ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই ঘটছে প্রাণহানি, আক্রান্ত হচ্ছে শতসহস্র

মাঠে কাজ করছে না মশকনিধন কর্মীরা


১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১৩:৩৫

স্টাফ রিপোর্টার : ডেঙ্গুতে প্রতিদিনই প্রাণহানি ঘটছে। আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন শত শত নাগরিক। কিন্তু ডেঙ্গু রোগী ঠেকানোর একমাত্র উপায় রাজধানীসহ সারা দেশে নিয়মিত ওষুধ ছিটিয়ে মশক নিধন করা। কিন্তু এ কাজ করার দায়িত্ব যাদের তারা নির্বিকার-নির্লিপ্ত। প্রতিদিন মানুষ যাচ্ছে, হাসপাতালগুলোয় আর ঠাঁই নেই অবস্থায়ও সরকারের সংশ্লিষ্ট (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশন) দপ্তরগুলোর কানে পানি যাচ্ছে না। রাজধানীর ব্যস্ত এলাকাগুলোয় মাঝেমধ্যে মশার ওষুধ ছিটাতে দেখা গেলেও যেখানে মশার উৎপত্তিস্থল সেসব এলাকায় ওষুধ ছিটানোর কোনো খবর নেই।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন মুসলিমনগর এলাকায় গত এক বছরে একবারও মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেন নাই স্থানীয় বাসিন্দারা। মুসলিম নগরের বসতবাড়ি এলাকার একটি বাড়ির কেয়ারটেকার আসাদুল্লাহ মিয়ার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি জানান, এখানে মশার ওষুধ ছিটানো হয় না। তিনি কখনোই মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেন নাই। একই ওয়ার্ডের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা রুবেল হোসাইন এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এখানে তিনি কখনোই মশার ওষুধ ছিটাতে দেখেননি। মানুষের প্রশ্ন হচ্ছে সিটি করপোরেশনের শত শত কর্মীরা রয়েছে যারা মশার ওষুধ ছিটানোর কাজে নিয়োজিত থাকার কথা, কিন্তু তারা আসলে কী করছেন।
খবর নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মশার লার্ভা ধ্বংস করতে স্প্রে করে ওষুধ ছিটানোর কথা মশকনিধন কর্মীদের। বেলা তিনটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উড়ন্ত মশা মারতে ফগিং করার কথা। দক্ষিণ সিটির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে সকালে সাতজন ও বিকেলে ছয়জন মশকনিধন কর্মী এই কাজ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে ওয়ার্ডগুলোয় এই মশকনিধন কর্মীদের খোঁজ পাওয়া যায় না। দু-একজন কাজে অংশ নিলেও সপ্তাহে দ্-ুএকদিন কাজ করেন। বাকিরা কাজ ছাড়াই বেতন নেন। নাগরিকদের প্রশ্ন হচ্ছে, বরাদ্দকৃত ওষুধ যে ছিটানো হচ্ছে না তাহলে এই ওষুধ কোথায় যাচ্ছে? এগুলো কী করা হচ্ছে?
ওষুধ না ছিটানোয় প্রতিদিনই শত শত মানুষ মশার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন, প্রাণও হারাচ্ছেন। গত ১৩ অক্টোবর সোমবার সরকার তিনজনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন পুরুষ, দুজন নারী। তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ৬০, ৪০ এবং ৭ বছর। তাদের একজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, একজন মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ হিসেবে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিয়ে চলতি বছর ২৩৩ জনের প্রাণ গেল মশাবাহিত এ রোগে। এর আগের দিন ১২ অক্টোবর ডেঙ্গুতে পাঁচজনের মৃত্যুর খবর জানায় সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ওইদিন আক্রান্ত হয়ে ৯৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এভাবে প্রতিদিনই আক্রান্ত হচ্ছে মারা যাচ্ছে মশার কামড়ে।