জাতীয় ঐক্যে বিভাজনের কারিগরও আ’লীগ


৬ নভেম্বর ২০২৫ ১৯:৫৪

॥ সরদার আবদুর রহমান ॥
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের একটা বড় কৌশল ছিল দেশের জাতীয় ঐক্যকে প্রবলভাবে বিভাজিত করে শাসন করা। এ কৌশল সফল করার প্রধান হাতিয়ার ছিল বিরোধীপক্ষের ওপর দমন-পীড়ননীতি। এটি সম্ভব হয় কেবল প্রতিবেশী বড় দেশটির উলঙ্গ সমর্থনকে প্রধান রক্ষাকবচ ও ছাতা হিসেবে মনে করা। তারা নিজেদের নগ্নভাবে ‘ভারতপন্থী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে অন্যদের ‘চীনপন্থী’ বা ‘পাকিস্তানপন্থী’ হিসেবে উল্লেখ করে কোণঠাসা করে রাখতে চেষ্টা করে। এটি ছিল তাদের খোলামেলা একটা চাল।
এ কৌশলের একটি উদাহরণ মেলে আওয়ামী লীগের অন্যতম নীতিনির্ধারক ও সাবেক উপদেষ্টা (বর্তমানে মৃত) এইচটি ইমামের কর্মকাণ্ডে। ২০১৮ সালের ৭ জুলাই ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনে একটি মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও সরকারের অন্যতম নীতিনির্ধারক এইচটি ইমাম বাংলাদেশের রাজনীতিকে ভারত, পাকিস্তান ও চীনের রাজনীতির মধ্যে বিভাজিত করে বক্তব্য দেন। সে সময় এ নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়। তিনি আগামী (২০১৮) নির্বাচনে বিএনপি-জোটকে সমর্থন না দিতে এবং আবারো আ’লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভারত সরকারের সহযোগিতা চাওয়ার জন্য ভারতকে প্রকারান্তরে তোয়াজ করেন। তার মতে, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এলে ভারতের ক্ষতি আর পাকিস্তান ও চীনের লাভ হবে। তিনি নিজেকে ভারতের মুখপাত্র সাজিয়ে উল্লেখ করেন, বিএনপির মতো পাকিস্তানপন্থী ও জামায়াত-সমর্থক দলের ওপর দিল্লি কিছুতেই ভরসা রাখবে না এবং বিশ্বাস করবে না। এইচটি ইমাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ভারতের মন ভোলানোর হাজার চেষ্টা চালালেও বিএনপির নেতারা সফল হবেন না।’ আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন না দিতে এবং সেই সাথে আবারো আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে ভারত সরকারের সহযোগিতা চাওয়া হয় এ বক্তব্যের মাধ্যমে। এইচটি ইমাম আরো বলেন, ‘কিছুদিন আগে বিএনপির তিন নেতা দিল্লিতে এসেছিলেন। আমি তাদের কারো নাম বলবো না, তবে তাদের একজন তো আমাদের দেশে পাকিস্তান ও চীনের এজেন্ট হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত।’ বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি ও জনগণকে ভারত, চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভাজন করে সরকারি দলের বক্তব্যে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দেয়। এর মাধ্যমে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের জনগণকে চরমভাবে অপমানিত করা হয় বলে বিশ্লেষকদের অভিমত। ভাষ্যকাররা বলছেন, সেখানে এইচটি ইমাম যে বক্তব্য ও মন্তব্য করেন, তাতে তিনি বোঝাতে চান যে, ভারতের যা কিছু লাভ তা কেবল আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেই সম্ভব।
