বিএনপি কেন নির্বাচনে আ’লীগকে চাইছে
২ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০
॥ ফারাহ মাসুম ॥
আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচনে পাবার আকাক্সক্ষার কথা বিএনপি আর গোপন রাখলো না। ভারতের বিজেপিপন্থী হিসেবে পরিচিত একটি পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। দেশের ভেতরে বিএনপি নেতার এ বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তিনি পত্রিকাটিকে সাক্ষাৎকার দেয়ার কথা প্রথমে অস্বীকার করেন। পরে পত্রিকাটি সাক্ষাৎকার নেয়ার ছবি প্রকাশ করলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম যেন এ বক্তব্য প্রচার না করে তার আহ্বান জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল হিসাব করেই এ বক্তব্য দিয়ে প্রতিবেশী দেশটিকে এ বার্তা দিতে চাইছেন যে, দলটি বিরোধীদল হিসেবে ভারতপন্থী আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে পেতে চায়। ভারতীয় লবি এ চাওয়াকে বাস্তবে রূপায়িত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগ করতে চাইছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল মন্তব্যে বলেছেন যে, তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে রাজি, তবে তা হতে হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সক্রিয় উপস্থিতিতে- যাতে নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক বার্তাও বহন করে। ফখরুলের বক্তব্য মূলত তিনটি দিকনির্দেশ করে এ কথা বলেছেন। প্রথমত, সরকার একপক্ষীয় নিয়ন্ত্রণে নির্বাচনের আয়োজন করলে তা বৈধ ও গণতান্ত্রিক হবে না। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির উপস্থিতি নিশ্চিত করলে ভোটের স্বচ্ছতা এবং জাতীয় স্বীকৃতি বৃদ্ধি পাবে। দ্বিতীয়ত, ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশ নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা গুরুত্ব দিয়ে দেখে। নির্বাচন ‘বৈধ’ হলে ভারত তা সমর্থন করবে। অন্যথায় ভোট বয়কট বা অরাজকতা দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও ভারতের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তৃতীয়ত, বিএনপি নেতা দলের সমর্থক ও সাধারণ ভোটারদের কাছে একটি বার্তা পৌঁছাতে চেয়েছে বলে মনে হয় যে দলটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে সরকারের একপক্ষীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে তারা সজাগ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ অবস্থান ভারতের জন্য একটি ‘সিগন্যাল’ হিসেবে কাজ করছে। নির্বাচন স্বচ্ছ ও বৈধ হলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত তা স্বাগত জানাবে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে এটি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি ভোটের প্রক্রিয়ায় ভারসাম্য বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
ফখরুলের বক্তব্য কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, এটি রাজনৈতিক চাপ, আন্তর্জাতিক নজর এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রভাবের সমন্বয়। আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ অবস্থান বাংলাদেশের ভেতরের রাজনৈতিক ভারসাম্য এবং প্রতিবেশী দেশের মনোযোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কেন এ রাজনৈতিক কৌশল, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করলে কিছু বিষয় সামনে চলে আসে-
সরকারকে চাপে রাখা : বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য মূলত আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবেশীদের আকাক্সক্ষার ‘সঠিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া’ বজায় রাখার দাবি হিসেবে দেখা যায়। এতে সরকারকে চাপ দেওয়া হয় যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সব দলের জন্য সুযোগ দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা দৃশ্যপটে এলে ফাসিবাদের ভয় ভোটারদের বিএনপিমুখী করবে বলে আশা করে। আর এর বিপরীতটি হলে ভোটাররা; বিশেষ করে তরুণদের বড় অংশ ইসলামপন্থীদের দিকে ঝুঁকে যেতে পারে। এটি ডাকসুসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড: ভারতীয় লবি বিএনপি হাইকমান্ডকে বুঝিয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে ভোটের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখানোর সুযোগ তৈরি হবে এ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নিয়ে এলে। শুধু আওয়ামীলীগ বিরোধীরা প্রক্রিয়ায় থাকলে নির্বাচন ‘প্রতিষ্ঠিত ও বৈধ’ দেখাবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক যুক্তি প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আনা গেলে গণহত্যার বিচার থেকে শুরু করে বাকি ফ্যাসিবাদবিরোধী বিষয়গুলো পাল্টে যেতে পারে।
রাজনৈতিক কৌশলগত অবস্থান: ফখরুলের বক্তব্যে পরোক্ষভাবে এই বার্তাও আছে যে, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে যদি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। এতে তারা ভোট বয়কট বা পতিত দলের অশান্তি তৈরি করার রাজনৈতিক অগ্রাধিকারকে হ্রাস করতে চায়। প্রতিবেশিরা তাদের ক্ষমতায় আনার ব্যাপারে যে আশ্বাস দিয়েছে, সেটিকে ক্ষমতায় যাবার ভরসা হিসেবে দেখতে চায় বিএনপি।
জনমত ও সমর্থককে সাজানো: এই ধরনের বক্তব্য দিয়ে বিএনপির ভোটার ও সমর্থক সমাজে একটি ‘প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ন্যায়বিচার ও সংহতি’ মানসিকতা তৈরি করতে চায় তাদের নেতৃত্বে একটি অংশ। তারা দেখাতে চায় যে, বিএনপি গণতান্ত্রিক নির্বাচন চায়, তারা সরকারের একপক্ষীয় নিয়ন্ত্রণের বিরুদ্ধে।
এর পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের এ বক্তব্যের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করলে চিত্রটা এমন দাঁড়ায়-
ভারতের প্রেক্ষাপট: ভারত দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বললেও বাস্তবে বিপরীতটিই চেয়েছে। বিগত তিনটি নির্বাচনে সেটি দেখা গেছে। কিন্তু নতুন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ভারতের রাজনৈতিক স্বার্থকে নিরাপদ রাখবে বলে মনে করে। ফলে সরকারের ওপর প্রত্যক্ষ কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ভারতের জন্য জরুরি যে, প্রতিবেশী দেশে এমন রাজনৈতিক পরিবেশ যেখানে পতিত রাজনৈতিক শক্তি স্পেস লাভ করে। এক্ষেত্রে বিএনপির ওপর তাদের প্রভাবকে কাজে লাগাতে চায়।
ভারতের সংবাদমাধ্যম সচেতন থাকে যে, নির্বাচনের বৈধতা ও স্বচ্ছতা নেই বলে যদি আন্তর্জাতিক রিপোর্ট আসে, তা ভারতের ‘নিরপেক্ষ প্রতিবেশী নীতি’কে প্রশ্নের মুখে ফেলে। তাই বিএনপির এই অবস্থান ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এটি একটি ‘নিরীক্ষণ নির্দেশিকা’ হিসেবে কাজ করে। ভারতের অবস্থান বিএনপির মাধ্যমে প্রকাশ হলে সেটি তাদের কৌশলগত স্বার্থের জন্য ইতিবাচক হয়।
বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপট: মির্জা ফখরুল দাবি করছেন, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে থাকলে নির্বাচন বৈধ দেখাবে। এর মানে বিএনপি ভারতীয় প্রচ্ছন্ন বয়ান অনুসারে ভোটে অংশগ্রহণের যুক্তি তৈরি করতে চাচ্ছে, আর বলতে চাইছে সরকার একপক্ষীয় নিয়ন্ত্রণ করলে তা অবিশ্বাস্য হবে। বিএনপির এ কৌশল তাদের প্রতি ভারতের ইতিবাচক নজর ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে ভারত তাদের ভাষায় ‘একটি সমন্বিত ও স্বচ্ছ নির্বাচন’ দেখতে পায়।
সম্ভাব্য কূটনৈতিক প্রভাব: বিএনপি ভোটে অংশগ্রহণের শর্ত হিসেবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির উপস্থিতি চাওয়ায় ভারতের জন্য একটি ‘পলিসি ইঙ্গিত’ তৈরি হয়- নির্বাচন যদি তাদের ‘আকাক্সক্ষা’ অনুসারে স্বচ্ছ হয়, তাহলে ভারত তাতে স্বাগত জানাবে। অন্যথায় ভোট বয়কট বা অরাজকতা সৃষ্টির পরিবেশকে উসকে দেয়ার নীতি নেয়া হবে।
পাকিস্তান বা চীনা কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রুখতে ভারত বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেয়। ভারতের লক্ষ্য থাকে- বাংলাদেশে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া দলও যাতে সংসদের প্রতিনিধিত্ব পায়, আর এতে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। আর যদি বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধীদল (পড়ুন; আ’লীগ ও মিত্ররা) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং তা স্বচ্ছ হয়, ভারত আন্তর্জাতিকভাবে ‘নিরপেক্ষ এবং সহায়ক প্রতিবেশী’ হিসেবে মূল্যায়নের যুক্তি দাঁড় করাতে পারে। অন্যথায় নির্বাচন বয়কট বা হিংসা বেড়ে গেলে ভারতের ভাবমূর্তি প্রভাবিত হতে পারে।
