আনা মিনকুম ওয়া ইলাইকুম
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:১৭
॥ মুহাম্মদ আল-হেলাল॥
ইসলামফোবিয়ার মধ্যেই বর্তমান বিশ্বরাজধানীখ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর নিউইয়র্ক শাসন করার জন্য বিশাল জনসমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন অভিবাসী নাগরিক মুসলিম তরুণ জোহরান মামদানী। গত ৪ নভেম্বর ঐতিহাসিক বিজয় লাভের পর আগামী ১ জানুয়ারি তিনি নিউইয়র্ক শহরের মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন।
গত ৪ নভেম্বর মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জোহরান মামদানীর বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে ইতিহাস তৈরি হয়, তা বিশ্ব রাজনীতির জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ বললে খুব বেশি বলা হবে না। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে কীভাবে বিজয় অর্জন করতে হয়, সারা বিশ্বের রাজনীতিকদের জন্য সেই ‘সহজপাঠ’ তৈরি করেছেন জোহরান মামদানী। তারা শিক্ষা নিতে পারেন জোহরান মামদানীর নির্বাচনী প্রচারণা কৌশল থেকে।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর মঙ্গলবার রাতে ব্রুকলিনে সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি এক বিজয় ভাষণ দেন। দুনিয়া কাঁপানো ২১ মিনিটের ভাষনে তিনি বলেন, ধন্যবাদ, আমার বন্ধুরা। আজ সূর্য আমাদের শহরের ওপর অস্ত গেছে, কিন্তু ইউজিন ডেবসের মতো, ‘আমি মানবতার জন্য এক নতুন দিনের ভোর দেখতে পাচ্ছি।’
নিউইয়র্কের শ্রমজীবী মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ধনীদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে ক্ষমতা তাদের হাতে নয়। যে হাত গুদামে বাক্স তুলতে গিয়ে আঘাত পায়, যে হাত বাইকের হ্যান্ডলে শক্ত হয়ে গেছে, যে হাতে রান্নাঘরের দাগ- সেই হাতগুলোকে কখনো ক্ষমতা ধরতে দেওয়া হয়নি।
তবু গত এক বছরে আপনারা সেই সীমা অতিক্রম করার সাহস দেখিয়েছেন। আজ রাতে, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও আমরা সেই লক্ষ্য অর্জন করেছি। ভবিষ্যৎ এখন আমাদেরই হাতে।
বন্ধুরা, আমরা একটি রাজনৈতিক রাজবংশের অবসান ঘটিয়েছি।
আমি অ্যান্ড্রু কুওমোর ব্যক্তিগত জীবনের জন্য শুভকামনা জানাই। কিন্তু আজ রাতই তাঁর নাম শেষবারের মতো উচ্চারিত হোক। কারণ যে রাজনীতি অল্প কয়েকজনের জন্য কাজ করে আমরা তার সমাপ্তি চাই। নিউইয়র্কের বাসিন্দারা আজ রাতে স্পষ্টভাবে বলেছেন, আপনারা পরিবর্তন চান। এমন এক শহর চান, যা সবার নাগালে। এমন এক সরকার চান, যা তা নিশ্চিত করবে।
