মাঠপ্রশাসনের বদলিতে লটারি চায় জামায়াত
২০ নভেম্বর ২০২৫ ২২:৪১
স্টাফ রিপোর্টার: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রে লটারির প্রক্রিয়া চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। গত ১৯ নভেম্বর বুধবার সকালে নির্বাচন ভবনে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে চলমান সংলাপে এ কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত ১৯ নভেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় ইসির সম্মেলনকক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এন এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুরু হয় সংলাপ। জামায়তে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ এবং সিনিয়ির আইনজীবী শিশির মোহাম্মদ মনির। এতে জামায়াত ছাড়াও এনসিপিসহ আরও ৬টি দল অংশ নেয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এক মাসও হয়নি, ২০ দিনও হয়নি, একজন ডিসি সেখানে চলে গিয়েছেন (বদলি)। সেটাও হঠাৎ করে। আবার এ সপ্তাহের মধ্যে অনেককে রদবদল করা হয়েছে। এটার পেছনে মনে হয় যেন, কোনো একটা ডিজাইন করে। একটা উদ্দেশ্যে এ কাজটা কোনো জায়গা থেকে হচ্ছে।’ সংলাপে জামায়াতের পক্ষে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল লটারির মাধ্যমে মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির পক্ষে মত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হলে, যার যেখানে তকদির আছে, সে সেখানে চলে যাবে। এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকবে না।’ নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনকে সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ করার জন্য আস্থার জায়গা বলে মন্তব্য করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘এর আগেও কয়েকটি নির্বাচন কমিশনের সময়ে তফসিল ঘোষণার পর এক রাতে সব ডিসি-এসপির বদলি হয়েছে। তা নিয়ে কোনো প্রশ্ন ছিল না। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এখন যেটা করা হচ্ছে, তা পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমরা যখন এ কথা প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাথে আলোচনার সময় বলেছিলাম, আপনারা এরকম করেন, কোশ্চেন থাকবে না, তখন সেখানে তার বক্তব্যে বোঝা গেল যে পরিষ্কারভাবে উনি কিছু বলেননি। তবে আমরা বুঝতে পেলাম যে কোনোভাবে, কোনো জায়গা থেকে কেউ এটা শুরু করেছে। সেটা কি কোনো প্ল্যান? নির্বাচন কমিশনই হচ্ছে নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য তফসিল ঘোষণার পর আমাদের একমাত্র আস্থার জায়গা। সেখানে আমরা আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম যে একটা চেঞ্জ আমরা ইতোপূর্বে দু-একটা ইলেকশন কমিশনের সময় দেখেছি, তফসিল ঘোষণার পরেই একদিনে, এক রাতে সব ডিসি-এসপি, পুলিশ সুপারদের রদবদলের ঘটনা ঘটেছে। তাতে কিন্তু আস্থা ছিল; কমপ্লেন ছিল না। এরকম একটা সিদ্ধান্ত না নিলে এখন যা হচ্ছে, এটা একটা পরিকল্পিত ইন্টেনশন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে কিন্তু জুলাই সনদ এবং গণভোট- এ দুটি প্রশ্ন খুবই প্রাসঙ্গিক। এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে কিন্তু আপনাদের আচরণবিধিতে- ইভেন গতকাল আপনারা প্রবাসীদের ভোটের ব্যাপারে যে প্রেজেন্টেশন করলেন এটা পরিষ্কার হয়নি। সেটা হচ্ছে যে, একই দিনে গণভোট আর জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে এসেছে, গেজেটও সেটা এসেছে। যদিও আমরা দল হিসেবে আগের কিছু যুক্তির কারণে বলেছিলাম যে, গণভোটটা আগে হওয়া উচিত। জুলাই সনদে কী কী সংস্কার হতে যাচ্ছে, কোনটায় ভোটাররা ‘হ্যাঁ’ বলবে, ‘না’ বলবে- সে যদি আগে থেকে তার মাইন্ডসেট করতে না পারে, বুঝতে না পারে যে, বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোর কী কী পরিবর্তন হলো, সে যদি বুঝতে না পারে, তাহলে সে ‘হ্যাঁ’ কি বলবে, ‘না’ কি বলবে? তো একই দিনে দুইটা ভোট হলে সে তো বুঝতে পারবে না। যাই হোক, আমরা এ দাবি ও যুক্তি পেশ করেছিলাম।
তিনি যোগ করেন, আমাদের এখনকার আচরণবিধিতে লাউডস্পিকার ব্যবহারে বলা হয়েছে যে, একই সময়ে নির্বাচনি এলাকায় তিনটা লাউডস্পিকার ব্যবহৃত হতে পারবে। যেটা দেখলাম-আপনারা জানেন একটি নির্বাচনী এলাকায় ১৫, ২০, ২১, ১৮, ১৬টা করে ইউনিয়ন আছে। বিরাট নির্বাচনী এলাকা। একজন প্রার্থী বা তার পক্ষের ভোটাররা বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করবে। স্কুল-কলেজের পরীক্ষা সাধারণত ডিসেম্বর-নভেম্বরে হয়ে যাচ্ছে। ওটা যদি ফেব্রুয়ারি মাস হয়, তাহলে তিনটা লাউডস্পিকারের মধ্যে সীমিত করে দিলে বিশাল নির্বাচনী এলাকায় এটা প্রার্থীদের জন্য ভোটারদের কাছে প্রচারণায় সংকট তৈরি করতে পারে। এটা আমরা পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করছি।
ভোটার লিস্টের ছবিগুলো স্পষ্ট নয় উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রিন্টিং এত স্পষ্ট না। চেহারাও চেনা যায় না। এটা আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে যখন আপনাদের সাথে ফরমালি দেখা করেছিলাম, ১৮টা দফায় আমরা যে পরামর্শ দিয়েছি তার মধ্যে একটা ছিল- ভোটার লিস্টের ছাপা ছবিগুলো স্পষ্ট হতে হবে। চিনতে না পারলে সেখানে ঝামেলা হয়। এ বিষয়ে আপনাদের কথা বলা দরকার।
তিনি আরও বলেন, আমরা শুনতে পাচ্ছি এবং সিদ্ধান্ত আছে যে প্রতি ভোটকেন্দ্রে সেনা মোতায়েন হবে নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার জন্য। সন্ত্রাসী, ভোট ডাকাত, যারা বাধা সৃষ্টি করে, নাশকতা করে, তাদের একটু চাপে রাখতে গেলে ভোটারদের সাহসী করতে গেলে সেনাবাহিনী দরকার। একজন সেনাসদস্য একটা ভোটকেন্দ্রে দিলে এটা খুব বেশি পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব পায় না। সংখ্যাটা একটু বাড়িয়ে অন্তত ৫ জন সেনাসদস্য একটা ভোটকেন্দ্রে দিলে ভালো হয়। স্ট্রাইকিং ফোর্স তো থাকেই। এ ব্যাপারে আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা নিশ্চয়ই হয়েছে বা হবে।