মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বার্তা ইমাম খামেনির জানাজা


৮ জুলাই ২০২৬ ২০:১৫

॥ একেএম রফিকুন্নবী ॥
মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত করার জন্য তারই দেখানো পথে। যুগে যুগে মানুষ আল্লাহর পথ থেকে যেমন অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছে আবার কেউবা প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আল্লাহর গজবে পড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে মুসলিম জনগোষ্ঠী পৃথিবীতে প্রায় ২০০ কোটি। ৫৭টি মুসলিম দেশ ও অন্যান্য দেশেও মুসলিমরা বসবাস করছে তাদের নীতি ও আদর্শ নিয়ে। সব দেশেই আল্লাহর ঘর মসজিদ আছে; এমনকি অমুসলিম দেশে ভাড়া করা বিল্ডিংয়েও জুমার নামাজ আদায় করা হয়। ফ্রান্সের এমন একটি মসজিদে আমার নামাজ আদায় করার সুযোগ হয়েছে। আর বাংলাদেশ তো এক অনন্য দেশ, যেখানে পাড়ায় পাড়ায়, অলিগলিতেও মসজিদ রয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর ঘোষণা, ‘তোমরা দুনিয়ায় আমার ঘর বানাও আমি জান্নাতে তোমাদের জন্য ঘর বানাব।’ তাই মুসলিম উম্মাহর উচিত আল্লাহর নিয়মনীতি মেনেই দুনিয়ায় চলা।
দুনিয়ায় আল্লাহর এক নিদর্শন ঘটে গেল যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের বুকে তাদের শহীদ ইমাম সৈয়দ আলী হোসাইনী খামেনির জানাজার বিনিময়ে। আমেরিকা ও তাদের দোসর ইসরাইলের অতর্কিত হামলায় ৪ মাস পূর্বে ইমাম আলী খামেনি শহীদ হন তার আত্মীয়-স্বজনসহ। মাত্র ১৪ মাসের নাতিও ঐ হামলায় শহীদ হয়। কী দোষ ছিল ঐ ১৪ মাসের শিশুর? আমেরিকাকে তার জবাব দিতে হবে। আমার মনে হয়, আল্লাহর তরফ থেকে আমেরিকা ও তার দোসররা জবাব পেতে শুরু করেছে। আমেরিকার আদালতেই তাদের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে যুদ্ধ না করার ব্যাপারে। শুধু তাই নয়, সে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি লোক ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে।
তাই তো দেখা গেল আমেরিকার অহংকার বিশ্ব মাতব্বরের দম্ভ চুরমার হয়ে গেল ইরানের যুদ্ধে। তারা পিছু হটতে বাধ্য হলো। ইরানের শর্তেই যুদ্ধবিরতি মেনে নিল। আমরা দেখেছি, পরাজিত হয়েও ঘেউ ঘেউ করতে থাকে, পরাজয় মেনে নিতে চায় না। আমেরিকাও হরমুজ প্রণালী নিয়ে ঘেউ ঘেউ করছে, তাকে ইরানের সার্বভৌমত্ব মেনে নিতেই হবে হরমুজ প্রণালীতে।
আবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আফসোস করে বলেছেন, তার ধারণা ছিল ইমাম আলী খামেনি সে দেশে পপুলার নন। কিন্তু তার জানাজায় দেখা গেল কোটি জনতার ঢল। শুধু তাই নয়, প্রায় ১০০ দেশের সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে প্রতিনিধিরা এ জানাজায় শরিক হয়ে তাদের সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরোধিতা সত্ত্বেও তাদের কৃপায় বেঁচে থাকা দেশগুলো থেকেও জনপ্রতিনিধিরা জানাজায় অংশগ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে তার মহিমা এভাবেই প্রত্যক্ষ করান।