ঢাকায় নিযুক্ত সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত পিনাকরঞ্জন চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এইচটি ইমাম আরো নানা দ্বিপক্ষীয় ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ‘চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যে ধরনের গভীর সম্পর্ক আছে, আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক তার কোনো তুলনাতেই আসবে না। বরং পাকিস্তান আমাদের চিরশত্রু একটা দেশ, পাকিস্তান ভেঙেই আমাদের জন্ম। এটা মাথায় রাখলে বলতে হয় চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনো সেই স্তরে পৌঁছাবে না।’ এ সময় সাংবাদিকসহ ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের নানা প্রশ্নবাণে বিদ্ধ হন আওয়ামী লীগের এ নীতিনির্ধারক। তবে এসব বিষয় পাশ কাটিয়ে তিনি বার বার বিএনপিকে ‘পাকিস্তানপন্থী’, জামায়াতে ইসলামী দ্বারাই বিএনপি পরিচালিত, বিএনপি ক্ষমতায় এলে পাকিস্তান ফের বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করবে, যা ভারতের জন্যও অশান্তির কারণ হবেÑ এমনটা বোঝানোর চেষ্টা করেন। চীন প্রসঙ্গে দিল্লির ওই বৈঠকে তিনি বলেন, ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা পুরোপুরি বাণিজ্যিক। আমাদের দেশের রাজনৈতিক ব্যাপারে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। তারা শুধু ঢাকায় একটা রাজনৈতিকভাবে স্থিতিশীল সরকার দেখতে চায়, যা তাদের বাণিজ্যিক স্বার্থের অনুকূল হবে। তাছাড়া চীন ও পাকিস্তানের মধ্যে যে ধরনের গভীর সম্পর্ক আছে, আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক তার কোনো তুলনাতেই আসবে না। চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনো সেই স্তরে পৌঁছাবে না।’ এর আগে বিএনপির তিন নেতা দিল্লি সফর করেন। সেই সফরে তারা বিভিন্ন মহলে দুটি রাজনৈতিক বার্তা দিয়ে আসেন। তা হচ্ছে, পারস্পরিক স্বার্থে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দ্বিতীয় বার্তা ছিল, ভারতের উচিত তার নিজের স্বার্থে বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো বিশেষ দলকে সাহায্য না করা। ভারতের এটা করা উচিত গণতন্ত্রের স্বার্থে। প্রতিবেশী হিসেবে দু’দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধি প্রকৃত বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্বই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দেখতে চায় বিএনপি।
বিশ্লেষকরা বলেন, স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দীর প্রান্তে এসে দেশের জনগণকে এভাবে বিশেষ বিশেষ দেশের ‘পন্থী’ হিসেবে চিহ্নিত করা রাজনীতিতে ‘হীনম্মন্যতা’ আমদানি ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যে রাজনৈতিক দলটিকে ‘পাকিস্তানপন্থ’ী’ হিসেবে উল্লেখ করে বক্তব্য দেয়া হয়েছে, সেই দলের প্রধান ব্যক্তি জিয়াউর রহমান নিজে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন। বিশ্লেষকরা আরো বলছেন, অন্যদিকে বিএনপি-জোটের তৎকালীন শরিক দল জামায়াতে ইসলামীও কোনো গোপন দল নয়। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরবর্তী দীর্ঘকাল ধরে দেশের রাজনৈতিক ময়দানে প্রকাশ্যে সক্রিয় রয়েছে। দেশের প্রতিটি জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং জাতীয় সংসদ ও সরকারে ভূমিকা রেখে এসেছে। কেবল রাজনৈতিক মতাদর্শগত কারণে এর প্রতি বিদ্বেষ ছড়ানো হলেও একই কারণে (সে সময়) দলীয় নিবন্ধন স্থগিত রাখা হয়। এ সত্ত্বেও প্রকাশ্যেই রাজনীতি করে যাচ্ছে। এর হাজার হাজার সমর্থক রয়েছে, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী প্রজন্ম হিসেবে পরিচিত। বর্তমানে এর নেতৃত্বও দিচ্ছে এ প্রজন্মের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।
অপরদিকে ‘পাকিস্তান আমাদের চিরশত্রু একটা দেশ’ এবং ‘চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনো সেই স্তরে পৌঁছাবে না’ এইচটি ইমাম এ বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে এক ধরনের ঘৃণা ও স্থায়ী শত্রুতার আবর্তে ঠেলে দিতে চেয়েছেন বলে ভাষ্যকাররা মনে করেন। ভারতের মতো একটি বৃহৎ প্রতিবেশীকে তারই অপর দুই প্রতিবেশী সম্পর্কে ‘কুধারণা’ প্রচার করতে যাওয়া কতটা উচিত হয়েছে, সে প্রশ্নও উঠেছে। নিছক ক্ষমতার স্বার্থে নিকট প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিশেষ রাজনৈতিক দলকে নিয়ে এ ধরনের বিভাজনমূলক কথাবার্তা প্রকাশ্যে এবং অন্য একটি দেশের প্ল্যাটফর্মে গিয়ে তার কথা বলার যৌক্তিকতা নিয়ে কথা ওঠে। আর কেবল নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থে ভারতের একচেটিয়া ও একতরফা সমর্থনলাভের প্রত্যাশী হওয়ার এ প্রবণতাকে দেশপ্রেমিক জনগণ ও রাজনৈতিক মহল অনৈতিক ও অরুচিকর হিসেবে বিবেচনা করেন। এইচটি ইমাম মারা গেছেন। কিন্তু এটিই ছিল মূলত আওয়ামী লীগের স্থায়ী নীতি, যা তিনি সরাসরি প্রকাশ করে গেছেন এবং এর স্থায়ী ভিত্তি প্রদান করে গেছেন।
প্রশ্ন ওঠে- পড়শি দেশের রাজনীতিতে ভারত কীভাবে আর কতোটা হস্তক্ষেপের চেষ্টা করতে পারে? এটি জানা বিষয় যে, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম দেশ হিসেবে ভারত বরাবরই নিজের চারপাশে একটি নিজস্ব প্রভাব বলয় তৈরি করতে চেয়েছে, তাতে কোনো ভুল নেই। শুধু বিগত এক দশকের মধ্যেই তারা শ্রীলঙ্কার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে বিরোধীদের একজোট করার চেষ্টা চালায়, নেপালের সংবিধান পছন্দ না হওয়ায় স্থলবেষ্টিত ওই দেশটিকে অবরোধের মুখে ঠেলে দেয়। আর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশে এসে কোনো রাজনৈতিক দলকে ভোটে অংশ নিতে বলেন- এমন দৃষ্টান্ত অজস্র আছে। বাংলাদেশে তো এমন একটা ধারণাও তৈরি করে ফেলা হয় যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ছিল, সেটা ভারতের সমর্থন ছাড়া কিছুতেই সম্ভব হতো না। শেখ হাসিনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেনের সেই বহুল আলোচিত ‘শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখার জন্য দিল্লিতে গিয়ে তিনি ভারত সরকারকে অনুরোধ করে এসেছেন’- এ মন্তব্য ঘিরে সঙ্গতকারণেই নজিরবিহীন তোলপাড় চলে। তবে ভারতও যে বাংলাদেশের ক্ষমতায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের একটি বন্ধু সরকারকেই দেখতে চায়, সেটাও তারা কখনো গোপন করেনি। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থেকে যায়, প্রতিবেশী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বিস্তার করার বা হস্তক্ষেপের আদৌ কতটা ক্ষমতা আছে এবং সেটার কতটুকুই বা তারা প্রয়োগ করে থাকে?
