সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


৬ আগস্ট ২০২৬ ১০:৪০

হামাসের অস্ত্রসমর্পণ ছাড়া সেনা প্রত্যাহার নয় : বোর্ড অব পিস
হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বোর্ড অব পিস। ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে গাজা-পরবর্তী প্রশাসন তদারকির জন্য গঠিত এই সংস্থার পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ ও ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর এ অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট সোমবার পশ্চিম জেরুসালেমে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক এমন সময় হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন গাজা সমঝোতা পরিকল্পনা নিয়ে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক বাড়ছে। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বোর্ড অব পিস জানায়, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের বিপরীতে ইসরাইলি বাহিনী তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইন’-এর পেছনে সরে যাবে কেবল তখনই, যখন হামাস মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সব ধরনের অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করবে। সংস্থাটি বলেছে, গাজায় অস্ত্রের শাসনের পরিবর্তে বেসামরিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ কারণে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করতে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে অপরিহার্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে হামাস জানিয়েছে, ইসরাইল নিজ দায়িত্ব পালন না করলে তারা চুক্তির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়ন করবে না। সংগঠনটির দাবি, সমঝোতার দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করতে মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে তারা এখনো স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এর তথ্যানুযায়ী, বৈঠকে নিকোলাই ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় চলমান হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান। তবে ইসরাইল এখনো সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় এক হাজার ২০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প ঘোষিত নতুন নিরস্ত্রীকরণ পরিকল্পনার পরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশ মিশর, কাতার ও তুরস্ক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় বেসামরিক নাগরিক ও স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে। এই তিন দেশই বর্তমান যুদ্ধবিরতি ও নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। আল-জাজিরা।

রেকর্ড মাত্রার ‘এল নিনো’র দাপট : সতর্কবার্তা জাতিসংঘের
বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার বিপর্যয় আরও প্রকট রূপ ধারণ করতে যাচ্ছে। বিষুবরেখাসংলগ্ন প্রশান্ত মহাসাগরের পৃষ্ঠীয় জলরাশি অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নতুন করে চরম মাত্রার ‘এল নিনো’ (ঊষ ঘরñড়) জলবায়ু চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডগঙ) ও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, এল নিনো কেবল দোরগোড়ায় নয়, ইতোমধ্যে তা বিশ্ব আবহাওয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘দুই মাস আগে আমি সতর্ক করেছিলাম যে এল নিনো আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। এখন এটি সরাসরি ঘরের ভেতরে অবস্থান করছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ জলবায়ু বিজ্ঞানীদের তথ্যমতে, প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে পানির তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছর রেকর্ডকৃত তাপমাত্রা ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জলবায়ু বিজ্ঞানী জেফরি সামানের মতে, ‘উত্তর গোলার্ধে তীব্র তৈরি হওয়া এই এল নিনোর প্রভাবে আগামী বছর এমন এক চরম গ্রীষ্মকাল বা উত্তপ্ত আবহাওয়া প্রত্যক্ষ হতে পারে, যা আগে কখনোই বিশ্ববাসী দেখেনি।’ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই এল নিনো চক্রের কারণে বিশ্বব্যাপী আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা চরম আকার ধারণ করবে।
এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা : তীব্র খরা, পানি সঙ্কট ও দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাবে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপ: স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষি ও অর্থনীতিতে ধাক্কা: দাবদাহ ও খরায় ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং কাজের পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। জাতিসংঘের মহাসচিব স্পষ্ট করেছেন, কেবল প্রাকৃতিক এল নিনো নয়, মানুষের সৃষ্ট কার্বন নিঃসরণ ও জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার আবহাওয়ার এই চরম রূপকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এখনই পূর্বপ্রস্তুতি ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে বিশ্ব সংস্থাগুলো। এপি।

ট্রাম্পের নতুন শুল্কের বিরুদ্ধে ২৫ অঙ্গরাজ্যে মামলা
বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত নতুন আমদানি শুল্কের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেশটির ২৫টি অঙ্গরাজ্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধের অজুহাতে নতুন শুল্কারোপ করে প্রেসিডেন্ট তার সাংবিধানিক ও আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। এ পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর অর্থনীতির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় সময় গত সোমবার (৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে মামলাটি করা হয়। এতে গত মাসে বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর আরোপিত নতুন শুল্ক বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। মামলার বাদীপক্ষের দাবি, এ ধরনের বিস্তৃত শুল্কারোপের জন্য প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা নেই এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও সংবিধানের পরিপন্থী। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে বা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এই শুল্কের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন শ্রমিক, উৎপাদনশিল্প এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে অন্যায্য প্রতিযোগিতা থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ‘লিবারেশন ডে’ পারস্পরিক শুল্ক কার্যক্রমকে আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে তা বাতিল করে দেয়। ওই রায়ের পর প্রশাসন বিকল্প আইনি ভিত্তি হিসেবে ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১ ধারা ব্যবহার করে নতুন শুল্ককাঠামো কার্যকর করে। নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পরও প্রশাসন নতুন নামে একই ধরনের শুল্কারোপ করে পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করছে। এই পদক্ষেপ আইনসম্মত নয়।’ তিনি আদালতের মাধ্যমে শুল্ক কার্যক্রম স্থগিতের আহ্বান জানান। মামলায় অংশ নেওয়া ২৫টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে নিউইয়র্ক, ওরেগন, ক্যালিফোর্নিয়া, ইলিনয়, নিউজার্সি, মিনেসোটা ও ম্যাসাচুসেটসসহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বা অ্যাটর্নি জেনারেল মূলত ডেমোক্রেট দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই নতুন শুল্ককে সম্পূর্ণ আইনসম্মত ও প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয় না, তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ ও শ্রমবাজার রক্ষার জন্য অপরিহার্য।’ উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশসহ ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক কার্যকর করে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন ব্যবস্থায় দেশভেদে ১০ শতাংশ ও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। রয়টার্স।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়ালো
ভেনেজুয়েলায় গত জুনে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬ হাজার ১২৫ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিষদের (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সোমবার (৩ আগস্ট) টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ভূমিকম্পে আহত হয়ে ৬১ হাজার মানুষ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হতাহতের নতুন তথ্য প্রকাশের মধ্যেই ভেনেজুয়েলায় দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে অনেক বাসিন্দা অভিযোগ তুলেছেন যে, উদ্ধারকাজে প্রয়োজনীয় দ্রুততা ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গত ২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য এবং রাজধানী কারাকাস। বহু ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন। জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তবে পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের ধীরগতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘসময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংকের এক মূল্যায়নে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পজনিত ভৌত অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিলেও সেই অর্থ কীভাবে এবং কবে পাওয়া যাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রতিবেদনটি আরও উল্লেখ করেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সামরিক অভিযানে অপসারণের পর ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এবং বহাল থাকা কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলেছে। মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল অবশিষ্ট নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক সহায়তা ও পুনর্গঠনের অর্থ দ্রুত ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানো সম্ভব হয়। আল-জাজিরা।

বিশ্ববাজারে ফের জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা কমে এসেছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬২ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৩৯ ডলারে পৌঁছেছে। আগের লেনদেনে প্রায় ৭ শতাংশ দরপতনের পর এটি ছিল তিন সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থান থেকে আংশিক পুনরুদ্ধার। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৬১ সেন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮০ দশমিক ৯৫ ডলারে উঠেছে। আগের সেশনে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বাজারে দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে নজর রাখছেন। আল-জাজিরা।

