জুলাই সনদ বাস্তবায়ন : সময়ের অনিবার্য দাবি


৮ জুলাই ২০২৬ ২০:১৮

॥ এডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী ॥
জুলাই সনদ বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল। যা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অনিবার্য পরিণতি। এটি এমন একটি রাজনৈতিক সনদ- এতে দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রস্তাবসমূহ লিপিবদ্ধ করা আছে শুধু রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলা হয়নি, বরং পুরোনো বন্দোবস্ত থেকে বেরিয়ে এসে নতুন প্রেক্ষাপটে দেশের আর্থসামাজিক সকল ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বাংলাদেশের ২৫টি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করে। এই সনদে রাষ্ট্রীয় কাঠামো, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও প্রশাসনিক সংস্কার সংক্রান্ত বিভিন্ন অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এটিকে সংবিধান সংস্কার হিসেবেও অভিহিত করা হয়।
জুলাই সনদ হচ্ছে: জুলাই সনদ হচ্ছে সব দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাবনা, যেটার মাধ্যমে ভবিষ্যতেও এ পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকে, সেটিই হচ্ছে জুলাই সনদ বা জাতীয় সনদ। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে আলোচনার ভিত্তিতে যখন দেশে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল, তখন থেকেই ঐকমত্য কমিশন গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের আলোচনা শুরু হয়েছিল।
তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, যারা একসাথে নির্যাতিত হয়েছে, জুলাই আন্দোলন করেছে, একসাথে বসে সংস্কারের কথা বলেছে, তারাই এখন সরকারে এসে সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কারের বিরোধিতা করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, আমরা যেন একটি জাতীয় আত্মবিরোধিতা ও আত্মপ্রতারণার মধ্যে বসবাস করছি। জুলাই সনদকে উপেক্ষা করা, গণভোটকে অস্বীকার করা আত্মঘাতী আচরণ। অথচ সংস্কার করার বিষয়ে জনগণ সুস্পষ্টভাবে ভোটের মাধ্যমেই তাদের মতামত জানিয়ে দিয়েছে।
ফিরে দেখা: সনদ চূড়ান্ত করা হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন হলো- একটি সাত সদস্যবিশিষ্ট কমিশন, যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা ও গ্রহণের জন্য গঠিত হয়। কমিশনটির সভাপতিত্ব করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার দায়িত্বপ্রাপ্ত।
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর অংশ হিসেবে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয় এবং সেই সুপারিশসমূহ বিবেচনা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাত সদস্যের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠিত হয়, কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে কমিশন তিন দফায় মোট ৭২ দিন রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে আলোচনা করে। আলোচনার প্রথম পর্যায়ে ১৬৬টি বিষয়ে ৬৪টি পয়েন্টে ঐকমত্য হয়; পরবর্তী পর্যায়ে আরও আলোচনার মাধ্যমে কয়েকটি বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকগুলোয় দলগুলোর দ্বিধা ও অস্বস্তি কাজ করছে। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের’ শপথ গ্রহণ না করাও এই গড়িমসির অন্যতম প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
সনদে মোট ২৮টি প্রতিশ্রুতির বিষয় আছে, এর মাঝে প্রধান বিষয়গুলো হলো- ১. রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা প্রদান- সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা ও প্রশাসনে সংস্কারের মাধ্যমে কাক্সিক্ষত পরিবর্তনের একটি সম্মিলিত ভিত্তি তৈরি করা।
২. রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা- বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ন্যূনতম সংস্কার-এজেন্ডায় সম্মতি গড়ে তোলা- যাতে ভবিষ্যৎ সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কার প্রক্রিয়া থেমে না যায়।
৩. জুলাই অভ্যুত্থানের দাবির প্রতিফলন- ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় উত্থাপিত গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিগুলোকে নীতিগত রূপ দেওয়া।
৪. সংস্কার বাস্তবায়নের আইনি ভিত্তি তৈরি- পরে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ জারি করা হয়- যাতে সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা যায়।
জুলাই অধ্যাদেশ রাষ্ট্র সংস্কারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: জুলাই অধ্যাদেশ বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংস্কারের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ যে গণতন্ত্র, জবাবদিহি, সুশাসন ও ন্যায়বিচারের দাবি উত্থাপন করেছিল, এই অধ্যাদেশ সেই দাবিগুলো বাস্তবায়নের একটি প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি প্রদান করে।
জুলাই অধ্যাদেশের প্রধান উদ্দেশ্য হলো- রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য গড়ে তুলতে সহায়তা করে এবং ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে জনগণের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার পথে উৎসাহিত করে।
এছাড়া এই অধ্যাদেশ প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য একটি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ভিত্তি রচনা করতে পারে। তাই জনগণের অধিকার সংরক্ষণ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের স্বার্থে জুলাই অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুঃখজনকভাবে সরকার সনদটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। এর কিছু ধারার বিরোধিতা করেছে এবং বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংবিধানের দোহাই দিয়ে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য শপথ গ্রহণ করেনি।
একনজরে জুলাই জাতীয় সনদ: জুলাই জাতীয় সনদ হলো- গণতন্ত্র, জবাবদিহি, ক্ষমতার ভারসাম্য ও রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত একটি জাতীয় সংস্কার-রূপরেখা। জুলাই জাতীয় সনদ (July National Charter) হলো ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহি এবং সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে প্রণীত একটি রাজনৈতিক-সাংবিধানিক সংস্কার দলিল। এটি প্রণয়নে National Consensus Commission গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এর প্রধান প্রস্তাবসমূহ: * প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর (দুই মেয়াদ) থাকার সময়সীমা। * দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ (জাতীয় সংসদের পাশাপাশি উচ্চকক্ষ) গঠন। * নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন। * বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা ও পৃথক প্রশাসনিক কাঠামো। * রাষ্ট্রপতির কিছু সাংবিধানিক ক্ষমতা বৃদ্ধি।
* সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ। * ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের অধিকারসহ নতুন মৌলিক অধিকার সংযোজন। * নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি। * নির্বাচনব্যবস্থা ও স্থানীয় সরকার কাঠামোর সংস্কার। * ক্ষমতার ভারসাম্য ও এককেন্দ্রিক শাসন রোধে সাংবিধানিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
উদ্দেশ্য: * গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা। * নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ কমানো।
* অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। * বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা। * ‘দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র’ বা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের ভিত্তি নির্মাণ।
গুরুত্ব: * এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং ভবিষ্যৎ সাংবিধানিক সংস্কারের রূপরেখা হিসেবে বিবেচিত। * ২০২৬ সালের গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ-সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাব জনগণের ভোটে অনুমোদিত হয়।
প্রণয়নের পটভূমি : ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন/অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র, সংবিধান, নির্বাচন ও প্রশাসনিক সংস্কারের লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদ প্রণীত হয়।
প্রণয়ন প্রক্রিয়া : জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে খসড়া প্রস্তুত করা হয়।
স্বাক্ষর : ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাজনৈতিক দলগুলো সনদে স্বাক্ষর করে।
মূল লক্ষ্য: # গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ। # অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা।
# ক্ষমতার ভারসাম্য ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা। # বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। # প্রশাসনিক সংস্কার। # দুর্নীতি দমন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ক্ষেত্র:# সাংবিধানিক সংস্কার। # নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি।
# সংসদের জবাবদিহি শক্তিশালীকরণ। # স্থানীয় সরকারকে অধিক ক্ষমতায়ন।
# মৌলিক অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার সুরক্ষা।
রাজনৈতিক মতবিরোধ : জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল দ্রুত সনদ বাস্তবায়নের জন্য ‘গণভোটের’ রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি মনে করে এটি বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। এই দুই মেরুর অবস্থানের কারণে মূল কাজ স্থবির হয়ে আছে।
জনমনে ক্ষোভ: জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসির প্রতিবাদে রাজনৈতিক দলগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, জুলাই চেতনা ও সনদের বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
জুলাই সনদের আবশ্যকতা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বিভিন্ন সময়ে জনগণের দাবি ও আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হিসেবে নানা সনদ প্রণীত হয়েছে। জুলাই সনদও তেমনি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যা জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশাকে ধারণ করে। বর্তমান সময়ে একটি জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জুলাই সনদের গুরুত্ব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গতানুগতিক ধারার রাজনৈতিক সিস্টেমে ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণ ও স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার পথকে সুগম করে। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হলে স্বৈরাচারী হয়ে ওঠার পথকে রুদ্ধ করবে এবং ক্ষমতার মাঝে ভারসাম্য আনয়ন করবে। সরকার ও জনতার মাঝে সংযোগ তৈরি করে।
এছাড়া জুলাই চার্টার যে যে বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব দেয়-প্রথমত, জুলাই সনদ জনগণের মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ, সংগঠিত হওয়া এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকা অপরিহার্য। জুলাই সনদ এসব অধিকারের সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেয়।
দ্বিতীয়ত, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে জুলাই সনদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা দূর করতে কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। সনদে স্বচ্ছতা, আইনের শাসন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, সামাজিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জুলাই সনদের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুফল যাতে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সনদে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার দাবিও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
পরিশেষে বলা যায়, জুলাই সনদ একটি ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের রূপরেখা। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই সনদের বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে এর প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। জনরায়ের মাধ্যমে আজ প্রমাণিত হয়েছে যে, দেশের অধিকাংশ মানুষ আর পুরোনো বন্দোবস্তের মাঝে অবস্থান করতে চায় না। তারা চায় পরিবর্তন। রাষ্ট্র ব্যবস্থার সংস্কার। একটি জাতীয় রূপান্তর কখনো একক সিদ্ধান্ত বা শাসনের মাধ্যমে টেকসই হবে না। প্রয়োজন জনগণের সাথে যথার্থ মিথস্ক্রিয়া। তাই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি।
লেখক : জাতীয় সংসদ সদস্য।