দাম বাড়ছে খাদ্যপণ্যের


২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১১:৫৭

স্টাফ রিপোর্টার : নিত্যপণ্যের বাজারের যে অবস্থা বিদ্যমান রয়েছে, তাতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য কোনো সুখবর নেই। বরং দুঃসংবাদ আরও বাড়ছে। কেননা সবজিসহ সব পণ্যের মূল্য গত কয়েক মাস ধরেই বেশি। ডিমের মূল্য কিছুটা কমলেও দোকানিরা জানিয়েছেন, দ্রুতই বাড়তি দামে কিনতে হবে ডিম। অন্যদিকে ভোজ্যতেল সয়াবিনসহ সব ধরনের ভোজ্যতেলে উৎসে করারোপ করায় তেলের মূল্য বাড়তে পারে। তাছাড়া বাজারে মাছ-গোশতের মূল্য ওঠানামার মধ্যে রয়েছে।
রাজধানীর বাজারগুলোয় খবর নিয়ে জানা গেছে, ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে সবজি পাওয়া যায় না বললেই চলে। দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা আধা কেজি করে সবজি কিনছেন। ফলে বিক্রির পরিমাণ কমে গেছে। প্রতি কেজি গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, ধুন্দুল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৭০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা, পটোল ৮০, ঢ্যাঁড়শ ৮০, পেঁপে ৩০, শসা ৮০, টমেটো ১২০, গাজর ৮০, কাঁচামরিচ ১৬০, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কচু ৫০ টাকা, শিম ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং মিষ্টি কুমড়া ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অসহায় ভোক্তাদের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস ধরে প্রতিটি সবজির দাম এত বেশি চলছে, ফলে সাধারণ ক্রেতারা কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। যে দু-একটা আছে, সেগুলোও হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকা। ১০০ টাকা দরে সবজি কেনার সামর্থ্য বেশিরভাগ সাধারণ ক্রেতার নেই। তারপরও যেহেতু প্রতিদিন খেতেই হয়, তাই কেউ আধা কেজি কেউবা আড়াইশো গ্রাম করে সবজি কিনছেন।
আলু-পেঁয়াজের দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে শুধু ৩০ টাকায়। আর আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকায়। এর মধ্যে ছোট পেঁয়াজ ৭৫ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা করে। দেশি পেঁয়াজ ৮০ টাকা, সাদা আলু ২৫ টাকা, বগুড়ার আলু ৩৫-৪০, দেশি রসুন ১০০-১২০, চায়না রসুন ১৪০-১৫০, চায়না আদা ২০০, ভারতীয় আদা মান ভেদে ১৬০-১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ইলিশ মাছ আকার ও ওজন অনুযায়ী ৭০০-২৪০০ টাকা, রুই ৩৫০-৬০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৭০০ টাকা, কালিবাউশ ৫০০-৮০০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১৪০০ টাকা, কাঁচকি ৪০০-৬০০ টাকা, কৈ ২৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৭০০ টাকা, শিং ৫০০-১২০০ টাকা, টেংরা ৬০০-১০০০ টাকা, বেলে ৮০০-১২০০ টাকা, মেনি ৬০০-১০০০ টাকা, বোয়াল ৬০০-১২০০ টাকা, রূপচাঁদা ১০০০-১৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরুর গোশত ৭৮০ টাকা এবং খাসির গোশত ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকা, কক মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২৯০-২৯৫ টাকা, দেশি মুরগি ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজন মুরগির ডিম ১৩৫ টাকা, হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২০০-২১০ টাকা দরে। এক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ৭-১০ টাকা, কক মুরগির দাম বেড়েছে পাঁচ টাকা করে। আর কেজিতে লেয়ার মুরগির দাম ২৫ টাকা, দেশি মুরগির দাম ২০ টাকা কমেছে। হাঁসের ডিমের দাম কমেছে ১০-২০ টাকা করে। তবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সোমবার রাজধানীর এক মুদি দোকানি জানিয়েছেন, মুরগির ডিমের পরের চালানে আরও বেশি মূল্যে ক্রয় করতে হতে পারে।
এদিকে প্যাকেট পোলাও চাল ১৫৫ টাকা, খোলা পোলাও চাল মানভেদে ৯০-১৩০ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৫৫ টাকা, মোটা মসুর ডাল ১০৫ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১১৫ টাকা, ছোলা ১১০ টাকা, মাষকলাই ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৮ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৭২ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪৫০-১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১২৫০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১১০ টাকা, খোলা চিনি ১০০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৩০ টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচি ৪৭৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০০ টাকা, লবঙ্গ ১২৮০ টাকা, সাদা গোলমরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোলমরিচ ১১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (করনীতি) এ কে এম বদিউল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন বলছে, সয়াবিনসহ সব ধরনের ভোজ্যতেলের ওপর এক শতাংশ উৎসে করারোপ করেছে সরকার। যার মধ্যে সয়াবিন, সানফ্লাওয়ার, পাম ও ভুট্টা জাতীয় তেল রয়েছে। এর আগে পণ্যটির ওপর কোনো উৎসে কর ছিল না। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পরিশোধিত ও অপরিশোধিত সয়াবিন, ভ্যাট নিবন্ধিত ভোজ্যতেল পরিশোধন শিল্পের মাধ্যমে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি, সানফ্লাওয়ার বীজ ও তেল এবং ভুট্টার তেল আমদানিতে উৎসে কর নির্ধারণের হার এক শতাংশ হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় গত আগস্টের মাঝ পথে এসে দেশের বাজারে পাম তেলের দাম প্রতি লিটারে ১৯ টাকা কমিয়ে ১৫০ টাকা ঘোষণা করে সরকার। এর আগে পাম তেলের দাম ১৬৯ টাকা নির্ধারিত ছিল। তবে সয়াবিন তেলের দাম আগের মতই ১৮৯ টাকা (এক লিটার বোতল) অপরিবর্তিত রয়েছে।