সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ


২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১৯:৫১

বলিভিয়ায় দুই দশকের সমাজতন্ত্রের অবসান
লাতিন আমেরিকার দেশ বলিভিয়ার জনগণ গত রোববার (১৯ অক্টোবর) বাজারমুখী নেতা রোদ্রিগো পাজকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে দুই দশক ধরে চলা বামপন্থী মুভমেন্ট অব সোশ্যালিস্ট বা এমএএস শাসন শেষ হলো। নতুন প্রেসিডেন্টের নির্বাচনের মাধ্যমে দেশটি অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে নতুন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পথে এগোতে চায়। নির্বাচনে ৫৮ বছর বয়সী রোদ্রিগো পাজ ৫৪.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী, সাবেক অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট জর্গে কুইরোগা ৪৫.৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। পাজের জয় দেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা খুলে দিচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফলে লা পাজের রাস্তায় উৎসব, সঙ্গীত ও আতশবাজির দৃশ্য দেখা গেছে। সাধারণ মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পাজ বলেন, তার সরকার ‘সকলের জন্য পুঁজিবাদ’ নীতি গ্রহণ করবে। অর্থাৎ সামাজিক ব্যয় বজায় রেখে কর কমানো, কেন্দ্রীয়করণের হ্রাস ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বাজেট নীতি অনুসরণ করা হবে। পাজের শাসনকালে দেশ অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়নের দিকে ফিরে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, খাদ্যদ্রব্যের মূল্য স্থিতিশীল করা এবং দুর্নীতি কমাতে গুরুত্ব দেবেন। দেশের তেল ও বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, ২০ শতাংশ এর বেশি বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি এবং জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘ লাইনের সমস্যা সমাধানও তার অগ্রাধিকার। যুক্তরাষ্ট্র পাজের নির্বাচনী জয়কে স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও বলেন, ‘দুই দেশের যৌথ অগ্রাধিকার পূরণে যুক্তরাষ্ট্র বোলিভিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্বের জন্য প্রস্তুত।’ রোদ্রিগো পাজের জয় বোলিভিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। দুই দশক ধরে চলা সোশ্যালিস্ট শাসনের পরে দেশ নতুন দিশায় এগোচ্ছে, যেখানে সামাজিক নীতি বজায় রেখে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র ফাঁস
ইসরাইলি কারাগারে বন্দী ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এনেছে আল-জাজিরা। মুক্তি পাওয়া শত শত বন্দীর শরীরে নির্যাতনের দাগ, মারধরের ক্ষত, ওজন অর্ধেকে নেমে যাওয়া সবকিছুই যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে এক অমানবিক বন্দিত্বের ইতিহাসের দিকে। এর মধ্যেই উঠে এসেছে এক হৃদয়বিদারক গল্প। মাহমুদ আবু ফউল নামের এক তরুণ ফিলিস্তিনি, যিনি কারাগারে নির্যাতনের ফলে তাঁর দুই চোখের দৃষ্টি হারিয়েছেন। গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল গাজা যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম অধ্যায়গুলোর একটি। এই সময়েই ইসরাইল ব্যাপকভাবে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তার করে, যাঁদের অনেকেই চিকিৎসক, সাংবাদিক বা সাধারণ নাগরিক। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরাইল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দীকে মুক্তি দিয়েছে। তবে এই মুক্তির মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে বন্দিশালার অভ্যন্তরের ভয়াবহ সত্য। পদ্ধতিগত নির্যাতন, চিকিৎসা না দেওয়া, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ফাঁসিতে ঝোলানো পর্যন্ত। গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী মাহমুদ আবু ফউল ছিলেন ইসরাইলের কামাল আদওয়ান হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া এক তরুণ। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে তাকে আটক করে ইসরাইলি বাহিনী। এরপর তাকে পাঠানো হয় কুখ্যাত সদে তেইমান কারাগারে, যেখানে নির্যাতনের ভয়াবহ ইতিহাস বহু আগেই শুরু হয়েছে।
মাহমুদের নিজের ভাষায়, ‘কারারক্ষীরা আমাকে এত জোরে মারধর করেছিল যে আমি একসময় অচেতন হয়ে যাই। চোখে এমনভাবে আঘাত করা হয়েছিল যে পরে আমি কিছুই দেখতে পারিনি।’ তিনি আরও জানান, চিকিৎসা চাওয়ার পরও তাঁকে শুধু একটি ড্রপ দেওয়া হয়, যা কোনো কাজই করেনি। চোখ থেকে পানি ও পুঁজ বের হতো, কিন্তু কেউ চিকিৎসা দেয়নি। দীর্ঘ অনশন ও চেষ্টার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে অবশেষে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান মাহমুদ। তাঁকে নাসের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে অন্ধ অবস্থায় তিনি মায়ের গলা শুনে কেঁদে ফেলেন। ‘আমি তাঁকে দেখতে পাইনি, কিন্তু গলার আওয়াজ শুনেই তাঁকে জড়িয়ে ধরেছিলাম’, বলেন তিনি। এখন তিনি গাজার নিজের ভাঙা ঘরের ধ্বংসাবশেষের পাশে একটি তাঁবুতে থাকছেন। চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সাহায্য চেয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পর মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনি বন্দীদের অনেকের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। কেউ কেউ এত দুর্বল হয়ে পড়েছেন যে হাঁটতেও পারছেন না। কারও ওজন বন্দিত্বের আগের তুলনায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একজনের মুখে ঘুষির আঘাতে দাঁত ভেঙে গেছে, কারও শরীরে বিদ্যুতের দাগ। ‘প্যালেস্টিনিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস’ ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বন্দিত্বে থাকা ১০০ জন সাবেক ফিলিস্তিনির সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, শুধুমাত্র সদে তেইমান নয় ইসরাইলের প্রায় সব কারাগারেই একই রকম নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন চলে আসছে। ইসরাইল ইতোমধ্যে অন্তত ১০০ ফিলিস্তিনির মৃতদেহ ফিরিয়ে দিয়েছে, যারা বন্দী অবস্থায় মারা গেছেন। গাজার হাসপাতাল সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, কিছু মরদেহে এমন চিহ্ন পাওয়া গেছে যা স্পষ্ট করে যে তাঁদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, ‘তাদের মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। তাঁরা যখন বাধা দিয়েছেন, তখনই তাঁদের ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে।’ বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ ও চিকিৎসক সংগঠন এখন ইসরাইলের কারাগারগুলোয় স্বাধীন তদন্তের দাবি তুলেছে। বন্দী নির্যাতন বন্ধ না হলে, তারা বলছে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মাহমুদের মতো বহু বন্দী এখনো চিকিৎসার আশায় আছে, অনেকেই দৃষ্টিশক্তি, হাত-পা বা মানসিক স্থিতি হারিয়েছে। আল-জাজিরা।

মহাকাশে পাকিস্তানের ‘হাইপারস্পেকট্রাল’ স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ
পাকিস্তান মহাকাশে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। দেশটি সফলভাবে নিজেদের প্রথম ‘হাইপারস্পেকট্রাল’ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে, যা দেশের কৃষি, নগর পরিকল্পনা ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ ঘটনাকে পাকিস্তান একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছে এবং মহাকাশ গবেষণায় দেশের ক্ষমতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত রোববার (১৯ অক্টোবর) পাকিস্তানের মহাকাশ সংস্থা সুপারকো ঘোষণা করেছে যে, উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান ‘স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার’ থেকে এইচ-১ স্যাটেলাইট সফলভাবে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে। এই স্যাটেলাইটের বিশেষ ক্ষমতা হলো ভূপৃষ্ঠের সূক্ষ্ম রাসায়নিক বা বস্তুগত পরিবর্তন শনাক্ত করা, যা প্রচলিত স্যাটেলাইটের পক্ষে সম্ভব নয়। এর মাধ্যমে ফসলের গুণমান পর্যবেক্ষণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করা সম্ভব হবে। পাকিস্তান এ প্রযুক্তিকে দেশের বিভিন্ন জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করছে। এইচ-১ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে পাকিস্তানকে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। সুপারকোর চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউসুফ খান জানিয়েছেন, এই স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য দেশের উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এছাড়াও উৎক্ষেপণটি পাকিস্তানের মহাকাশ কর্মসূচিতে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং চীনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের প্রতিফলনও এটি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মিশন দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন। পাকিস্তান চলতি বছরে মোট তিনটি স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠিয়েছে। ইতোমধ্যে অন্যান্য দুটি স্যাটেলাইট ইও-১ এবং কেএস-১ পুরোপুরি সক্রিয় আছে। রয়টার্স।

ট্রাম্পবিরোধী ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিক্ষোভ। গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) থেকে নিউইয়র্ক সিটিতে শুরু হওয়া ‘নো কিংস’ শীর্ষক এই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এর মধ্যেই প্রকাশিত নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অনুমোদনের হার ৩৭ শতাংশে নেমে এসেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং এনওআরসি পরিচালিত এ জরিপে দেখা গেছে যে, ৩৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন এবং ৬১ শতাংশ ট্রাম্পের প্রতি অসম্মতি জানিয়েছেন। ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান সদস্যদের মধ্যেও ২২ শতাংশ ট্রাম্পের প্রতি অসম্মতি জানিয়েছেন। সমর্থন জানিয়েছেন ৭৭ শতাংশ। বিরোধীদল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৯৩ শতাংশই ট্রাম্পের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৫ শতাংশ। এদিকে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের ঢেউ ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপেও। সংহতি জানাতে জার্মানির বার্লিন, স্পেনের মাদ্রিদ এবং ইতালির রোমেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসিতে, যেখানে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স প্রধান বক্তা। পাশাপাশি লস অ্যাঞ্জেলসেও বড় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। ‘নো কিংস’ আন্দোলনের বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন খ্যাতনামা কয়েক তারকাও। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী জেন ফন্ডা, কেরি ওয়াশিংটন, সংগীতশিল্পী জন লেজেন্ড, অভিনেতা অ্যালান কামিং ও জন লেগুইজামো। এনবিসি।

পর্তুগালে হিজাব নিষিদ্ধ
ইউরোপের দেশ পর্তুগালে এবার বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করে বিল পাস করা হয়েছে। গত শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দেশটি ওই বিল পাস করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার পর্তুগালের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে পাবলিক স্পেসে চেহারা ঢেকে চলার প্রতি নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, এই প্রস্তাবনাটি উগ্র ডানপন্থী দল শেগা পার্টি উত্থাপন করেছে। এর বিশেষ লক্ষ্য ছিল মুসলিম নারীদের হিজাব ও নিকাবকে নিষিদ্ধ করা। নতুন এই আইন অনুযায়ী কেউ পাবলিক স্পেসে বোরকা পরে চলাফেরা করলে তাকে ২০০ থেকে ৪ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এছাড়া কেউ যদি পর্দা পালনে বাধ্য করে, তাহলে তাকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেয়া যাবে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, তবে কেউ যদি বিমানে, উপাসনালয়ে কিংবা কূটনৈতিক পরিসরে চেহারা ঢেকে চলে, তাহলে এটাকে জরিমানার অধীনে আনা হবে না। রয়টার্স জানিয়েছে, এখন কেবল পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো ডি সুসা এই বিলে ভেটো দিতে পারবেন অথবা পর্যালোচনার জন্য সাংবিধানিক আদালতেও পাঠাতে পারবেন। উল্লেখ্য, পর্তুগালের আগে থেকেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বোরকা পূর্ণভাবে কিংবা আংশিকভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডস।

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত আফগানিস্তান ও পাকিস্তান
সীমান্তে এক সপ্তাহ ধরে চলা প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তান তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। গত রোববার (১৯ অক্টোবর) ভোরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ‘যুদ্ধবিরতি এবং দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায়’ সম্মত হয়েছে। কাতার জানিয়েছে, ‘যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এবং নির্ভরযোগ্য ও টেকসই পদ্ধতিতে এর বাস্তবায়ন যাচাই করতে’ আগামী দিনগুলোয় আরো বৈঠক করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এর আগে উভয়পক্ষই জানিয়েছিল, তারা শনিবার দোহায় শান্তি আলোচনায় বসছে। কাবুলে ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় কয়েক ডজন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুসারে, পাকিস্তানি পক্ষের সাথে আজ দোহায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।’ তিনি আরো জানান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে কাবুলের আলোচনাকারী দল কাতারের রাজধানীতে পৌঁছেছে।
এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ আফগানিস্তানের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ‘আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ বন্ধ করার জন্য তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ এবং পাক-আফগান সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের ওপর আলোচনায় আলোকপাত করা হবে।’ একসময়ের মিত্র দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে যুদ্ধ ও পাকিস্তানি বিমান হামলা শুরু হয়, যখন ইসলামাবাদ কাবুলকে পাকিস্তানে সীমান্ত আক্রমণ বৃদ্ধিকারী উগ্রবাদী গোষ্ঠীদের নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানায়। পাকিস্তানের দাবি, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সদস্যরা আফগানিস্তানে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থেকে কাজ করছে। তবে পাকিস্তানে আক্রমণ করার জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দেয়ার কথা অস্বীকার করেছে আফগানিস্তান। দেশটি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আফগানিস্তান সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার এবং আইএসআইএল (আইএসআইএস)-এর সাথে যুক্ত যোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়ার অভিযোগ করেছে। আল জাজিরা।

ইরানের বেশিরভাগ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অক্ষত: আইএইএ
জাতিসংঘের পরমাণু কর্মসূচিবিষয়ক পর্যবেক্ষক সংস্থা আইএইএ’র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ রয়েছে, তেহরানের পূর্ণ সহযোগিতা ছাড়া সেখানে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। আইএইএ প্রধান গত সপ্তাহে এই তথ্য প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সংস্থাটি বিশ্বাস করে জুনে ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পরেও ইরানের বেশিরভাগ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সরবরাহ অক্ষত রয়েছে এবং সেটি এখনো ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোর ভেতরেই মজুদ আছে। রাফায়েল গ্রোসি গত ১৮ অক্টোবর শনিবার প্রকাশিত সুইস সংবাদপত্র নিউয়ে জুরচার জেইতুংকে (এনজেডজেড) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জাতিসংঘের সংস্থাটির অনুসন্ধানে জানা যায়, ইরানের ৬০% সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ‘অধিকাংশই’ ইসফাহান এবং ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোয় মজুত রয়েছে এবং কিছু আছে নাতাঞ্জেও।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক অনুমান করেন, সব মিলিয়ে ইরানের কাছে এখনো প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আছে। গত মাসে আইএইএ এর একটি গোপন প্রতিবেদনে পাওয়া যায়, ১৩ জুন পর্যন্ত ইরানের কাছে ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম (৯৭২ পাউন্ড) পর্যন্ত ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিল। গ্রোসি এনজেডজেডকে জানান, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের কাছে এখনো প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম রয়েছে। এতে মনে হয়, আইএইএ এর মূল্যায়ন অনুযায়ী, দেশটির মজুদ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বেশিরভাগই যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। জুনে ইরানের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইসরাইল ইসফাহান এবং নাতাঞ্জ উভয় পারমাণবিক কেন্দ্রেই আঘাত হানে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের একার পক্ষে টার্গেট করা সম্ভব ছিল না এমন ভূগর্ভস্থ ও দুর্গম ফোরদো স্থাপনাসহ এই দুটি স্থাপনাতেও হামলা করে। গ্রোসি এনজেডজেডকে বলেন, এই তিনটি কেন্দ্রই হামলায় ‘ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে, যার অর্থ হলো আইএইএ কেবল ইরানের পূর্ণ সহযোগিতা পেলেই ওই কেন্দ্রগুলোয় প্রবেশ করতে পারবে এবং ভেতরে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। তিনি বলেন, ‘এটি কেবল তখনই ঘটবে, যখন ইরান এটিকে জাতীয় স্বার্থ হিসেবে দেখবে।’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার বলেছেন, যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এপি।

ভারতের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
রাশিয়ার তেল ক্রয়কে কেন্দ্র করে ভারতের ওপর ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বরাবরই এ থেকে ভারতকে সরে আশার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের তিনি জানান এ বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা হয়েছে তার। ট্রাম্প জানান, রাশিয়ান তেল ক্রয় সীমিত করবেন বলে তাকে জানিয়েছেন মোদি। তবে তার কথা না মানলে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণেরও ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত সোমবার (২০ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, ট্রাম্প গত সপ্তাহে যা বলেছিলেন তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে কথা বলেছি এবং তিনি বলেছেন যে রাশিয়ান তেল কেনার জন্য মস্কোর সঙ্গে কোনো চুক্তি করবেন না তিনি।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, নয়াদিল্লি তার শর্তাবলিতে সম্মত না হলে এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ না করলে ভারতীয় পণ্যের ওপর ‘ব্যাপক শুল্ক’ আরোপের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে ভারত। ভারতের এমন অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্নের প্রেক্ষিতে ট্রাম্প বলেন, ‘কিন্তু যদি তারা এমনটি বলতে চায়, তাহলে তারা কেবল বিশাল শুল্ক আরোপ পেতে থাকবে এবং তারা তা করতে চায় না।’ প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের জন্য পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বন্ধ করে এবং মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞাারোপ করে। এরপর রাশিয়ার তেলের দাম ও অংশীদার কমে যাওয়ায় সে সুযোগ ভারত কাজে লাগায় এবং রাশিয়ান তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে দেশটি। ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই ভারতীয় রপ্তানি পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্কারোপ করেছে। ট্রাম্প বার বার বলেছেন, নয়াদিল্লি মস্কোর সঙ্গে অপরিশোধিত বাণিজ্য বন্ধ না করলে ভারতের ওপর এই শুল্ক বহাল থাকবে। এছাড়া এটি বৃদ্ধিও পাবে। এনডিটিভি।

বিজেপি-শাসিত উত্তরপ্রদেশে ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার মুসলিমরা
ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) শাসিত উত্তরপ্রদেশ (ইউপি) রাজ্যে ব্যাপক দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন মুসলমানরা। রাজ্যটিতে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী নীতির অধীনে মুসলিম এবং বিশেষ করে যুব কর্মীরা দমন-পীড়ন, গ্রেপ্তার ও প্রান্তিককরণের শিকার হচ্ছেন। ঈদে-মিলাদুন্নবী (স.)-এর শোভাযাত্রার সময় ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ (সা.) পোস্টার প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে কঠোর দমন-পীড়ন, গণগ্রেপ্তার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। বরেলি ও কানপুরের মতো শহরগুলিতে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, ৬০ জনেরও বেশি মুসলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রকাশের প্রতি বিজেপি-শাসিত রাজ্যটির শূন্য-সহনশীল নীতি প্রতিফলিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা। আটককৃতদের মধ্যে ইত্তেহাদ-এ-মিল্লাত পরিষদের সভাপতি মাওলানা তৌকির রাজা খান রয়েছেন। সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি তাকে আটক করায় সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগের জন্য মুসলমানদের লক্ষ্যবস্তু করার একটি বৃহত্তর প্রবণতা প্রতিফলিত হয়েছে। ভারতীয় সংবিধানের ২৫ নং অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, তার প্রতি এটি বিশ্বাসঘাতকতাকে তুলে ধরেছে। এই সপ্তাহে উত্তর প্রদেশের জৌনপুর জেলার মুয়ারকি গ্রামে প্রশাসন বর্তমান গ্রাম প্রধান সাদিক আহমেদের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট শৈলেন্দ্র কুমারের তত্ত্বাবধানে এবং তেহসিলদার আদালতের আইনি নির্দেশে কড়া পুলিশি পাহারায় এই ভাঙার কাজ সম্পন্ন করা হয়। কর্মকর্তারা দাবি করেন, প্রায় আট বিঘা সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করা হয়েছিল, যা এখন পরিষ্কার করা হয়েছে।
তবে গ্রামবাসীরা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। মোহাম্মদ জিমিল বলেন, এটা স্পষ্ট বৈষম্য। এখানে শত শত অবৈধ দখল করা বসতি রয়েছে। কিন্তু শুধু মুসলিম প্রধানের বাড়িকেই নিশানা করা হলো। দেশটির সুপ্রিম কোর্টের ভাঙার ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশকেও উপেক্ষা করেছে প্রশাসন। এর আগে উত্তর প্রদেশের সাম্ভাল জেলায় ‘ছোট্টি মসজিদ’ নামে পরিচিত একটি ৩০ বছরের পুরনো মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। এই ঘটনা মুসলিম সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সেদাংলি-মানোটা রোডে শ্রী কল্কি ধামের কাছে অবস্থিত এই মসজিদটি পুলিশ মোতায়েন করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ভারতের অবৈধভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের বিজেপির একজন জ্যৈষ্ঠ মুসলিম নেতা ড. জাহানজেব সিরওয়াল উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছেন। সিরওয়াল ব্যাপক আটক, অন্যায় এফআইআর এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে সতর্ক করে বলেন, দল যদি ধর্মীয় স্বাধীনতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় তবে তিনি পদত্যাগ করবেন। তার এই অবস্থান হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির অধীনে বিশ্বাস ও রাজনৈতিক আনুগত্যের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে স্পষ্ট করে। অন্যান্য মুসলিম পণ্ডিত ও নেতারাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ধর্মতত্ত্ব অধ্যাপক মুফতি জাহিদ আলী খান সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো ভয়ের পরিবেশের বিষয়টি তুলে ধরেন। অন্যদিকে মাওলানা আবদুল হামিদ নোমানি ভারতের বহুত্ববাদী পরিচয়ের জন্য ক্রমবর্ধমান হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদের বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করেন। এমনকি আবাদ শাহ-এর মতো তরুণ কর্মীরাও রাজ্য কর্মকর্তাদের সাম্প্রদায়িক মন্তব্যের সমালোচনা করার জন্য দমনের শিকার হয়েছেন, যা ভিন্নমতাবলম্বী মুসলিম কণ্ঠস্বরকে পদ্ধতিগতভাবে দমন করার বিষয়টি প্রতিফলিত করে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সহ মানবাধিকার সংস্থাগুলি এই পদক্ষেপগুলির নিন্দা জানিয়েছে, এই দমন-পীড়নকে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল বলে বর্ণনা করেছে। আল জাজিরা।

লেবাননের সাথে ইসরাইলের যুদ্ধ অনিবার্য: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
লেবানন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে না পারলে ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক। গত সোমবার (২০ অক্টোবর) রাষ্ট্রদূতের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের সূত্রে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। পোস্টে রাষ্ট্রদূত বলেন, বৈরুত যদি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে হিজবুল্লাহকে ইসরাইলের সাথে একটি চূড়ান্ত সংঘাতের মুখোমুখি হতে হবে। আর তা এমন একসময় সংঘটিত হবে, যখন ইসরাইলের শক্তি থাকবে এবং ইরানও হিজবুল্লাহর দুর্বল অবস্থানকে সমর্থন করবে। ওই পোস্টে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন, কীভাবে হিজবুল্লাহর ইস্যুটা ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য লেবানিজ জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে। তিনি বলেন, হিজবুল্লাহকে যদি নিরস্ত্র না করা হয়, তাহলে দেশটির রাজনৈতিক সঙ্কট আরো গভীর হবে। যাতে বাধ্য হয়ে জাতীয় নির্বাচনকে মূলতবী করা লাগতে পারে। উল্লেখ্য, লেবানন সরকার কিছুদিন আগে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে একটি ফরমান জারি করেছিলেন। কিন্তু দলটি তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে, এই ফরমান যদি মানা হয়, তাহলে তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। আল জাজিরা।

জাতিসংঘের ২০ কর্মীকে আটকে রেখেছে হুথি বিদ্রোহীরা
ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীরা জাতিসংঘের ২০ জন কর্মীকে এখনো আটকে রেখেছে। ইয়েমেনে জাতিসংঘের কার্যালয় গত রোববার (১৯ অক্টোবর) জানিয়েছে, হুথি বিদ্রোহীরা একদিন আগে সানায় জাতিসংঘের ভবনে হামলা চালিয়েছে। জাতিসংঘের কার্যালয় গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) জানিয়েছে, হুথি নিরাপত্তা বাহিনী তাদের কার্যালয়ে ‘অননুমোদিতভাবে প্রবেশ’ করেছে। গত রোববার দেশটিতে জাতিসংঘের সমন্বয়কারীর মুখপাত্র জিন আলম বলেন, কম্পাউন্ডের ভেতর ২০ জন কর্মী আটক রয়েছেন। তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ আন্তর্জাতিক কর্মী এবং পাঁচজন ইয়েমেনি নাগরিক এখনো আটক রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, ‘এই পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। আমরা হুথি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সদস্য রাষ্ট্র ও সকল পক্ষের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করছি, যেন দ্রুত আটক ব্যক্তিদের মুক্তি নিশ্চিত করা যায় এবং সানায় অবস্থিত আমাদের কার্যালয়টির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা হয়।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা রোববার রাতে এএফপিকে জানান, আটকদের মধ্যে ইউনিসেফ-এর ইয়েমেন প্রতিনিধি পিটার হকিন্স রয়েছেন। দুটি হুথি নিরাপত্তা সূত্র নিশ্চিত করেছে যে আটকদের মধ্যে হকিন্সও রয়েছেন। এএফপি।

থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অভিযোগ কম্বোডিয়ার
কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেন থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে বিতর্কিত সীমান্তজুড়ে ভূতুড়ে শব্দ সম্প্রচারের অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশন তার প্রতিবেশী দেশকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করেছে। গত জুলাই মাসে উভয় দেশই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। ৭৩ বছর বয়সী হুন সেন এখন কম্বোডিয়ার শক্তিশালী সিনেটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক বার্তায় বলেছেন, কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশন ‘তীব্র ও উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দ’ সম্পর্কে জাতিসংঘের কাছে অভিযোগ করেছে। তিনি গত ১১ অক্টোবর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ককে লেখা কমিশনের একটি চিঠি শেয়ার করেছেন। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, থাই-কম্বোডিয়ান সীমান্তে ‘মনস্তাত্ত্বিক ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানির জন্য বিরক্তিকর শব্দ ব্যবহার মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন’।
কম্বোডিয়ার মানবাধিকার কমিশন বলেছে, তারা কর্তৃপক্ষ ও সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বেসামরিক নাগরিকদের কাছ থেকে বিশ্বাসযোগ্য প্রতিবেদন পেয়েছে যে, থাই সামরিক ইউনিটগুলো ‘লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ভূতের কান্নার মতো শব্দ’ সম্প্রচার করছে এবং তারপরে সারা রাত ধরে বিমানের ইঞ্জিনের শব্দ শোনা যাচ্ছে। কমিশন বলেছে, দীর্ঘসময় ধরে চলা অডিওটি ‘ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ও শারীরিক অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে’। এটি ’প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়াতে’ পারে বলেও হুমকি দিয়েছে। গত জুলাই মাসে মালয়েশিয়ায় আলোচনার পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া একটি ‘তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত’ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ বন্ধ করা। দেশ দুটির ভাগাভাগি করা সীমান্তে সংঘটিত সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৮ জন নিহত ও তিন লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। দ্য গার্ডিয়ান।

প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে দুর্ধর্ষ চুরি
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যুভর জাদুঘরে একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার (১৯ অক্টোবর) সকালে জাদুঘরটি থেকে অমূল্য কিছু স্বর্ণের হার চুরি করে নিয়ে যায়। আর এই কাজটি করতে তাদের মাত্র সাত মিনিট সময় ব্যয় হয়। ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও ওয়াকিবহাল একটি সূত্রের বরাতে আল জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। ল্যুভর জাদুঘরটি বিশ্বের সর্বাধিক দর্শনীয় জাদুঘর। এটিকে সাময়িকভাবে পুরো দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। বিস্তারিত তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক অনুমান অনুসারে চুরিকার্যটি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে হয়েছে। আর চুরি যাওয়া জিনিসগুলোর দাম মূল্যায়নের চেষ্টা চলছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ল্যুভর জাদুঘর থেকে যে জিনিসগুলো চুরি হয়েছে, এর কোনো মূল্য হয় না। এগুলো ঐতিহ্যবাহী সম্পদ। মূল্য দিয়ে একে মূল্যায়ন করা যায় না। তিনি আরো বলেন, তিন থেকে চারজন মিলে এই দুর্ধর্ষ চুরিটি করেছে। মাত্র সাত মিনিটে তারা এই কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করে। এর জন্য তারা জাদুঘরে বাইরে একটি ট্রাক রাখে। এর ওপর একটি ক্রেন বসিয়ে তারা অ্যাপেলো কক্ষে প্রবেশ করে। এরপর ওই কক্ষের দুটি তাকের জিনিসপত্র চুরি করে।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, চোরেরা কাক্সিক্ষত কক্ষে পৌঁছাতে মালবাহী লিফট ব্যবহার করেছে। এ সময় তাদের কাছে কিছু ছোট ছোট বৈদ্যুতিক করাতও ছিল। ফ্রান্সের সংস্কৃতিমন্ত্রী রাচিদা দাতি এক্সবার্তায় বলেন, ‘রোববার সকালে জাদুঘর খোলার সময়ই ঘটনাটি ঘটে।’ পোস্টে তিনি আরো জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছেন এবং পুলিশ সেখানে তদন্ত চালাচ্ছে। জাদুঘর কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অনিবার্য কারণবশত রোববার জাদুঘর বন্ধ থাকবে।’ এর চেয়ে বিস্তারিত জানায়নি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। ফরাসি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ‘জাদুঘর থেকে কিছু জুয়েলারি পণ্য চুরি হয়েছে। তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি একটি সংস্কার কাজ চলা ভবনে একটি মালবাহী লিফট ব্যবহার করে অ্যাপোলো গ্যালারিতে প্রবেশ করে। যেখানে ফ্রান্সের রাজমুকুটের অবশিষ্ট অলঙ্কারসমূহ সংরক্ষিত রয়েছে।’ আল জাজিরা।

