বিদ্রোহী প্রার্থী সরিয়ে নিতে তৎপর তারেক রহমান
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:০৩
স্টাফ রিপোর্টার : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বিএনপি। দলটি নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ রাখছে। কয়েকদিন পরপরই নানা ইস্যুতে কমিশনে বৈঠক করছে। গত ১৩ জানুয়ারি মঙ্গলবারও বিএনপি কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে। অন্যদিকে দলটি নির্বাচনে জেতার জন্য নিজস্ব কৌশলে এগোচ্ছে। নির্বাচনের ইশতেহারের খসড়াও প্রস্তুত করে রেখেছে দলটি। ভোটে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনার পাশাপাশি ডিজিটাল মিডিয়া ও সামাজিকমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচারের প্রস্তুতিও নিয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় নানা উইং খুলেছে দলটি। শিল্পী-সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদেরও নির্বাচনে কাজে লাগাতে কৌশল গ্রহণ করেছে দলের। দলের বিরুদ্ধে যাতে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা না হয়, সেজন্য মিডিয়া মনিটরিং বাড়িয়েছে বিএনপি। দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলোয় বিএনপির পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন তৈরির জন্য কর্তাব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে দলটির শীর্ষ পর্যায়ে থেকে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে দলের পক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন তৈরি এবং নেতিবাচক প্রতিবেদন ঠেকাতে ঢাকায় কর্মরত বেশ কয়েকজন রিপোর্টার নিয়ে একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপির মিডিয়া সেল সমন্বয় করছে। জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। দলের যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে তাদের গুলশান অফিসে ডেকে সরাসরি কথা বলছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
বিদ্রোহী প্রার্থী সরিয়ে নিচ্ছে বিএনপি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের সঙ্গে আসন সমঝোতার পরও কয়েকটি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে ছিল। তবে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে বিদ্রোহী প্রার্থীদের গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে পর্যায়ক্রমে ডাকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। বিএনপির একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, গত ৮ জানুয়ারি গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান। সাক্ষাতের পর এক ভিডিও বার্তায় তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে একাধিকবার নির্বাচন করেন। নবম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন।
এদিকে ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনটি বিএনপি তাদের মিত্র দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিকে ছেড়ে দেয়। ওই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি এমএ খালেক স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এমএ খালেক। তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ। সেখানে তার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী দলের সাবেক এমপি আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ৯ জানুয়ারি তাকেও গুলশান কার্যালয়ে ডেকে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কথা বলেছেন। মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরীও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান
আগামী ২২ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যান ঢাকা থেকে বিমানে করে সিলেটে যাবেন। সেখানে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার ও জনসংযোগ শুরু করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১০ জানুয়ারি দলটির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মাজার জিয়ারত শেষে সিলেট ও মৌলভীবাজারে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর শ্রীমঙ্গল ও হবিগঞ্জের মিরপুরে পথসভায় অংশ নেবেন তিনি। মিডিয়া সেল আরও জানায়, বিমানে সিলেটে গেলেও তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। বিএনপি চেয়ারম্যানের সফরসূচি মাথায় রেখে সিলেটের স্থানীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।