আমেরিকা চেয়েছিল ইরানকে একঘরে করে ফেলতে। কিন্তু দেখা গেল আমেরিকাই একঘরে হয়ে গেছে। যুদ্ধ চলার কারণে ইমাম আলী খামেনির জানাজা করতে ইরান সময় নিয়েছে। দীর্ঘ ৪ মাস পর যুদ্ধবিরতির মধ্যে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হলো। ইরানের শত্রুভাবাপন্ন দেশও এ জানাজায় যোগ দিয়েছে। সৌদি আরব শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাজায় শরিক হয়ে বুদ্ধিমানের কাজ করেছে। কারণ সৌদি আরব শুধু একটি দেশই নয়, তারা মহান আল্লাহ তায়ালার ২টি মসজিদ মক্কায় কাবাঘর এবং মদিনায় মসজিদে নববীর খাদেম। গোটা দুনিয়ায় মুসলিম উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ইবাদতের জায়গা। তাই ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের আক্রমণ মুসলিম উম্মাহ ঘৃণার সাথে প্রত্যক্ষ করেছে এবং তাদের ধ্বংস কামনা করছে।
মহান আল্লাহ তার কুদরতি ইশারায় ইমাম আলী খামেনির জানাজা আয়োজনে ইরানকে সাহায্য করেছেন। তাদের এই যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থায় কোটি লোকের অবস্থান, পানি, খাদ্য, পায়খানা-প্রস্রাবের ব্যবস্থা করা মোটেই কিন্তু সহজ ছিল না। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোটি লোকের জানাজায় এখন পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনা বা লোক মারা যাবার খবর পাওয়া যায়নি। এটাও মহান আল্লাহর সাহায্যের প্রমাণ।
ইরানের সরকার দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর গোটা দুনিয়ায় শক্তিধর দেশগুলোকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে টিকে আছে এবং মর্যাদার সাথেই আছে। শুধু তাই নয়, পারমাণবিক শক্তিও তারা অর্জন করেছে বলেই আমরা মনে করি। মহান আল্লাহ যাদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, দুনিয়ার কোনো শক্তি নেই তাদের পরাজিত করার। তাই আমাদের প্রিয়নবী ইবরাহীম আ.কে যখন আগুনের শিখার মধ্যে ফেলে দিয়ে আনন্দ করছিল সে দেশের নাস্তিকরা, তখন আল্লাহর প্রিয়নবী উচ্চারণ করছিলেন ‘হে আল্লাহ তুমিই আমার অভিভাবক, আর তুমিই আমার সাহায্যকারী।’ মহান আল্লাহ আগুনকে বলে দিলেন তুমি ইবরাহীমের জন্য শীতল হয়ে যাও। আরামদায়ক হয়ে যাও। ঠিকই দেখা গেল ইবরাহীম আ.-এর শরীর পোড়াতো দূরে থাক, তার একটি পশমের কোনো ক্ষতি হয়নি। এটাই আল্লাহর মোজেজা।
এবারের ইমাম আলী খামেনির জানাজায় ইরান কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে তাদের মেহমানদের অভ্যর্থনা দিয়েছে কুরআনের আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে। যখন যে দেশের প্রতিনিধিরা ইমাম খামেনির কফিনের পাশে এসেছেন শ্রদ্ধা জানাতে, তখন ঐ দেশের সাথে ইরানের যে সম্পর্ক সেই ধরনের কুরআনের আয়াত মাইকে তেলাওয়াত করে শোনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেমন সৌদি আরবের প্রতিনিধিরা যখন কফিনের কাছে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছেন, তখন সূরা আল ইমরানের ১৩নং আয়াত তেলাওয়াত করা হয়েছে বদর যুদ্ধ বর্ণনার আদলে। আবার বাংলাদেশের স্পিকারের সময় তেলাওয়াত করা হয়েছে সূরা আল আহযারের ২৩নং আয়াত। জামায়াতের প্রতিনিধিদের ইমাম খামেনির কফিনের শ্রদ্ধার সময় তেলাওয়াত করা হয়েছে সূরা আল ইমরানের ১৬৯-১৭০নং আয়াত। এভাবেই তারা তাদের বন্ধুভাবাপন্ন এবং শত্রুভাবাপন্ন দেশের প্রতিনিধিদের আল কুরআনের শিক্ষার কথা স্মরণ করিয়েই তাদের অভ্যর্থনা দেয়া হয়েছে বুদ্ধিমত্তার সাথে। অর্থাৎ দুনিয়ায়ই দুই জাতি- এক আল্লাহ বিশ্বাসী আর আল্লাহয় অবিশ্বাসী। বিশ্বাসীদের আল্লাহ কী পুরস্কার দেবেন আর অবিশ্বাসীদের জন্য কী রয়েছে প্রতিদান, তা স্মরণ করিয়েই তাদের সাদর সম্ভাষণ দেয়া হয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য।
শহীদ আলী ইমাম খামেনির জানাজা পড়িয়েছেন আরেকজন প্রখ্যাত আলেম, ধর্মীয় নেতা আবু জাফর নোমানী। ইমাম খামেনির ৩ ছেলে জানায় শরিক ছিলেন। বর্তমান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা তার ছেলে মোজতবা খামেনি উপস্থিত ছিলেন না সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকেই। কারণ আমেরিকা ও ইসরাইলকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। জানাজা হয়েছে গ্রান্ড মোসাল্লায়। লোকে লোকারণ্য। একই আওয়াজ আমেরিকা নিপাত যাক। প্রতিশোধ আর প্রতিশোধের আওয়াজ। ইরানের নারী-পুরুষদের পরনে ছিল কালো কাপড় আর হাতে ছিল লাল পতাকা। লাল পতাকা হলো একদিকে শোকের বার্তা; অন্যদিকে হলো প্রতিশোধ নেয়ার প্রতিশ্রুতি।
ইমাম খামেনির কফিন হাতে নেয়া হয়েছে কারবালার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য। সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ইমাম হুসাইন জীবন দিয়ে মুসলমানদের শিক্ষা দিয়ে গেছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদ আর ন্যায়ের ঝান্ডা ওপরে রাখার সর্বশেষ ইমাম খামেনির দাফন হলো তার জন্মস্থান মাশদাহ শহরে। মানুষের জন্মের পর মৃত্যু অবধারিত। কারো মৃত্যু মনে রাখার মতো, আবার কারো মৃত্যুর খবর কেউ রাখে না। শহীদ ইমাম খামেনি ৪ দশক ইরান শাসন করেছেন অত্যন্ত সততা আর যোগ্যতার সাথে। তাই তো গোটা ইরানের বুকে নেমে এসেছে অন্যায়ের প্রতিরোধের আকাক্সক্ষা। চোখের পানি আর আবেগে গোটা দেশ জর্জরিত দুঃখ আর বেদনার সুরে। আবার আওয়াজ উঠেছে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ডাকে। আমরা মুসলিম উম্মাহকে শোককে মাড়িয়েই আগামী দিনের শান্তির প্রবাহ গোটা দুনিয়ায় ছড়িয়ে দিতে চাই। ইরানের লোকেরা তাই এই জামাতে শরিক হয়ে জানিয়ে দিল- মহান আল্লাহ অবশ্যই এর পরিণতি ভালো দিয়েই দেবেন, ইনশাআল্লাহ।
দুনিয়ার ইতিহাসে এমন জানাজা আর দেখা যায়নি। তাই শিয়া-সুন্নি নয়, এক আল্লাহ বিশ্বাসীদের ঐকমত্যে আসতেই হবে, এবারের জানাজায় আমরা এই বার্তা পেলাম। শুধু মুসলিম দেশের লোকেরাই এ জানাজায় শরিক হয়নি। প্রায় ১০০ দেশের প্রধানসহ প্রতিনিধি, এই জানাজায় শরিক হয়েছেন এজন্য যে, আমেরিকা ইসরাইল অন্যায়ভাবে ঘোষণা ছাড়া আইন লঙ্ঘন করে ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাসহ পারিবারিক লোকদের শহীদ করেছে। আল্লাহ এর প্রতিদান দিলেন কোটি মানুষের অংশগ্রহণে জানাজা হলো।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সত্যের জয় হবেই আর অসত্য পরাজিত হবে। ইতোমধ্যেই ঘোষণা এসেছে ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক, কাতার, মিশর ঐকমত্যে পৌঁছেছে ন্যাটোর মতো ঐক্য করার জন্য। আমরা মনে করি, শুধু ৫টি দেশ নয়, গোটা ৫৭টি মুসলিম দেশকেই ঐক্য করতে হবে একে অপরের সহযোগিতা করার জন্য। ওআইসিকে ভেঙে সাজাতে হবে এবং কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা বাংলাদেশ সরকারকেও এই উদ্যোগে সহযোগী হতে বলব এবারের জানাজায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ উপস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশের সম্মান বেড়েছে। আবার বিরোধীদলের উপস্থিতিও বাড়তি ফল দিয়েছে। এখানে ইরানের দূতাবাসের উদ্যোগকেও আমরা ধন্যবাদ দিতে চাই। তাদের সহযোগিতায়ই ইমাম খামেনির জানাজায় শরিক হওয়া গেছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর আল্লাহর রশি আঁকড়ে ধর, বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ আমরা আল্লাহর আহ্বানে পরস্পর ঐক্য গড়ে তুলব, আল্লাহর সাহায্য আসবেই। একটি জানাজাকে কেন্দ্র করে মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের শিক্ষা দিলেন তোমরা এক চিন্তায় এক মতে ঐক্যবদ্ধ হও, তার জাজা আল্লাহ দেবেন। এখানে উল্লেখ করতে চাই, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও বিরোধীদলের একসাথে চলার সিদ্ধান্ত দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে। বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা নয়, প্রয়োজনে দেশের জনগণের খাতিরে সরকারি দলের কাজে বিরোধিতা করাই দেশের জন্য কল্যাণ।
এখানে আরো উল্লেখ করতে চাই, গত ৫৫ বছরে দেশের মানুষ সুশাসন পায়নি। বৈষম্যের মধ্যেই অবিচার আর অন্যায়, চাঁদাবাজি, দুর্নীতিতে আমরা ঝুলে আছি। আমাদের আবেদন থাকবে জনগণের স্বার্থেই আপনারা সংসদ সদস্যরা কাজ করবেন। ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনগণের সাথে থাকতে হবে। মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনে স্বৈরাচার হাসিনাকে দলবল নিয়ে তার দাদার দেশে পালাতে হয়েছে। আমরা একটি নির্বাচিত সরকার পেয়েছি। আমাদের ১৪০০ শহীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আমাদের ৩৬ জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছে, চোখ হারিয়েছে, হাত-পা হারিয়েছে, তাদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। টালবাহানা না করে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে। আমরা চাই না, দেশে আবার কোনো আন্দোলন-সংগ্রাম, হানাহানি হোক। এ দেশের মানুষ অনেক রক্ত দিয়েছে এবার পাওয়ার পালা। মহান আল্লাহ তায়ালা এই ভূখণ্ডে অনেক প্রাচুর্য দিয়েছেন, বুদ্ধিমত্তা দিয়ে এগুলো কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বানাতে বেশিদিন লাগবে না। জনশক্তিকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিদেশে পাঠাতে পারলে রেমিট্যান্স অনেকগুণ বাড়ানো যাবে। রাষ্ট্রদূতদের কর্মক্ষম বানাতে হবে। বিলাসী জীবন না করে যার যার দেশে কাজ খুঁজতে হবে। আমদানি-রফতানিতে তাদের ভূমিকা রাখতে হবে। যাতে করে বেশি দামে রফতানি ও কম দামে আমদানি করা যায়, তা বের করতে হবে ঐ দেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতদের মাধ্যমে। গতানুগতিক রাষ্ট্রদূত নয়, কর্মশীল রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দিতে হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি কোনোভাবেই মেনে নেয়া যাবে না। সরকারকে সৎ, যোগ্য লোক নিয়োগ দিতে হবে। অন্যদিকে বর্তমান শক্তিকেও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করতে হবে। আমলাদেরও দেশদরদি ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণের কল্যাণই আমাদের উদ্দেশ্য হতে হবে। ইমাম খামেনির জানাজায় যেমন আমাদের মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বাণী দিয়ে গেল। তেমনি আমাদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় আনতে হবে জনকল্যাণের বাণী।
লেখক : সাবেক সিনেট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
ই-মেইল : rnabi1954@gmail.com