নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ইসি

কে হচ্ছেন পরবর্তী প্রেসিডেন্ট?


৩০ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৫

স্টাফ রিপোর্টার : স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার দুদিনের ব্যবধানে বঙ্গভবনও ছেড়েছেন। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পরই আলোচনা শুরু হয় নতুন রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন? রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনায় রয়েছে বেশ কয়েকটি নাম। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ও বিএনপি প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়া পর্যন্ত কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি, তা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ নেই। এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে আলোচনা করতে গত ২৮ জুলাই মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৈঠক শেষে তিনি জানান, নির্বাচনের জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে, তবে এখনো ভোটের তারিখ ঠিক হয়নি।
রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষের আড্ডায় এবং সামাজিকমাধ্যমে কয়েকটি নাম ঘুরে-ফিরে এসেছে। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং টেলিভিশনভিত্তিক প্রতিবেদনেও সম্ভাব্য নাম উল্লেখ করছে। দলীয় ও সরকারি সূত্রের বরাতে ‘আলোচনায় থাকা’ সম্ভাব্য ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম, তবে নিশ্চিত করেনি কেউ।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন
বিভিন্ন প্রতিবেদনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সরকার গঠনের পর তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না করায় রাজনৈতিক মহলে রাষ্ট্রপতি পদে তার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পর সেই আলোচনা আরও জোরালো হয়। তবে কোনো দলীয় নেতা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
ড. আবদুল মঈন খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের নামও সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তিনিও দলটির অন্যতম নীতিনির্ধারক। আওয়ামী লীগের সব আন্দোলন সংগ্রামে তিনি মাঠে ছিলেন। কখনো মাঠ ছেড়ে আত্মগোপনে যাননি। দলের কোনো সংকটে তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন না। ফলে দল তাকে মূল্যায়ন করবে এমনটাই ধারণা অনেকের।
মির্জা ফখরুলও আলোচনায়
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামও আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলের শীর্ষনেতৃত্বে অবস্থানের কারণে তার নাম বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে। তবে দলীয়ভাবে তার প্রার্থিতা নিয়ে কোনো সূত্র নিশ্চিত করেনি।
নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও সম্ভাব্য ব্যক্তিদের তালিকায় এসেছে। যদিও অন্যদের তুলনায় তার নাম কম আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় তিনি রয়েছেন। অবশ্য বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা ভালো যাচ্ছে না।
প্রশাসনের শীর্ষপর্যায় থেকেও একটি নাম
বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নামও আলোচনায় এসেছে। কেউ কেউ বলছেন, কেউ কেউ তাকে রাষ্ট্রপতি দেখতে চায়। বিএনপিকে তার বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা যাচ্ছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বাংলা)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহর নামও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে প্রতিবেদনে এটিও বলা হয়েছে যে, এ বিষয়ে কেউ কোনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বঙ্গভবনের পরবর্তী বাসিন্দা কে হচ্ছেন- এই প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে। আলোচনায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। তবে এসব নামের কোনোটিই এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের কয়েকজন নেতা। তাদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খানের নাম এসেছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের নামও আলোচনায় এসেছে। যার মধ্যে একজন আমলা ও একজন নারীর নাম রয়েছে।