ছড়া কবিতা
৬ নভেম্বর ২০২৫ ২০:৫০
হেমন্তের বাংলাদেশ
নূরুন্নাহার নীরু
শিউলি ঝরে বাগ বাগিচায়
যেন ভোরের তারা,
ছুটছে মেতে শিশুর দলে
ঘুম ভাঙানি যারা।
লুটায় হেসে ফুলের মতো
ফুল তুলিতে যেয়ে,
নতুন চোখে স্বপ্ন মাখে
হেমন্তকে পেয়ে।
হেমন্তও ছড়ায় প্রেম
বাংলাদেশের ঘরে,
শিউলি ফুল আর শিশির কনায়
রূপ লাবণ্যে ভরে।
আসছে সে জড়িয়ে সুধা
মাঠ প্রান্তরে ঝরে,
ম-ম গন্ধে মাচা
পাকা ধানে ভরে।
হেমন্ত আর বাংলাদেশ
এই দুই এতে মিলে,
স্বপ্ন আঁকে মধু মাখে
খালে-বিলে-ঝিলে।
কাটলো কুমির খাল
শেখ সালমান শাহী
না খেতে পেয়ে কুমির আজ
যাবেই বুঝি মরে
কারর দেখাটা পায় না সে
থাকতো সবাই দূরে।
গায়ে মানুষ মাছ খুঁজে এসে
নিয়ে কাঁধে জাল
দেখে তাই তো বুদ্ধি করে
কাটলো কুমির খাল।
খালেই মাছ ফেলে অপেক্ষা
জলে ডুবে কুমির
ধরবে শিকার তো আজ
নামতে এলে সবির।
অক্টোবরের আটাশ
সাদমান হাফিজ শুভ
অক্টোবরের ২৮ তারিখ
আসে দুখের কাল,
লাশের ওপর নৃত্য তোলে
রক্তখেকোর পাল।
বৈঠা-লগির হিংস্র খেলায়
মেতে ওঠে হায়!
পুতহারা মা’র কপোল বেয়ে
অশ্রু বয়ে যায়।
ফ্যাসিবাদের বীজ বুনে যায়
দেখায় দাঁতাল মুখ,
দিন দিনে ঝাঁঝরা করে
লাল-সবুজের বুক।
শাহাদাতের নাজরানায়
ভাসে লহুর ঘ্রাণ,
ভাবতে গেলে কান্না হয়ে
শিউরে ওঠে প্রাণ।
কেমন করে শোধাই আহা
শহীদ ভাইয়ের ঋণ,
স্মৃতির পাতায় অমর হয়ে
রবে অমলিন।
ডেকে ডেকে বলবে ওরা
বদর দিনের গান,
আরশ পাকের সুধা পেতে
হওরে আগুয়ান।
মোবাইলটা
মো. কাজী আবুল কাশেম
মোবাইলটা হাতে হাতে
আজকাল ফ্যাশন।
গেম আর টিকটক না হলে
বাড়ে শুধু টেনশন।
বসে বসে গেম খেলে
সময় করে শেষ।
টিকটক করে করে
আয় করে বেশ।
ফ্রেন্ডশিফ আর ভালোবাসা
হয় মোবাইলে।
সেলফি করতে গিয়ে কখনো
প্রাণ যায় চলে।
মোবাইলটা কানে নিয়ে
পথ চলে যখন।
কথা বলতে বলতে
বিপদ হয় তখন।
মোবাইলটা হ্যাই-হ্যালো
সব কাজে চলে।
এমবি ভরে ভরে
টাকা যায় জলে।
খুকুমণি
নার্গিস আক্তার
খুকু আমার চোখের মণি
স্বপ্ন সুখের গয়না
সকাল সাঁঝে কাজের মাঝে
ধরে হাজার বায়না।
পুতুল নিয়ে করে খেলা
পুতুল দিবে বিয়ে
সন্ধ্যাবেলা ঘুমিয়ে পড়ে
দুধের বোতল নিয়ে।
সকাল বিকাল দুপুর রাতে
শত করে বাহানা
মাঝে মাঝে বলে উঠে
দাও না একটা আয় না।