একযোগে ৫ দেশের বৈদেশিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের পাঁচটি দেশে থাকা নিজেদের কূটনৈতিক মিশন বন্ধ করার পরিকল্পনা করেছে। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছে। কোনো বড় ভূরাজনৈতিক সংকট ছাড়াই একসঙ্গে একাধিক বিদেশি মিশন বন্ধের এমন উদ্যোগকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কংগ্রেসে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেস, জাপানের নাগোয়া, ইন্দোনেশিয়ার মেদান, ক্যামেরুনের ডুয়ালা এবং কানাডার উইনিপেগে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক মিশন বন্ধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সেন্ট জর্জেসে একটি দূতাবাস, নাগোয়া, মেদান ও উইনিপেগে কনস্যুলেট এবং ডুয়ালায় দূতাবাসের একটি শাখা কার্যালয় রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, গত বছরের শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন প্রায় এক ডজন বিদেশি মিশন বন্ধের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিল। এটি ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে সরকারি ব্যয় কমানো এবং প্রশাসন পুনর্গঠনের বৃহত্তর কর্মসূচির সঙ্গে সম্পর্কিত। হোয়াইট হাউসের অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট (ওএমবি) আরও বড় পরিসরে প্রায় ৩০টি বিদেশি মিশন বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তার মতে, ছোট কিছু কূটনৈতিক মিশনের কার্যকারিতা সীমিত হলেও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি। তবে সাবেক কূটনীতিক, জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং ডেমোক্র্যাট নেতারা এ সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উপস্থিতি কমে গেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের প্রভাব দুর্বল হতে পারে। একইসঙ্গে চীন ও রাশিয়ার মতো প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলো আরও বেশি কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে। গত বছর মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে বড় ধরনের প্রশাসনিক সংস্কার করা হয়। কয়েক ডজন বিভাগ পুনর্গঠন এবং শত শত কর্মী ছাঁটাই করা হলেও সে সময় কোনো বিদেশি মিশন বন্ধ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র দপ্তর আনুষ্ঠানিকভাবে মিশন বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে এক বিবৃতিতে তারা জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কংগ্রেসকে অবহিত করাসহ সব আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ব্যয় কমানো এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে আরও কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, দীর্ঘদিন ধরে সংস্থাটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে বড় এবং অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কেবল ব্যয় সংকোচনের বিষয় নয়; বরং বৈশ্বিক কূটনৈতিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে। বিশেষ করে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে মার্কিন কূটনৈতিক মিশন সংকোচনের সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা। রয়টার্স।

রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় একদিনে ২৬ জন নিহত
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় গত ৩ আগস্ট সোমবার দুই দেশেই অন্তত ২৬ জন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাশিয়ায় ১৫ জন এবং ইউক্রেনে ১১ জন রয়েছেন। আবাসিক এলাকা, পর্যটনকেন্দ্র ও জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ করে চালানো এসব হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের দূরপাল্লার হামলা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক প্রাণহানিও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। রুশ কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, ইউক্রেনীয় বাহিনীর ব্যাপক ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের ক্রাসনোদার, সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ এবং কৃষ্ণ সাগরের উপদ্বীপ ক্রিমিয়া। এসব হামলায় আবাসিক এলাকা, পর্যটনকেন্দ্র ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, হামলার সময় শতাধিক ড্রোন প্রতিহত করা হলেও কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। ক্রাসনোদার অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানান, গেলেন্দঝিক জেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র আরখিপো-ওসিপোভকা এলাকায় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিন শিশুসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৪০ জন। হামলার পর কয়েকটি ভবনে আগুন ধরে যায় এবং স্থানীয় প্রশাসন জরুরি উদ্ধার অভিযান চালায়। একই দিনে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় ক্রিমিয়ায় চারজন নিহত ও দুজন আহত হন। অন্যদিকে সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে চারজন নিহত এবং অন্তত ১৭ জন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের কৃভি রিহ জেলার একটি পেট্রোল স্টেশনে রুশ বাহিনীর বিস্ফোরকবাহী ড্রোন আঘাত হানলে তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে একজন জরুরি পরিষেবাকর্মী এবং তার আট বছর বয়সী ছেলে রয়েছে। প্রাদেশিক গভর্নর ওলেক্সান্দর হানঝা টেলিগ্রামে জানান, হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয় এবং পেট্রোল স্টেশনসহ আশপাশের কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গত ৩ আগস্ট সোমবার রাতেই ইউক্রেনের জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বিত হামলা চালায় রুশ বাহিনী। এতে দুই শিশুসহ আটজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে এবং ২০২৬ সালে এসে যুদ্ধের ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়ায় দুই দেশেই বেসামরিক প্রাণহানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষই দাবি করে আসছে, তাদের হামলার লক্ষ্য শুধুমাত্র সামরিক স্থাপনা। রয়টার্স, এএফপি।

