অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করলেন নওগাঁর এমপি এনামুল হক


১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৫৪

স্টাফ রিপোর্টার : সাধারণত এমপি মানে অভিজাত চলাফেরা ও প্রটোকল। জীবনধারায় নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে যা হরহামেশাই চোখে পড়ে। এমপিদের পরিবার বা সাঙ্গপাঙ্গরা হন এমপির চেয়েও ক্ষমতাশালী। দাপটে চলাফেরায় সাধারণের নাভিশ্বাস, অফিস-আদালতে প্রভাব, সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে উন্নত জীবনের আবহ যেন নিয়ম হয়ে ওঠে। সেখানে অতি সাধারণের উদাহরণ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন নওগাঁ-২ আসনের এমপি এনামুল হক।
সম্প্রতি সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামইরহাট) আসনের জামায়াতের এমপি স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধারণ নাগরিকদের মতোই চিকিৎসা নিচ্ছেন, খাচ্ছেন রোগীদের জন্য যে খাবার বরাদ্দ সেই খাবারই।
এমন দৃশ্য দেশবাসী আগে কখনো দেখেছেন বলে নজির নেই। তিনি অতি সাধারণ সেজেই নিজের অসুস্থতার সময় চিকিৎসা নিয়েছেন। অথচ তার সুযোগ ছিল জেলার বা পার্শ্ববর্তী জেলা কিংবা সরকারি সুবিধা নিয়ে আরও উন্নত চিকিৎসা নেয়ার। তিনি তা করেননি। এলাকার সাধারণ নাগরিকদের জন্য যে সুবিধা বরাদ্দ, সেই সুবিধাই তিনি নিয়েছেন। তার এমন সিদ্ধান্ত দেশবাসী ও এলাকাবাসীকে ব্যাপকভাবে উজ্জীবিত করেছে।
অনেকে মনে করছেন, এমপি সাহেব হয়তো পরখ করে দেখার চেষ্টা করেছেন সাধারণ মানুষ হাসপাতালে কেমন চিকিৎসা সুবিধা পেয়ে থাকেন। কোনো ভোগান্তি রয়েছে কিনা। কী কী গলদ রয়েছে স্থানীয় চিকিৎসা ব্যবস্থায়। এক্ষেত্রে তারই বা কী পদক্ষেপ নেয়ার আছে। এমন চিন্তা থেকেই সরকারি বিশেষ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ থাকার পরও তিনি সাধারণ সুবিধা নিয়েছেন। তবে তার এমন উদ্যোগ দেশব্যাপী ও সামাজিক মাধ্যমে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। নেটিজেনরা ঘটনাটিকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে করছেন নানা মন্তব্য। যেখানে অন্যান্য দল থেকে নির্বাচিত এমপি কিংবা বিশেষ নেতাদের বিষয়ে তীর্যক মন্তব্যও উঠে এসেছে।
স্থানীয় ওই হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ৯ মার্চ সোমবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গ্যাস্ট্রিক ও উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যা নিয়ে এমপি এনামুল হক ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে উপস্থিত হন। কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে দুপুর পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে চিকিৎসা নেন।
এ বিষয়ে নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ইচ্ছা করলে তিনি নওগাঁ বা জয়পুরহাটের বড় কোনো হাসপাতাল কিংবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারতেন। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এলাকার সাধারণ মানুষ যেখানে চিকিৎসা নেন, সেখানে চিকিৎসা নেওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত। সীমিত সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আন্তরিক হলে ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব বলেও উল্লেখ করেন জামায়াতের মনোনয়নে নির্বাচিত এই এমপি।
এমপির এমন সিদ্ধান্তে সামাজিকমাধ্যমে বেশ লেখালেখি হয়। তাসলিমা পারভীন নামে একজন ফেসবুক আইডিতে এনামুল হকের হাসপাতালের খাবার খাওয়ার একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘ইনি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। নওগাঁ-২ আসনের নির্বাচিত এমপি। হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতায় তিনি দেশের নামকরা হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি নামি-দামি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছুটে যাননি। থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। ভরসা করেছেন সেখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর। সাধারণ রোগীদের বেডে থেকেছেন। খেয়েছেন রোগীদের জন্য সরবরাহ করা সাধারণ খাবার। বিষয়টা অসাধারণ।’
তাসলিমা এই ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে টেনে আরও লিখেছেন, ‘দেশের মন্ত্রী-এমপিরা অসুস্থ হলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। তাদের ছেলেমেয়েরা স্থানীয় সরকারি স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করবে। দেশের আর ১০ জন সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করবেনÑ এমন চিত্র আমরা সারা দেশে দেখতে চাই।’
শুধু এমপি এনামুল হক নন, জামায়াত থেকে এবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেন- এমন ঘটনা অহরহ। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত থেকে যেসব এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের কর্মকাণ্ড বেশ প্রশংসিত হচ্ছে । নির্বাচনের আগে দলীয়ভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদের ঘোষণা জাতিকে আশান্বিত করেছে। গত ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে প্রাপ্ত ১০ লাখ টাকা ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী স্বচ্ছতার সাথে প্রকৃত অর্থে যারা পাওয়ার যোগ্য, তাদের হাতে পৌঁছে দিয়েছেন। যেখানে সরকারি দলের অনেক এমপি ঈদের আগে সেসব উপহার সামগ্রী ও অর্থ জনগণের কাছে পৌঁছে দেননি, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে বেশ হইচই হয়েছে।