রাখাইন রাজ্যের অর্থনীতি উন্নয়নে চীন-ভারতের বিনিয়োগ চায় আরাকান আর্মি
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে বিদেশি বিনিয়োগের দিকে নজর দিচ্ছে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে রাখাইনকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা তাদের রয়েছে। সংস্থার নেতা তুন মিয়াত নাইং সম্প্রতি ইরাবতী ম্যাগাজিনকে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। এই সাক্ষাৎকারে তুন মিয়াত নাইং জানান, রাখাইন রাজ্যের উন্নয়নের জন্য চীন, ভারত, থাইল্যান্ড এবং পশ্চিমা দেশগুলোর বিনিয়োগ অপরিহার্য। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক, যা রাজ্যের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে আরাকান আর্মি বিদেশি বিনিয়োগের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। তুন মিয়াত নাইং আরও জানান, রাখাইন অঞ্চলের কৌশলগত সম্পদকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। চীন ও ভারতের বিনিয়োগ সুবিধাজনক, তবে তা অবশ্যই জনগণের কল্যাণে ব্যয় হতে হবে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে আরাকান আর্মির সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেন। শুরুর দিকে সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল, কিন্তু শরণার্থী ইস্যুতে কিছু চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন করতে নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়াটা জরুরি। সাক্ষাৎকারে তুন মিয়াত নাইং রাখাইনে জনগণের স্বায়ত্তশাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধান ছাড়া জনগণকে নিরাপত্তা ও স্বায়ত্তশাসন দেওয়া সম্ভব নয়। আজকের বিদ্রোহীরাই আগামী দিনের সরকার হবে।’ তিনি স্পষ্ট করেন, আরাকান আর্মি একটি ‘সরকারের মতো’ কৌশলগত চিন্তাভাবনা অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতে নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সাবধানতার সঙ্গে কৌশল গ্রহণ করা হবে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরাকান আর্মি রাখাইন রাজ্যের অর্থনীতি, জনগণের জীবনমান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চায়। দ্য ইরাবতী।

‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বলায় ভারতে মুসলিমদের ওপর বুলডোজার অভিযান
ভারতের বিজেপি-শাসিত কয়েকটি রাজ্যে মুসলিমদের ওপর সম্প্রতি গ্রেফতার, অভিযান এবং বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে ভাঙার ঘটনা ঘটে। এর মূল কারণ পোস্টার, টি-শার্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা বা প্রকাশ করা। উত্তরপ্রদেশের কানপুরে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবীর শোভাযাত্রার সময় একটি ব্যানারে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ লেখা থাকায় আপত্তি জানানো হয়। এরপর অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য এফআইআর দায়ের করা হয় এবং ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ১৫৩এসহ অন্যান্য ধারায় গ্রেফতার ও বাড়িঘর ভাঙার অভিযোগ উঠে। অলাভজনক সংস্থা অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ সিভিল রাইটস (এপিসিআর) জানিয়েছে, ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিজেপি-শাসিত একাধিক রাজ্যে ১,৩০০ জনের বেশি মুসলিমের বিরুদ্ধে কমপক্ষে ২১টি এফআইআর নথিভুক্ত হয়েছে এবং কমপক্ষে ৩৮ জন গ্রেফতার হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে ১৬টি এফআইআর এবং একাধিক জেলায় ১,০০০ জনেরও বেশি লোক অভিযুক্ত হয়েছেন। এপিসিআরের জাতীয় সম্পাদক নাদিম খান বলেন, নবীর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের জন্য মানুষকে লক্ষ্য করা মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অভিব্যক্তি কখনোই অপরাধ নয়। উত্তর প্রদেশের বরেলিতে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ স্লোগান প্রদর্শনের পর কিছু মুসলিমদের সম্পর্কিত ভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা এটিকে ‘রুটিন, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ’ বলে দাবি করলেও পরিবারগুলো বলছেন, এটি ইচ্ছাকৃত।
গুজরাটের বাহিরিয়ালে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টের পর ১৮৬টি কাঠামো ‘অবৈধ’ ঘোষণা করা হয়েছে, এর মধ্যে ১৭৮টি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে পূর্ব নোটিশ বা আদালতের অনুমোদন ছাড়া এই ভাঙা হয়েছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে, তাৎক্ষণিক ভাঙা বা ‘বুলডোজার বিচার’ সংখ্যালঘুদের ওপর প্রভাব ফেলে। ২০২২ সালে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ভাঙার আগে পূর্ব নোটিশ ও কার্যক্রমের ভিডিও রেকর্ডিং বাধ্যতামূলক। আইনজীবী প্রসুক জৈন বলেন, আই লাভ মুহাম্মদ’ স্লোগান শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অভিব্যক্তি। তা শাস্তি প্রদানের জন্য সরকারী পদক্ষেপ অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সংবিধানের ১৯(১)(এ) ও ২৫ অনুচ্ছেদের অধীনে উলঙ্গ। সমালোচকরা বলছেন, এসব ভাঙার পদ্ধতি মুসলিম পরিচয় ও শান্তিপূর্ণ ধর্মীয় অভিব্যক্তিকে অপরাধী করার প্রবণতা বৃদ্ধি করছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার বোর্ড চেয়ার আকার প্যাটেল বলেন, রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘আই লাভ মুহাম্মদ’ বলার জন্য মানুষকে লক্ষ্য করা হাস্যকর। এটি শান্তিপূর্ণ এবং কোনো উসকানি বা হুমকি নয়। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই দমনপীড়ন শুধু ব্যক্তির ধর্মীয় অভিব্যক্তিকে শাস্তি দিচ্ছে না, বরং মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর স্থায়ী প্রভাব ফেলে এবং ‘বুলডোজার’ এখন প্রশাসনিক প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