রাতের বেলায় ঘুমের ঘোরে
চেঁচিয়ে বলে মাগো
আকাশের ওই চাঁদটা আমায়
এনে একটু দাও গো।
এই হেমন্তে এসো
খন্দকার জাহাঙ্গীর হুসাইন
দিলাম চিঠি তোমার নামে
এই হেমন্তে এসো-
নতুন ধানের পায়েস খেয়ে
মিষ্টি করে হেসো।
ধানের মাঠে সোনার ঢেউয়ে
হাওয়ায় মিষ্টি গান-
পাখিরা ডাকে, সূর্য হেসে
ভরিয়ে দেয় প্রাণ।
ঝরাপাতার নরম ছোঁয়ায়
বিকেল নামে ধীরে,
মনটা তো চায় মাঠ পেরিয়ে
চলে আসি ফিরে।
এসো তুমি ধানক্ষেতে পথ,
শিশিরভেজা ঘাসে-
বীরগাথা সব গল্প শুনবো
বসে দাদুর পাশে।
প্রিয়নবী
রাহেলা আক্তার
আঁধার যুগে মক্কার বুকে
উঠলো নুরের রবি;
“মা” আমেনার কোলে এলো
আমার প্রিয়নবী।
অমানিশা ঘুচে ধরায়
বইলো খুশির জোয়ার,
আকাশ, বাতাস, ফুল, পাখিরা
আর্জি করে দোয়ার।
অন্ধকারে ডুবেছিল
মানবতার সব পথ,
আলো দিল কুরআন মজিদ
ভাঙলো মিথ্যার শপথ।
ত্রিশ পারা কুরআন মজিদ
নাজিল যাহার ওপর,
তিনি হলেন প্রিয়নবী
নবুয়্যতের মোহর।
মাঠের দিকে দেখো
আরজাত হোসেন
মাঠের দিকে দেখো
হলদে রঙের পাকা ধানে
শালিক পাখি নাচতে জানে।
মাঠের কৃষক গাইতে জানে
উড়তে জানে মেঘও,
আকাশ পানে দেখো।
দূর থেকে ওই আসছে পাখি
করছে কেমন ডাকাডাকি।
শীতের আভাস নামছে গাঁয়ে
শিশিরকণা লাগছে পায়ে
চাদর গায়ে রেখো,
ওই যে পাশের ফসল চাষের
মাঠের দিকে দেখো।
ছোট্ট খুকি
ইকবাল হোসেন ইমন
ছোট্ট খুকি পড়ছে বসে
বারান্দায় বিছানা পেতে,
সেইটা দেখে বিড়ালটি তাঁর
কোলে আসন পাতে।
পায়রাগুলো উড়ছে এসে
খুকির চারপাশে,
বিড়ালছানা দেখতে পেল
খুকি শুধু হাসে।
মিঁউ-মিঁউ করে জিগায় তাঁকে
কী পড়ছো সোনামণি?
খুকি বলে, পড়ছি আমি
এক দেশে ছিল এক রাণী।
আল কুরআন
কুলসুম বিবি
রোজ সকালে কুরআন পড়েন
বাবা মধুর সুরে
আমি তখন কান পেতে রই
বসে একটু দূরে।
কুরআন পড়া শুনলে মন চায়
শুনি বারে বারে
আল-কুরআনের মধুর বাণী
হৃদয় আমার কাড়ে।
পড়লে নেকি শুনলে নেকি
মানলে নেকি জানি
আল কুরআন জীবন বিধান
এই সত্যটা মানি।
আল্লাহ তালার বাণী
শাহীন খান
কুরআন হলো আল্লাহ তালার বাণী।
কুরআন পাঠে যায়, মুছে যায় গ্লানি।
দিকে দিকে তাকে নিয়ে জয়ধ্বনি হয়।
তাকে ঘিরে সাগর, নদী আপন স্রোতে বয়।
চন্দ্রতারা, গ্রহ, রবি, পাখপাখালি সব
হৃদয় দিয়ে কুরআন বাণী করে অনুভব!
