ভোট কি ৫ ফেব্রুয়ারি?


২০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪৮

নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

# চূড়ান্ত তালিকায় ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ ভোটার
# প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল বিডি অ্যাপ উদ্বোধন
স্টাফ রিপোর্টার : আর অল্প ক’দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতিদিনই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে ইসি। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপ শুরু করেছে ১৩ নভেম্বর। গত ১৯ নভেম্বর বুধবার এ প্রতিবেদন লেখার দিনেও ১২টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে। একইদিন প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল বিডি অ্যাপ উদ্বোধন ও দুটি নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে কমিশন। অর্থাৎ বসে নেই এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসের শুরুতেই তফসিল ঘোষিত হবে। ফেব্রুয়ারির শুরুতে ভোট গ্রহণের টার্গেট রেখে কমিশন তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে।
ভোট কি ৫ ফেব্রুয়ারি?
সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই নির্বাচন কমিশনকে ঘোষিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার আলোকে প্রস্তুতিও নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই তফসিল ঘোষণা করা হবে। তবে ঠিক কোন তারিখে কাক্সিক্ষত এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, তা এখনো সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি। সরকারি একটি সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের জন্য ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের তিনটি তারিখ প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ওই তিনটি তারিখ হচ্ছে, ৩, ৫ ও ৭ ফেব্রুয়ারি। পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার এবং ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার হওয়ায় প্রস্তাবিত তিনটি তারিখের মধ্যে এ দুটি দিনে ভোট হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্যদিকে ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। ফলে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবারেই ভোট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করতে খুব শিগগির প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সেখানে প্রস্তাবিত তারিখগুলো নিয়ে আলোচনার পর পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। খসড়া তালিকা অনুযায়ী ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩৮৪ জন। গত ১৮ নভেম্বর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। চূড়ান্ত তালিকায় পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ ও নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন। এছাড়া ১ হাজার ২৩৪ জন হিজড়া ভোটার রয়েছেন। ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ করেছেন, তারা এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চলমান সংলাপের চতুর্থ দিন ১৯ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১২টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ মাইনোরিটি জনতা পার্টি-বিএমজেপি, ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি, গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ইসি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মার্কসবাদী (নতুন দল) এর সঙ্গে সংলাপ করেছে ইসি। এর আগে গত বৃহস্পতিবার, রোববার ও সোমবার দুই সেশনে ১২টি করে মোট ৩৬টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নির্বাচনি সংলাপ করেছে ইসি। অর্থাৎ সব মিলিয়ে অন্তত ৪৮টি দলের সঙ্গে সাংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইসির ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত ৫৪টি রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। অবশ্য ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দুটি দলের নিবন্ধনের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে ইসি।
প্রবাসী ভোটারদের জন্য পোস্টাল বিডি অ্যাপ উদ্বোধন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিসহ পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের জন্য চালু হয়েছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’। ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ অ্যাপটির উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অনন্য সংযোজন। বাংলাদেশ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইতিহাস সৃষ্টি করলো। এতদিন প্রবাসীরা জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত ছিল। আজ সেই বঞ্চনা দূর হলো। সিইসি জানান, তিন মাসের মধ্যে এ দুঃসাহসিক কাজ সম্পন্ন করেছে ইসি। সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে এ অ্যাপে। এ ঝুঁকিটা রয়ে গেছে। এ অ্যাপস সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা একটা চ্যালেঞ্জ। এ অ্যাপসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা দরকার। ১৫০ এর বেশি দেশ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পোস্টাল ভোট বিডি বৈশ্বিক গণতন্ত্রের দুয়ার খুলে দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশেও যাতে পোস্টাল ভোট কাভার করা যায়, সেটাও করেছি। কোনো নাগরিক যাতে ভোটাধিকার বঞ্চিত না হয়, সে ব্যাপারে এটা কাজ করবে।
প্রচার-প্রচারণায় খরচ ২৫ কোটি
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে প্রচার-প্রচারণায় ২৫ কোটি টাকা খরচ করবে সরকার। মূলত জনগণের মধ্যে সচেতনতামূলক প্রচারের অংশ হিসেবে দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৩০০টি উপজেলায় টিভিসি, ভিডিও ডকুমেন্টারি ইত্যাদি তৈরি করে প্রচারের জন্য এলইডি অ্যাকটিভেশন ক্যারাভানের মাধ্যমে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৮ নভেম্বর সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, এ-সংক্রান্ত কাজ নভেম্বরে শুরু করার নির্দেশনা থাকায় সময় স্বল্পতার জন্য উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিপিআর) অনুসারে ব্র্যান্ড সলিউশন লিমিটেডকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে নিয়োগের ক্রয় প্রস্তাব নিয়ে আসে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়। উপদেষ্টা পরিষদ প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে।
এনসিপি ও বাসদ মার্ক্সবাদীকে নিবন্ধন দিয়ে ইসির প্রজ্ঞাপন
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) দুটি নতুন রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। দল দুটি হলো জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)। গত ১৮ নভেম্বর মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনটি বিজি প্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে লেখা হয়েছে নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। দলটির প্রধান কার্যালয় রূপায়ণ ট্রেড সেন্টার (২য় তলা) ১১৪, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, বাংলামোটর, ঢাকা-১২০৫। দলটির সংরক্ষিত প্রতীক ‘শাপলা কলি’ এবং নিবন্ধন নম্বর-৫৮। আরেক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নিবন্ধনের শর্তাদি পূরণ করায় ‘বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী)’-কে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। দলটির প্রধান কার্যালয় ২২/১ তোপখানা রোড (ষষ্ঠ তলা), ঢাকা-১০০০। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের সংরক্ষিত প্রতীক ‘কাঁচি’ এবং নিবন্ধন নম্বর ৫৯। নির্বাচন কমিশনের আদেশক্রমে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ প্রজ্ঞাপন দুটি জারি করেছেন। পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত দল দুটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল হিসাবে বিবেচিত হবে। এ নিবন্ধনের ফলে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫৯-এ উন্নীত হলো।
সুষ্ঠু ভোট নিয়ে যা বলছেন সিইসি
ইসির সমালোচনা কম করার আহ্বান জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, নানাবিধ ‘প্রতিকূলতার’ মধ্যেও সফলভাবে প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন; তাদের নিয়ত ‘পরিষ্কার’। সবার সহযোগিতা পেলে ভালো নির্বাচন সম্ভব হবে। ধীরে ও ধারাবাহিকতার নীতি অনুসরণ করে এগিয়ে যাচ্ছেন দাবি করে সিইসি বলেন, ‘সফলভাবে এগোতে পেরেছি এ পর্যন্ত। জাতিকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ ভোট প্রস্তুতির অগ্রগতি তুলে ধরে নাসির উদ্দিন বলেন, প্রবাসীদের ভোটগ্রহণ করা বিশ্বব্যাপী চ্যালেঞ্জের। ইসি একটি লাগসই মডেল করেছে। সেই সঙ্গে দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তিদের ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে পোস্টাল ব্যালটে। ‘আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই, আন্তরিকতার ঘাটতি নেই। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ আন্তরিকতা, ধৈর্য সাহসের সাথে মোকাবিলা করছি। ভবিষ্যতেও মোকাবিলা করতে প্রস্তুত রয়েছি। এক্ষেত্রে দলগুলোর সহযোগিতা দরকার। ভোটের আগে, ভোটের দিন ও ভোটের পরেও সহযোগিতা নিয়ে এগোতে হবে।’ তিনি বলেন, ভোটারদের ওপর দলের সরাসরি প্রভাব রয়েছে। ইসির পক্ষ থেকে সভা, সেমিনারসহ নানা উদ্যোগ থাকবে। পাশাপাশি দলের সহযোগিতা তৃণমূলেও প্রয়োজন। দলগুলোর নানা ধরনের প্রশ্নের প্রসঙ্গ ধরে সমাপনী বক্তব্যে সিইসি বলেন, ‘তফসিল ঘোষণার পর অনেকগুলো পরিপত্র জারি হবে, সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে। সব কিছু মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি, সীমাবদ্ধতার মধ্যে চেষ্টার ত্রুটি নেই। মুখে যা বলছি তা-ই নিয়ত। সবাইকে নিয়ে নিয়ত পূরণ করতে পারবো। আল্লাহ তায়ালা সাহায্য করবেন, যেহেতু আমাদের নিয়ত সাফ। সবার সহযোগিতা চাই।’ ইসির সমালোচনা কম করার অনুরোধ জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমাদের বেশি সমালোচনা করবেন না। যেটুকু ভালো কাজ এটুকু প্রশংসা করবেন।’ ব্যারিস্টার ফুয়াদ সাহেবের যে বাক্য টকশোতে দেখি, এটা তো মানুষকে বুলেটের মতো বিদ্ধ করে। ‘আশা করি, আপনি আমাদের একটু প্রশংসা করবেন ইনশাহআল্লাহ। আমাদের সীবাদ্ধতা, ত্রুটি থাকতে পারে এটা অনিচ্ছাকৃত। সবার সহযোগিতা চাই।’
নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অফিসকক্ষে উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ডা. রুডিগার লটজ সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে শেখ হাসিনার রায় পরবর্তী জনপ্রতিক্রিয়া, জাতীয় নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ ও এ উপলক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি, বন্দি প্রত্যর্পণ, সাইবার ক্রাইম ও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিসহ দু’দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জার্মানির রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, জার্মানি ও বাংলাদেশ পরীক্ষিত বন্ধু। অদূর ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার হবে। নির্বাচনের তারিখ ও সময় এবং সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আশা করি, নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে এর নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন জাতীয় নির্বাচনের যে তারিখই নির্ধারণ করুক, আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।