নিয়ম অনুযায়ী ছিটানো হচ্ছে না ওষুধ

বাড়ছে মশা ডেঙ্গুতে ঘটছে প্রাণহানি


২০ নভেম্বর ২০২৫ ২১:৪৬

স্টাফ রিপোর্টার : মশার কামড় থেকে দেশবাসীকে নিরাপদ রাখতে না পারার কারণে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঘটছে প্রাণহানি। গত ১৭ নভেম্বর সোমবার সরকারি তথ্যানুযায়ী, ওই দিন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারান ৩ জন নাগরিক। আর আগের দিন ১৬ নভেম্বর রোববার প্রাণ হারান আরও ৫ জন মানুষ। এখানে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন নাগরিকরা। মশার আসলে কোনো সময় নেই, যখন খুশি কামড়াতে থাকে। ঢাকাসহ সারা দেশে ঠিক কী পরিমাণে মশা আছে, তারও কোনো পরিসংখ্যান নেই। লাখকোটি মশা সাধারণ মানুষের জীবন শেষ করে দিচ্ছে। আর এ মশা মারার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এবং উপজেলা পরিষদগুলো দিব্যি হেসেখেলে দিনাতিপাত করছে।
গত ১৭ নভেম্বর সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ২০২৪ সালে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। এর আগের বছর ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে মারা যান সর্বোচ্চ ১ হাজার ৭০৫ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। শুধু ১৭ নভেম্বর এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার সাতজন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩৯ জনে এবং শনাক্ত রোগী বেড়ে ৮৬ হাজার চারজনে দাঁড়িয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে গত ১৬ নভেম্বর পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এদিন আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক হাজার ১৩৯ জন। এতে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৩৯ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৮১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪১ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪৬ জন, ঢাকা উত্তর সিটিতে ১৮২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১১৮ জন, খুলনা বিভাগে ১১৯ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে), ময়মনসিংহ বিভাগে ৯৬ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে), রাজশাহী বিভাগে ৪৬ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে), রংপুর বিভাগে ৯ জন (সিটি করপোরেশনের বাইরে) এবং সিলেট বিভাগে একজন (সিটি করপোরেশনের বাইরে) নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর ভিআইপি এলাকাগুলোয় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হয়। কিন্তু কম গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দিনে দূরে থাক, মাসেও ওষুধ ছিটানো হয় না। যাকে বলা হয় ‘সারাক্ষণ শুধু তেলা মাথায় তেল ঢালা হয়’। যেখানে ছিটানো হয় না, একেবারেই হয় না। কারণ ওইসব এলাকায় তেমন ক্ষমতাধর কেউ থাকে না। এসব এলাকায় কয়েল, অ্যারোসল, ধূপধোঁয়া কোনো কিছুতেই কিছু হয় না। দিনের বেলায় ভনভন করে মশা। বিকাল হতে না হতেই রক্তচুষা মশার দল পঙ্গপালের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। ঝাঁকে ঝাঁকে মশা শোঁ শোঁ শব্দ করে কানের কাছে গান শুনিয়ে শুনিয়ে কামড়াতে থাকে। ছেলে বুড়ো কেউ রেহাই পায় না মশার কামড় থেকে।