আক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার প্রাণহানি ৩ শতাধিক
১৩ নভেম্বর ২০২৫ ১৮:৪৩
স্টাফ রিপোর্টার : ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও এ রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে নাগরিকদের রক্ষায় সরকারের দুটি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করার কথা, কিন্তু একটি মন্ত্রণালয় বাধ্য হয়ে কাজ করলেও অন্যটি একেবারেই নির্বিকার। প্রতিদিন শতসহস্র মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, মারা যাচ্ছেন, কিন্তু সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের টনক নড়ছে না। কোনো নাগরিক যখন আক্রান্ত হন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়, তখন হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সাধ্যমতো চেষ্টা করেন রোগীকে সঠিক সেবা দেওয়ার জন্য। এরপরও চিকিৎসাধীন রোগী প্রায় প্রতিদিনই মারা যাচ্ছেন রোগীরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে কেউ আক্রান্ত হলে তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া। মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা হাসপাতালগুলো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু ডেঙ্গু মশা যাতে বংশ বিস্তার করতে না পারে এবং মশার বংশ ধ্বংস করার দায়িত্ব স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। এ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে মশার বংশ ধ্বংস করা। কিন্তু সেটি করা হয়নি, হচ্ছে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মশা মারতে সক্রিয় ভূমিকায় নেই। ফলে বাড়ছে মশা, আর কামড় খেয়ে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন, হাসপাতালে ভিড় বাড়াচ্ছেন, চাপে থাকতে হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় মশা মারতে সিরিয়াস না হলে নাগরিকদের ভোগান্তি ও বিপদ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।
গত ১০ নভেম্বর সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো তথ্য বলছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৭৯ হাজার ৭২২ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে ৩১৫ জনের। ১০ নভেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৭৯ জন। এদিকে গত একদিনে সারা দেশে ১ হাজার ১১৬ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৯ জন।
গত ১০ নভেম্বর ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে নানা পদক্ষেপের কথা জানায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এতে বলা হয়, ডিএনসিসির এলাকার এক হাজার ২৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ‘ক্লিন স্কুল, নো মসকিউটো’ শীর্ষক বিশেষ মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ব্র্যাক ও ডিএনসিসির যৌথ উদ্যোগে ‘অপারেশন ক্লিন হোম হেলথ লাইভস’ কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ৩৪ দিনের এ কর্মসূচিতে ২৫টি ওয়ার্ডে ৩৪টি অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গু ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোয় তিন দিনব্যাপী ‘অপারেশন ক্লিন টুডে, সেফ টুমরো’ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ এক হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুবরণ করেছেন ৫৭৫ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট এক হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ওই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন মোট তিন লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন।