বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের সময় অলৌকিক ও আশ্চর্য ঘটনা


৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৮:০৩

॥ জহুরুল ইসলাম মুজাহিদ ॥
বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের দিন সত্যিই অনেক অলৌকিক ও আশ্চর্য ঘটনা ঘটেছিল, যা ইতিহাসের পাতায় সংরক্ষিত আছে।
এ ঘটনাগুলো ছিল নবী (সা.)-এর আগমনের মাহাত্ম্য ও নবুয়্যতের পূর্বলক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মের দিন সংঘটিত অলৌকিক ঘটনাসমূহ
১. আবরাহার হাতির বাহিনীর ধ্বংস (সূরা ফীল)
নবীজি (সা.)-এর জন্মের বছরই ইয়েমেনের শাসক আবরাহা বিশাল হাতির বাহিনী নিয়ে কাবা ধ্বংস করতে আসে। আল্লাহ তায়ালা তাদের ওপর আবাবিল পাখি পাঠান, যারা পোড়া পাথর নিক্ষেপ করে তাদের সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়। এ ঘটনা “আমুল ফীল” নামে পরিচিত। নবীজি (সা.) জন্মগ্রহণ করেন ওই বছরেই।
২. পারস্যের অগ্নিমন্দিরের আগুন নিভে যাওয়া
পারস্যে (ইরান অঞ্চলে) হাজার বছর ধরে জোরোয়েস্ট্রিয়ানরা যে অগ্নিমন্দিরে অগ্নি জ্বালিয়ে রাখত, নবীজি (সা.) জন্মের রাতে সেই আগুন নিজে থেকেই নিভে যায়।
এটি ছিল এক বড় অলৌকিক ঘটনা, কারণ সেই আগুন কখনো আগে নেভেনি।
অর্থাৎ আল্লাহ ঘোষণা করলেন- অন্ধকার ও মিথ্যার যুগের অবসান শুরু হলো।
৩. সাওয়া হ্রদের পানির শুকিয়ে যাওয়া
পারস্যের সাওয়া হ্রদ নামে বিখ্যাত একটি হ্রদ ছিল, যা শত শত বছর ধরে কখনো শুকায়নি।
নবীজি (সা.) জন্মের দিনই সেটির পানি শুকিয়ে যায়।
এটি প্রতীক ছিল- মানুষের কুসংস্কার ও মিথ্যা বিশ্বাসের যুগের অবসান ঘটছে।
৪. কিসরার প্রাসাদের ১৪টি বারান্দা ধসে পড়া
পারস্য সম্রাট নওশেরওয়ান (কিসরা)-এর বিশাল প্রাসাদের ১৪টি বারান্দা (স্তম্ভ) হঠাৎ করে ভেঙে পড়ে। এটি ইঙ্গিত করে যে পারস্য সাম্রাজ্যের পতন ঘটবে এবং ইসলাম সেই অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত হবে। (যা পরবর্তীতে সত্যি হয়েছিল হযরত উমর (রা.)-এর যুগে।)
৫. আসমানে বিশেষ আলো উদ্ভাসিত হওয়া
আমিনা (রা.) নবীজির মাতা বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সা.) জন্মের সময় তিনি এমন এক দিব্য আলোকরশ্মি দেখেন, যা শাম (সিরিয়া) পর্যন্ত আলোকিত করেছিল। অর্থাৎ পৃথিবীজুড়ে অন্ধকার দূর হয়ে নূরের আগমন ঘটল।
৬. আসিমা (দাইয়া) ও আমিনা (রা.)-এর অভিজ্ঞতা
আমিনা (রা.) বলেন, নবীজি জন্মের সময় তাঁর গর্ভ থেকে একটি পবিত্র ও সুগন্ধিযুক্ত শিশু বের হয়, যার শরীর ছিল পরিষ্কার, চোখে ছিল দীপ্তি, এবং মুখে ছিল মৃদু হাসি।
কোনো প্রসব-যন্ত্রণা ছাড়াই জন্মগ্রহণ করেছিলেন নবীজি (সা.) যা ছিল এক অলৌকিক বিষয়।
৭. ইবলিসের কাঁপন ও শয়তানদের বাধা
হাদীসে উল্লেখ আছে, নবীজি (সা.) জন্মের পর আকাশে শয়তানদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
তারা আর আকাশ থেকে খবর শুনে আনতে পারল না। অর্থাৎ অহি (প্রকাশ) যুগের সূচনা হতে চলেছে।
সারসংক্ষেপে ঘটনার তাৎপর্য
আবরাহার পরাজয় : আল্লাহর ঘর কাবার রক্ষা
অগ্নিমন্দির নিভে যাওয়া : মিথ্যা ধর্মের পতন
সাওয়া হ্রদ শুকিয়ে যাওয়া : কুসংস্কারের অবসান
কিসরার প্রাসাদ ধসে পড়া : পারস্য শক্তির পতন
আকাশে আলো : নবুয়্যতের নূরের আগমন।
উপসংহার
নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম কেবল একটি জন্ম নয়, বরং মানবতার নবজাগরণ।
আল্লাহ তায়ালা তাঁর আগমনের মুহূর্তেই বিশ্বজগৎকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন
অন্ধকারের যুগ শেষ, এখন নূরের যুগ শুরু।
নবীজি (সা.)-এর শৈশবের অলৌকিক ঘটনাগুলো ও হালিমা সাদিয়ার ঘরে বরকতের কাহিনী?
লেখক : সহ-সভাপতি, দোকান কর্মচারী ইউনিয়ন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন।