সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


১৯ আগস্ট ২০২৬ ২১:২৪

বসবাসের অনুপযোগী তাঁবুতে শিশুসহ ৮ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি
গাজা উপত্যকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। সরকারি তথ্য দপ্তরের হিসাবে, উপত্যকাজুড়ে ২১ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৮ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি মানুষ বসবাসের অযোগ্য অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) গাজার সরকারি তথ্য দপ্তর এ তথ্য জানায়। শীতকাল ঘনিয়ে আসায় তাঁবুতে থাকা এসব মানুষের পরিস্থিতি আরও সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তাদের হিসাবে, অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নেওয়া মানুষের মধ্যে পাঁচ লাখের বেশি শিশু রয়েছে। গাজার সরকারি তথ্য দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে তাঁবুগুলোর বড় একটি অংশ আবহাওয়া প্রতিরোধে অক্ষম। শীত ও বৃষ্টির মৌসুম সামনে রেখে এসব মানুষের জন্য আবহাওয়া প্রতিরোধী তাঁবু, অন্তরণ সামগ্রী, ক্রেন ও অন্যান্য আশ্রয় সরঞ্জাম দ্রুত গাজায় প্রবেশের সুযোগ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখন সংকটের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ধ্বংসস্তূপ সরানো, জরুরি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে গাজায় খাদ্য, পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট আরও তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন সতর্ক করে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা মানুষের জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়ের ব্যবস্থা করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গাজার সরকারি তথ্য দপ্তরের আগের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে ইসরাইলি হামলায় উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গাজায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এর মধ্যে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্গঠনও রয়েছে। শীত মৌসুম সামনে রেখে জরুরি আশ্রয় ও মানবিক সহায়তা দ্রুত পৌঁছানো না গেলে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আল-জাজিরা।

সঙ্গীত-নৃত্য-সেলফিতে কাবুলে তালেবানের ক্ষমতার ৫ বছর উদযাপন
সঙ্গীত, নৃত্য ও সেলফিতে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার পাঁচ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) তালেবান সমর্থক শত শত মানুষ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জড়ো হয়ে এ উদযাপনে অংশ নেন। কাবুলের সাবেক মার্কিন দূতাবাসের কাছাকাছি এলাকায় সমবেত লোকজন তালেবানের সাদা পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাস করেন। কেউ গাড়িতে, কেউ গাড়ির জানালা ও ছাদে দাঁড়িয়ে পতাকা নাড়তে থাকেন। কোথাও দেশাত্মবোধক ও ধর্মীয় গান বাজানো হয়, আবার তালেবান সদস্যদের ঐতিহ্যবাহী আতান নৃত্য করতেও দেখা যায়। অনুষ্ঠানে অনেক তালেবান সদস্য কাঁধে একে-৪৭ রাইফেল নিয়ে অংশ নেন। কেউ কেউ রকেটচালিত গ্রেনেড হাতে নাচেন। শিশুদের সামরিক পোশাক পরে খেলনা বন্দুক হাতে দেখা যায়। কয়েকটি গাড়িতে তালেবানের অতীত সশস্ত্র লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে নকল বিস্ফোরক বহনকারী হলুদ ক্যানিস্টারও রাখা হয়। তালেবান প্রশাসন দিনটিকে জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছিল। এ উপলক্ষে কাবুলের কিছু দোকান বন্ধ ছিল এবং রাজধানীর স্বাভাবিক ব্যস্ততাও কিছুটা কমে যায়। আকাশে সামরিক হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায় এবং বিভিন্ন স্থানে আতশবাজির শব্দ শোনা যায়। তালেবান সমর্থকদের কয়েকজন পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা এসেছে বলে দাবি করেন। তবে তালেবানের কঠোর ইসলামী আইন, বিশেষ করে নারী ও মেয়েদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। গালফ নিউজ।

বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের তালিকায় মদিনার ৩৫ পণ্য
সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলের ৩৫টি ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক খাদ্য ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এসব পণ্যকে ‘আর্ক অব টেস্ট’ নামের বৈশ্বিক উদ্যোগে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কুলিনারি আর্টস কমিশন। দেশটির মোট ১৮০টি পণ্য এখন এই বৈশ্বিক খাদ্য ঐতিহ্য উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। ‘আর্ক অব টেস্ট’ হলো স্লো ফুড ফাউন্ডেশনের একটি অনলাইন তালিকা। এর লক্ষ্য হলো বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা বা ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ, স্থানীয় উৎপাদকদের সহায়তা এবং জীববৈচিত্র্য ও খাদ্য সংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখা। মদিনার তালিকাভুক্ত পণ্যের মধ্যে রয়েছে আল-আইস গম, আল-আইস বার্নি খেজুর, হাসাউই পুদিনা, আল-ফিকরা পাহাড়ি মধু, হুমুস, শুরেক রুটি, বালসাম, বাঁধাকপি ও নবক ফলসহ আরও বিভিন্ন স্থানীয় পণ্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্যের সঙ্গে মদিনা অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাসের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক তালিকায় অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এসব পণ্যের সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব আরও তুলে ধরা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগের ফলে স্থানীয় কৃষক ও উৎপাদকরাও উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়বে। কুলিনারি আর্টস কমিশনের মতে, ঐতিহ্যবাহী খাদ্য উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত জ্ঞান, পদ্ধতি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মদিনার সমৃদ্ধ কৃষি ও খাদ্য ঐতিহ্য তুলে ধরা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক তালিকায় মদিনার ৩৫টি পণ্যের অন্তর্ভুক্তি সৌদি আরবের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতি ও কৃষিপণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। আরব নিউজ।

ভারতে ছাত্র আন্দোলনের বড় জয়
শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলন ও ১৬ দিন ধরে চলা অনশন ধর্মঘটের মুখে অবশেষে নতিস্বীকার করল ভারতের ঝাড়খণ্ড সরকার। ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন-কম্বাইন্ড গ্র্যাজুয়েট লেভেল (ঔঝঝঈ-ঈএখ) এবং টিডিপিএল (ঞউচখ) পরিচালিত বিতর্কিত নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি মেনে নিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের রাজ্য সরকার। সরকারের এ সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর গত সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে অনশন ভঙ্গ করেছেন ছাত্র আন্দোলনের প্রধান নেতৃত্ব দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোসহ অন্যান্য প্রতিনিধিরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষে দেবেন্দ্রমাহাতো, উম্মে হাবিবা এবং রাহুল ক্রান্তি রাজ্যের দুই মন্ত্রী দীপিকা পান্ডে সিং ও ইরফান আনসারির হাত থেকে ফলের জুস পান করে ১৬ দিনের দীর্ঘ অনশন শেষ করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশ্ন ফাঁস, জালিয়াতি এবং অনিয়মের প্রতিবাদে গত ২ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু করেন ঝাড়খণ্ডের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে এই আন্দোলন অনশন কর্মসূচিতে রূপ নেয়। সরকারের বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিতর্কিত পরীক্ষাগুলো সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানান, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যেই নিয়োগ পরীক্ষার জালিয়াতির অভিযোগে ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (ঔচঝঈ) সাবেক চেয়ারম্যানসহ অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ঈওউ)। ১৬ দিনের অনশন ভেঙে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র মাহাতো বলেন, ‘এটি ঝাড়খণ্ডের সাধারণ ও চাকরিপ্রত্যাশী শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল বিজয়। পরীক্ষা বাতিল করা সরকারের জন্য সহজ ছিল না, তবে আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ না প্রশ্ন ফাঁস রোধে নতুন ও কঠোর আইন পাস হয়।’ টিওআই।

যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান : দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর রদবদলে দেশটির ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শীর্ষ নিরাপত্তা পদগুলোতে কট্টরপন্থি ও অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দিয়ে তেহরান সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ছয় মাস লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার পর মোজতবা খামেনি দেশের শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন। চলতি মাসে তিনি নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে একাধিক প্রবীণ সামরিক কমান্ডার ও কট্টরপন্থি কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নিয়োগের মাধ্যমে ইরান এমন একটি কৌশল নিতে চাইছে- যাতে সংঘাতের অবসান ঘটলেও হরমুজ প্রণালীর ওপর তার কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ ও সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন থাকে। সংঘাতের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও হরমুজ প্রণালী নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। একই সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তির জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমাও সোমবার শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যেকোনো সময় পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। মোজতবা খামেনির সাম্প্রতিক নিয়োগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের নেতৃত্ব দেওয়া এই সাবেক সামরিক কমান্ডারকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান করা হয়েছে। এছাড়া ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তায়েবকে বাসিজ বাহিনীর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বাসিজ ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি শক্তিশালী আধাসামরিক নেটওয়ার্ক, যা অতীতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ব্যবহৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক রদবদলের অংশ হিসেবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নতুন জেনারেল স্টাফ, রেভল্যুশনারি গার্ডসের নতুন প্রধান এবং বাহিনীটির নৌবাহিনীর নতুন কমান্ডারও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নৌবাহিনীর কমান্ডার পদটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরানের সামরিক উপস্থিতি ও নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তেহরানের সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর পরিবর্তনের দিকে আন্তর্জাতিক মহল গভীর নজর রাখছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

ভারতে মসজিদের ভেতর ইমামকে কুপিয়ে হত্যা
ভারতের বিহার রাজ্যের গোপালগঞ্জ জেলায় একটি মসজিদের ভেতর এক ইমামকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উচকাগাঁও থানা এলাকার অর্ণা বাজারে অবস্থিত একটি মসজিদে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইমামের নাম শফিক আহমেদ বলে শনাক্ত করা হয়েছে, তিনি ভোরে থানা এলাকার রুদালপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়, যখন স্থানীয় বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন নির্ধারিত সময়ে সচরাচর দেওয়া আজানটি হয়নি। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে স্থানীয়রা মসজিদে গিয়ে শফিক আহমেদের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ঘটনার পরপরই পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে উচকাগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্রর নেতৃত্বে একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, রাতের কোনো এক সময়ে শফিক আহমেদকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। আহমেদ সিসাই এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন এবং অর্ণা বাজারের ওই মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলেকে রেখে গেছেন, যাদের মধ্যে একজন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ঘটনার পর পুলিশ দলটি মসজিদের আশপাশের অধিবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে এবং এলাকা থেকে আলামত সংগ্রহ করা শুরু করে। হামলায় জড়িত সন্দেহভাজন বা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে মসজিদের আশপাশে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ওই এলাকায় একাধিক থানার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং আলামত পরীক্ষার পরই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানা যাবে। ঘটনার আগে ইমাম শফিক আহমেদের সাথে কারো কোনো বিরোধ বা হুমকি ছিল কি না, তা জানতে স্থানীয়দেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সিয়াসত ডেইলি।

বিশ্বজুড়ে এক বছরে ৩৫০ ত্রাণকর্মী নিহত : জাতিসংঘ
সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩৫০ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে গাজা ও সুদানে। জাতিসংঘ বলছে, ত্রাণকর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। গত সোমবার (১৭ আগস্ট) বিশ্বমানবতা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয়বিষয়ক কার্যালয় (ওসিএইচএ) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামসের তথ্যানুযায়ী, টানা তৃতীয় বছরের মতো ত্রাণকর্মীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে গাজা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর গাজায় ১৮৬ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এরপরই রয়েছে সুদান, যেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ৭১ জন। তবে ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর বিশ্বব্যাপী নিহত ত্রাণকর্মীর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে ৩৭৭ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছিলেন। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল টম ফ্লেচার জানান, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারের বেশি ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। শুধু নিন্দা জানিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্লেচার আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি বেসামরিক নাগরিক ও ত্রাণকর্মীদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রগুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে যারা এসব আইন লঙ্ঘন করবে, তাদের জবাবদিহির আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি। ওসিএইচএর তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আরও ৮২ জন ত্রাণকর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন ৯৭ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। সংস্থাটি সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সশস্ত্র ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মতে, এসব ড্রোন প্রাণঘাতী হামলার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনবহুল এলাকায় ধ্বংসাত্মক বিস্ফোরক ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে সুদানে নিহত বেসামরিক নাগরিকদের প্রায় ৮০ শতাংশই ড্রোন হামলার শিকার হয়েছেন। এসব হামলার অনেকগুলো বাজার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চালানো হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধেও ড্রোন হামলার ধ্বংসাত্মক প্রভাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। টম ফ্লেচার বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনকে বেপরোয়াভাবে বিপন্ন করার ক্ষেত্রে সশস্ত্র ড্রোন পুরোনো বিপদের একটি নতুন মাধ্যম হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বলছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তা দিতে গিয়ে ত্রাণকর্মীদের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কার্যকরভাবে মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে সংস্থাটি। এপি।

ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ কেপি মুখ্যমন্ত্রীর
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সরকারি রিপোর্ট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খাইবার পাখতুনখাওয়ার (কেপি) মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। এই মেডিকেল রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর গোটা দেশজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে কেপির মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক, পরিবার, আইনি দল এবং পিটিআই নেতৃত্ব সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন। সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসক ড. আসিম ও ড. ফয়সাল যখনই তাকে পরীক্ষা করেছেন, তার রক্তচাপ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সরকারি প্রতিবেদনে উচ্চরক্তচাপের যে বিবরণ এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।’ তিনি আরও জানান, গত ২ ডিসেম্বর (২০২৫) থেকে ইমরান খানের পরিবার, আইনজীবী কিংবা তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের কাউকেই তার সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। সরাসরি যোগাযোগ না থাকায় এই সরকারি রিপোর্ট তার প্রকৃত স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন ও সংশয় তৈরি করেছে। ইমরান খানের শারীরিক ফিটনেসের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াবিদ হিসেবে ইমরান খান সারা জীবন সক্রিয় জীবনযাপন করেছেন এবং কারাগারে নেওয়ার আগে তিনি পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন। বন্দি থাকা অবস্থাতেই তার এই স্বাস্থ্যগত সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে সোহেল আফ্রিদি বলেন, ‘২৫ কোটি মানুষের শেষ ভরসাস্থল বিচার ব্যবস্থা। দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা যদি ন্যায়বিচার না পান, তবে সাধারণ মানুষ বিচার ব্যবস্থার ওপর কীভাবে আস্থা রাখবে?’ তিনি ইমরান খানের সাথে তার পরিবার, আইনজীবী ও ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অবিলম্বে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার জোর দাবি জানান। একইসাথে, পরিবার ও নিজস্ব চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাকে সেরা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার আহ্বান জানান। এদিকে ‘তেহরিক-ই-তাহাফফুজ আইনে পাকিস্তান’ (টিটিএপি)-এর নেতারাও এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান সরকারের নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সিন্ধুর সাবেক গভর্নর জুবায়ের উমর দাবি করেন, ইমরান খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা মিথ্যা ও সাজানো, যা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা উচিত। টিটিএপি মুখপাত্র আখুনজাদা হুসাইন ইউসুফজাই বলেন, ইমরান খানকে কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা উচিত ছিল। কিন্তু সরকার সে দাবি উপেক্ষা করায় তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে। তিনি সরকারি মেডিক্যাল রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে নিজস্ব চিকিৎসকদের দিয়ে ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার দাবি জানান। ডন।