কিছু কিছু পর্যবেক্ষক মনে করেন, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য মূলত রাজনৈতিক কৌশল ও নির্বাচনী চাপের মধ্যে ভারতকে অবহিত করার একটি হাতিয়ার। ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি একটি সিগন্যাল যে, নির্বাচন স্বচ্ছ ও বৈধ হলে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত তা সমর্থন করতে পারে। এছাড়া এটি বাংলাদেশের ভেতরের রাজনৈতিক ভারসাম্য, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
তাদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে: প্রথমত, গত দেড় দশক ধরে (২০০৮, ২০১৪, ২০১৮) নির্বাচনগুলো বিতর্কিত ছিল; বিশেষ করে ২০১৪ সালে বিএনপি না গেলে আওয়ামী লীগ একতরফা জয় পায়। এবার যদি আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়, তখন আন্তর্জাতিক মহলে (জাতিসংঘ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র) নির্বাচনকে প্রতিযোগিতামূলক ও বৈধ বলা সহজ হবে। বিএনপি জানে, শুধু তারা বা ইসলামপন্থী দলগুলো প্রতিদ্বন্দ্বী হলে নির্বাচন ভারতের স্বীকৃতি পাবে না।
দ্বিতীয়ত, বিএনপি নেতৃত্বে একটি অংশ যুক্তি দিতে চাইছে যে, আওয়ামী লীগ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সংকটে (দুর্নীতি, দমননীতি, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী দায়) জর্জরিত। আওয়ামী লীগ ভোটে গেলে এবার তাদের বড় ধরনের পরাজয় হবে। জনগণের ক্ষোভকে ব্যালটে রূপ দিতে আওয়ামী লীগকে ভোটের মাঠে নামানো জরুরি। আওয়ামী লীগ না এলে ভোটে তাদের ভরাডুবি দৃশ্যমান হবে না; বিএনপি পাবে না ‘জনগণের রায়ের মাধ্যমে প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারানোর’ সুযোগ।
অন্যদিকে জাতীয় পার্টি বরাবরই বাংলাদেশে ‘রাজনীতির রিজার্ভ টিম।’ যখন আওয়ামী লীগ বা বিএনপির কারো সঙ্গে জোট হয় না, তখন জাতীয় পার্টিকে সামনে আনা হয়। বিএনপি চাইবে জাতীয় পার্টি ভোটে আসুক, কারণ এতে নির্বাচনে বহুদলীয় আমেজ থাকবে। একই সঙ্গে জাতীয় পার্টি ভোট কাটাকাটিতে আওয়ামী লীগের ক্ষতি করবে বলে বিএনপির হিসাব।
বিএনপি নেতৃত্বের এই অংশটি যুক্তি দিতে চাইছে যে, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ; এমনকি ভারতও চাইবে একটি অন্তত প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন হোক। যদি আওয়ামী লীগ বয়কট করে, তবে আন্তর্জাতিক মহল বিএনপিকে দায়ী করবে না। কিন্তু নির্বাচনের বৈধতা তখনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই বিএনপি বলতে পারবে, ‘আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীকে মাঠে এনেছি, জনগণই তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে’-এমন একটি বার্তা দিতে।
ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার যুক্তিও সামনে আনতে চাইছে বিএনপি নেতৃত্বের এ অংশটি। তাদের যুক্তি হলোÑ নির্বাচনোত্তর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা টিকিয়ে রাখতে বিএনপি চাওয়া উচিত হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি সংসদে আসুক। পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে চালাতে ‘জিরো-অপজিশন সংসদ’ ভালো হবে না বিএনপির জন্য। আওয়ামী লীগ যদি পরাজিত হয়ে সংসদে সীমিত আসনে যায়, তাহলে তারা গণতন্ত্রে বিরোধীদলের বৈধ ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হবে।
বিএনপি আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে পরের নির্বাচনে চাওয়ার আরেকটি কারণ বলা হচ্ছে- আন্তর্জাতিক বৈধতা পাওয়া। আওয়ামী লীগের জনরায়ের মাধ্যমে ভরাডুবি ঘটাতে জাতীয় পার্টির ভোট কাটাকাটির মাধ্যমে কৌশলগত সুবিধা নেওয়া। আর প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন প্রমাণ করতে নির্বাচনোত্তর স্থিতিশীল বিরোধী রাজনীতি নিশ্চিত করতে অনুকূল পরিবেশ আনা।
বিএনপির হিসাব-নিকাশের বিপরীত একটি দিকও রয়েছে। দলটি দেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক শক্তিকে প্রতিবেশী সহায়তায় কোণঠাসা করতে চাইলে ভোটের অঙ্গনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইতোমধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সেটি দেখা গেছে। শেষ পর্যন্ত দলটি ইতিবাচক ও জুলাই চেতনার পক্ষে পথরেখা তৈরি করে নাকি প্রতিবেশী স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট থেকে ক্ষমতায় যাবার স্বপ্ন দেখে। অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নেওয়াটাই প্রতিবেশী দেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে। ভারতের হাতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় ফেরানোর তেমন সুযোগ এসে গেলে তখন আম-ছালা দুটিই হারাতে হবে বিএনপিকে।