হাসিনার পতনের পর ২৭ আগস্ট এশিয়া টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, এখন পর্যন্ত হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি এবং তার হিন্দুত্ববাদী সমর্থকদের সঙ্গে জড়িত বলেই মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলেন, সে সময়ের নির্বাচনগুলোয় জালিয়াতি করার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দার ঝড় উঠলেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারত সরকারই প্রথম হাসিনাকে অভিনন্দন জানায়। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থন প্রদান করার মাধ্যমে তার শাসনকে শক্তিশালী করেছিল। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, সেই সময়ে ঘটে যাওয়া নির্লজ্জ ভোট কারচুপি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিল ভারত। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে পশ্চিমারা হাসিনাকে সুষ্ঠু এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে। কিন্তু দিল্লি বরাবরের মতোই হাসিনার পক্ষেই কাজ করতে থাকে। শেখ হাসিনা দিল্লির একজন কট্টর সমর্থক, যা এখন আনুগত্যের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মূলত এ কারণেই ভারত ও বাংলাদেশ তাদের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ভারতই শেষ ভরসা
বাংলাদেশ নয়, শেষ পর্যন্ত ভারতই শেষ ভরসা হয়ে থাকলো পদত্যাগী ও পলাতক শেখ হাসিনার। এর প্রমাণ তিনি নিজেই দিলেন। নিজের আখেরি ঠিকানা তিনি নিজেই বেছে নিলেন। ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকার অতি সম্প্রতি একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ‘ভারতের বাইরে আশ্রয় নেয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই।’ হাসিনা বলেন, তিনি দিল্লিতে ‘নিরিবিলি ও স্বাধীনভাবে’ বসবাস করছেন। মাঝে মাঝে শহরের লোধি গার্ডেনে তিনি হাঁটতে যান, যদিও অতীতে তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনার কারণে তিনি সতর্ক আছেন।
এ সংক্রান্ত খবরে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হলেও এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষমা চাইতে রাজি নন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতিসংঘের স্বাধীন প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটররা শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ চেয়েছেন।
বিভাজনের চেষ্টা কেন?
বাংলাদেশে বিভাজনের চেষ্টা বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর আরো জোরদার করে ভারত। বাংলাদেশের সম্প্রীতির অবস্থানকে ‘সাম্প্রদায়িক’ বিভেদে পরিণত করতে নানাপ্রকার অপচেষ্টা চালানো হয়। দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়- যাতে বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরা যায়। এসব ঘটনার সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ইন্ধন আছে বলেও মনে করেন তারা। তবে তাতে ব্যর্থ হয়ে বাণিজ্য-বাধা তৈরির চেষ্টা করে। কিন্তু এতে নিজেদেরই লোকসান চিন্তা করে সেই পথে আর সুবিধা করতে পারেনি ভারত।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের অভ্যন্তরে অনেক ঘটনাই ঘটে। সেখানে অনেক মুসলিম ধর্মীয় নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় মুসলমানদের ওপর অনেক নির্যাতন হয়েছে। মসজিদ-মাদরাসাসহ অনেক মুসলিম ঐতিহাসিক নিদর্শন ধ্বংস করা হয়।
কিন্তু বিষয়টি তাদের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয় বলে বাংলাদেশ কূটনীতিক শিষ্টাচারের বাইরে গিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তাহলে বাংলাদেশের বিষয়ে হঠাৎ তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এতটা পরিবর্তন হলো কেন? ভারত অযাচিতভাবে বাংলাদেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে চলেছে। এটি কোনোভাবেই প্রতিবেশীসুলভ আচরণ হতে পারে না। ভারতের অভ্যন্তরে অনেক সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশ কূটনীতিক শিষ্টাচার অতিক্রম করেনি। কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এটি খোলামেলা ব্যাপার যে, তাদের মধ্যে প্রবল হাসিনাপ্রীতি রয়েছে, ফলে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব তারা চায় না।
বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই ভারতকে একটি ভালো প্রতিবেশী এবং সহাবস্থানে বিশ্বাসী সমমর্যাদাসম্পন্ন দেশ হিসেবে পেতে সবসময়ই আগ্রহী। আর এদেশে বিভাজনের রাজনীতি যে শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে, তার প্রমাণ চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও পলায়ন। এদেশের মানুষ ভারত-নিয়ন্ত্রিত সরকার নয়, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ এবং গোলামির জিঞ্জিরমুক্ত সরকার দেখতে বদ্ধপরিকর। এ সত্য ও বাস্তবতা সকলকেই মেনে নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।