ছড়া ও কবিতা


৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৫০

আহারে ফেসবুক!
মু. দিদারুল আহসান

চিঠি লেখার ছন্দ নিলো
নতুন খামের গন্ধ নিলো
ডাক-পিয়নের সঙ্গ নিলো
কী দিলো ফেসবুক?
আহারে ফেসবুক!
রাতের ঘুমটা কেড়ে নিলো
দায়-দায়িত্ব ছেড়ে দিলো
ভালবাসা দগ্ধ হলো
শুন্য হলো বুক।
আহারে ফেইসবুক!
চোখের কোণে দাগ হলো
স্বজনরা রাগ হলো
সম্পর্কটা ভাগ হলো
সঙ্গী হলো দুখ
আহারে ফেসবুক!
পড়ালেখা উড়ে গেল
স্বজনরা দূরে গেল
স্বপ্ন ভেঙেচুরে গেল
কেড়ে নিলো সুখ
আহারে ফেসবুক!
ভালোবাসা হেরে গেলো
চিটিংবাজি বেড়ে গেল
আবেগটা ছেড়ে গেল
হতাশায় ধুঁকধুঁক
আহারে ফেসবুক!

 

মঞ্জিল
মো. রহমত আলী
মঞ্জিল এক, রাস্তা একাধিক
মক্কা বহুদূর, কাবা দিলে মজুদ।
নিয়ত এক
খায়েশ অধিক
সিজদায় পথিক
কবে দিদার ময়স্সর?
মাকসাদ এক
মাতলাব হাজার
নাফস কো মার
মুরাদ হো কামিয়াব।

 

রেজাল্টের দিন কবে?
তাহমিদুল্লাহ সারাসিনী

বিশ্বজুড়ে জলবায়ুর জল যে খুবই নড়ছে,
তাই তো দেশের ষড়ঋতুর অদল-বদল ঘটছে।
গ্রীষ্ম এখন আগের চেয়ে আগেভাগেই আসে,
বর্ষা মামা বন্যা বড্ড বেশি ভালোবাসে।
শরৎ সে তো শরৎচন্দ্রের সাথে গেছে চলে,
হেমন্তকে নেমন্তন্ন দিলেই সে কান মলে-
‘আসবো না ভাই’ তবু তাকে আসতে কভু হয়,
শীতকে এখন চোখ নামিয়ে সমঝে চলতে হয়।
বসন্তকে বসন্ত রোগ ধরেছে সেই কবে,
এবার বলেন, এসএসসিদের রেজাল্টের দিন কবে?
[বি.দ্র. এসএসসির রেজাল্ট প্রথমে ২০ জুলাই, তারপর ৩০ জুলাই তারপর এখন ১০ আগস্টে নেয়া হয়েছে।]

সবুজ টিয়া ও লাল টিয়া
মুকুল হোসেন

ডালিম গাছের ডালে বসে
সুন্দরী লাল টিয়া,
লাল টিয়ারে সবুজ টিয়া
রাখে নজর দিয়া।
সবুজ টিয়া লাল টিয়ারে
ভালোবাসি বলে,
লাল টিয়া খুব লজ্জা পেয়ে
যায় কিছুদূর চলে?
ক্ষণিক পরে ফিরে এসে
বলে ভালোবাসি,
লাল টিয়া সে মুখ লুকিয়ে
দিচ্ছে মধুর হাসি।
পাখা ঝাপটে মেলে তারা
বলে দুজন ঘুরি,
সারা জীবন থাকলে পাশে
হবো দুজন জুরি।
মনের সুখে গান গাইবো আর
করবো দুজন খেলা,
জীবন যুদ্ধে দুঃখ এলে
করবো না কেউ হেলা।
সবুজ টিয়া লাল টিয়ারে
খুব যতনে রাখে,
বাসায় ফিরতে দেরি হলেই
খোঁজে গাছের শাখে।
দুজন মিলে ভালোবেসে
বাঁধে সুখের বাসা,
বনের ভেতর বাসা তাদের
নিখুঁত খাঁজে খাসা।

ও হিমু মা
খালিদ বিন ওয়ালিদ

হিমুর মুখটি গোমড়া দেখে চাচুর মনও ভার,
হিমুর বাবা হেসে বলে, হয়নি কিছু তার।
হিমু সোনা, হিমু সোনা, পড়ে রোজ বই,
বইখানা কেড়ে নিতে করে হইচই।
কাড়ব না বই কী কারণে?
খায় ছিঁড়ে সে পাতা,
এই কলমের দাগে দাগে
কালো করে খাতা।
চাচু বলে, ‘ও হিমু মা,
আর করে না এমন।
আজকে থেকে করবে সেটাই,
বলব আমি যেমন।’

 

দাদুর চশমা
কাব্য কবির

কোথায় রাখে দাদু চশমা, তা থাকে না মনে,
ঘরে খোঁজে, বাইরে খোঁজে, খোঁজে চশমা বনে।

দাদুর সাথে আমি এবং দাদি চশমা খুঁজি,
হারিয়ে দাদু চশমা খোঁজে
এভাবে সে রোজই।

খোঁজাখুঁজির পরে যখন চশমা খুঁজে পাই,
দাদুর হাতে দিলে চশমা
খুশির সীমা নাই।

হাম ও ডেঙ্গু
সাইদুল ইসলাম সাইদ

হাম হাম, থাম থাম
এসে গেছি আমি।
উড়ে উড়ে, ঘুরে ঘুরে
খেয়ে যাব দামি।
তোর জ্বালা, নয় কালা
কেহ নাহি ডরে?
আমি সেরা, দিই প্যারা
যায় সব মরে।

 

নানির বাড়ি
শেখ সোহেল রেজা

নানির বাড়ির চারদিকে, আম কাঁঠালে ভরা,
আজকে যাব নানিবাড়ি
আয়রে টিয়ে তোরা।
তোদের জন্য পেড়ে দিব
আম কাঁঠাল আর লিচু, যাবি যদি নানিবাড়ি
আয়রে টিয়ে পিছু।
নানা রকম ফলের গাছ, নানিবাড়ি আছে,
গাছে গাছে পাকা ফল
এই ফলের মাসে।

আমের সাথে দুধ দিব
নিজের হাতে মেখে,
আমার সাথে নানিবাড়ি
যাবি তোরা কে কে।

খোকার ভাবনা
কুলসুম বিবি

ছোট্ট খোকা ভাবে বসে আকাশ কেন নীল?
কেমন করে ডানা মেলে উড়ে যায় ওই চিল।
কোথা থেকে আসে উড়ে সাদা কালো মেঘ?
কেমন করে বাড়ে কমে বায়ুর গতিবেগ।
কীসের বলে নদীর জলে খেলে এত ঢেউ?
কেমন করে ফসল ফলে জানে তা-কি কেউ?
কোথা থেকে সূর্য ওঠে পুব আকাশে রোজ?
সন্ধ্যা হলে যায় লুকিয়ে কেউ রাখে না খোঁজ।
চাঁদটা এসে কেমন করে জ্বলে আকাশ কোণে,
এই ধরাটা কে বনালো নিপুণ হাতে বুনে ?
খোকার মনে হাজার প্রশ্ন পায় না খুঁজে মিল,
সেই সমাধা পেলে খোকার শান্ত হবে দিল।

 

পুঁটি মাছের বিয়ে
রাহেলা আক্তার

আষাঢ় মাসের ভরা জলে, করছে পুঁটি খেলা,
শিং, কৈ, টেংরা, বোয়াল মিলে
বসলো সন্ধ্যা বেলা।
যৌবনে পা দিলো বর্ষায়, সবার প্রিয় পুঁটি,
কনের সাজে শ্বশুরবাড়ি, পাঠিয়ে দাও ছুটি।
মিটিং শেষে বললো তারা, পুঁটির দিবে বিয়ে,
বেনারসি কিনবে এবার, জলের তলে গিয়ে।
লাল রঙের দুল, শাড়ি, চুড়ি, কিনলো ম্যাচিং করে,
পুঁটি দেখি মহাখুশি, বেনারসি পরে।