আগামী ১ জানুয়ারি আমি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নেব। এটি সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র আপনাদের কারণে। তাই প্রথমেই বলতে চাই- ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ সেই নতুন প্রজন্মের নিউইয়র্কবাসীকে, যারা অতীতের প্রতিশ্রুতিকে ভবিষ্যতে বাস্তবে রূপ দিতে চায়। আপনারা দেখিয়েছেন, যখন রাজনীতি জনগণের ভাষায় কথা বলে, তখন নতুন নেতৃত্বের যুগ শুরু হয়।
আমরা আপনাদের জন্য লড়ব, কারণ আমরাও আপনাদেরই একজন। যেমন আমরা স্টেইনওয়েতে বলি, ‘আনা মিনকুম ওয়া ইলাইকুম’ (আমি তোমাদেরই একজন, তোমাদের জন্যই)। ধন্যবাদ সেসব মানুষকে, যাদের কথা এ শহরের রাজনীতি প্রায়ই ভুলে যায়। তারা এ আন্দোলনকে নিজেদের করে নিয়েছেন। আমি বলছি ইয়েমেনি দোকানদার, মেক্সিকান দাদি, সেনেগালের ট্যাক্সিচালক, উজবেকিস্তানের নার্স, ত্রিনিদাদের রাঁধুনি এবং ইথিওপিয়ান খালাদের কথা। হ্যাঁ, আমার প্রিয় খালারা।
কেনসিংটন, মিডউড বা হান্টস পয়েন্টের প্রতিটি নিউইয়র্কবাসীকে বলছি, এই শহর আপনার, এ গণতন্ত্রও আপনার। এ আন্দোলন ছিল তাদের জন্য যারা নিউইয়র্কে বাসা ভাড়া দিতে পারেন না বলে প্রতিদিন পেনসিলভানিয়া থেকে দুই ঘণ্টা পথ পাড়ি দেন।
আপনাদের প্রচেষ্টায় আমরা আবার এমন একটি শহর গড়ব, যেখানে কর্মজীবী মানুষ ভালোবাসতে ও বাঁচতে পারবে। আপনাদের প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়া, প্রতিটি স্বাক্ষর, প্রতিটি আলোচনা, সবই আমাদের রাজনীতির হতাশাকে আশায় বদলে দিয়েছে।
এ আন্দোলন ছিল সেই নারীটির জন্যও, যিনি একদিন বাসে করে যাওয়ার সময় আমাকে বলেছিলেন, ‘আমি একসময় নিউইয়র্ককে ভালোবাসতাম। এখন শুধু এখানে থাকি।’
আর ট্যাক্সিচালক রিচার্ডের কথাও বলি। তাঁর সঙ্গে আমি সিটি হলে ১৫ দিনের অনশন করেছিলাম। ভাই, আজ আমরা সিটি হলে আছি। এ বিজয় সেই এক লাখেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবকদের, যারা এ প্রচারণাকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপ দিয়েছেন।
আপনাদের প্রচেষ্টায় আমরা আবার এমন একটি শহর গড়ব, যেখানে কর্মজীবী মানুষ ভালোবাসতে ও বাঁচতে পারবে। আপনাদের প্রতিটি দরজায় কড়া নাড়া, প্রতিটি স্বাক্ষর, প্রতিটি আলোচনা, সবই আমাদের রাজনীতির হতাশাকে আশায় বদলে দিয়েছে।
গত এক বছরে আমি আপনাদের কাছ থেকে অনেক কিছু চেয়েছি। আর আপনারা প্রতিবার সাড়া দিয়েছেন। তবে আমার এক শেষ অনুরোধ আছে- এ মুহূর্তটিকে অনুভব করুন।
আমরা অনেকদিন ধরে শ্বাস আটকে রেখেছিলাম। ছিল পরাজয়ের আশঙ্কা, বঞ্চনার ভার, অনিশ্চয়তা। আজ আমরা এমন এক শহরের বাতাসে নিশ্বাস নিচ্ছি, যে শহরের নতুন জন্ম হচ্ছে।
আমার প্রচারণা দলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা। আপনারা বিশ্বাস রেখেছিলেন যখন অন্য কেউ রাখেনি। আপনারা এক নির্বাচনী প্রচারণাকে আন্দোলনে রূপ দিয়েছেন। এখন আপনারা বিশ্রাম নিতে পারেন।
