে।
কদম ফুল
সাইদুল ইসলাম সাইদ
কদম ফুটে
খুকি ছুটে
ফুলগুলো যায় ভিজে
অন্য খুকি
দিচ্ছে উঁকি
নাচ্ছে সেও নিজে।
আমায় ডাকে
তাকিয়ে থাকে
বলছে কদম দুলে
লাগবে বাবা
দাও না থাবা
কও না দিবে তুলে?
তখন আমি
ভিজতে নামি
অমনিই গাছে উঠি
খুকি হাসে
ফুল পেয়ে সে
দেয় কান্নার সে ছুটি।
শরৎ
আব্দুস সালাম
কাজল গাঁ তার ঘর বেঁধেছে
কাজলা নদীর পাড়ে
জুঁই বকুলের সুবাসমাখা
রূপটি নজর কাড়ে।
স্নানটি সেরে কাজল গাঁ তার
পরল সবুজ বেশ
নদীর পাড়ে কাশের বনে
শুকায় সাদা কেশ।
দখিন পবন দোল খেয়ে যায়
কাজল গাঁয়ের কেশে
শিস দিয়ে যায় দোয়েল পাখি
বাড়ির পাশে এসে।
শিউলি বোঁটার কমলা রঙে
আলতা পরা পায়ে
সাদা মেঘের ভেলায় চেপে
শরৎ এলো গাঁয়ে।
প্রিয় মদিনা
মোহাম্মদ শামীম মিয়া
মন ছুটে যায় ওই মদিনার পানে,
কীসের মায়া কাছে শুধু টানে।
মদিনার সেই ধুলো-বালি মাটি,
শান্ত যেন ভীষণ পরিপাটি।
দরূদপাঠে মানব-জীবন ধন্য,
বলতে হবে সবার জানার জন্য।
ফুল পাখিও মশগুল গুণগানে,
শান্তির ছোঁয়া লাগে মনে প্রাণে।
ফেরেশতারা করে আনাগোনা,
মাফ হয়ে যায় যত আছে গুনাহ।
ছুটে আসেন লাখ-কোটি শিষ্য,
পবিত্র স্থান জানে সারা বিশ্ব।
ইসলামে যার আছে ত্যাগের ঋণ,
খোদার দয়া নাজিল হয় প্রতিদিন।
মদিনায় শুয়ে আছেন নবীজি আমার,
যার জন্য মদিনা অতি প্রিয় সবার।
হায়রে মানুষ
কুলসুম বিবি
হায়রে মানুষ নাই কেন হুঁশ
আছো কীসের ঘোরে?
হঠাৎ একদিন যেতে হবে
দূরের অচিনপুরে।
রঙের ঘোড়া দৌড়াও যেন
রঙিন ভবের তরে
যে পাঠাইলো তাঁরে তুমি
ভুললে কেমন করে।
খুলবে যখন আমলনামা
শেষ বিচারের দিনে।
কেমন করে মুখ দেখাবে
নেক আমলটা বিনে।
হিসাব দিবে কেমন করে
চলছো কীসের তালে।
সময় থাকতে ধরলে না তো
ঘোড়ার লাগামহালে।
প্রাণের নবী
শারমিন নাহার ঝর্ণা
মনে প্রাণে মিশে আছে
আমার প্রাণের নবী,
হৃদয়জুড়ে আঁকা আছে
তোমার প্রতিচ্ছবি।
তোমার নামে দরূদ পড়ে
পাই যে ভীষণ শান্তি,
হৃদয়জুড়ে শীতল ছায়া
দূর হয়ে যায় ক্লান্তি।
স্বপ্নে এসো প্রিয়নবী
তোমার দেখা চাই,
তোমার দেখা পেলে আমার
চাওয়ার কিছু নাই।
শরৎ এলো
শেখ সোহেল রেজা
শরৎকালে নদীর তীরে
দুলছে কাশের বন,
সাদা কাশের ফুল দেখে
হলো মাতাল মন।
শাপলা শালুক বিলের মাঝে
ফুটে থাকে কত,
মাছ ধরে মিলেমিশে
জেলে ভাই যত।
হাওয়ায় দোলে কাশফুল
নদীর বালুচরে,
সাদা মেঘের ভেলাগুলো
উড়ে যায় দূরে।
নবীর প্রেমে
কাব্য কবির
নবীর প্রেমে পড়ে আমি
নবীরই গান গাই,
তার দেখানো পথে চলে
অন্তরে সুখ পাই।
নবীর প্রেমে পড়ে হাসে
বাগানেরই ফুল,
মিষ্টি মধুর সুরে গান গায়
গাছেতে বুলবুল।
ঝর্ণা, পাহাড়, তরুলতা
গায় যে নবীর গান,
চন্দ্র, তারা রাতে হাসে
হাসে সাত আসমান।
পাপে ডুবে পৃথিবীটা
হলো যখন কালো,
নবী তখন নিয়ে এলেন
ইসলামেরই আলো।
সবার মনে বাতি জ্বালায়
কালো করে দূর,
সবার মনে বাস যে করে
মুহাম্মদ রাসূল।