আসুন, সৎ-যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে একসাথে গড়ি ইনসাফের বাংলাদেশ
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪০
১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দীর্ঘ দেড় দশক প্রতীক্ষার পর এদিন বাংলাদেশের ভোটাররা তাদের রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করবেন। ২০০৮ সালে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদের সেনাসমর্থিত সরকারের অধীনে সাজানো জাতীয় নির্বাচনে হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল ক্ষমতা দখল করেছিলো। ক্ষমতা দখলের পর হাসিনা পাঁচ বছর পরপর নির্বাচন নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। তিনি রাষ্ট্রের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে নির্বাচনকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিলেন। তিনি হয়ে উঠেছিলেন ফ্যাসিস্ট। তার ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে তার ওপর সীমাহীন নির্যাতন চালানো হতো। জেল-জুলুম রিমান্ড ছিলো নিত্যদিনের ঘটনা। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নির্মূলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে বাধ্য করা হতো খুন-গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ করতে। হাসিনার নির্যাতন সেল ‘আয়নাঘরে’ বন্দি অবস্থায় অসংখ্য রাজনৈতিক নেতা-কর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন। গুমের শিকার সেসব নেতা-কর্মীর লাশ পর্যন্ত পায়নি তার স্বজনরা। সেই দুঃশাসনের অবসানে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করেছে। হাসিনা দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর, নায়েবে আমীর, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাহী পরিষদের সদস্যসহ শীর্ষনেতাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছেন। তার দুঃশাসনে কারানির্যাতনে অনেকে শাহাদাতবরণ করেছেন। হাসিনা বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগে নিঃসঙ্গ কারাগারে বন্দি রেখেছিলেন। তাকে তার স্বামীর বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করেছেন। হাসিনার পতনের পর তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। চিকিৎসকরা মনে করেন, তার মৃত্যুর কারণ কারানির্যাতন। শত অপচেষ্টার পরও হাসিনা টিকে থাকতে পারেননি। তার অপশাসনের অবসান হয়েছে। ছাত্র-জনতার মরণপণ দুর্বার গণআন্দোলনে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, তথা ৩৬ জুলাই তিনি দেশত্যগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। এমন একটি ঐতিহাসিক ক্রান্তিকালে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এ নির্বাচন শুধু একটি সরকার পরিবর্তনের জন্য নয়, নীতি পরির্বতনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসন্ন নির্বাচনে দেশের জনগণ শুধু সংসদ সদস্য নির্বাচন করবেন না, তারা রাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটও দেবেন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের ফলাফল পেতে হলে জুলাই চেতনার পক্ষের সৎ-যোগ্য নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে। ৫ আগস্টের বিপ্লবের পরপরই যারা নতুন করে ফ্যাসিস্টরূপে আবির্ভূত হয়েছেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেরা সম্পদের পাহাড় গড়ার ধান্ধ্যা করছেন, তারা এখন আর অচেনা নন। যারা নিপীড়িত জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের রক্ষা করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন, জনগণ তাদেরও চিনেছে। তাই তারা এবার পুরনো দিনের মতো শুধু মার্কা দেখে নয়, সততা ও যোগ্যতা বিচার করে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আমরা আশা করি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব নির্বাচন ও ভোটকেন্দ্রগুলোর শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব শপথ নিয়ে তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। এ শপথ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুত হলে জাতি তাদের কোনোদিন ক্ষমা করবে না। তারা একটি অবাধ, ওসুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে বদ্ধপরিকর বলে আমরা মনে করি। তাই আসুন, ১২ ফেব্রুয়ারি উৎসবমুখর পরিবেশে সৎ-যোগ্য প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিই। একসাথে গড়ি ইনসাফপূর্ণ এক মানবিক বাংলাদেশ।