কুরআন হলো মুসলমানের বুকের
শ্বাস ও আশা।
তাহার তরে এক পৃথিবী
নিটোল ভালোবাসা।
মন্দ ভালো শেখায় কুরআন,
নবীর দীদার পাই।
দোজাহানে কুরআন ছাড়া
কোনো উপায় নাই।
কুরআন হলো মানিক,
রতন, হিরে, চুনি প্রাণ।
মহান রবে মোদের
তরে করে দিছেন দান।
সেই কুরআনকে কোন মনে হায় করিস অপমান।
কলজে ধরে টান মারিবো,
বের হবে পরান।
এলো হেমন্ত
আনোয়ারুল ইসলাম
শরৎ শেষে এলো দেশে
পাকা ধানের ঘ্রাণ
রাশি রাশি ধানে চাষির
ফিরে এলো প্রাণ।
সবুজ মাঠে দূর্বাঘাসে
শিশিরকণা হাসে
চাষির মুখে মিষ্টি হাসি
এই ঋতুতেই আসে।
মাঠে মাঠে পাকা ধানে
ভরবে চাষির গোলা
এই ভাবনায় হাসিখুশি
দেয় মনেতে দোলা।
নতুন ধানের চালের গুঁড়ায়
মিশে গুড়ের মিঠা
মন আনন্দে খাবে সবাই
ভেজালবিহীন পিঠা।
পাড়ায় পাড়ায় ধুম ধুমাধুম
বাজে নবান্নের গীত
শীতল বায়ু শিরশিরিয়ে
নিয়ে এলো যে শীত।
হেমন্ত দিচ্ছে উঁকি
শারমিন নাহার ঝর্ণা
হেমন্ত আজ পাকা ধানে
ঝিকমিকিয়ে হাসে,
পাকা ধানের দারুণ সুবাস
শীতল হাওয়ায় ভাসে।
পাকা ধানে ঢেউ খেলে যায়
মিষ্টি রোদের পরশ,
ফসল দেখে কৃষক ভাইয়ের
মনে জাগে হরষ।
হেমন্ত আজ পাকা ধানে
হলুদ রঙের শাড়ি,
হেমন্ত আজ দিচ্ছে উঁকি
সবার বাড়ি বাড়ি।
ইসলামী ছাত্রশিবির
আবুল খায়ের বুলবুল
দীপ্তি ভরা সাহস নিয়ে যাঁরা
চলে উঁচু করে শির
আল্লাহর রাহে চলতে গিয়ে
তারা হয়ে যায় বীর
তারা ইসলামী ছাত্রশিবির
ইসলামী ছাত্রশিবির॥
ওরা পার হয়ে যায় দুর্গম
গিরি পারাবার
সাহসভরা চিত্তে
আল্লাহ ছাড়া মানে না কাউকে তাঁরা
ভালোবাসা থাকে সত্যে
আগামীর কর্ণধার তাঁরা
রাষ্ট্র মেধাবীর
ইসলামী ছাত্রশিবির
তারা ইসলামী ছাত্রশিবির
ইসলামী ছাত্রশিবির॥
শত কষ্টে ঝড়-ঝঞ্ঝায়
থামে না ওরা
দ্বীন প্রচারের পথে
রক্ত দিতে রাজি থাকে
সেই বীরসেনানীরা
অটুট থাকে শপথে॥
ওরা তরুণের কাছে যায় নিতে
খোঁজ খবর যতো তাদের
আল্লাহর রাহে ফিরতে হয় তো বলে
ইচ্ছা থাকে যাদের
আল্লাহ রাসূলের কথা
শোনায়ে আবার
মন কাড়ে শত মেধাবীর
তারা ইসলামী ছাত্রশিবির
ইসলামি ছাত্রশিবির॥
যার
ফরিদ আহমদ ফরাজী
যার কথা কাজে মিল আছে
যার আলোয় ভরা দিল আছে
যার হৃদয় খোদার ভয় আছে
তার এবার ভোটে জয় আছে।
যার মনে দেশের প্রেম আছে
যার স্বদেশ গড়ার গেম আছে
যার সংগঠিত দল আছে
তার ভালো ফলাফল আছে।
যার ভেতর-বাহির এক আছে
যার আমল ভরা নেক আছে
তার সৎ সাহসী জন আছে
তারে জয়ী করার পণ আছে।
যার মুষ্টিবদ্ধ হাত আছে
যার দ্বীন দরদি জাত আছে
যার কণ্ঠে কুরআন নূর আছে
তার বিজয় ধ্বনির সুর আছে।
মায়ের আদর
হাফিয রেদওয়ান
এই জগতে মায়ের মতো
কেউ করে না আদর
আমার জন্য বিছায় রাখে
দরদমাখা চাদর।
শান্তি মেলে মায়ের কোলে
আঁচল ঘেরা ছায়া
কাঁদলে আমি চুমু এঁকে
আমায় করে মায়া।
ডাকেন তিনি কতো নামে
সোনা যাদুমণি
মুধুর ডাকে পাই যে খুঁজে
ভালোবাসার খনি।
রবকে স্মরে
মেছবাহ উদ্দিন মারুফ
ঢেউ সাগরে হাল ছাড়ে না
নাবিক লক্ষ্যে চলে,
সঙ্গী-সাথী সবাই মিলে
আল্লাহ আল্লাহ বলে।
দীর্ঘ সময় চলার পরে
ফিরতে পারে তীরে,
নেমে রবকে শুকরিয়া দেয়
যায় ছুটে তার নীড়ে।
ঝড়-তুফানকে ভয় পেয়ে সে
হাত গুটিয়ে নিলে-
ডুবে যেতো, এক পলকে
মাছে নিতো গিলে।
তাই সম্মুখে যে বাঁধা থাক
চলো বরকে স্মরে,
ফুল ছিটিয়ে স্বপ্ন নেবে
তোমায় বরণ করে।
মাকে খুঁজি
সাঈদুর রহমান লিটন
বুঝিনি তো মাগো, তুমি যখন ছিলে
দাওনি কভু কোনো ব্যথা
আমার দিলে।
তুমি চলে গেছো আজ খুব বেশি বুঝি
সব হারিয়ে মাগো তোমাকে
রোজ খুঁজি।
রেখেছিলে তুমি তোমার মায়ায় ঘিরে,
আর কী তুমি এই গগনে আসবে ফিরে?
মুখ খানি আজ শুধু
আমার চোখে ভাসে,
আসলে ছবি চোখে, অশ্রু নেমে আসে।
মাগো! তোমার ছেলে আজকে
সবই বুঝে,
আজকে শুধু মিছেমিছি নিজের
সাথে যুযে।
অভাব ঘরে তোমায়,
দিছি অনেক জ্বালা,
সব জ্বালাতন সয়ে, কানে দিতে তালা।
এই পৃথিবী আঁধার এখন তুমি বিনে
বড় একা এই লগনে মাগো হীনে
নিঃস্ব, রিক্ত মনে হয় রোজ তুমি ছাড়া
তুমি চলে গেছো, তাই তো সর্বহারা।
ওস্তাদজী
আব্দুস সাত্তার সুমন
জীবনের বড় শিক্ষক হলেন
পিতা-মাতা
দোলনা থেকে মৃত্যু
পর্যন্ত মুকুটদাতা,
শিক্ষা হবে ঘর থেকে
অতি উত্তম ব্যাপার
ওস্তাদজী তিনি মোদের
হাতেখড়ি দেবার।
পাঠশালায় বিদ্যাবুদ্ধি
সব দিয়ে থাকেন
ওস্তাদের পরিশ্রমের
শিক্ষা দিয়ে রাখেন,
বিদ্যা পাঠ অতি ধৈর্যের
কাজ দিয়েছেন যারা
শিক্ষার্থী তৈরি করে
তিলে তিলে গড়েন তারা।
সমাজের সম্মানিত শিক্ষকের সূচনা
আজ তারা প্রতিষ্ঠিত
সমাজের রচনা,
প্রাণের শিক্ষক শিক্ষিকার
খোঁজখবর কি রাখি?
যারা জীবিত ওস্তাদজী দেখবে
দুটি আঁখি।
রাসূল হলেন প্রধান শিক্ষক
এই ধরার মাঝে
আদর্শে আঁকড়ে ধরবো
সকাল-সন্ধ্যা সাজে,
শিক্ষক-শিক্ষিকা ওস্তাদজী
তারা সকলের
চক্ষুশীতলকারী বানিয়ে
দাও আমাদের।
ডাব চুরি
পি এম শরিফুল ইসলাম
কুঁচকো খোকা, তুই কে রে তুই,
আমার গাছে কী করিস?
ভরদুপুরে ডাব গাছে তুই
এমন করে ক্যান চড়িস?
দাদা, আমি নাতি তোমার,
কালা বাড়ির পোলা।
প্লিজ দাদু, মাইরো না আজ,
দেব তোমায় ছোলা।
আরও দেব পান-সুপারি,
জর্দা দেব সাথে।
বলো দাদু, মন কি তোমার
ভরবে নাকি তাতে?
তুই শালা, জলদি করে
নিচে আস নেমে।
কানমলা আর ছড়ির বাড়ি
খাবি, আস ঘেমে!
ওগো দাদু, আমায় তুমি
মাফ করে দাও আজ।
কসম দাদু, করে দেব
বাগান নিড়ানোর কাজ।
আচ্ছা, তোরে ক্ষমা করলাম,
এবার নেমে আয়।
তাই তো বলি, ডাবগুলো কে
চুরি করে খায়!