আমার বাবা-মা আপনারাই আমাকে গড়ে তুলেছেন। আমি গর্বিত আপনাদের সন্তান হতে পেরে। আর আমার অসাধারণ স্ত্রী রমা হায়াতি (দুয়াজি)- এ মুহূর্তে এবং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তোমার পাশে থাকাটাই আমার সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য। প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর প্রতি- আপনি আমাকে ভোট দেন বা আমার প্রতিদ্বন্দ্বীকে কিংবা রাজনীতিতে হতাশ হয়ে ভোট না দেন- আমি কৃতজ্ঞ। আমাকে আপনার আস্থার যোগ্য প্রমাণের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। প্রতিদিন সকালে আমি এ শহরটিকে আগের দিনের চেয়ে আরও ভালো করে গড়ে তোলার উদ্দেশ্য নিয়ে জাগব।
অনেকে ভেবেছিলেন আজকের দিনটি কখনো আসবে না। তারা ভয় পেতেন, আমরা কেবল একই রকম ভবিষ্যতের ফাঁদে বন্দি থাকব। অনেকে বিশ্বাস হারিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন, রাজনীতি আজ এত নিষ্ঠুর হয়ে গেছে যে আশার আলো আর টিকতে পারে না। কিন্তু নিউইয়র্ক আজ সেই ভয়কে জবাব দিয়েছে।
আজ আমরা এক স্পষ্ট কণ্ঠে বলেছি, আশা এখনো বেঁচে আছে। এ আশাতেই ১০ লাখের বেশি মানুষ চার্চ, জিমনেসিয়াম ও কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে গণতন্ত্রের খাতায় নিজেদের নাম লিপিবদ্ধ করেছেন। আমরা একা ভোট দিয়েছি। কিন্তু একসাথে প্রত্যাশা বেছে নিয়েছি। আমরা বেছে নিয়েছি আশাকেÑ স্বৈরাচারের পরিবর্তে, অর্থ ও ক্ষুদ্র চিন্তার পরিবর্তে, হতাশার পরিবর্তে। আমরা জিতেছি, কারণ নিউইয়র্কবাসীরা বিশ্বাস করেছেন, অসম্ভবও সম্ভব করা যায়। আমরা জিতেছি, কারণ আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে রাজনীতি আর আমাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া কিছু হবে না। এখন আমরা নিজেরাই রাজনীতি করব। নিউইয়র্ক আর সেই শহর হবে না যেখানে ইসলামফোবিয়াকে পুঁজি করে নির্বাচনে জেতা যায়। এ নতুন যুগে দক্ষতা ও সহমর্মিতা একসঙ্গে চলবে। আমরা প্রমাণ করব, এমন কোনো সমস্যা নেই যা সরকার সমাধান করতে পারে না এবং অগ্রাহ্য করার মতো ছোট কোনো উদ্বেগ নেই।
এ মুহূর্তে আমি জওহরলাল নেহরুর কথা স্মরণ করছি, ‘ইতিহাসে এমন মুহূর্ত আসে, যখন আমরা পুরোনোকে পেছনে ফেলে নতুনের দিকে পা বাড়াই, যখন একটি যুগ শেষ হয় এবং দীর্ঘদিন নীরব থাকা জাতির আত্মা কথা বলতে শুরু করে।’ আজ আমরা সেই নতুন যুগে প্রবেশ করেছি।
এখন সময় এসেছে স্পষ্টভাবে বলার- এ নতুন যুগ কাদের জন্য এবং কী আনবে। এটি হবে এমন এক যুগ, যখন নাগরিকরা নেতাদের কাছ থেকে সাহসী দৃষ্টি আশা করবে, অজুহাত নয়। সেই দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রবিন্দু হবে জীবিকা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট মোকাবিলায় ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি। আমরা ২০ লাখেরও বেশি ভাড়াটিয়ার জন্য ভাড়া স্থগিত করব, শহরজুড়ে বাস সেবা বিনামূল্যে ও দ্রুত করব এবং সর্বজনীন শিশুযত্ন ব্যবস্থা চালু করব।