মিশরের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবার পর গাজায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। গঠিত এই বাহিনীকে পরিচালনা করতে মিসরকে নেতৃত্ব দেওয়া হতে পারে। মিশরের পাশাপাশি তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া এবং আজারবাইজানকে মূল সৈন্যদাতা দেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় নেতাদের সমর্থন রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য মতে, প্রস্তাবিত বাহিনীকে হাইতিতে থাকা আন্তর্জাতিক সৈন্যদের মতো ক্ষমতা দেওয়া হবে, যা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে এ বাহিনী পূর্ণাঙ্গ শান্তিরক্ষা অভিযানের জন্য পাঠানো যাবে না, বরং তা জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী পরিচালিত হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এ নিরাপত্তা বাহিনী। এর দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হলো গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুসালেমকে অন্তর্ভুক্ত করে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। বাফার জোন বজায় রেখে ইসরাইলি বাহিনী গাজার বিভিন্ন এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হামাসের অস্ত্র জমা দেওয়া। হামাস অস্ত্র জমা না দিলে যুদ্ধ থামবে না বলে গত শনিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হামাসের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানিয়েছেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ কোনোভাবেই সম্ভব না। এমন প্রশ্ন তোলাই অবান্তর। এছাড়া বিতর্ক আছে টনি ব্লেয়ারের নেতৃত্বে শান্তি বোর্ড গঠন নিয়ে। ফিলিস্তিনের পশ্চিমতীরের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ঘোষণা দিয়েছেন, টনি ব্লেয়ারকে তারা বিশ্বাস করে না। তার নেতৃত্বে কোনো বোর্ড গঠন মেনে নেওয়া হবে না। গাজা পুনর্গঠনের জন্য ৬ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের বেশি লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেসরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এ অর্থের যোগান দেবে। তবে কী ধরনের বেসরকারি বিনিয়োগ হবে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে হামাস, বিনিময়ে ইসরাইল কারাগার থেকে প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্ত করেছে। গার্ডিয়ান।

ঐতিহাসিক ‘হিজাজ রেলপথ’ পুনরায় চালুর উদ্যোগ
পুনরায় চালু হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ‘হিজাজ রেলপথ’, যা ছিল উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল হামিদ খানের সময়ের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প এটি। ১,৭৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইন সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক (তৎকালীন শাম) থেকে শুরু হয়ে মদিনা পর্যন্ত বিস্তৃত। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল হজযাত্রা সহজ করা, বাণিজ্য ও সামরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করা। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, এই রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৪ মিলিয়ন উসমানীয় লিরা, যা তখনকার রাষ্ট্রীয় বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ। প্রকল্প বাস্তবায়নে সুলতান আব্দুল হামিদ মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনুদান গ্রহণ করেছিলেন। তবে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ গুপ্তচর টি. ই. লরেন্স-এর নেতৃত্বে কিছু আরব বিদ্রোহী বাহিনী একাধিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রেলপথটির বড় অংশ ধ্বংস করে দেয়, ফলে তা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। দীর্ঘ এক শতাব্দী পর তুরস্কের যোগাযোগ ও অবকাঠামো মন্ত্রণালয় পুনরায় এই ঐতিহাসিক রেললাইন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইস্তাম্বুল থেকে ট্রেনে করে সরাসরি মক্কা ও মদিনা যাত্রা সম্ভব হবে, যা আধুনিক যুগে মুসলিম বিশ্বের ঐতিহাসিক সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ডেইলি সাবাহ।

নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করল ইরান
ইরান সম্প্রতি দুটি নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে, যা দেশটির সামরিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করেছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্স এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো টেলিভিশনের মাধ্যমে জনগণের সামনে উন্মোচন করেছে। গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) ইরানের আইআরজিসি অ্যারোস্পেস ফোর্স তাদের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এই অনুষ্ঠানে তারা ‘ইমাদ’ ও ‘কাদর’ নামে দুটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করে। উন্মোচনের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির প্রতিরক্ষা শক্তি প্রদর্শন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ দেখানো। ইরানি সংবাদ সংস্থা মেহেরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে উভয় ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করা হয় এবং ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ভেতরের দৃশ্যও দেখানো হয়। ‘কাদর’ ক্ষেপণাস্ত্রে ইলেকট্রনিক কাউন্টারমেজার বা প্রতিরোধ সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিপক্ষের হুমকি প্রতিহত করতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে ‘ইমাদ’ ক্ষেপণাস্ত্রটিকে আধুনিকীকরণ করে সম্পূর্ণ কার্যক্ষম করা হয়েছে, যা দেশটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদে সক্ষমতা বাড়াবে। মেহের নিউজ।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান