নির্বাচনের দৃশ্যপটে জাপা নেপথ্যে মদদ দিচ্ছে আ’লীগ
৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:১২
॥ সৈয়দ খালিদ হোসেন ॥
গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবং নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধন স্থগিত থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। কিন্তু বসে নেই দলটি, আওয়ামী লীগ তাদের দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রাজনৈতিক ও খুন-গুম এবং লুটপাটের দোসর জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনী মাঠে নামিয়েছে। আওয়ামী লীগের সমর্থন ও গ্রিন সিগন্যাল পেয়েই জাতীয় পার্টি দেশজুড়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম, সমর্থন ও ভোটার না থাকার পরও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নেমেছে। দলটির টার্গেট আওয়ামী লীগের ভোট ঘরে তোলা। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে বের হয়ে যাওয়া কিছু নেতা ও স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কয়েকটি দল জোট করে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। যদিও ভোটের মাঠে এদের কোনো সমর্থন নেই। এরাও আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট এবং আওয়ামী লীগের ভোট ঘরে তোলার টার্গেটেই মাঠে রয়েছে।
আ’লীগের গ্রিন সিগন্যাল নিয়ে ভোটে জাপা
গত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাস্টিস স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। নির্বাচন কমিশনও দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে। ফলে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও দলটির বেশকিছু নির্ধারিত ভোট রয়েছে। গোপালগঞ্জসহ বেশ কয়েকটি জেলায় আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্কও রয়েছে। অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর জনরোষ এবং গুম-খুন, অর্থ পাচারসহ নানা দুর্নীতি ও নানা অপকর্মের বিচার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নানা ফরমেটে এলাকায়ই অবস্থান করছেন। কেউ কেউ বিদ্যমান রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ স্থানীয় প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে এলাকায় নিরাপদে বসবাস করছেন। আর আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা সম্পূর্ণ নিরাপদেই এলাকায় রয়েছেন। গত তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও তার ছোট ভাই গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না থাকলেও দলটির দোসর হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখেই ভোটে এসেছে। সূত্র জানায়, শুরুতে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে। এজন্য নানা লবিং-তদবিরও চালিয়েছে তাদের দেশি-বিদেশি মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে। কিন্তু সেক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত সফল না হয়ে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে অভ্যন্তরীণ সমর্থন দেয়। আর আওয়ামী লীগের এ গ্রিন সিগন্যালে পেয়েই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে জাতীয় পার্টি।
মাঠে ভোট নেই, তবুও কেন নির্বাচনে জাপা
দেশের অধিকাংশ জেলায় জাতীয় পার্টির সংগঠন নেই, কার্যক্রম নেই, কমিটি নেই, নেতাকর্মী নেই। এসব এলাকায় ভোটারও নেই দলটির। রংপুর ছাড়া দলটির কোথাও ভিত্তি নেই। এবার রংপুরে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) হেভিওয়েট প্রার্থী। ফলে রংপুরেও জাপার জয়লাভের সম্ভাবনা কমে এসেছে। আর সারা দেশের চিত্র তো সবার জানাই রয়েছে। জাতীয় পার্টি ঢাকায় ও রংপুরে প্রেস ব্রিফিং ছাড়া গত এক বছরে কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম চালায়নি। ফলে সাধারণ ভোটারদের অনেকেই জাতীয় পার্টি মার্কা সম্পর্কে ভালো জানেন না। এ অবস্থায়ও কেমন করে দলটি নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এলো, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, আওয়ামী লীগের সিগন্যাল পেয়ে ভোটে নামা জাতীয় পার্টির অসৎ কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে। সারা দেশে কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৪৩ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি। দলের পক্ষ থেকে গত ২৬ ডিসেম্বর শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। অবশ্য পরবর্তীতে ২৪৩ আসনে না দিয়ে ২২৪ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
জাপার টার্গেট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট
১৯৯০ সালে জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পর রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে জাতীয় পার্টি। দীর্ঘদিন জেলে থাকতে হয় পার্টির তৎকালীন চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে। প ২০০১ সালের নির্বাচনের আগের বছর ২০০০ সালে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী ঐক্যজোট মিলে গঠিত হয় চারদলীয় জোট। ওইসময় হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ ও ভারতের স্বার্থ হাসিলে চারদলীয় জোট ছেড়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয় জাতীয় পার্টি। সেবার জনতার ভোট নিয়ে ক্ষমতায় যায় চারদলীয় জোট। এরপর থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই ছিল জাতীয় পার্টি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টি (বিএনপি-জামায়াতসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নেয়নি) বিরোধীদলের আসনে বসে। ওইসময় আওয়ামী লীগের অপকর্মে বিরোধিতা না করে সংসদে দাঁড়িয়ে এবং সংসদের বাইরেও আওয়ামী লীগের অপকর্মগুলোকে সমর্থন দিয়েছে জাতীয় পার্টি। ফলে ওইসময় থেকেই জাতীয় পার্টি গৃহপালিত বিরোধীদলের উপাধি পায়। এ নিয়ে কোনো আক্ষেপও ছিল না জাতীয় পার্টির। সেই পুরনো সম্পর্ক এখনো বহাল রয়েছে। জাতীয় পার্টি সেই সম্পর্কের ভিত্তিতেই এবার আওয়ামী লীগের ভোটগুলো নিজেদের ঘরে তোলার চেষ্টা করবে। দলটি এ ভরসায়ই এবার ভোটে এসেছে। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির টার্গেট এরশাদের জন্মস্থান রংপুর ও আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত জেলাগুলোর ভোট ঘরে তোলার।
অধিকাংশ দলের আপত্তি সত্ত্বেও নিষিদ্ধ হয়নি জাপা
জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে মাঠে সোচ্চার ছিল জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ সমমনা আটটি দল। একইভাবে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারাও জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধেও দাবি তোলেন। তারও আগে গণঅধিকার পরিষদ জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের জোরালো দাবি তোলে। কিন্তু সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। কেন নেয়নি, তারও কোনো ব্যাখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক দল থেকে কট্টর স্বৈরাচার ও ফ্যাসিস্ট হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় পার্টি, কিন্তু আওয়ামী লীগ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে জাতীয় পার্টি; এমনকি দলটি নির্বাচনেও রয়েছে।
গত ৪ জানুয়ারি রোববার সন্ধ্যায় দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টি নিয়ে কথা বলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া এজেন্সির খেলা। তিনি বলেন, আইনের ফাঁকফোকর দেখিয়ে ইসি জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। আখতার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ইসি পক্ষপাতিত্ব করেছে। আখতার হোসেন আরও বলেন, ‘জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নির্বাচনে নিয়ে আসা আমরা কোনোভাবে সরল চোখে দেখি না। এটা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের শামিল।’
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি শনিবার ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জাতীয় পার্টির অংশগ্রহণ অস্বস্তিকর। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, ফেব্রুয়ারিতে যে নির্বাচন হবে, তা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তবে আমাদের কিছু অস্বস্তির জায়গা রয়েছে। আজকে আমরা দেখলাম জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছে। সারা দেশে জাতীয় পার্টি প্রার্থী দিচ্ছে এটা আমাদের একটা অস্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে। তারও আগে গত ২ জানুয়ারি ‘স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে শুক্রবার ‘মঞ্চ-২৪’। এদিন বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে জাতীয় পার্টির সারা দেশে ২২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের প্রতিবাদে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান সংগঠনটির আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগ এককভাবে নয়, বরং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলীয় জোটের মাধ্যমে বাকশালী মুজিববাদী শাসন কায়েম ছিল। আওয়ামী লীগ যে পরিমাণ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, সেই একই অপরাধের দায় জাতীয় পার্টিকেও নিতে হবে। বিচারের প্রশ্নে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ফাহিম ফারুকী অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করলেও তাদের প্রধান সহযোগী জাতীয় পার্টির কার্যক্রম এখনো বন্ধ করা হয়নি। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো ফ্যাসিবাদী বা বাকশালী রাজনৈতিক শক্তির রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
যেকোনো সময় ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে জাপা
এ দিকে জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টি প্রথমে ঘোষণা দিয়েছিল তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেবে। পরে সংবাদ সম্মেলন করে দলটির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী ৩০০ আসনের মধ্যে ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা দেয়। এ ঘোষিত আসনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত ২২৪ আসনে প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করে। এর মধ্যে ৫৯টি মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বাতিল হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে ৪ জানুয়ারি জানিয়েছেন, তারা ২২৪ আসনে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১০-১৫টি বাতিল হয়েছে। যেগুলো বাতিল হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান। বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতীয় পার্টি ভোটে এলেও তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। কারণ তারা জানে, দেশজুড়ে দলটির কোনো জনপ্রিয়তা নেই, ভোটার নেই। সে কারণে শেষ পর্যন্ত নানা অজুহাত তুলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রশ্ন বিদ্ধ কবার চেষ্টা করতে পারে জাতীয় পার্টি। গত ৪ জানুয়ারি রোববার জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারীর সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হলে এক প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী জাতীয় পার্টি পদক্ষেপ নেবে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনে আছি। জানা গেছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী গাইবান্ধা-১ ও ৫ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। সাবেক প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা লালমনিরহাটের লালমনিরহাট-১ আসনে নির্বাচন করবেন।
ভোটে ‘জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট’র ব্যানারে ফ্যাসিস্টের অন্য দোসররা
জাতীয় পার্টি ও জেপির নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থীর ঘোষণা করেছে। গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির আরেক অংশের নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন। জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, জাতীয় পার্টির অপর অংশের (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের মুখপাত্র এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ ও জোটের প্রধান সমন্বয়ক গোলাম সারোয়ার মিলন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টি ও ফ্রন্টের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (চট্টগ্রাম-৫), আনোয়ার হোসেন মঞ্জু (পিরোজপুর-২), এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার (পটুয়াখালী-১), এডভোকেট কাজী ফিরোজ রশিদ (ঢাকা-১০), এডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নু (কিশোরগঞ্জ-৩), জেপির মহাসচিব শেখ শহিদুল ইসলাম (মাদারীপুর-৩), জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক গোলাম সারোয়ার মিলন (মানিকগঞ্জ-২) এবং সাবেক এমপি শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরকে (ফরিদপুর-২) প্রার্থী ঘোষণা দেওয়া হয়। এরাই সবাই গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সেই সরকারের সুবিধাভোগী ছিলেন। কেউ কেউ মন্ত্রীও ছিলেন। জানা গেছে, এ জোট চেয়ারম্যানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আবার এদের মধ্যে কেউ কেউ মনোনয়নপত্রই দাখিল করেনি।