এ নতুন যুগ হবে ধারাবাহিক উন্নতির যুগ। আমরা হাজারো নতুন শিক্ষক নিয়োগ করব, প্রশাসনের অপচয় বন্ধ করব এবং দীর্ঘদিন অন্ধকার থাকা সরকারি আবাসনের করিডোরগুলোয় আবার আলো জ্বালাব।
নিরাপত্তা ও ন্যায় একসাথে চলবে। আমরা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করব অপরাধ কমাতে। মানসিক স্বাস্থ্য ও গৃহহীনতার সংকট মোকাবিলায় ‘কমিউনিটি সেফটি বিভাগ’ গঠন করব। দক্ষতা হবে সরকারের নতুন মানদণ্ড। আমরা ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করব। এ রাজনৈতিক অন্ধকারে নিউইয়র্ক হবে আলোর প্রতীক। আমরা বিশ্বাস করি- যাদের আমরা ভালোবাসি, তাদের পাশে দাঁড়ানোই মানবতার পরিচয়। আপনি অভিবাসী হোন, হোন ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায়ের সদস্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে চাকরি হারানো কোনো কৃষ্ণাঙ্গ নারী বা পণ্যের দাম কমার অপেক্ষায় থাকা সিঙ্গেল মা, আপনি যেই হন, আপনার সংগ্রামই আমাদের সংগ্রাম।
আমরা এমন একটি সিটি হল গড়ব, যা ইহুদি নিউইয়র্কবাসীদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াবে। ইহুদিবিরোধী ঘৃণার বিরুদ্ধে আপসহীন থাকবে। একইসঙ্গে শহরের ১০ লাখেরও বেশি মুসলমানের কাছে এ বার্তা পৌঁছে যাবেÑ তারা শুধু এ শহরের পাঁচটি ব্রাওতেই নয়, বরং ক্ষমতার কেন্দ্রেও নিজেদের অন্তর্ভুক্ত মনে করবেন।
বহু বছর ধরে সিটি হল কেবল তাদেরই সাহায্য করেছে, যারা তাদের কিছু ফিরিয়ে দিতে পারে। কিন্তু আগামী ১ জানুয়ারি থেকে আমরা এমন একটি সরকার গঠন করব, যা সবার সেবা করবে।
আমি জানি, অনেকেই আমাদের বার্তা শুনেছেন ভুলভাবে। কোটি কোটি ডলার খরচ করা হয়েছে বাস্তবতাকে বিকৃত করতে এবং মানুষকে বোঝাতে যে আমাদের এ নতুন যুগ তাদের জন্য হুমকি। ধনীদের একাংশ সবসময়ই চেষ্টা করেছে ঘণ্টায় ৩০ ডলার আয়ের মানুষকে বিশ্বাস করাতে যে তাদের শত্রু হলো ঘণ্টায় ২০ ডলার আয় করা শ্রমিক। তারা চায়, মানুষ যেন নিজেদের মধ্যেই লড়াইয়ে লিপ্ত থাকে, যাতে পুরনো অচল ব্যবস্থাকে বদলের কাজ থেকে আমরা বিভ্রান্ত হয়ে যাই। কিন্তু আমরা আর তাদের সেই খেলার নিয়ম মানব না। এখন থেকে তাদের আমাদের নিয়মে চলতে হবে।
নিউইয়র্ক অভিবাসীদের শহর থাকবে। হবে অভিবাসীদের গড়া, অভিবাসীদের শক্তিতে চলা এবং আজ থেকে অভিবাসীর নেতৃত্বে পরিচালিত শহর। আমরা একসঙ্গে বদলের এক নতুন যুগ সূচনা করব। যদি আমরা এ সাহসী পথকে বেছে নিই, তাহলে একনায়কতন্ত্র ও ধ্বনিতন্ত্রের জবাব আমরা শক্তি দিয়ে দিতে পারবÑ নমনীয়তা দিয়ে নয়।
