রাড্ডার ঘটনায় অপরাধীদের সরকার ছাড় দিলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হবো : ড. রেজাউল করিম
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:২৯
মিরপুরের রাড্ডা এমসি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে অপরাধীদের সরকার যদি ছাড় দেয় তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বারিধারায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর কার্যালয়ের শহীদ নিজামী (রহ.) মিলনায়তনে ঢাকা-১১,ঢাকা-১২ ও ঢাকা-১৭ আসনের থানা দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
রেজাউল করিম বলেন, মিরপুরের রাড্ডা এমসি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের সঙ্গে সরকারদলীয় দুই মহিলা এমপির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাদের পরিচয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পরও কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না, তা নিয়ে আমরা বিস্মিত।
তিনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম একটি নতুন দেশ চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না। রাড্ডার ঘটনায় অপরাধীদের সরকার যদি ছাড় দেয়, তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে আমরা বাধ্য হব।
ড. রেজাউল করিম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্রে হামলা করা নিষিদ্ধ। গাজায় হাসপাতাল হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন করেন, বিএনপিও কি একই পথে হাঁটছে? রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যারা চিকিৎসা নিতেন, তাদের বড় অংশই অসহায় নারী ও শিশু।
তিনি আরও বলেন, সরকার কোন বিষয় নিয়ে খেলছে? এ প্রতিষ্ঠানটি বিদেশি অনুদানের মাধ্যমেও পরিচালিত হয়ে থাকে। সুতরাং সরকার যদি আইনের ব্যত্যয় ঘটায়, তাহলে দেশে বিদেশি সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গণভোট প্রসঙ্গে রেজাউল করিম বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য এমপি এখন নতুন করে গণভোটের কথা বলছেন। অথচ আমরা নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবি জানিয়েছিলাম। বিএনপি তখন রাজি নয় হয়ে জাতীয় নির্বাচনের সাথে একই দিনে গণভোটের কথা বলেছিল। এখন আগের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নিজেদের ব্যবস্থায় নতুন করে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে আবারও হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের চেষ্টা করা হচ্ছে। জনগণ নতুন করে গণভোট মেনে নেবে না; যেখানে জনগণ আগে তাদের রায় দিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের লংমার্চগুলো সরকার পতনের জন্য করা হয়নি; বরং জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য করা হয়েছে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জুলাইযোদ্ধা সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওতে হামলা করা হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর এলাকার ভোটার। অথচ সেখানেই তার নিরাপত্তা নেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না করে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমাদের কথা পরিষ্কার, যে বা যারা এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তদন্তে যার বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ড.রেজাউল করিম বলেন, আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং জনগণের দুর্ভোগের কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি, রামপুরা অঞ্চল পরিচালক নাজিম উদ্দীন মোল্লার সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি, গুলশাল অঞ্চল পরিচালক ইয়াসিন আরাফাত, হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য হেদায়েত উল্লাহ প্রমুখ।