মন্ত্রীদের বেসামাল মন্তব্যে সমালোচনার মুখে সরকার
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৪
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বহু আশা নিয়ে মানুষ অপেক্ষা করছিলেন নির্বাচিত সরকারের। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠন করে। সরকার গঠনের এক সপ্তাহে নতুন সরকারের মন্ত্রী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের কার্যক্রমে সাধারণ নাগরিকরা হতাশ ও নিরাশ হয়েছেন। কথা ছিল যারাই সরকার গঠন করবে, তারা ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত রাখবে। কিন্তু সেটি বাস্তবে পরিলক্ষিত হয়নি। নির্বাচনের পর বিরোধীদল ও মতের মানুষের ওপর হামলা ও নির্যাতন হয়েছে দেশজুড়ে। শেরপুরে সংঘর্ষে বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলায় প্রাণ হারান জামায়াতে ইসলামীর থানা সেক্রেটারি, নির্বাচনের পর সেখানে জমায়াতের সহস্রাধিক নেতাকর্মীর নামে মামলা দিয়েছে বিএনপি। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে হেনস্তার শিকার হলেন বিএনপির সাবেক নেত্রী ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। এটি ইতিবাচক রাজনীতিক পরিচায়ক নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্যদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের পদক্ষেপ ও মন্তব্য মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ চলছে। লাখ লাখ মানুষ ক্ষোভ ঝাড়ছেন সামাজিক মাধ্যমগুলোয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নিলে সেটি চাঁদাবাজি নয়, জোর করে নিলে সেটা চাঁদা। মন্ত্রীর এমন বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় চলছে। বিদ্যুৎমন্ত্রী ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। অথচ এই স্লোগানের ওপর ভিত্তি করেই শেখ হাসিনার পতন হয়েছে, মন্ত্রিত্বের চেয়ার পেয়েছেন তিনি। ভোট কারচুপি করে আল্লামা মামুনুল হককে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ববি হাজ্জাজের বিরুদ্ধে। অথচ প্রতিমন্ত্রীর চেয়ারে বসে তিনি উল্টো মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিচ্ছেন। দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশের চিন্তা না করে সংস্কৃতি মন্ত্রীর বিদেশি শিল্পীর উদাহরণ টানছেন, এতে নেটিজেনরা ক্ষোভ ঝাড়ছেন। জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা না নিয়ে দেশের ছয় সিটিতে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যেটি প্রত্যাশিত ছিল না। বিশেষ করে সরকারের প্রথম দিন থেকেই সমালোচনা শুরু হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করায়। এ ব্যক্তিকে নিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতারা নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে তার দোষগুলো সামনে এনে অপসারণ দাবিও করেছিলেন, এই খলিলুর রহমান বিএনপির শীর্ষনেতাকে ইঙ্গিত করে মন্তব্য করার জেরে বিএনপি তেলেবেগুনে জ¦লে উঠেছিল। এখন সেই খলিলুর রহমান যখন মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসেছেন, তখন বিএনপির ভেতরে বিস্ময় সৃষ্টি হয়। কেন তাকে বসানো হলো, বিএনপিতে কি এই পদের জন্য যোগ্য লোক নেই, নাকি কোনো কারণে বাধ্য হয়ে তাকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে বসাতে হয়েছেÑ এমন নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বিএনপির অভ্যন্তরে ও দেশের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে।
সমঝোতার ভিত্তিতে নিলে চাঁদাবাজি নয়, মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একইসঙ্গে তিনি রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়েরও মন্ত্রী। আকাশপথ ছাড়া সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই তিনি চাঁদাবাজির সংজ্ঞা পাল্টে দিয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের চেয়ারে বসে তিনি বলছেন, ‘সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু টাকা তুললে সেটি চাঁদাবাজি নয়, বরং বাধ্য করলে সেটি চাঁদা।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি অতিষ্ঠ চাঁদাবাজি নিয়ে। আর ক্ষমতায় বসেই মন্ত্রী সেই চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়া শুরু করলেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, মন্ত্রীর এ বক্তব্য দেওয়ার সময় যাত্রী বা ভোক্তাদের ওপর চাঁদার ‘চেইন রিঅ্যাকশন’ এর কথা বিবেচনায় রাখেননি সড়কমন্ত্রী। কারণ পণ্য কিংবা যাত্রী যেকোনো ক্ষেত্রেই চাঁদার অর্থ মূলত শোধ করতে হয় ভোক্তাকেই। এছাড়া রাস্তায় দাঁড়িয়ে টাকা তোলাকে শ্রমিক উন্নয়নের লেবাস দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তারা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নানা বক্তব্য দিচ্ছেন, তখন তারই মন্ত্রিপরিষদের একজন সদস্য চাঁদাবাজি নিয়ে এমন বক্তব্য সাংঘর্ষিক। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ সময় রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দুই প্রতিমন্ত্রীও তার সঙ্গে ছিলেন। যেখানে পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক পরিবহনে যেটাকে চাঁদা বলা হয়, সেটিকে তিনি চাঁদা হিসেবে দেখছেন না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, মালিক ও শ্রমিক সংগঠন বা সমিতিগুলো নিজেদের কল্যাণে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু টাকা তোলেন। এটি তাদের জন্য অনেকটা অলিখিত বিধির মতো। ওই টাকা আবার তাদের নিজেদের কল্যাণেই ব্যয় করা হয় বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, চাঁদা ওইটাকে বলা যায়, যা কেউ দিতে চায় না বা তাকে বাধ্য করা হচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘মালিক সমিতি নির্দিষ্ট হারে টাকা তোলে, মালিকদের কল্যাণে ব্যবহার করতে চায়। কতটুকু ব্যবহার হয় তা জানি না, সেটা নিয়ে বিতর্ক আছে’। ‘সমঝোতার ভিত্তিতে তারা এটা করে, সেখানে যে মালিক বা দল ক্ষমতায় থাকে, তারা প্রাধান্য পায়। এটা চাঁদা আকারে দেখার সুযোগ হচ্ছে না, কারণ, তারা সমঝোতার ভিত্তিতে করছে। তবে চাঁদাবাজি যদি কেউ করতে আসে, সেই সুযোগ নেই,’ বলেন তিনি। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক পরিবহন খাতে ‘পারস্পরিক বোঝাপড়ার’ মাধ্যমে টাকা আদায় করা হলে তাকে চাঁদাবাজি হিসেবে বর্ণনা করা যাবে না। ‘মালিকরা যদিও সমঝোতার ভিত্তিতে করে আমরা কথা বলে দেখবো কেউ ডিপ্রাইভড বা বঞ্চিত হচ্ছে কি না এবং সেই অর্থের অপব্যবহার হচ্ছে কি না সেটাও আমরা দেখবো,’ উল্লেখ করেন তিনি। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীর দেওয়া এই বক্তব্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় মন্ত্রীর এই অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা হয়েছে। বিরোধীদলের পক্ষ থেকে মন্ত্রী এই বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়েছে, কিন্তু সরকার বা সরকারি দলের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীও তার বক্তব্যের কোনো ব্যাখ্যা দেননি। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় ধরেই নেওয়া হচ্ছে দল হিসেবে বিএনপি এবং সরকার মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন।
খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা নিয়ে বিএনপিতেও ‘বিস্ময়’
সদ্য বিদায় নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদমর্যাদায় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমানকে উপদেষ্টা পদ থেকে অপসারণের জন্য বিএনপির শীর্ষনেতারা জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন। এমন কি দলটি অফিসিয়ালি সংবাদ সম্মেলন করে তার কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাকে বাদ দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে দাবি তোলেন। কিন্তু ‘বিস্ময়কর’ বিষয় হচ্ছে সেই খলিলুর রহমানকেই আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয় নতুন সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে সেই ‘বিতর্কিত’ খলিলুর রহমানকেই বেছে নেন। এ বিষয়টি শুধু বিরোধী শিবিরেই নয়, বিএনপির ভেতরেও বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অনেকেই এ খবরে হতবাক হয়েছেন।
কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে অনেক সময়ই খলিলুর রহমানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা-বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খলিলুর রহমানকে অপসারণ করতে নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ২২ মে ২০২৫ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন সংগ্রামের সময় ড. খলিলের নাম কেউ কখনো শুনেনি। সুসময়ে হঠাৎ করেই তিনি উড়ে এসে জুড়ে বসে উপদেষ্টা হয়েছেন।’ বিএনপির পক্ষ থেকে রুহুল কবির বলেন, ‘ড. খলিল তার নিজের পক্ষে ওঠা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পলাতক স্বৈরাচারের মতো তারেক রহমানের বিপক্ষে প্রোপাগান্ডার পথ বেছে নিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা করেছেন। জনগণ এসব মেনে নেবে না। ফ্যাসিবাদের দেড় দশক ড. খলিল কোথায় ছিলেন? কীভাবে ছিলেন? কোন দেশে ছিলেন?’ ‘বিদেশে তার স্ট্যাটাস কী ছিল? ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে তার ভূমিকা কী ছিল? অবশ্যই এসকল প্রশ্নের জবাব জনগণকে জানাতে হবে। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, রাষ্ট্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই। ড. খলিলকে অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে দেশে-বিদেশে তার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেশের জনগণের সামনে হাজির করতে হবে।’ রিজভী বলেন, ‘দেড় দশকের শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে দেশে-বিদেশে কোথাও যার কোনো উপস্থিতি ছিল না, না ছিল কোনো জোরালো বক্তব্য। তার কাছে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত কিনা এসব নিয়ে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।’ গত বছরের ২১ মে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে মন্তব্য করেন। ওইসময় তিনি বলেন, ‘কেবলমাত্র আমি আমেরিকায় থেকেছি বলে আমাকে যদি বলা হয় আপনি বিদেশি নাগরিক, তাহলে কালকে তারেক রহমান সাহেবকেও সে কথা বলতে হবে। আমাকে ঢিল নিক্ষেপ করলে সেই ঢিল কিন্তু অন্যের ওপর গিয়েও পড়তে পারে।’ রিজভী বলেন, ‘তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দেশের মানুষ বিস্মিত-হতবাক, উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের প্রতিভূ হাসিনা যেভাবে গণতন্ত্রকে কফিন পরিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের ইন্দ্রজাল সৃষ্টির জন্য জিয়া পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটাতেন, উপদেষ্টার এ মন্তব্য যেন তারই পুনরাবৃত্তি।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘ড. খলিলুর রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন প্রসঙ্গটি যেভাবে উপস্থাপন করেছেন তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিমূলক। ‘ধান ভানতে শিবের গীত’ গাওয়ার মতো।’ রিজভী আহমেদ বলেন, ‘রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে ড. খলিলুর রহমানের এহেন বক্তব্য নিঃসন্দেহে আত্মগরিমার প্রদর্শন এবং দুরভিসন্ধিমূলক। ড. খলিলুর রহমান তারেক রহমানের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা বিনষ্ট, জনসাধারণকে বিভ্রান্ত এবং মানুষের মাঝে তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার হীনউদ্দেশ্যে নিয়েই এ বক্তব্য রেখেছেন, যা দুর্ভাগ্যজনক বিভ্রান্তির কবলের মধ্যে পড়ে।’ ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি খলিলুর রহমানের অপসারণও দাবি করেন।
এর কয়েকদিন পর (২৯ মে ২০২৫) জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সমালোচনা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তার ‘বিতর্কিত ভূমিকার’ কারণে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংস্থাগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তিনি উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আনার দাবিও তোলেন। একটি ইংরেজি প্রবাদ তুলে ধরে তিনি বলেন, চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। আমরা বলেছি, আপনার (প্রধান উপদেষ্টা) উপদেষ্টা পরিষদ সংস্কার করুন; আপনার উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয়। খলিলুর রহমানের সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন বলেন, একজন উপদেষ্টা বিদেশভ্রমণ করেছেন ২০ বছর; এখন বাংলাদেশ উদ্ধার করতে এসেছেন। যদি সরিষার মধ্যে ভূত রেখে আপনি সংস্কার সংস্কার করেন, সংস্কার হবে না। দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এবং সিনিয়র নেতারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বক্তৃতা করে যার অপসারণ চাইলেন, সেই খলিলুর রহমানকে কেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী করা হলো সেই প্রশ্ন কোটি নাগরিকের। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বয়ক ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রস্তবিত বিরোধী দলীয় চীফ হুইফ নাহিদ ইসলামও একই প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারে থেকে তিনি কী একটি দলের হয়ে কাজ করেছেন? বিএনপির কি রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন, দলটিতে কোনো যোগ্য লোক কি ছিল না, নাকি বাধ্য হয়ে তাকে এ গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাতে হয়েছে এমন হাজারো প্রশ্ন নাগরিকদের মনে।
‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ নিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিরূপ মন্তব্যে তুমুল সমালোচনা
গত ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আজকের জেন-জি যদি ইনকিলাব বলে, তবে আমার রক্তক্ষরণ হয়। বাংলাকে ধারণ করতে হলে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ চলবে না। এগুলোর সাথে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। যারা আমাদের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, এগুলো তাদের ভাষা।” তিনি আরও যোগ করেন, এ মন্তব্যের কারণে তাকে ‘ভারতের দালাল’ বলা হলেও তিনি পরোয়া করেন না। মন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পরই ইফতার সেরে সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মাত্র দুই শব্দের একটি স্ট্যাটাস দেন কুমিল্লা-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও এনসিপির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই বীরসেনানী লেখেন ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ পোস্টটি দেওয়ার মাত্র ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এতে ৬ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি রিয়েকশন, ৮২ হাজার মন্তব্য এবং সাড়ে ২৩ হাজার শেয়ার হয়। নেটিজেনরা একে মন্ত্রীর বক্তব্যের সরাসরি ‘রাজনৈতিক জবাব’ হিসেবে দেখছেন। একই ইস্যুতে সরব হয়েছেন চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা নাসিরুদ্দীন পাটোয়ারীও। তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ! চাঁদাবাজ মুর্দাবাদ!’ তার এই পোস্টটিও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মাত্র ৪ ঘণ্টায় প্রায় ২ লাখ রিয়েকশন ও ১৬ হাজার মন্তব্য জমা হয়েছে তার পোস্টে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ইনকিলাব’ একটি আরবি শব্দ যার অর্থ ‘বিপ্লব’। ভারতীয় উপমহাদেশে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে ভগত সিং এবং হসরত মোহানি এই ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানকে জনপ্রিয় করেছিলেন। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা ভাষার বিরুদ্ধে নয়, বরং শোষণের বিরুদ্ধে একটি বৈশ্বিক বিপ্লবী স্লোগান। তাই একে ‘মাতৃভাষাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়াকে ঐতিহাসিক তথ্যের বিকৃতি বলে মনে করছেন অনেকে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ‘ইনকিলাব’ শব্দটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। জেন-জি এ শব্দের মাধ্যমে কোনো বিদেশি সংস্কৃতি নয়, বরং প্রচলিত ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছিল। মন্ত্রীর এই স্লোগানবিরোধী বক্তব্যকে সেই গণঅভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে অস্বীকার করার শামিল বলে মনে করছেন তারা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান নিয়ে দেওয়া মন্তব্য কেবল অসঙ্গতই নয়, বরং ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব ও গণআকাক্সক্ষার বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল বলে মন্তব্য জামায়াতে ইসলামীর। ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান জুবায়ের মন্ত্রীর এ মন্তব্যে উদ্বেগ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান সম্পর্কে মন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য ইতিহাস ও ভাষাবিজ্ঞানের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। ‘ইনকিলাব’ শব্দটি আরবি উৎসজাত হলেও উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম এবং গণঅধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বহু দশক ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষা তদ্ভব, তৎসম, আরবি, ফারসি, পর্তুগিজ ও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করে বর্তমান রূপে বিকশিত হয়েছে। ফলে কোনো শব্দের উৎপত্তিকে কেন্দ্র করে তাকে ‘বাংলাবিরোধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা ভাষাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। ভাষার প্রশ্নে বিভাজন সৃষ্টি করে জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করার অপচেষ্টা কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির কাছ থেকে প্রত্যাশিত হতে পারে না।
শুধু রাজনৈতিক দল বা রাজনীতিকরা প্রতিক্রিয়া জানাননি, বরং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রীর ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানবিরোধী মন্তব্যের জেরে উত্তাল হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাংবাদিক নেতা এম আবদুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন. ‘ইকবাল হাসান মাহমুদ’ বিদেশি ভাষা। অন্যদিকে নেটিজেনরা তার দেওয়া এক বক্তব্যের প্রায় প্রতিটি বাক্যে বিদেশি ভাষা প্রয়োগের তথ্য তুলে ধরে সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনীতিতে সুবিধাবাদী এই মন্ত্রী দলের দুঃসময় পাশে ছিলেন না। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে বিএনপির সমাবেশ আওয়ামী লীগ পণ্ড করে দেওয়ার পর ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদেশে পালিয়ে যান এবং দলের সঙ্গে কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা রাখেননি, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানের ওপর ভিত্তি করে ২০২৪-এর ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের দুই মাস পর ৬ অক্টোবর দেশে ফেরেন। তাকে নিয়ে দলের ভেতরেও অস্বস্তি দেখা দেয় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংস্কৃতিমন্ত্রীর বিদেশি শিল্পীর উদাহরণ, সামাজিকমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা
বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ বছরের পর বছর ধরে বলে আসছেন, বিদেশি সংস্কৃতি আমাদের গ্রাস করছে। আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করছে। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্কৃতির হিংস্র ছোবলে তরুণ ও যুবরা পথভ্রষ্ট হচ্ছেন। সেক্ষেত্রে বিদেশি সংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে বাঁচতে দেশীয় সুস্থধারার সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। যদি তা না করা যায়, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হবে। দেশের সংস্কৃতির এই প্রেক্ষিতে নতুন সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় লতা মঙ্গেশকর, সোনু নিগম ও নেহা কাক্করের মতো শিল্পী তৈরি করার পরিকল্পনার কথা গণমাধ্যমে জানান। কীভাবে দেশে সুস্থধারার সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানো যায়, তা নিয়ে তার কোনো পরিকল্পনার কথা না বলে তিনি বিদেশি শিল্পীদের উদাহরণ তুলে ধরেন, দেশের অনেক খ্যাতিমান শিল্পী থাকলেও তার নাম মুখে নেননি মন্ত্রী। এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নাগরিকদের মধ্যে; বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সুজল বালা নামে ফেসবুক আইডি থেকে (ঝঁলধষ ইধষধ) সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, “কষ্ট লাগলো আমাদের বাংলাদেশের কোন কিংবদন্তি শিল্পীর নাম বললেন না। আমাদের দেশেই আছে সাবিনা ইয়াসমিন, রুনা লায়লা, শাহানাজ রহমতউল্লাহ, সৈয়দ আব্দুল হাদী, খালিদ হাসান মিলু, এ্যান্ড্রু কিশোরসহ আরও অনেক লেজেন্ডারি (কিংবদন্তি) গুণী শিল্পী। এদেরকে অনুসরণ করলেই যথেষ্ট। ভারতের লতা মুঙ্গেশকর এবং সোনু নিগমের উদাহরণ ঠিক আছে, কিন্তু নেহা কাক্কর ওই তালিকায় আসে না।” মুন্না হোসাইন সিমু (গঁহহধ ঐড়ংংধরড়হ ঝযরসঁ) তার ফেসবকু আইডিতে বলেন, “কিছু দিন পর ‘হিরো আলম’কে টেনে তুলে বলবে এই তো সোনু নিগম”। উজ্জ্বল রায় (টুুধষধ জড়ু) মন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, “আপনি রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, শাহনাজ রহমতউল্লাহ, নীলুফার ইয়াসমীন, আবিদা সুলতানার মত শিল্পী করবেন প্রথমত। দেশকে ভালোবাসুন, সাথে দেশের শিল্পীদের কথা ভাবুন। বিদেশ প্রেম পরে হবে।” অপূর্ব পাল (অঢ়ঁৎনধ ঢ়ধঁষ) বলেন, “নোরার (নোরা ফাতেহি একজন কানাডিয়ান নৃত্যশিল্পী, মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা) মতো ডান্সার বানান” দিলীপ রায় (উরষরঢ় জড়ু) মন্তব্য করেন “আপনার মন্ত্রিত্ব থাকবে তো”। এমন শতসহস্র নেতিবাচক মন্তব্য করেন মন্ত্রীর এমন চিন্তা ও পরিকল্পনার কথা শোনার পর।
ছয় সিটিতে বিএনপি নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা
বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিসহ দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে আগের প্রশাসকদের সরিয়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। যাঁরা এই পদগুলোয় নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁরা সবাই বিএনপির নেতা। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিলেন। তার মধ্যেই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন-১ শাখা) থেকে নতুন প্রশাসকদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন হয়। ২০২৪ সালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েই সিটি করপোরেশনগুলোর মেয়রদের পদচ্যুত করেছিল। এরপর নিয়োগ দেওয়া হয় প্রশাসক। বিএনপি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার পর এখন ‘রাজনৈতিক’ প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হলো। নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া দেশজুড়ে সমালোচনা চলছে। এ নিয়োগ স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আল্লামা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি প্রতিমন্ত্রীর, তীব্র সমালোচনা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর ও ঢাকা-১৩ আসনে ১১ দলীয় জোট প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হবে বলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সম্প্রতি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। তার দেওয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দলটি। দলটি বলছে, ‘ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল-ডাকাতি ও ববি হাজ্জাজের অব্যাহত মিথ্যাচার অচিরেই সরকার পতনের কারণ হতে পারে।’ গত ২২ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফতের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তিনি বলেন, ববি হাজ্জাজের এ বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। জনগণের স্পষ্ট রায়কে আড়াল করতেই এসব অপপ্রচার ও মামলা-হুমকির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে। এদিকে সরকারের দায়িত্বশীল পদে থেকে মামলার হুমকি ফ্যাসিবাদের চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন অনেকে। ববি হাজ্জাজকে শেখ হাসিনার আত্মীয় এবং একসময়ে বিএনপির কঠোর সমালোচক উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা বলছেন, এমন ব্যক্তি সরকারের ভাবমর্যাদা আরো ক্ষুণ্ন করবে।