যে শহর ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্ম দিয়েছে, সেই শহর পারে তাকে পরাজিত করতে। আর কোনো স্বৈরশাসককে ভয় দেখানোর শ্রেষ্ঠ উপায় হলো, তাঁকে ক্ষমতার সুযোগ দিয়েছে যে বাস্তবতা, সেই বাস্তবতা ভেঙে দেওয়া। এভাবেই আমরা শুধু ট্রাম্পকেই নয়, ভবিষ্যতের ট্রাম্পদেরও ঠেকাব। তাই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেহেতু জানি আপনি শুনছেন, আপনার জন্য আমার চারটি শব্দ : আপনার ভলিউমটা বাড়িয়ে নিন।
আমরা খারাপ মালিকদের জবাবদিহির মুখে আনব। কারণ আমাদের শহরের ট্রাম্পদের মতো অনেকেই ভাড়াটিয়াদের শোষণ করে আরাম করছে। আমরা দুর্নীতির সেই সংস্কৃতি শেষ করব, যা ধনীদের কর ফাঁকি দিয়ে সুবিধা নিতে দিয়েছে। আমরা শ্রমিক সংগঠনের পাশে দাঁড়াব এবং শ্রম অধিকার বৃদ্ধি করব। কারণ আমরা জানি, যখন শ্রমিকদের অধিকার দৃঢ় হয়, তখন তাদের শোষণকারীরা দুর্বল হয়ে যায়।
তাই আমাকে শুনুন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আমাদের কারও কাছে পৌঁছাতে হলে আপনাকে আমাদের সবার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। মাত্র ৫৮ দিনের মধ্যে আমরা সিটি হলে প্রবেশ করব। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে বড়, আর আমরা তা পূরণ করব।
এক মহান নিউইয়র্কার একবার বলেছিলেন, ‘আপনি যদি কবিতায় প্রচারণা চালান, তাহলে গদ্যে শাসন করবেন।’ যদি সেটিই সত্য হয়, তবে আমাদের সেই গদ্যেও যেন ছন্দ থাকে। আমরা যেন গড়ি সবার জন্য উজ্জ্বল এক শহর।
প্রতিটি সিঙ্গেল মা তা অনুভব করবে, যখন তাঁর যাত্রা নিরাপদ হবে, বাস দ্রুত চলবে আর সময়মতো কাজে পৌঁছাতে তাড়াহুড়া করে বাচ্চাকে স্কুলে দিয়ে আসতে হবে না। নিউইয়র্কবাসীরা সকালে যখন পত্রিকা খুলবেন, তারা সফলতার খবর পড়বেন, কেলেঙ্কারির নয়।
আমাদের এখন নতুন পথ রচনার সময় এসেছে। সেই সাহস নিয়ে আমরা আজ পর্যন্ত চলেছি। প্রচলিত ধারণা বলবে আমি আদর্শ প্রার্থী নই। আমি তরুণ, মুসলিম, গণতান্ত্রিক, সমাজতন্ত্রী। সবচেয়ে বড় কথা, এ পরিচয়ের জন্য আমি কখনো ক্ষমা চাইব না।
আজকের দিনটি আমাদের বলছে, প্রথাগত চিন্তাধারাই আমাদের পিছিয়ে রেখেছে। আমরা অতিরিক্ত সতর্কতার নামে অনেক ত্যাগ করেছি। শ্রমজীবী মানুষের অনেকেই আর নিজেদের দলকে চিনতে পারেন না। কেউ কেউ উত্তর খুঁজতে ডানপন্থার দিকে ঝুঁকেছেন।
আমরা গড়পড়তা অবস্থাকে পেছনে ফেলে যাব। ডেমোক্র্যাটরা সাহসী হতে পারে, এর প্রমান আর ইতিহাসের বইয়ে খুঁজতে হবে না। আমাদের বর্তমান সেই কথা বলবে।
প্রতিটি ভাড়াটিয়া তা অনুভব করবে, যখন প্রতি মাসের প্রথম দিনে সে জানবে, তার ভাড়া আগের মাসের মতোই আছে। প্রতিটি প্রবীণ তা অনুভব করবে, যখন তিনি তাঁর নিজ বাড়িতে থাকতে পারবেন। তাঁর নাতি-নাতনিরা তাঁর কাছেই থাকবে। কারণ শিশু যত্নের খরচ মেটাতে গিয়ে তাদের আলাদা থাকতে পারবে না।
সবচেয়ে বড় কথা, প্রতিটি নিউইয়র্কবাসী অনুভব করবে, অবশেষে এ শহর তাদের ভালোবাসে, যেমন তারা এ শহরকে ভালোবাসে।
নিউইয়র্ক, একসঙ্গে আমরা ভাড়া স্থির করব!
নিউইয়র্ক, একসঙ্গে আমরা বাস সেবা দ্রুত ও বিনামূল্যে করব!
নিউইয়র্ক, একসঙ্গে আমরা সর্বজনীন শিশুযত্ন নিশ্চিত করব!
আমরা একসঙ্গে যে কথা বলেছি, যে স্বপ্ন দেখেছি, তা এখন বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ নেবে।
নিউইয়র্ক, এই ক্ষমতা তোমার। এ শহর তোমারই।
ধন্যবাদ।
অবশেষে মুসলিম তরুণ আগামীর নিউইয়র্ক মেয়র সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার স্বপ্নময় ভাষণ শেষ করেন।
কে এই জোহরান মামদানী
জোহরান মামদানী জন্মগ্রহণ করেন ১৯৯১ সালের ১৮ অক্টোবর উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায়। তার মা প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং বাবা মাহমুদ মামদানী একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী, যিনি ভারতের মাটিতে জন্ম নিলেও উগান্ডার নাগরিক। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পরিবারসহ দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যান জোহরান। ছোটবেলা থেকেই তিনি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন, যা পরে তার রাজনৈতিক চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব ফেলে। জোহরান ব্রঙ্কস চিলড্রেন থেকে প্রথমে পড়াশোনা করেন এবং পরে ব্রঙ্কস হাই স্কুল অব সায়েন্স থেকে পাস করেন। এর পর তিনি বাউডইন কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৪ সালে আফ্রিকানা স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। কলেজে থাকাকালীন তিনি ‘স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ আন্দোলন শুরু করেন।
রাজনীতিতে প্রবেশ করার আগে একজন ফোরক্লোজার প্রিভেনশন কাউন্সিলর হিসেবে, পরে স্থানীয় প্রচারে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন যেখানে রয়েছে আলি নাজমি, খাদির এল-ইয়াতিম, রস বারকান এবং টিফানি কাবানের ভূমিকা। মামদানী কুইন্স, নিউইয়র্কের কম-আয়করী গৃহমালিকদের উচ্ছেদ এড়াতে সহায়তা করার জন্য হাউজিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। তিনি সঙ্গীতেও সক্রিয় ছিলেন, ছদ্মনাম ইয়ং কার্ডামোম এবং মি. কার্ডামোমের নামে র্যাপ পারফর্ম এবং প্রযোজনা করতেন। উগান্ডার র্যাপার ঐঅই-এর সঙ্গে সহকর্মি হিসাবে এবং তার মাতার চলচ্চিত্র ‘কুইন অব কাটওয়ে’-এর সাউন্ডট্রাকে তিনি কাজ করেছেন।
সাত বছর বয়সে মামদানী মা-বাবার সঙ্গে নিউইয়র্কে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পান তিনি। রাজনীতিতে তিনি একেবারে নতুন মুখ। তবে নিউইয়র্ক নগরকে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য অধিক বসবাসযোগ্য করে তোলার স্বপ্ন দেখিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বাজিমাত করেছেন তিনি। সিরীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক রমা দুওয়াজি মামদানীর জীবনসঙ্গী, যিনি হবেন নিউইয়র্ক শহরে ইতিহাসের প্রথম জেন-জি ফার্স্টলেডি। মামদানীর মা, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ারের প্রভাবে তার বাংলা ভাষা রপ্ত হয়। প্রচারণায় তিনি আরবি, হিন্দি-উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ব্যবহার করেন।