জনপ্রিয়তার কঠিন পরীক্ষায় বুরকিনা ফাসোর ইব্রাহিম ত্রাওরে
সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে ক্ষমতায় আসা বুরকিনা ফাসোর নেতা ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাওরে আফ্রিকাজুড়ে সার্বভৌমত্ব, বিদেশি প্রভাববিরোধী অবস্থান এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বার্তার কারণে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তবে দেশের ভেতরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিয়ে তার সরকারের বিরুদ্ধে প্রশ্নও ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ত্রাওরে ফরাসি সেনা প্রত্যাহার, রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার, স্থানীয় শিল্প ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর জাতীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার নীতি গ্রহণ করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রায়ই উঠে আসে বুরকিনা ফাসোর সাবেক বিপ্লবী নেতা থমাস সানকারার আদর্শ, যিনি আফ্রিকায় ঔপনিবেশিকবিরোধী রাজনীতির অন্যতম প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ত্রাওরে দেশবাসীকে ‘গণতন্ত্র ভুলে যেতে’ আহ্বান জানিয়ে বলেন, বুরকিনা ফাসো বর্তমানে একটি বিপ্লবী পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে তাঁর সরকার সামরিক শাসনের অন্তর্বর্তীকালীন সময় আরও বাড়ায় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করে। ফলে দেশটিতে দ্রুত বেসামরিক শাসনে ফেরার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ত্রাওরের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ পশ্চিমা সামরিক উপস্থিতি ও বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান। নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং বীকন কনসাল্টিং লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা কবির আদামু আল-জাজিরাকে বলেন, ত্রাওরে নিরাপত্তা কাঠামোকে কার্যকারিতার পরিবর্তে সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করেছেন, যা বহু আফ্রিকানের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। ত্রাওরে সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয় শিল্পে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক খাতে রাষ্ট্রীয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়। একইসঙ্গে ‘ভলান্টিয়ার্স ফর দ্য ডিফেন্স অব দ্য হোমল্যান্ড’ নামে সরকার-সমর্থিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তবে তাঁর সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো নিরাপত্তা পরিস্থিতি। গত প্রায় এক দশক ধরে বুরকিনা ফাসো আল-কায়েদাসংশ্লিষ্ট জামাআত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম) এবং আইএসআইএল (আইএস)-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে রয়েছে। সরকার দাবি করছে, বিভিন্ন এলাকায় তারা নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে, সশস্ত্র সহিংসতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং লাখো মানুষ এখনো মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, ইব্রাহিম ত্রাওরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আফ্রিকার রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তবে তাঁর জনপ্রিয়তা এখন আর শুধু রাজনৈতিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর করছে না। দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বেসামরিক শাসনে ফেরার অগ্রগতি এই তিনটি বিষয়ই শেষ পর্যন্ত তার নেতৃত্বের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারণ করবে। আল-জাজিরা।

সিউলের ইতিহাসে প্রথম চরম তাপদাহ, সতর্কতা জারি
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘সিভিয়ার হিটওয়েভ’ বা চরম তাপদাহ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শহরের বিভিন্ন এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া প্রশাসন (কেএমএ) জানিয়েছে, সিউলের গ্যাংনাম, সঙপা, গ্যাংসিও, গোয়ানাকসহ মোট ১১টি জেলায় এই সতর্কতা কার্যকর হয়েছে। চলতি বছরের জুনে সংশোধিত তাপদাহ সতর্কতা ব্যবস্থার আওতায় প্রথমবারের মতো এই নতুন স্তরের সতর্কতা জারি করা হলো। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, অনুভূত তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে অথবা প্রকৃত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার আশঙ্কা থাকলে ‘সিভিয়ার হিটওয়েভ’ সতর্কতা জারি করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়ছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার শুধু সিউলেই তাপজনিত অসুস্থতায় ১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে এখন পর্যন্ত এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিউল মহানগর সরকার জরুরি ব্যবস্থা নিয়েছে। সড়কের তাপমাত্রা কমাতে বিভিন্ন এলাকায় পানি ছিটানো হচ্ছে। পাশাপাশি একাকী বসবাসকারী প্রবীণ, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুরক্ষা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি সেন্টার, প্রবীণ কল্যাণকেন্দ্র ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনাসহ প্রায় ৪ হাজার ভবনকে অস্থায়ী শীতল আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, শীতল স্থানে অবস্থান করা এবং পরিবারের প্রবীণ ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার আহ্বান জানিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি গ্রীষ্মে দেশটি গত কয়েক দশকের অন্যতম কঠিন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছে। আনাদোলু এজেন্সি।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান