হাসতে মানা
৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫৪
মোল্লা নাসিরুদ্দিন একবার নিজের পোষা গাধাটিকে বাড়ির ছাদে নিয়ে গেলেন। কিন্তু ছাদে উঠে, গাধা আর নামতে চাইছে না।
বহু চেষ্টা বিফলে গেল। গাধা মোটেও নামবে না। বাধ্য হয়ে মোল্লা নিচে নেমে এসে গাধার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলেন। আধ ঘণ্টা, এক ঘণ্টা, এভাবে ঘণ্টা দুয়েক পার হয়ে গেল, তবুও গাধা নামছে না।
মোল্লা নাসিরুদ্দিন অনুভব করলেন, গাধা পদাঘাত করে তাঁর বাড়ির জীর্ণশীর্ণ ছাদ ভেঙে ফেলতে চাইছে। মোল্লা ভয় পেয়ে গেলেন। কমজোর ছাদ, সামনে বর্ষাকাল, বিপদ আসন্ন। ছাদ ভেঙে গেলে, ঝড়-জলের দিনে থাকবেন কোথায়!
বাধ্য হয়ে আবার ছাদে উঠলেন, গাধাকে নিচে নামানোর প্রচেষ্টায়। কিন্তু গাধা নামতেই চায় না, ছাদের ওপর ক্রমাগত লাথি মেরে চলেছে।
মোল্লা শেষমেশ গাধাকে ধাক্কা মেরে নিচে নামানোর চেষ্টা করতেই গাধা মোল্লাকে কয়েকবার লাথি মেরে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দিল।
ভীষণ রকম আহত হয়ে মোল্লা মাটিতে পড়ে রয়েছেন। ওদিকে গাধাও ছাদ ভেঙে ঘরের মেঝেতে পড়ে গেল। মোল্লা রক্তাক্ত, গাধাও তাই। মোল্লার হাত ভেঙেছে, কোমরে ব্যথা, ওদিকে গাধাও প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে উঠে দাঁড়াতে পারছে না। নির্ঘাত পা ভেঙে গিয়েছে!
মোল্লা নাসিরুদ্দিন সেদিন বুঝলেন, গাধাকে কখনোই উঁচুতে নিয়ে যেতে নেই। নিয়ে গেলে গাধা প্রথমত, যে জায়গায় নিয়ে যাবেন, সেই জায়গার ক্ষতি করবে।
দ্বিতীয়ত, যিনি নিয়ে যাবেন, তাঁর ক্ষতি করবে।
তৃতীয়ত, গাধা নিজেরও ক্ষতি করবে।
অযোগ্য কাউকে ওপরে তুললে এই অবস্থাই হয়।
******
এক গ্রামে একজন কৃষক ছিল। তিনি দুধ থেকে দই ও মাখন তৈরি করে বিক্রি করতেন।
একদিন কৃষকের স্ত্রী মাখন তৈরি করে কৃষককে দিলেন বিক্রি করতে। কৃষক তা বিক্রি করার জন্য গ্রাম থেকে শহরের উদ্দেশে রওনা হলেন।
মাখনগুলো গোল-গোল রোল আকৃতিতে রাখা ছিল। যার প্রত্যেকটির ওজন ছিল ১ কেজি করে।
শহরে পৌঁছে কৃষক প্রতিবারের ন্যায় পূর্বনির্ধারিত দোকানে মাখনগুলো দিয়ে, পরিবর্তে চা চিনি তেল ও তার সংসারের প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি নিয়ে আসতেন।
আজ কৃষক চলে যাওয়ার পরে দোকানদার মাখনের রোলগুলো একটা একটা করে ফ্রিজে রাখার সময় ভাবলেন মাখনের ওজন সঠিক আছে কিনা, আজ একবার পরীক্ষা করে দেখা যাক।
মাখনের রোলগুলো ওজন করতেই উনি দেখলেন মাখনের ওজন ১ কেজি নয় তা প্রতিটা আছে ৯০০ গ্রাম করে।
পরের সপ্তাহে আবার কৃষক উক্ত দোকানে মাখন বিক্রি করতে গেলেন। দোকানের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে দোকানদার কৃষকের উদ্দেশে চিৎকার করে বললেন, বেরিয়ে যাও আমার দোকান থেকে। এবার থেকে কোনো বেঈমান চিটিংবাজের সাথে ব্যবসা কর। আমার দোকানে আর কোনদিন পা রাখবে না। ৯০০ গ্রাম মাখন ১ কেজি বলে বিক্রি করা লোকটার মুখ আমি দেখতে চাইনা।
কৃষক বিনম্রভাবে কম্পিত স্বরে দোকানদারকে বললেন ‘দাদা! দয়া করে রাগ করবেন না। আসলে আমি খুবই গরিব মানুষ, দাঁড়িপাল্লার বাটখারা কেনার মতো পয়সা আমার নেই। তাই আপনার থেকে প্রতিবার যে এক কেজি করে চিনি নিয়ে যেতাম, সেটা দাঁড়িপাল্লার একপাশে রেখে অন্য পাশে মাখনের রোল মেপে নিয়ে আসতাম!! -সংগৃহীত