শর্ত পূরণ হলে এমপিও দিতে হবে

কর্মজীবন থেকে খালি হাতে শিক্ষকদের বিদায় করা খুবই অমানবিক : অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি

সোনার বাংলা অনলাইন
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:৪৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, যারা শিক্ষকতার সাথে দীর্ঘদিন জড়িত এবং শেষ জীবনে এসে খালি হাতে কর্মজীবন থেকে তাদের বিদায় করা খুবই অমানবিক। তাই মানবিক কারণে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের উচিৎ তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।

তিনি বলেন, নন এমপিও শিক্ষকরা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারছেন না। এজন্য তাদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি দেয়া উচিৎ।

মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় রাজধানীর মগবাজারস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্মিলিত নন এমপিও ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাথে বৈঠককালে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে বলেছিল তারা ক্ষমতায় গেলে নন এমপিও শিক্ষকদের এমপিও করে দেবে। কিন্তু তারা এখন তা করছে না। তবে জামায়াতের এমপিরা বিভিন্ন এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লোকদের সাথে মতবিনিময় করছেন। অধিকার আদায়ে শিক্ষকদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

অধ্যাপক মুজিবুর বলেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেছে তাদের দ্রুত এমপিও দিয়ে দেওয়া উচিৎ। আমরা শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবিকে সমর্থন করি। কিন্তু অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকার শিক্ষকদের যৌক্তিক আন্দোলনকে স্তিমিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওকরণ করার কথা বলে তা না করে ধোঁকাবাজি করেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের অনেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পাচ্ছেন না। অবিলম্বে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। শিক্ষকদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে পাশে থাকবে জামায়াত।

এডভোকেট জুবায়ের বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েছে। এ বৈষম্য দূর করতে হবে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিও করার ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শিক্ষক নেতারা বলেন, নন এমপিও শিক্ষকরা কিভাবে জীবন কাটাচ্ছে, পেটে ভাত যাচ্ছে কিনা সেসব ভাবছে না সরকার, বরং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বাড়াচ্ছে। অথচ প্রত্যন্ত অঞ্চলের নন এমপি প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করে দিচ্ছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে অনেক শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে।

তারা আরও বলেন, অনেক স্কুল ও কলেজ ইতোমধ্যে ২৫-২৬ বছর পার করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি করছেন শিক্ষকরা। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষপ্রতিষ্ঠান এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি, এগুলোর অনেকগুলো এখন বন্ধের পথে। একটি নীতিমালার আলোকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্ত করতে হবে। যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকে প্রাধান্য দিয়ে এমপিও করতে হবে। বিগত বিএনপি ও জামায়াত জোট সরকারের আমলে যেসব প্রতিষ্ঠান হয়েছে সেগুলো যাচাই করে যোগ্যতা অনুযায়ী এমপিওভুক্ত করার দাবি জানান তারা।

শিক্ষক নেতারা আরও বলেন, শিক্ষকদের পেটে ভাত যাচ্ছে না, বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে যদি এ বঞ্চনা দূর না করা হয়, তাহলে এ বঞ্চনা দূর হওয়ার আর সুযোগ নেই। আমরা সরকারের সাথে এ বিষয়ে আলোচনার চেষ্টা করেও আশানুরুপ সাড়া পাইনি, বার বার ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের স্ত্রী সন্তানদের বঞ্চিত করে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চালাচ্ছি। আমরা সমস্যাগুলো জানাতে শিক্ষামন্ত্রী ও স্পিকারের সাথে দেখা করে আমাদের মানবিক দাবিটি সরকারের কাছে তুলে ধরতে চাই, জানাতে চাই।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সম্মিলিত নন এমপিও শিক্ষক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. দবিরুল ইসলাম ও অধ্যক্ষ নাজমুস শাহাদাৎ আজাদী; সাংগঠনিক সমন্বয়ক অধ্যক্ষ মো. মনিমুল হক, অধ্যক্ষ সাজ্জাদ হোসেন, অধ্যক্ষ বাকী বিল্লাহ, অধ্যক্ষ মিজানুল হক মামুন, প্রভাষক মাওলানা মোবারক হোসেন, প্রভাষক রায়হান কবীর মিঠু, প্রভাষক মো. গোলাম মোস্তফা ও সহকারী শিক্ষক জাহিদ হাসান।