দক্ষিণ চীন সাগরে ৪ দিন বিদ্যুৎহীন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ
দক্ষিণ চীন সাগরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টানা চার দিন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনফোল্ড। জাহাজটির জেনারেটরে ত্রুটির পর গুরুত্বপূর্ণ সেবা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এটিকে ফিলিপাইনের সুবিক বে-তে টেনে নেওয়া হয়। মার্কিন সপ্তম নৌবহরের মুখপাত্র কমান্ডার ম্যাথিউ কোমারের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানায়, ২৪ জুলাই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সময় বেনফোল্ডের জেনারেটরে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এতে জাহাজটির সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তবে এ ঘটনায় কোনো নাবিক আহত হননি। বিদ্যুৎহীন অবস্থায় জাহাজটির শৌচাগার, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, রান্নাঘর এবং পানীয় জলের কিছু ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। চার দিন এমন পরিস্থিতিতে থাকার সময় একই ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের ক্রুজার ইউএসএস রবার্ট স্মলস বেনফোল্ডের নাবিকদের জন্য খাবার সরবরাহ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ জুলাই বেনফোল্ডকে ফিলিপাইনের সুবিক বে-তে নেওয়া হয় এবং এর দুই দিন পর জাহাজটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়। পরে ত্রুটির কারণ নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ শুরু হয়। ইউএসএস বেনফোল্ড মার্কিন নৌবাহিনীর আর্লে বার্ক শ্রেণির একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। এটি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন নেতৃত্বাধীন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের অংশ হিসেবে দক্ষিণ চীন সাগরে কার্যক্রম চালাচ্ছিল। ২৪ জুলাইয়ের আগেও ওই স্ট্রাইক গ্রুপকে দক্ষিণ চীন সাগরে অবস্থান করতে দেখা যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে মার্কিন নৌবাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এদিকে চলতি বছর মার্কিন নৌবাহিনীর আরেকটি ডেস্ট্রয়ারেও বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যার ঘটনা সামনে আসায় জাহাজগুলোর যান্ত্রিক নির্ভরযোগ্যতা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আনাদোলু অ্যাজেন্সি।

কঙ্গোয় ইবোলায় ২ হাজার ৩২৫ জনের মৃত্যু
গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। চলমান প্রাদুর্ভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৩২৫ জনে। এর ফলে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবের মৃত্যুসংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গিয়ে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা মহামারিতে পরিণত হয়েছে। ডিআর কঙ্গোর জাতীয় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৬ আগস্ট রোববার পর্যন্ত দেশটিতে ইবোলায় আক্রান্তের নিশ্চিত সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০১ জনের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাব। এটি ডিআর কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে জুলাইয়ের শেষ দিকে এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাবের রেকর্ড গড়ে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যানুযায়ী, এবার মৃতের সংখ্যা ২০১৮-২০২০ সালের প্রাদুর্ভাবকে ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস বুধবার সতর্ক করে বলেন, বর্তমান গতিতে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে এটি ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা মহামারির মাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ওই মহামারিতে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ইবোলা ভাইরাসের বান্দিবুগিও প্রজাতি। এ প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। আল-জাজিরা।

১৮ মাস পর মস্কো-দামেস্ক সরাসরি ফ্লাইট চালু
প্রায় ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হচ্ছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কো ও সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী বিমান চলাচল। সিরিয়ান এয়ারলাইন্সের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা সংস্থা তাস এ তথ্য জানিয়েছে। সিরিয়ান এয়ারলাইন্সের এক মুখপাত্র জানান, প্রতি রোববার এ রুটে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। দামেস্ক থেকে স্থানীয় সময় রাত ২টা ২০ মিনিটে ছেড়ে বিমানটি প্রায় ৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরে সকাল ৭টায় পৌঁছাবে। অন্যদিকে মস্কো থেকে সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় দামেস্কে পৌঁছাবে। এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ইকোনমি শ্রেণিতে মস্কোর টিকিটের মূল্য প্রায় ৪৯০ ডলার এবং বিজনেস শ্রেণিতে প্রায় ৮৭০ ডলার। শেরেমেতিয়েভো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও প্রথম ফ্লাইটটির আগমনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আরব দেশটির পরিস্থিতির কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে দামেস্ক-মস্কো সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এর আগে সিরিয়ান এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি আরেকটি সিরীয় বিমান সংস্থা ফ্লাই চ্যামও মস্কো রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করত। তাস।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান