কৃষিভিত্তিক রাজধানীসহ বহুমাত্রিক উন্নয়নে বদলে যাবে দেশ
৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:৪১
সোনার বাংলা মফস্বল ডেস্ক : কৃষিভিত্তিক রাজধানী গড়ে তোলা, ইপিজেড, প্রতি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা, মরা নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করাসহ তরুণদের কারিগরি শিক্ষা দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলে দেশকে বদলে দেয়ার বিশেষ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বেশ কয়েকটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় উন্নয়নে তিনি এসব পরিকল্পনা তুলে ধরেন। গত ২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে তিনি উত্তরাঞ্চলের সফর শুরু করেন। ধারাবাহিকভাবে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে নির্বাচনী জনসভায় তিনি যোগ দেন। রংপুরে রাত্রীযাপন করে পরদিন ২৪ জানুয়ারি তিনি রংপুরের পীরঞ্জের জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন এবং শহীদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। পরে তিনি গাইবান্ধা ও পলাশবাড়ীতে পৃথক জনসভায় বক্তব্য দিয়ে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন। বগুড়ায় জেলা ও শহর শাখার আয়োজনে জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি জেলার শেরপুর উপজেলায় আরেকটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। পরে তিনি সিরাজগঞ্জে এবং জেলার উল্লাপাড়ায় পৃথক দুটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন। সর্বশেষ তিনি এদিন সন্ধ্যায় পাবনায় আরেকটি জনসভায় বক্তব্য রাখেন।
ঠাকুরগাঁও জনসভায় আমীরে জামায়াত : প্রতি জেলায় সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী দিনে আল্লাহর মেহেরবানিতে জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে, ইনশাআল্লাহ। আমরা কোনো ধরনের বৈষম্য করব না, আল্লাহকে ভয় করে দেশ পরিচালনা করব।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঠাকুরগাঁও জেলা আমীর বেলাল উদ্দিন প্রধানের সভাপতিত্বে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) ও পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি প্রার্থী সারজিস আলম, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গকে বলা হয় বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার। দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এ অঞ্চলেই উৎপাদিত হয়। যারা সারা দেশের মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করে, তারা কখনো গরিব হওয়ার কথা নয়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ ও ধুরন্ধরদের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ যুগের পর যুগ বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে উত্তরবঙ্গের যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। সঠিক পরিকল্পনা ও ইনসাফভিত্তিক শাসন থাকলে উত্তরবঙ্গ আজ বাংলাদেশের কৃষির রাজধানী হতো।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের যদি সহজ শর্তে, বিনা লাভে ঋণ দেওয়া হতো, তাহলে তিনগুণ ফসল উৎপাদন সম্ভব হতো। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালিত হলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পেত এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা আর তাদের ঘাম ঝরানো ফসল লুটে নিতে পারত না। কৃষিপণ্যের অপচয় রোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হবে।
ঠাকুরগাঁওবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার শুধু বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নয়, মুক্তিকামী মানুষের ১০ দলীয় ঐক্যের একটি ঠিকানাকে ভোট দিন। আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। ঐক্যবদ্ধ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে।
তিনটি শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সঙ্গে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়তে হলে এ তিনটি শর্ত মানতে হবেÑ
১. কেউ দুর্নীতি করতে পারবে না এবং দুর্নীতিবাজদের আশ্রয় দেওয়া যাবে না।
২. গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়ের ভিত্তিতে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৩. বিচার বিভাগে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না; বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন থাকবে।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরের পচাগলা রাজনীতি ও বৈষম্য পরিবর্তন করতে হলে সকল ধরনের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, যারা চাঁদাবাজদের সমর্থন করে না এবং নিজেরাও চাঁদাবাজিতে জড়িত নয়, বরং চাঁদাবাজদের রুখে দিতে শপথবদ্ধ-তাদেরই নির্বাচিত করুন। যাদের হাতে কোনো ধর্মগুরু, কোনো ধর্ম বা বর্ণের মানুষ নির্যাতিত হবে না। যারা ক্ষমতায় গেলে বিদেশে বন্ধু খুঁজবে, কিন্তু প্রভু বানাবে না। ঐক্যভিত্তিক সমাজ গড়ার শপথ নেওয়া সেই ১০ দলীয় ঐক্যকেই নির্বাচিত করুন।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে সরকার গঠন করতে পারলে উত্তরবঙ্গকে গৌরবের কৃষির রাজধানীতে রূপান্তর করা হবে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হবে, যাতে শিল্পের বিকাশ ঘটে এবং কৃষিভিত্তিক পণ্য বিশ্ববাজারে পৌঁছাতে পারে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে। এ অঞ্চলের যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিটি ঘরকে একটি করে ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর করা হবে, ইনশাআল্লাহ। বিদেশিরা পারলে আমরাও পারব।
তিনি আরও বলেন, চাকরিতে প্রবেশের আগে একজন শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা ব্যয় করে তাকে দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। আমরা বেকারভাতা দিতে চাই না, কাজ দিতে চাই। বেকারভাতা অপমানজনক; আমরা সম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই। আমরা জাতিকে বেকার বানাতে চাই না।
জনসভায় আমীরে জামায়াত ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তারা হলেনÑ ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মো. দেলোয়ার হোসেন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে মাওলানা আব্দুল হাকিম এবং ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে মাস্টার মিজানুর রহমান। এ সময় তিনি তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন।
দশ দল ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে : পঞ্চগড়ে ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, উত্তরবঙ্গের মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। উত্তরবঙ্গকে ইচ্ছে করে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। দশ দল (বর্তমানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য) ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে। এই উত্তরবঙ্গ হবে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী।
গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) পঞ্চগড় জেলার ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠে নির্বাচনী জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের সর্ব উত্তরের এবং হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত জেলা পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মো. ইকবাল হোসাইনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম।
বক্তব্য রাখেন পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) উপজেলার ১০ দলীয় জোট সমর্থিত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. শফিউল আলম ওরফে সফিউল্লাহ সুফি এবং পঞ্চগড়-১ (সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী) আসনের ১০ দলীয় জোট ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. সারজিস আলম।
আমীরে জামায়াতের উত্তরবঙ্গের প্রথম সমাবেশ শুরু হয় পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী সমাবেশের মাধ্যমে। সমাবেশ শুরুর আগেই ঐতিহাসিক চিনিকল মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। আশপাশের রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা যায় অগণিত মানুষকে। এবার ১০ দলের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি হয়েছে বলে অনেককে বলতে শোনা যায়। এরপর জামায়াতের আমীর দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন।
পঞ্চগড়ের নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে। এই উত্তরবঙ্গ আমাদের কলিজার অংশ। এই উত্তরবঙ্গ বাংলাদেশকে খাদ্য ও পুষ্টি সরবরাহ করে। অঞ্চলটিকে ইচ্ছে করে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। উত্তরবঙ্গে আর কোনো বেকার দেখতে চাই না। আমরা সকলের জন্য মর্যাদার কাজ নিশ্চিত করতে চাই। আমরা প্রত্যেক যুবক-যুবতী ও নাগরিককে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে দেখতে চাই। গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের রাজধানী বানাতে চাই। চিনিকল খুলে দিতে চাই। আমাদের কাছে কার্ড নেই, আপনারাই আমাদের ভালোবাসার কার্ড। আপনাদের ভোটে একটি ভালোবাসার কার্ড চাই। আপনাদের সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়ে আগামীর বেকারত্ব ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমরা পরের ধনে পোদ্দারি করবো না। আমরা নারী-পুরুষ মিলে বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। এতদিন আওয়াজ উঠতো টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, এখন থেকে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ আওয়াজ উঠবে।
