রাসূলের শানে একগুচ্ছ সনেট
২৫ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫২
প্রথম নক্ষত্র
নিষ্প্রভ আকাশে জ্বলে উঠেছিল সেদিন প্রথম
একটি মাত্র সে নক্ষত্র জ¦লজ¦লে পুণ্যপ্রভা জ্যোতি,
অবাক বিস্ময়ে ফুটে উঠেছিল শুদ্ধতম মতি
নক্ষত্র কাননে যেন ফুটেছিল কেতকী কদম।
অবাক বিস্ময়ে শুধু বলেছিল প্রথম মানুষ
কে এই পূর্ণিমা দ্যুতি সুধাময় মধুমতী নদী
আলোকিত করে দিচ্ছে তারালোক পৃথিবী অবধি,
নিরন্তন স্রোতঃস্বিনী জীবনের অরণি পুরুষ।
যদি তাঁর পুণ্যময় জীবনের না হতো প্রকাশ
পূর্ণালোক পেত না এ অন্ধকার জগৎ সংসার,
গভীর আঁধারে ডুবে সর্পকুলে ভরপুর হতো,
তুমি তাই জীবনের আলোকের আলো হযরত,
তোমাতে সঁপেছি প্রাণ তুমি শুধু কেবল আমার
তুমিই আমার প্রাণ অনুধ্যেয় জীবন নির্যাস।
শুক্লাতিথি
সমত প্রকৃতি আজ অভিভূত অনন্ত অধীর
সমস্ত কানন বৃন্ত পুষ্পময় শত অলিকুল
সমস্ত সৃষ্টিজগৎ সাড়ম্বর অনন্ত অস্থির
সমস্ত নক্ষত্র চাঁদ বাঁধভাঙা জোসনায় আকুল।
আজ সেই প্রতীক্ষিত সুন্দরের শুভ আগমন
আজ সেই জ্যোতির্ময় নক্ষত্রের আত্ম উন্মোচন
আজ সেই নির্ঝরের প্রাণ সিক্ত পুষ্প প্রস্রবণ
আজ সেই পূর্ণতার শুক্লা তিথি পূতঃপুণ্যক্ষণ।
সমস্ত প্রকৃতি থেকে ধ্বনি ওঠে প্রিয় মুহাম্মদ
সমস্ত কলম লেখে মুহাম্মদ অমর সবিতা,
সমস্ত চেতনাজুড়ে মুহাম্মদ অনন্য কবিতা
সমস্ত হৃদয় থেকে ঝরে নদী প্রিয় মুহাম্মদ।
একটি মাত্র নামে আমি আজন্ম আউল উন্মাতাল
আমার দেহের প্রতি জীবকোষে মীম হে মীম দাল।
ফারানের ফুল
ফারানের ঐ গুলবাগিচায় ফুটলরে ফুল শাহান শাহা,
যে ফুলের ঐ নূরের রেশে চমকে যায় শাম জাহান সারা,
মা আমিনা চাঁদ পেল রে নৃত্য করে গ্রহ তারা,
ছন্দ দোদুল মুগ্ধ আকুল এ কোন কোকিল কুহু কাহা।
পড়ছে ভেঙে একে একে মিথ্যা কালো মূর্তি বাহার,
কাবার ঘর ফের উঠছে রেঙে এ কোন মধুর ফুর্তি আহা
পড়ছে লুটে একে একে সব শোষকের কারার দুয়ার
মুক্তি পাবে সর্বহারা মজলুমেরা দেখ সে রাহা।
স্বর্ণগিরি পুঁজির পাহাড় ভাঙছে রে কার ডরে মড় মড়
দুনিয়ার সব জালিমেরা কাঁপছে ভীষণ পাপে থরথর।
কার আলোতে পালায় আঁধার, কার আলোতে জগৎ আলো,
কার নামেতে আকাশ থেকে নামছে খুশির রূপের ঢলও,
সে নাম সেরা মখলুকজুড়ে সে নাম প্রিয় নূর মুহাম্মদ
আশেকে দিল সাগরও নীল উথলে ওঠে বুকের শহদ।