সুনামগঞ্জে জামায়াতেই ভরসা, প্রার্থিতার দ্বন্দ্বে আন্দোলনে বিভক্ত বিএনপি
৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:০৯
আবদুল বাছেত মিলন, সিলেট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী হাওয়ায় বইছে দেশে। নানা সম্ভাবনা ও শঙ্কাও বিরাজ করছে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। বিভিন্ন দলের কর্মীরা মাঠে তৎপরতা চালাচ্ছেন অবিরাম। নির্বাচনী বৈতরণী পাড়ি দিতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ চব্বিশের অভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলো মাঠ কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে। ঢেউ লেগেছে হাওরবেষ্টিত জেলা সুনামগঞ্জের শহর থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায়। জেলাটিতে পাঁচটি সংসদীয় আসন রয়েছে। জেলার কৃষি ও মৎস্য সম্পদ দেশের অর্থনীতিতে বেশ গুরুপূর্ণ অবদান রাখে। এজন্য ভোটাররা সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এবার যোগ্য নেতৃত্ব বাছাই করে জেলার ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখছে। জেলার ঐতিহ্যগত পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্যসমূহ নির্বাচনের সময়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জেলার অর্থনীতি মূলত কৃষি (ধান) ও মৎস্য (মাছ) নির্ভর। নির্বাচনের সময়ে এ অঞ্চলের হাওর উন্নয়ন, বোরো ধানের সুরক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং জলমহালের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি ইস্যুগুলো জনমত গঠনেও রাজনৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়ে থাকে। এছাড়া জেলায় টাঙ্গুয়ার হাওর, নীলাদ্রি লেক, শিমুল বাগান, যাদুকাটা নদীর মতো পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাবে।
জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর মাঠে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং তাদের মিত্রদের সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় এ আসনগুলোয় দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম দুই রাজনৈতিক দল জামায়াত ও বিএনপি হয়ে উঠেছে একে অপরের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। দীর্ঘ জুলুম ও নির্যাতনের শিকার জামায়াত নির্বাচনে চমক দেখাতে চায়। প্রার্থী মনোনয়ন ও নির্বাচনী প্রচার, জনবান্ধব নানা কর্মসূচি নিয়ে জনতার সঙ্গে মিশে গেছে দলটি। অন্যদিকে বিএনপির একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছে দলটির নেতাকর্মীরা, ঘটছে বিশৃঙ্খলাও। এছাড়া সারা দেশের মতো বিএনপির নেতাদের অনেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগে দলটির নেতারা অনেক ক্ষেত্রে জনগণের অপছন্দের কাতারে, ভুগছেন ইমেজ সংকটে। যদিও দলটির হাইকমান্ড গত ৩ নভেম্বর সারা দেশে কিছু আসন ফাঁকা রেখেই সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ১০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৪৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার ৫ জন। বিপুলসংখ্যক ভোটারের এ আসনটিতে বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য দল- কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) এবং জাতীয় পার্টি জয়লাভ করলেও এবার মূলত নির্বাচনী লড়াইটা হবে জামায়াত ও বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে। আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করছেন দলটির সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য উপাধ্যক্ষ মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান। নির্বাচিত হলে পিছিয়ে পড়া হাওরাঞ্চলের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করবেন বলে জনগণকে আশান্বিত করছেন। তবে সাংগঠনিকভাবে জামায়াত শক্তিশালী হওয়ায় এবং শৃঙ্খলিত ও জনসম্পৃক্ত থেকে মাঠে গোছানো কাজের কারণে জিতে আসার সম্ভাবনা রয়েছেÑ এমন মতও প্রকাশ করছেন ভোটাররা। বছরের পর বছর এ হাওর এলাকার মানুষ বঞ্চিত থেকেছে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে। এবার সেই শূন্যতা পূরণ করতে চান জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা তোফায়েল আহমেদ খান। দিন দিন এ আসনে জামায়াতের গণজোয়ার সৃষ্টি হচ্ছে।
মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান বলেন, জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি। জনগণ সব দলকে দেখেছে, এবার তারা জামায়াতের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চায়। এ প্রেক্ষিতে প্রায়ই ‘সব দেখেছি বার বার, দাঁড়িপাল্লা এইবার’ এমন স্লোগান শোনা যায়- বলেন তিনি। অন্যদিকে সুনামগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন পেয়েছেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনিসুল হক। তিনিও নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। এ আসনে দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। ফলে একই আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দুই পক্ষের অনুসারীরা। ফলে বিএনপির নেতৃত্বের প্রতি সাধারণ ভোটাররা ক্ষুব্ধ।
সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৩ হাজার ৬৪৭ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪১ হাজার ২৫১ জন। সর্বশেষ জাতীয় সংসদের ডামি নির্বাচনে (২০২৪) প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়া সেনগুপ্তা জয়ী হয়েছিলেন। তবে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিশূন্য মাঠে চমক দেখাবেন জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও এডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির। প্রার্থিতা ঘোষণার পরপরই তিনি পুরো নির্বাচনী এলাকায় মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক, মিটিং, মিছিল এবং ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। দিরাই-শাল্লার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকের কল্যাণে তার ভাবনা নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। তিনি বলেন, ‘দিরাই-শাল্লার পাঁচ লক্ষ জনগণ সকলেই আমার আপনজন। আমার কাছে হিন্দু-মুসলিম কোনো বিভেদ নেই।’ এ আসনে শিশির মনিরের বিজয় নিশ্চিত করতে ভোটার, কর্মী ও অনেক সাধারণ মানুষ মরিয়া হয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের অধিকার আদায়ের কাজে শিশির মনির সক্রিয়।’ তাছাড়া শিশির মনির হাইকোর্টের একজন আইনজীবী এবং তিনি সুনামগঞ্জের শাল্লা এলাকার কৃতিসন্তান। শিশির মনির মূলত বাংলাদেশের রাজনীতি এবং সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে একজন বিশ্লেষক ও আলোচক হিসেবে সক্রিয়। বিএনপি গত ৩ নভেম্বর সারা দেশের ২৩৭টি আসনে দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করলেও এ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেনি।
সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর-শান্তিগঞ্জ) আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫৪ জন। এর মধে পুরুষ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭২৮ জন; নারী ১ লাখ ৭০ হাজার ৯২২ জন এবং হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার ৪ জন। ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম. এ. মান্নান জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শাহীনুর পাশা চৌধুরী। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবেক শ্রমিক নেতা, সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি এডভোকেট ইয়াছিন খানকে মনোনয়ন দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। নিজের জয় নিশ্চিতে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করছেন তিনি। ইয়াছিন জনগণকে সকল প্রকার জুলুম, শোষণ ও দুর্নীতিমুক্ত এলাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তরুণ এ প্রার্থী প্রচারে এগিয়ে থাকায় মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন বলে স্থানীয়রা মনে করেন। অন্যদিকে এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ কয়সর আহমেদ। তবে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ইয়াছিন খান প্রচারে এগিয়ে আছেন।
সুনামগঞ্জ-৪ (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সংসদীয় আসনটি দুটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪১ হাজার ৮৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬৮ জন; নারী ভোটার ১ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৩ জন। আর তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। বিগত নিশিরাতের ভোটে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান এবং ২০২৪ সালের ডাবি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে জয়ী হয়েছেন ড. মোহাম্মদ সাদিক। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। তবে দলটির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে তৃণমূলে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন যুদ্ধে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। ফলে দলীয় কোন্দল বিএনপিকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে।
জানা যায়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে বিএনপি, জামায়াত ও সমমনা দলগুলো। ভোটাররা মনে করছেন, আগামী নির্বাচনে দীর্ঘদিনের মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এমন সমীকরণ সামনে রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে দল দুটি। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী চারজন নেতা মাঠে রয়েছেন। বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচিত- তাদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন; জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল মনসুর শওকত; ও সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত ফজলুল হক আসপিয়ার পুত্র সাইদুল হক আবেদ। সকলে মনোনয়ন পেতে তৎপর। তবে শেষ অবধি কাকে দল মনোনয়ন দেবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। মনোনয়ন নিয়ে পক্ষগুলোর বিভেদ নির্বাচনের আগে মিটবে কিনা, তাও বলা যাচ্ছে না। অন্যদিকে এ আসনে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শামস উদ্দীন। তিনি জুলাই বিপ্লবের গর্বিত অংশীদার। তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। দিন দিন জনসমর্থন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে জামায়াতকে তিনি জেতাবেন বলে আশাবাদী। এ আসনটি আয়ত্তে নিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয়।
সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৫ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৯৪ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১ জন। এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্বাচনের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে। ইতোমধ্যে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাতক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী ও তার সমর্থকরা। দাবি আদায়ে তারা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের মতো কর্মসূচিও পালন করেছেন। অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
গোবিন্দগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও মজলিসে মুফাসসিরীন বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি, তাহফিজুল কুরআন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আল মাদানী দলের ভাবমূর্তিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে ফেলেছেন। অভিজ্ঞ এ শিক্ষাবিদ রাজনীতির পাশাপাশি লিডিং ইউনিভার্সিটিতে ইসলামী স্টাডি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবেও দায়িত্বপান করছেন। এছাড়া সালাম মাদানী উইমেন্স মেডিকেল কলেজের সাবেক গভর্নিং বডির সদস্য, ছাতক জালালিয়া কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন; বিশেষ করে ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় তিনি জামায়াতে ইসলামী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর ত্রাণ কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এলাকায় পরিচিতি আছে তিনি শতাধিক টিউবওয়েল স্থাপন করেছেন, মেডিকেল ক্যাম্প, খতনা, শীতবস্ত্র বিতরণ, জনবান্ধব কর্মসূচির সাথে জড়িত। এ কারণে জনমনে তার প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হাওরপাড়ের সাধারণ মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ছাতক-দোয়ারাবাজার অঞ্চলে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসবেন তিনি।
আব্দুস সালাম আল মাদানী বলেন, ‘আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি। জামায়াতে ইসলামীকে জনগণ অতীতের চেয়ে বেশি ভালোবাসা দিচ্ছে- মানুষ দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চায়, এজন্য জামায়াতের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।’ এ আসনে সালাম মাদানী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৯৯১ সালে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোট পেয়েছেন। সুনামগঞ্জের রাজনীতি দিন দিন নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। ভোটারদের মধ্যে এবার পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্পষ্ট- তারা এমন নেতৃত্ব চায়, যারা হাওরের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিবেদিত থাকবে।
সাবেক শান্তিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক আহমদ বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দলের চূড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল পর্যায়ে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে। জনগণের আস্থার প্রতীক ধানের শীষের কোনো বিকল্প নেই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। হয়তো মনোনয়ন নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছু প্রতিযোগিতা চলছে। কিন্তু যখনই দলের পক্ষ থেকে ফাইনাল নমিনেশন ঘোষণা করা হবে, তখন এ সকল দ্বিধা দূর হয়ে যাবে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে জনগণের মধ্যে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে এবং মানুষের মুক্তির প্রতীক ধানের শীষের বিকল্প কোনো প্রতীক এ দেশে হতে পারে না।