জামায়াত আমীর বলেন, আপনাদের সমর্থন, ভালোবাসা ও ভোটে আমাদের পার্লামেন্টে পাঠালে শুধু নদীর জীবনই ফিরে আসবে না, মানুষের জীবনও প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠবেÑ উত্তরবঙ্গের চেহারা বদলে যাবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলের মাটি উর্বর, মানুষ পরিশ্রমী। ৬৪ জেলায় মেডিকেল কলেজ হবে, পঞ্চগড়েও মেডিকেল কলেজ হবে। আমরা চুরি করা টাকা পেট থেকে বের করে আনবো। আমরা ক্ষমতায় গেলে সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের ঋণ শোধ করবো। সবাই মিলে কাজ করলে এই দেশ উন্নত দেশে পরিণত হতে বেশি সময় লাগবে না পাঁচ বছরই যথেষ্ট।
জামায়াতের আমীর আরও বলেন, ১০ দল ক্ষমতায় এলে দুর্নীতি, দখল ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।
গাইবান্ধায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভা
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রেখেছেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আমি এসেছি সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে গোটা দেশ ও জাতি নির্যাতিত মানুষের কণ্ঠ হয়ে। পিতাহারা শিশুদের এতিম শিশুদের দুঃখের গল্প শোনাতে। মজুলমদের পক্ষে কথা বলতে।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলে বয়ে চলা নদীগুলোয় একসময় জাহাজ চলত, এখন আর নৌকাও চলে না। নদীর পানি উবে গিয়ে এখন মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। অতীতের সরকাগুলো উপেক্ষা, উদাসীনতা অবহেলা করে গোটা নর্থ বেঙ্গলকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। গোটা দেশ ও উত্তরবঙ্গের মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন এবং ভোটে যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি তাহলে প্রথমে আমাদের দৃষ্টি পড়বে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলোয়।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা গোটা উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই। আধিপত্যবাদের ছায়া আমরা দেখতে চাই না। বিশ্বের সকল সভ্য দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই। ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কেউ এসে খবরদারি করুক তা দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা ফ্যাসিবাদী শাসন আমরা দেখতে চাই না। আমরা আমূল পরিবর্তন চাই।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট সফল হলে সাধারণ ভোট সফল হবে। গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ বলতে হবে। জুলাই শহীদের প্রতি সম্মান দেখাতে হ্যাঁ বলতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা চেয়েছিল একটি আধিপত্যবাদমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়-ইনসাফের ও উন্নয়নের বাংলাদেশ। আগামীতে শকুনের ছায়া যেন বাংলাদেশের মাটিতে পড়তে না পারে।
অতীতে ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুবসমাজ জীবনে একটিও ভোট দিতে পারে নাই। বস্তাপচা যে ব্যবস্থা- হত্যাকারী, খুনি, মামলাবাজ, দখলবাজ, ধর্ষক বানায় তা পরিবর্তনের জন্য জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।
উত্তরবঙ্গকে দেশের খাদ্য শস্যের ভান্ডার উল্লেখ করে আমীরে জামায়াত বলেন, উত্তরবঙ্গকে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। চাঁদাবাজ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পায় না। আমরা চাঁদাবাজদের নির্মূল করব। চাঁদাবাজদেরও কাজ দিয়ে সম্মানের সাথে বসবাসের ব্যবস্থা করা হবেÑ যাতে তারা আর কোথাও লজ্জিত না হয়।
তিনি বলেন, জামায়াত নির্বাচিত হলে ঘরে বসে জনগণ উত্তরবঙ্গকেও রাজধানী করতে পারবে। কাজের জন্য ঢাকায় গিয়ে গলিতে গলিতে ঘুরতে হবে না। শিক্ষা দিয়ে যুবক-যুবতীদের হাতকে দক্ষ করে গড়ে তুলবো। পুরো উত্তরবঙ্গকে আমরা শিল্পসমৃদ্ধ করতে চাই।
চিকিৎসাসেবার উন্নয়ন করা হবে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশর ১৫টি জেলায় মেডিকেল কলেজ আছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলা হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
তিনি বলেন, উন্নত শিক্ষা, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও সকলের হাতে হাতে কাজ নিশ্চিত করা হবে। আমরা মরুভূমির নয় উর্বর বাংলাদেশ দেখতে চাই।
দেশ গড়ায় দলের অঙ্গীকার ও ত্যাগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের নেতারা ঝুঁকি নিয়ে দেশেই ছিলেন- ফাঁসিতে ঝুলেছেন। আমরা জালিমের ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাবো না। সুখে দুঃখে আল্লাহর ওপর ভরসা করে দেশবাসীর সাথেই থাকবো, ইনশাআল্লাহ।
শিশুদের বিকাশে জামায়াতের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, শিশুদের মেধাবিকাশের বাংলাদেশ গড়তে চাই। তরুণ-তরুণীর, যুবক-যুবতীদের জন্য স্বপ্ন বাস্তবায়নের হাত হিসেবে তাদের গড়ে তুলতে চাই। মায়েদের ঘরে ও বাইরে নিরাপদে ও সম্মানের সাথে চলাফেরা নিশ্চিত করতে চাই।
উত্তরবঙ্গে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন, কিন্তু তা নাই। আমরা মনে করি, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে যাছাই বাচাই করে গাইবান্ধা অগ্রাধিকার পাবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, গাইবান্ধায় ইপিজেড করার সিদ্ধান্ত থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই। এ অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বাজারজাত ও বিশ্ববাজার ধরার জন্য ইপিজেড বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বালাশী ঘাট ও বাহাদুরাবাদ ঘাটে একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও গাইবান্ধাবাসীকে আশ্বস্ত করেন।
দেশের উন্নয়নের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চুরির টাকা ফেরত ও নতুন চোরদের হাত অবশ করে দিলে দেশের উন্নয়ন লাফিয়ে লাফিয়ে হবে। প্রকৃতিকে ধারণ করে সকল নদীকে আপন করে তুলে নেবো, লালন-পালন করব। নদীকে নৌযান চলাচলে উপযোগী করা হবে।।
পরিশেষে গাইবান্ধা-১ আসনে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনে- গাইবান্ধা জেলা আমীর আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনে অধ্যক্ষ মাওলনা নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৪ আসনে ডা. আব্দুর রহিম সরকার এবং গাইবান্ধা-৫ আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ-এর হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।
বগুড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভা
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করা হবে এবং একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, আমরা দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, আমরা চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ব ইনশাআল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধা ও বগুড়াবাসীর দাবি অনুযায়ী আমরা দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করব।
আমীরে জামায়াত বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে সাড়ে ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই টাকা দেশে এনে আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উন্নয়নখাতে ব্যয় করা হবে। আমরা এমন সিস্টেম ডেভেলপ করব চোরেরা আর চুরি করতে পারবে না। রাষ্ট্রের টাকা রাষ্ট্রীয়খাতেই ব্যয় করা হবে ইনশাআল্লাহ।
আমীরে জামায়াত বলেন, মা বোনদের জীবন আমাদের জীবনের চাইতেও বেশি পবিত্র। তাদের জন্য আমরা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ব ইনশাআল্লাহ।
আমাদের সন্তানরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে,
এই কার্ড সবুজ ও হলুদ হবে না : শেরপুরে আমীরে জামায়াত
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়ার শেরপুরে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে বগুড়া জেলা আমীর মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
আমীরে জামায়াত বলেন, আপনারা যদি আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন দিয়ে আমাদের সঙ্গে নেন তাহলে আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে আপনাদের আমানতের হেফাজত করব, ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা কথা দিচ্ছি, আল্লাহ যদি সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে জনগণের একটি টাকার ওপরে আমরা হাত বসাবো না। আমরা কথা দিচ্ছি আল্লাহ যদি আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দেন, তাহলে চাঁদাবাজদের অস্তিত্ব বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে সহ্য করব না। দুর্নীতিকে মাটির নিচে চাপা দেয়ার চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, বিচার আর টাকার বিনিময়ে বিক্রি হবে না। ন্যায়বিচার সকলের জন্য নিশ্চিত করা হবে। আদালত পেশা ধর্ম, বর্ণ দেখবে না- আদালত দেখবে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কিনা। যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আদালত অবশ্যই তার পক্ষে রায় দেবে। আদালত বিচার করার ক্ষেত্রে দেখবে না তিনি প্রেসিডেন্ট বা মন্ত্রী কিনা, বরং দেখবে তিনি অপরাধ করেছেন কিনা।
সাংবাদিকদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানিয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, আপনারা আমাদের দিকে খাড়া দৃষ্টি রাখুন। আপনারা ওয়াচডগ হিসেবে অত্যন্ত তীর্যকভাবে দেখবেন। তবে সাদাকে সাদা বলবেন। কালোকে কালো বলবেন। তবে সাদার গায়ে কোনো কালো প্রলেপ লাগাবেন না। কোনো কালোকে গ্রহণ করবেন না। তাহলে দেশ ভালো চলবে এবং আপনাদের অবদানের জন্য দেশবাসী কৃতজ্ঞ থাকবে। আমরা মিডিয়াকে সেই জায়গায় দেখতে চাচ্ছি।
দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা দেশকে পারস্পরিক ভালোবাসবো ও সম্মানের দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। মায়েরা সম্মানের ও মর্যাদার সাথে নিরাপদে ঘরে থাকবেন ও বাইরে চলাচল করবেন। একইভাবে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে কর্মক্ষেত্রে তারা মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে কাজ করবেন। সকল পেশায় তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
দলের ঘোষিত নীতিমালার বিষয়ে আমীরে জামায়াত বলেন, পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত সকল শিশুর চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। ষাট বছরের ঊর্ধ্বে সকল মানুষের চিকিৎসার ভার নেবে রাষ্ট্র, তবে যাদের স্বচ্ছলতার কারণে রাষ্ট্রকে সহযোগিতা করবেন-রাষ্ট্র তাদের কাছে কৃতজ্ঞ থাকবে। এছাড়া অন্য বয়সী যারা রয়েছেন তারা রাষ্ট্রের সাথে অংশীদারত্বে থাকবেন।
তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা যুবক-যুবতীদের বলছি, আমরা তোমাদের কোনো বেকার ভাতা দেবো না। তোমাদের বেকার বানিয়ে রাখতে চাই না। তোমাদের দুই হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানাতে চাই। তোমাদের কাছে মর্যাদার কাজ তুলে দিতে চাই। দেশে কিংবা বিদেশে তোমরা মর্যাদার সাথে অবদান রাখবে। আমরা তোমাদের শিক্ষা দিয়ে সেভাবেই গড়ে তুলবো। শিক্ষা শেষ কাজ তোমাদের হাতে চলে আসবে, ইনশাআল্লাহ। বেকারত্বের অভিশাপ নিয়ে ঘুরতে হবে না, সে দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে। যার জন্য যে শিক্ষা প্রযোজ্য, যার মেধা যেখানে প্রযোজ্য তার মেধা বিকাশে রাষ্ট্র হবে সেখানে সঙ্গী। সেই মর্যাদার বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি।’
পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সব দেশের সাথে বন্ধুত্ব চাই। কেউ আমাদের প্রভু হয়ে আসুক তা আমরা চাই না। বাংলাদেশের মানুষ ভাঙবে, কিন্তু মচকাবে না। অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না। আমাদের সন্তানরা আধিপত্যবাদকে লালকার্ড দেখিয়েছে। এই কার্ড সবুজ ও হলুদও হবে না। এইটা লালকার্ড হিসেবেই থাকবে।
শেরপুর-ধুনট আসনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী মাওলানা দবিবুর রহমানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন আমীরে জামায়াত।
বিভক্ত নয়, আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই : সিরাজগঞ্জে আমীরে জামায়াত
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দেশকে বিভক্ত করতে চাই না, আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। যারা বিভক্ত করে তারা দেশের বন্ধু নয়। তারা অন্যদের সুবিধা দেওয়ার জন্য দেশকে বিভক্ত করতে চায়। আমরা এটা হতে দিব না।
গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াত আয়োজিত ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ দিলে এক সময়ের সমৃদ্ধ শিল্পনগরী সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পসহ সকল শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা হবে।
সিরাজগঞ্জের মেডিকেল কলেজকে আরও মানসম্মত করা হবে এবং সিরাজগঞ্জের শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হবে, ইনশাআল্লাহ। সকল ক্ষেত্রে ই-টেন্ডার চালু করা হবে। চুনিপুটি নয়, রাঘববোয়ালদের ধরা হবে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে হল- আমূল সংস্কার, হাদিসহ সকল গণহত্যার বিচার করা, দেশে আর ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে দেওয়া হবে না, আর কোনো আধিপত্যবাদের দালালকে বাংলার জনগণকে বরদাশত করা হবে না, কোনো চাঁদাবাজের অস্তিত্ব বাংলার জমিনে বরদাশত করা হবে না।
সিরাজগঞ্জে গুঁড়া দুধের কারখানা স্থাপন করা হবে। এতে সিরাজগঞ্জে বিপুল পরিমাণ গরুর খামার গড়ে উঠবে এবং বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হবে। সিরাজগঞ্জের নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমরা কারো বিরুদ্ধে লাগালাগি, খোঁচাখুঁচি পছন্দ করি না। কিন্তু আমাদের খোঁচা দিলে খোঁচা ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের ওপর ওয়াজিব। এ কাজ করতে আমাদের বাধ্য করবেন না।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান-সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব- উল্লাপাড়ায় আমীরে জামায়াত
