সিলেট-মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ কাটেনি
৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৩
আব্দুল বাছেত মিলন, সিলেট : উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণে সিলেট বিভাগে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হলেও দূর হয়নি জনদুর্ভোগ। সিলেট ও মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতার কারণে মারাত্মক মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, প্রধান নদনদীগুলোর পানি কয়েকটি পয়েন্টে কিছুটা কমলেও নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল ও দূরবর্তী উপপাদ্যগুলো এখনো প্লাবিত রয়েছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাউবোর সিলেট আঞ্চলিক কার্যালয়ের বুলেটিন ও প্রকৌশল বিভাগের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি বেশ কয়েকটি পয়েন্টে এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সিলেট শহর পয়েন্টে সুরমার পানি বিপৎসীমার সামান্য নিচে নেমে এসেছে। এছাড়া কুশিয়ারা নদীর অমলশীদ, শেওলা এবং শেরপুর পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার যথাক্রমে ২৫, ১৮ এবং ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া সারী, গোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে নামলেও ভাটির এলাকাগুলো থেকে পানি ধীরগতিতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক বন্যায় বিভাগের চার জেলা- সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে প্রায়দুই লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের গোয়াইনঘাট, কোম্পানিগঞ্জ, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বেশকিছু গ্রাম এখনো পানিবন্দি রয়েছে। মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলার রাজনগর, কুলাউড়া এবং সুনামগঞ্জ সদর ও ছাতকের ভাটি অঞ্চলে বিস্তীর্ণ রোপা আমন ধান ও সবজি ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার বাসিন্দারা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।