রাজনৈতিক জীবন : মামদানী তাঁর রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন ২০১৫ সালে। তিনি ২০১৭ সালে আমেরিকার ডেমোক্র্যাটিক সোশালিস্টস (DSA)-এ যোগ দেন। ২০২০ সালে মামদানী নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিতে নির্বাচিত হন কুইনসের ৩৬নং ডিস্ট্রিক্টের পাঁচ মেয়াদে থাকা একজন প্রার্থীকে পরাজিত করে যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আস্তোরিয়া এবং লং আইল্যান্ড সিটি। তিনি বিভিন্ন অ্যাসেম্বলি কমিটিতে কাজ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে বার্ধক্য, শহর, নির্বাচন আইন, জ্বালানি এবং রিয়েল প্রপার্টি ট্যাক্সেশন। তিনি ২০২২ এবং ২০২৪ সাল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে জোহরান মামদানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একজন নেতৃস্থানীয় ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট সদস্য। তিনি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে কাজ করেন এবং ২০টি বিলের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন যার মধ্যে তিনটি আইনে পরিণত হয়েছে।
জোহরান মামদানী বার্নি স্যান্ডার্স দ্বারা অনুপ্রাণিত। ২০৩০ সালের মধ্যে তিনি সফলভাবে ফেয়ার-ফ্রি বাস পাইলট প্রোগ্রামের মতো উদ্যোগ শুরু করেন এবং ভাড়াটিয়া অধিকার, জ্বালানি সংস্কার, অভিবাসীসূলভ নিউইয়র্ক, ৩০ ডলার ন্যূনতম মজুরির পক্ষে দাবি করেছেন।
জোহরান মামদানী নিজেকে একজন তরুণ, মুসলিম, গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক হিসেবে পরিচয় দেন যেটি নিউইয়র্ক মেয়র নির্বাচিত হওয়া পরবর্তী বিজয় ভাষনেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
ইসরাইল-ফিলিস্তিন সঙ্কট : মামদানী ফিলিস্তিনের সমর্থক এবং ইসরাইলের কট্টর সমালোচক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘গাজায় যা ঘটছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ। ’মামদানী ইসরাইলি সরকারকে গাজার ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ করেছেন এবং বলেছেন যে ইসরাইলের ‘সবাইকে সমান অধিকার প্রদানের একটি রাষ্ট্র’ হিসেবে থাকা উচিত, ‘ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে নয়। ইসরাইল-ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে, তিনি Boycott, Divestment, Sanctions Movement বিডিএসকে সমর্থন করেন, অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরোধিতা করেন এবং গাজা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
মেয়র নির্বাচন, রিপাবলিকান পার্টি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প : নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয় পান মুসলিম তরুণ জোহরান মামদানী। সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যান তিনি। ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর নিউউয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট পার্টি থেকে প্রার্থিতা ঘোষণা করেন জোহরান মামদানী। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি, গাজা যুদ্ধ, নিউইয়র্কে আবাসন সঙ্কট, পুলিশি বর্বরতা এবং শ্রমিক অধিকার ইস্যুতে নগরবাসীর মধ্যে এক অদৃশ্য ক্ষোভ জমছিল। জোহরান সেই ক্ষোভের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেন। মেয়র হলে এ সিটিতে সাশ্রয়ী আবাসন, ন্যায্যমূল্যের সিটি গ্রোসারি, বিনামূল্যে সিটির পরিবহন সেবা চালু করার অঙ্গীকার করেন মামদানী।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই মামদানীকে অপমান করেছেন এবং নিজ রিপাবলিকান দলের প্রার্থীকে উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিস্টার কুয়োমোর প্রতি শেষ মুহূর্তের সমর্থন জ্ঞাপন করেছেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, ‘আপনাকে তার পক্ষে ভোট দিতে হবে, এবং আশা করতে হবে তিনি চমৎকার কাজ করবেন। তিনি এটি করতে সক্ষম, মামদানী নয়!’
নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে কম বয়সী মেয়র হওয়ার দৌড়ে থাকা বামপন্থি প্রার্থী জোহরান মামদানীকে ঘিরে বাড়তি আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
জোহরান মামদানীকে ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে সক্রিয় ছিলেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মামদানীকে নির্বাচিত না করতে ভোটারদের সরাসরি আহ্বানও জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এমনকি মামদানী মেয়র নির্বাচিত হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ নিউইয়র্কে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প।
মিস্টার মামদানী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করবেন তা তার অন্যতম বড় এবং সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে। কিছু মানুষ ভয় করছে যে, মিস্টার ট্রাম্প মিস্টার মামদানী অফিসে আসার পরে শহরে ন্যাশনাল গার্ড বা অভিবাসন সংক্রান্ত কড়া পদক্ষেপ নেওয়া কর্মকর্তাদের পাঠাতে পারেন।
এছাড়া এ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টিস স্লিওয়া এরই মধ্যে মামদানীকে শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন। ‘আমাদের একজন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন,’ মঙ্গলবার রাতে সমর্থকদের একটি দলকে স্লিওয়া বলেন। ‘অবশ্যই আমি তাকে শুভকামনা জানাই, কারণ তিনি যদি ভালো করেন, তাহলে আমরাও ভালো করব।’
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হওয়া জোহরান মামদানীর জন্য নানা দিক থেকে উল্লেখযোগ্য। ১৮৯২ সালের পর তিনি শহরের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হবেন। এছাড়া আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী প্রথম মুসলিম মেয়রও তিনি। এ কারণেও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমো এবং রিপাবলিকান মনোনীত প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়ার বিরুদ্ধে তার জয় অসাধারণ।
৪৪ বছরের মিশেল ম্যাক্সুইনি যিনি ব্রুকলিনের বে রিজে একটি লাইব্রেরিতে তার দুই শিশুকে নিয়ে এসে মি. মামদানী-এর জন্য তার ভোট দিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি আশার মতো লাগছে’, ‘আমার মনে হয় না আমি বারাক হুসাইন ওবামার সময়ের পর থেকে এভাবে অনুভব করেছি।’
নিউইয়র্ক মেয়র মামদানী
ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো মুসলিম মেয়র পেলো নিউইয়র্ক সিটি। স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে নিউইয়র্ক সিটির ১১১তম মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানী। গত ১০০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে নিউইয়র্ক শহরের সর্বকনিষ্ঠ মেয়র নির্বাচিত হলেন জোহরান মামদানী। নিউইয়র্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ মেয়রের খেতাব রয়েছে হিউ জে গ্রান্টের, যিনি ১৮৮৯ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদিকে সামাজিক মাধ্যম এক্স এ দেয়া এক পোস্টে সিটি বোর্ড অব ইলেকশনস দাবি করেছে, পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবার ভোটার উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
‘আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে দুই মিলিয়ন ভোট পেয়েছি- ১৯৬৯ সালের পর প্রথমবারের মতো!’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ঐতিহ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি ও বক্তব্যে কারণে এবারের নির্বাচন আরো ভিন্ন ছিল। মেয়র নির্বাচিত হয়ে মামদানী তার কিছু প্রতিশ্রুতি এবং আকাক্সক্ষা প্রকাশ করেন।
সুত্র: আল্-জাজিরা, বিবিসি, এপি, মিডল ইস্ট আই।
লেখক : এমফিল গবেষক (এবিডি), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।