গত ২৪ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট- দুর্নীতি আমরা করব না, দুর্নীতি আমরা সহ্য করব না। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। মামলাবাজির জালে জড়িয়ে মানুষকে আর হয়রানি করতে দেয়া হবে না। হিন্দু, বৈদ্ধ ও খ্রিস্ট্রান সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। বিচার কারো মুখ দেখে, কারো ধর্ম, কারো বর্ণ ও কারো প্রতিপত্তি দেখেও হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অতীতে চাঁদাবাজি, মামলাবাজি, কারো ইজ্জতের হামলা করিনি। আমরা কী? বাজে লোকের কাছে তা শোনা লাগবে না। দেশপ্রেমিক লোকেরাই সাক্ষীর জন্য যথেষ্ট। আমরা জাতিকে যত উপরের দিকে টান দেই, কেউ কেউ ঠ্যাং ধরে নিচের দিকে টানে। জনগণের ভালোবাসা নিয়ে আমরা জাতিকে তুলে আনব, ইনশাআল্লাহ। চোরাবালিতে এই জাতিকে হারিয়ে যেতে দেবো না।’
আমীরে জামায়াত বলেন, ফ্যাসিবাদ বিগত ১৫টি বছর মানুষকে চুবিয়ে চুবিয়ে মেরেছে। অসংখ্য মায়ের বুক খালি করেছে, বোনকে বিধবা করেছে, ইয়াতিম বাচ্চাদের পিতৃহারা করেছে-সেই ফ্যাসিবাদ বাংলার জমিনে ফিরে আসুক তা আর আমরা চাই না।
ডা. শফিকুর রহমান প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছরে অতীতের কোনো একটি সরকার বুকে হাত দিয়ে কী বলতে পারবে তারা দুর্নীতি করেনি, অতীতে যে দলগুলো দেশ শাসন করেছে তারা চাঁদাবাজি করে নাই? তারা বলতে পারবে যে জাতিকে সুশাসন দিয়েছে? তারা কী বলতে পারবে সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করতে পেরেছে? তারা কী বলতে পারবে মানসম্মত বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা উপহার দিয়েছে? তারা বলতে পারবে না। তারা বলতে পারবেন না যে তারা জনগণের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কাজ করেছেন।’
বিগত সরকারে থাকা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব সাবেক মন্ত্রী ও শহীদ আমীরে জামায়াত মাওলনা মতিউর রহমান নিজামীর উদাহরণ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তার শত্রুরাও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আঙুল তুলে বলার সাহস পায়নি যে তার মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হয়েছে বা ব্যক্তিগতভাবে কারো প্রতি স্বজনপ্রীতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যায়ভাবে মাওলানা মতিউর রহমান নিযামীসহ আরো কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। পঙ্গু করা হয়েছে আরও অনেককে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। এই দলের দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। আমাদের অফিসগুলোকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন আমাদের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে, আমাদের নেতৃবৃন্দের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে। আর কারো সাথে এগুলো করা হয়নি। যাদের সাথে এগুলো করা হয়নি; দুভাগ্যবশত তারা চাঁদাবাজি শুরু করেছেন। তারা মামলাবাণিজ্য শুরু করলেন। একজন লোক একটি রাজনৈতিক দল সমর্থন করেন এজন্য তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তার কাছ থেকে খাজনা আদায় করতে হবে আমরা তাকে ঘৃণা করি। এটি আমাদের রাজনৈতিক শিক্ষায় নেই। আমি বিশ্বাস করি আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় আগামীতে ১০ দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।
আমীরে জামায়াত বলেন, আমরা চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট বলেছি, আমরা কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ নেব না। আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিয়েছেন আমরা সেজদাহ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি।
তিনি বলেন, আমরা জনগণের খেদমতে নেমে পড়েছি। চাঁদাবাজদের রুখে দেয়ার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান পাহারা দিয়েছি নিজ দায়িত্বে। আমাদের ভাইয়েরা সারা দেশে টানা ১৫ দিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও কোনো দুর্বলতা দেখাইনি। বন্যা এসেছে আমরা ত্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছি, শহীদ হয়েছে- পরিবারের কাছে সবার আগে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। আমরা এভাবে সমাজটাকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।
পরে রাতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর সাবেক মন্ত্রী শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রাহিমাহুল্লাহর কবর জিয়ারত করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবু তালেব মণ্ডল, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর ইকবাল হোসাইন, শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী রাহিমাহুল্লাহর সুযোগ্য পুত্র ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী।
এছাড়া অন্যান্য জনসভায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, জাগপা সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগাসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় জামায়াত এবং ১০ দলের নেতারা।