সংক্ষিপ্ত বিশ্ব সংবাদ
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৬:০৬
কাতার একা নয়: আরব লীগ
কাতার আক্রমণের পর ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে মধ্যপ্রাচ্য। আরব এবং মুসলিম দেশগুলোর এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে কাতারের রাজধানী দোহায়। এ বৈঠক থেকে ইসরাইলের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। কাতারে হামাসের কর্মকর্তাদের বাসভবনে ইসরাইলের নজিরবিহীন বিমান হামলার পর জরুরি বৈঠকে বসেছে আরব ও মুসলিম বিশ্বের নেতারা। আরব লীগের মহাসচিব আহমেদ আবুল ঘেইত এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একটি অপরাধের মুখে নীরব থাকা আরও অপরাধের পথ প্রশস্ত করে।’ গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) দোহায় আরব ও মুসলিম নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে তিনি বলেন, এ সম্মেলন একটি শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে যে, ‘কাতার একা নয়। আরব এবং ইসলামিক বিশ্ব তার পাশে আছে।’
আহমেদ আবুল ঘেইত (আরব লীগের মহাসচিব) বলেন, গাজায় দুই বছর ধরে চলা গণহত্যার মুখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার কারণেই ইসরাইল আজ আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং কোনো পরিণতি ছাড়াই এ ধরনের আগ্রাসন চালাচ্ছে। এদিকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল-থানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি ‘দ্বিচারিতা’ ত্যাগ করে ইসরাইলকে তার ‘অপরাধের’ জন্য শাস্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সময় এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য দ্বৈত মানদণ্ড বন্ধ করার এবং ইসরাইলকে তার সকল অপরাধের জন্য শাস্তি দেওয়ার। তিনি আরও বলেন, ফিলিস্তিনিদের তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ইসরাইলের এ ‘চলমান নির্মূল যুদ্ধ’ কখনোই সফল হবে না। আরব নিউজ।
‘গো ব্যাক মোদি’ স্লোগানে উত্তাল মণিপুর
দুই বছর আগে মণিপুরে ঘটে যাওয়া প্রায় ২৫০ জনের প্রাণহানির পর গত ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার প্রথমবারের মতো এ উত্তেজনাপূর্ণ রাজ্যে সফর করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তবে মোদির সফরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মণিপুরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিক্ষোভ করেন এবং ‘গো ব্যাক মোদি’ স্লোগান দেন। এদিকে পুলিশ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে, যার ফলে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। মোদির এ সফর তিন দিনের, যা আসাম এবং বিহারকেও অন্তর্ভুক্ত করছে। বিহার ভারতের তৃতীয় সর্বাধিক জনসংখ্যার রাজ্য, যেখানে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বসবাস করে। বিহার আগামী অক্টোবর বা নভেম্বরের নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং এটি ভারতের হিন্দিভাষী উত্তরাঞ্চলে একমাত্র রাজ্য যেখানে মোদির দল বিজেপি এককভাবে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। মোদির সফরের সময় বিহারে মোট ৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঘোষণা করা হয়েছে, যা কৃষি প্রকল্প, রেল যোগাযোগ, সড়ক উন্নয়ন এবং বিমানবন্দর সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত। মণিপুরের উত্তেজনা ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হয়, যখন প্রধানত হিন্দু মেইতেই জনগোষ্ঠী এবং বড় সংখ্যক খ্রিস্টান কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সংঘর্ষের ফলে হাজার হাজার মানুষ এখনও সরকার দ্বারা তৈরি অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছেন। মোদির চুরাচান্দপুরে, যা কুকি অধ্যুষিত এলাকা, জনসমক্ষে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘মণিপুরে জীবন স্বাভাবিক করতে ভারত সরকার সমস্ত প্রয়োজনীয় চেষ্টা করছে। আমি আজ আপনাদের সাথে আছি। ভারত সরকার মণিপুরের জনগণের সাথে আছে।’ তিনি সব পক্ষকে শান্তিপূর্ণ পথে চলার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলে, যেখানে মেইতেই জনগোষ্ঠী ঘনত্বপূর্ণ, একটি সমাবেশেও ভাষণ দেওয়ার কথা ছিল। মোদির পূর্ববর্তী সফর ২০২২ সালে, যখন তিনি প্রায় ৯৬০ মিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন, যার মধ্যে পাঁচটি হাইওয়ে এবং একটি নতুন পুলিশ সদর দফতর অন্তর্ভুক্ত ছিল। মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বিরেন সিংহ, যিনি মোদির বিজেপি দল থেকে, ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তিনি রক্তক্ষয় রোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর থেকে এ রাজ্য সরাসরি নয়াদিল্লি থেকে শাসিত হচ্ছে। মেইতেই এবং কুকি জনগোষ্ঠীর মধ্যে জমি ও সরকারি চাকরির জন্য দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করে রাজনৈতিক নেতা নিজ স্বার্থে এ বিভাজন বাড়াচ্ছেন। এনডিটিভি।
রাখাইনে স্কুলে বিমান হামলায় শিক্ষার্থীসহ ১৮ জন নিহত
পশ্চিম রাখাইনের একটি গ্রামে দুটি বেসরকারি স্কুলে বিমান হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং স্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। গত শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়। আরাকান আর্মি (এএ) যারা এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের মুখপাত্র খাইং থুখা একটি বার্তা সংস্থাকে জানান, একটি জেট ফাইটার কিয়াউকতাও শহরের থায়েট থাপিন গ্রামের পাইনিয়ার পান খিন এবং আ মাইন থিট প্রাইভেট হাই স্কুলে দুটি বোমা ফেলেছে। তিনি বলেন, নিহতদের বেশিরভাগই ১৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী। আল জাজিরা জানায়, গ্রামের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, কারণ এলাকার ইন্টারনেট এবং সেলফোন পরিষেবা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বন্ধ রয়েছে। এদিকে টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে এএ বলেছে, নিরীহ শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর জন্য আমরা নিহতদের পরিবারের মতোই দুঃখিত। হামলার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এএ হলো রাখাইন জাতিগত সংখ্যালঘু আন্দোলনের সামরিক শাখা, যারা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসন চায়। তারা ২০২৩ সালের নভেম্বরে রাখাইনে আক্রমণ শুরু করে এবং এরপর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আঞ্চলিক সেনা সদর দপ্তর এবং রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টির নিয়ন্ত্রণ নেয়। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় থেকে ২৫০ কিলোমিটার (১৫০ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কিয়াউকতাও গত ফেব্রুয়ারিতে এএ দখল করে নেয়। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে সেনাবাহিনী অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো প্রতিবাদ শুরু করলে জান্তা সরকার কঠোর হাতে তা দমন করে। এরপর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অস্ত্র হাতে তুলে নেয় এবং জান্তা সরকারকে হটাতে লড়াই চালায়। বেসরকারি সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যান অনুসারে, তখন থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৭,২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা।
ইউক্রেনের আরেকটি গ্রামের মালিকানা দাবি রাশিয়ার
রাশিয়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের মধ্য দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলের একটি নতুন গ্রাম দখল করেছে। মস্কোর বাহিনী জানিয়েছে, তারা জুলাইয়ের শুরুতে সেখানে পৌঁছেছিল। মস্কো থেকে এএফপি এই খবর জানিয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের সৈন্যরা দোনেৎস্ক অঞ্চলের সীমান্তের কাছে নভোমিকোলাইভকা গ্রামটি দখল করেছে, যা ছিল সম্মুখ যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল। এএফপি অবশ্য এ দাবিটি নিশ্চিত করতে পারেনি। ইউক্রেনীয় সামরিক বিশ্লেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি অনলাইন যুদ্ধক্ষেত্রের মানচিত্র ডিপস্টেট জানিয়েছে, গ্রামটি এখনো কিয়েভের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাশিয়ান বাহিনী উন্নত অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত এবং সংখ্যায় ইউক্রেনীয় সৈন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। তারা কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনে আক্রমণ চালিয়ে আসছে এবং পূর্ব ফ্রন্টজুড়ে তাদের অবস্থান দখল করে নিচ্ছে। আগস্টের শেষে ইউক্রেন প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে যে, রাশিয়ান সৈন্যরা দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে প্রবেশ করেছে, যেখানে মস্কো মাসের শুরুতে অগ্রগতির দাবি করেছিল।
রুশ সেনাবাহিনী বর্তমানে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ক্রেমলিন যুদ্ধ বন্ধের পূর্বশর্ত হিসেবে ইউক্রেনকে তার পূর্ব দনবাস অঞ্চল থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে। কিয়েভ অবশ্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে। দিনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলটি পাঁচটি ইউক্রেনীয় অঞ্চলের মধ্যে একটি নয়- দোনেৎস্ক, খেরসন, লুগানস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং ক্রিমিয়া- যেগুলোকে মস্কো প্রকাশ্যে রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তার রুশ সমকক্ষ ভøাদিমির পুতিন ‘পুরো ইউক্রেন দখল’ করতে চান এবং তার লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত থামবেন না, এমনকি যদি কিয়েভ অঞ্চল ছেড়ে দিতে রাজি হয়। ক্রেমলিন উল্লেখ করেছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সর্বাত্মক আক্রমণের ফলে সৃষ্ট সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের জন্য সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর কিয়েভের সাথে শান্তি আলোচনা ‘বিরতি’ পেয়েছে।
গাজামুখী ত্রাণবহরে যোগ দিচ্ছে গ্রিসের ২ জাহাজ
ফিলিস্তিনের গাজার উদ্দেশে ত্রাণ নিয়ে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা নামে আন্তর্জাতিক একটি মিশনের নৌবহর রওনা হয়েছে। এতে যোগ দিতে গ্রিসের সাইরোস দ্বীপ থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় দুটি জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক মিশনটি গাজায় ইসরাইলি অবরোধ ভেঙে মানবিক ত্রাণ সরবরাহের লক্ষ্যে কাজ করছে। গ্রিসের সাইরোস দ্বীপ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে প্রায় ৫০০ মানুষ গ্রিসের এরমোপোলিস বন্দরে জমায়েত হয়ে দুর্ভিক্ষপীড়িত গাজার জন্য ত্রাণ বহনকারী গ্রিক পতাকাবাহী দুটি জাহাজকে বিদায় জানিয়েছে। ৩৯ বছর বয়সী ক্র কোস্টাস ফোরিকোস বলেন, এটি ইসরাইলকে দেখিয়ে দেয়ার একটি উপায় যে কাউকে জোরপূর্বক অনাহারে রাখার অধিকার থাকা উচিত নয়। একইসাথে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্যকারী গাজাবাসীর প্রতিও সংহতি প্রকাশ করার উপায় এটি। আরেক ক্রু সদস্য অ্যাঞ্জেলিকি সাভানতোগলু বলেন, এ নৌবহরের লক্ষ্য ছিল আমাদের নিজ নিজ দেশের সরকারকে ইসরাইলের সাথে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বন্ধ করতে এবং এ গণহত্যা বন্ধ করতে চাপ দেয়া। আমরা চাই এ গণহত্যা বন্ধ হোক। এএফপি।
ভারতে নতুন ওয়াকফ আইনের বিতর্কিত ধারা স্থগিত
সংশোধিত ওয়াকফ আইনের ওপর সম্পূর্ণ স্থগিত না করে বিতর্কিত কিছু ধারার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। গত সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অন্তর্বর্তী রায়ে আদালত জানিয়েছে, ওই আইনের সব ধারা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করার কোনো যুক্তি নেই। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট জানায়, জেলাশাসক সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না। কারণ এতে আইন, আদালত আর প্রশাসনের প্রদত্ত আলাদা ক্ষমতার লঙ্ঘন হবে। সুপ্রিম কোর্ট সোমবার জানায়, পুরো ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন-২০২৫ স্থগিত করার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি। তবে আইনটির কিছু বিতর্কিত ধারায় আপাতত স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের সংশোধিত আইনে ওয়াকফ সম্পত্তি সরকারি সম্পত্তি কিনা তা নির্ধারণ করার এবং সে অনুযায়ী আদেশ জারি করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল জেলা প্রশাসককে। এছাড়া আরও কিছু সংশোধনীর কারণে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়ে বিজেপি সরকার। একই সঙ্গে আদালত স্থগিত করেছে সেই বিধানটিও যেখানে বলা হয়, অন্তত পাঁচ বছর ধরে ইসলাম পালন করছেন এমন ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ অর্থ-সম্পদ ওয়াকফ করতে পারবেন না।
প্রধান বিচারপতি বিআর গাভাই ও বিচারপতি এজি মসিহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ মন্তব্য করেন আইনটির পুরোটা স্থগিত করার প্রয়োজন নেই। তবে যেসব ধারা ‘ইচ্ছামতো ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করে’ সেগুলো থেকে সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। সংসদের উভয় কক্ষে বিল পাশ হওয়ার পরে গত ৫ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সম্মতিক্রমে তৈরি হয় সংশোধিত ওয়াকফ আইন-২০২৫। এরপর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মামলা হয়। পরে গত ২২ মে মামলাটির রায় স্থগিত রাখে সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলো। আইনটিকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে ভারতজুড়ে আদালতের এ সিদ্ধান্তে, তা এ রায়ের মধ্য দিয়ে প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস।
ইসরাইলকে রুখতে ইসলামী জোট গঠনের আহ্বান ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর
কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরাইলি হামলার পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে একটি রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-সুদানি কাতারে ইসরাইলি বোমা হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির লঙ্ঘন এবং উপসাগরীয় অঞ্চল ও কাতারের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী দেশগুলোর যৌথ প্রতিরক্ষা বাহিনী গঠনে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের হাতে এমন অনেক উপায় আছে যার মাধ্যমে এ আগ্রাসনের মোকাবিলা করা সম্ভব, যা কাতারে থেমে থাকবে না।’ ইসরাইল এ বিমান হামলা চালায় হামাসের রাজনৈতিক নেতাদের লক্ষ করে, যারা কাতারে অবস্থান করছিলেন। এ হামলায় হামাসের ঊর্ধ্বতন আলোচকরা লক্ষ্যবস্তু হন এবং ছয়জন শহীদ হন, যাদের মধ্যে ছিলেন হামাস নেতা খালিল আল-হাইয়ার ছেলে হুমাম আল-হাইয়া। ইসরাইল হায়োম-এর তথ্য মতে, দোহায় হামাসের অফিসে হামলার আগে ইসরাইলি দখলদার বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারকে অবহিত করেছিল। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কাতারে ইসরাইলি বিমান হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কাতারেই হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে গাজা যুদ্ধ অবসানে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল।
এ বিমান হামলার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ, আরব লীগ এবং অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং কাতারের সার্বভৌমত্ব পুনরায় নিশ্চিত করে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস একে ‘মারাত্মক লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেন। আরব লীগের প্রধান আহমেদ আবুল গেইত হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ বলে মন্তব্য করেন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরান, ওমান, আলজেরিয়া, জর্ডান, কুয়েত, মিশর, তুরস্ক ও লেবাননÑ সবাই এ হামলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং সতর্ক করে দেয় যে, এ আগ্রাসন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে। ফিলিস্তিনের বিভিন্ন দলও হামলার নিন্দা জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এটিকে ‘ভ্রাতৃপ্রতিম কাতারের ওপর হামলা’ বলে অভিহিত করেন, আর ইসলামিক জিহাদ আন্দোলন একে ‘অপরাধমূলক কাজ’ বলে অভিহিত করে, যা দোহার মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করার লক্ষ্যে চালানো হয়েছে। মেহের নিউজ।
পতাকা বিভেদের নয়, বৈচিত্র্যের প্রতীক: স্টারমার
লন্ডনে ডানপন্থি বিক্ষোভ ও পাল্টা আন্দোলনের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমরা কখনোই আমাদের পতাকা সমর্পণ করব না।’ তার মতে, যুক্তরাজ্যের পতাকা কোনোভাবেই বিভেদ, ভীতি বা সহিংসতার প্রতীক হতে পারে না। বরং এটি দেশের বৈচিত্র্য ও ঐক্যের প্রতীক। গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। শনিবার লন্ডনের কেন্দ্রস্থলে ডানপন্থি কর্মী টমি রবিনসনের নেতৃত্বে আয়োজিত ‘ইউনাইট দ্য কিংডম’ মিছিলে প্রায় দেড় লাখ মানুষ অংশ নেয়। এর পাল্টা হিসেবে ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ সংগঠনের ব্যানারে প্রায় ৫ হাজার মানুষ রাস্তায় নামে। এ পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভের পরই প্রধানমন্ত্রী স্টারমার তার বক্তব্য দেন। তিনি জানান, পতাকাকে কখনোই ঘৃণা বা ভয়ের প্রতীক বানানো যাবে না, কারণ এটি যুক্তরাজ্যের বহুত্ববাদী সমাজের মূল পরিচয়। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবারের এ বিক্ষোভকে ঘিরে কেন্দ্রীয় লন্ডনে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইউনিয়ন জ্যাক ও ইংল্যান্ডের সেন্ট জর্জ পতাকার পাশাপাশি কিছু স্কটিশ সাল্টায়ার ও ওয়েলসের পতাকাও দেখা যায়। পুলিশের সঙ্গে কয়েক জায়গায় সংঘর্ষ হয়, যাতে ২৬ জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। এর মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার রোববার সাংবাদিকদের বলেন, মানুষের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার আছে, তবে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা কিংবা বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে মানুষকে আতঙ্কিত করা যাবে না। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্য সহনশীলতা, বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের পতাকা এ বৈচিত্র্যের প্রতীক, একে কখনোই সহিংসতা বা বিভেদের প্রতীক বানাতে দেওয়া হবে না।’ এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ব্যবসা মন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, মিছিলটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ হলেও এটি নেতাদের জন্য সতর্কবার্তা। তাঁর মতে, সমাজে অভিবাসনসহ বড় সমস্যাগুলো সমাধানে আরও মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তিনি সতর্ক করেন, টমি রবিনসনের মতো নেতারা সমাজে ক্ষোভকে উসকে দিয়ে বিভাজনকে গভীর করতে পারে। এদিকে মার্কিন প্রযুক্তি বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ভিডিও বার্তায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রতিরোধ করো, নইলে মরে যাও।’ তিনি ‘অসংযত অভিবাসন’ নিয়ে সতর্ক করে যুক্তরাজ্যে সরকার পরিবর্তনের ডাক দেন। তবে কাইল মাস্কের মন্তব্যকে ‘সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত’ বলে নাকচ করে দেন।
আলজেরিয়ার নতুন প্রধানমন্ত্রী ঘরিব
উত্তর আফ্রিকার গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ আলজেরিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সিফি ঘরিবকে নিয়োগ দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আব্দেলমাজিদ তেববুন। এ পরিবর্তনের লক্ষ্য দেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং অর্থনীতিকে আরও বহুমুখী করা। রয়টার্সের খবরে জানা যায়, গত রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট কার্যালয় সিফি ঘরিবকে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয়। এর আগে ঘরিব ছিলেন শিল্পমন্ত্রী এবং গত মাস থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের অংশ হিসেবে মুরাদ আজদালকে নতুন জ্বালানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, অর্থ, বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা আগের পদেই বহাল থাকবেন।
সিফি ঘরিব দীর্ঘদিন শিল্প খাতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং নীতিগত দিক থেকে অভিজ্ঞ হিসেবে পরিচিত। তেববুন যখন নাদির লারবাউইয়ের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব শেষ করেন, তখন থেকেই ঘরিবকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এবার তাকে পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে নতুন করে প্রধানমন্ত্রী করা হলো। অন্যদিকে নতুন জ্বালানিমন্ত্রী মুরাদ আজদাল আগে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ কোম্পানি সোনেলগাজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ছিলেন। তার এ অভিজ্ঞতা দেশটির জ্বালানি খাতে সংস্কার ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ইউরোপের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস সরবরাহকারী দেশ হিসেবে আলজেরিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক নজর সবসময়ই থাকে। তবে দেশটি কেবল জ্বালানি খাতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে তারা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটও মোকাবিলা করছে।
পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি নেপালের দলগুলোর
নেপালি কংগ্রেস, সিপিএম-ইউএমএল এবং মাওইস্ট সেন্টারসহ আটটি রাজনৈতিক দল বলেছে, প্রেসিডেন্ট পৌডেল পার্লামেন্ট ভেঙে অসাংবিধানিক কাজ করেছেন। খবরে বলা হয়, নেপালের বিলুপ্ত পার্লামেন্ট পুনর্বহালের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে দাবি জানিয়েছে দেশটির প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। দুর্নীতিবিরোধী প্রাণঘাতী প্রতিবাদের পর পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। বিবিসি জানিয়েছে, নেপালি কংগ্রেস, সিপিএম-ইউএমএল এবং মাওইস্ট সেন্টারসহ আটটি রাজনৈতিক দল এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল অসাংবিধানিক কাজ করেছেন। নতুন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান সুশীলা কার্কির সুপারিশের ভিত্তিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রেসিডেন্ট পৌডেল পার্লামেন্ট ভেঙে দেন। এটি নেপালের তরুণ আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। পার্লামেন্ট পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে প্রধান আট দলের চিফ হুইপরা স্বাক্ষর করেছেন। তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা অসাংবিধানিক এবং নেপালের বিচার বিভাগের স্থাপিত নজির লঙ্ঘন করেছে। তারা আরও বলেছে, আগামী বছরের ৫ মার্চের ঘোষিত নতুন নির্বাচনসহ আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। শনিবার পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট পৌডেল সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘অনেক কঠিন এবং ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান অর্জিত হচ্ছে। সংবিধান সচল আছে, পার্লামেন্টারি পদ্ধতি সচল আছে এবং ফেডারেল গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র এখনও বহাল আছে। ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জনগণের আরও কার্যকর গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আছে।’ নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর সোমবার ‘জেন-জি’ গোষ্ঠীগুলোর ডাকা বিক্ষোভ শেষ পর্যন্ত সহিংসতায় গড়ায় এবং ১৯ জন নিহত হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। কিন্তু টানা বিক্ষোভ ও সহিংসতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি সরকারের পতন হয়। দেশটির পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বিক্ষোভ-সহিংসতায় এক ভারতীয় নাগরিকসহ অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার নেপালের জেন-জি আন্দোলনকারী, প্রেসিডেন্ট রাম চন্দ্র পৌডেল এবং সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের মধ্যে আলোচনায় মতৈক্য হওয়ার পরই সাবেক প্রধান বিচারপতি কার্কিকে প্রধানমন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত হয়। কার্কি দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার একদিন পর শনিবার কর্তৃপক্ষ কাঠমান্ডু উপত্যকা ও দেশের অন্যান্য অংশ থেকে কারফিউ প্রত্যাহার করে নেয়। এ ঘোষণায় কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর দোকানপাট, সবজি বাজার ও শপিংমল খুলেছে, রাস্তায় ফের গাড়ির জট দেখা গেছে। দূরপাল্লার গাড়িও ছাড়ছে। অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা পেরিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে নেপাল।
বিশ্বের প্রথম ‘এআই-মন্ত্রী’ নিয়োগ দিলো আলবেনিয়া
আলবেনিয়ায় নাগরিকদের অনলাইনে সরকারি সেবা দিতে সহায়তা করা একটি ডিজিটাল অ্যাসিস্ট্যান্টকে বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি ক্রয় বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি কমাতে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ মন্ত্রীর নাম ডিয়েলা। আলবেনিয়ার ভাষায় যার অর্থ সূর্য। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এটি আলবেনিয়ার রাষ্ট্রীয় পোর্টাল ‘ই-আলবেনিয়া’র মাধ্যমে দেশটির ব্যবহারকারীদের সহায়তা করে আসছে। প্রায় ৯৫ শতাংশ নাগরিক পরিষেবা ডিজিটালভাবে অ্যাক্সেস করার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক কাজগুলোয় ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে সহায়তা করছে ডিয়েলা। গত ১১ সেপ্টেম্বর আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী এদি রামা বলেন, ‘এআই দিয়ে ভার্চুয়ালি তৈরি ডিয়েলা মন্ত্রিসভার প্রথম সদস্য। ডিয়েলা আলবেনিয়াকে এমন একটি দেশে পরিণত করতে সাহায্য করবে যেখানে সরকারি ব্যয় ১০০ ভাগ দুর্নীতিমুক্ত হবে।’
তিরানায় ক্ষমতাসীন সমাজতান্ত্রিক দলের সম্মেলনে টানা চতুর্থবার সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়ে এদি রামা বলেন, ই-আলবেনিয়া পোর্টালে আলবেনিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিহিত ডিয়েলা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার দায়িত্ব নেবে। তিনি বলেন, সরকারি টেন্ডারের বিজয়ীদের নির্ধারণের দায়িত্ব মন্ত্রণালয় থেকে ‘ধাপে ধাপে’ সরিয়ে নেয়া হবে এবং তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। এতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সরকারি ব্যয়ের সবকিছু ১০০ ভাগ স্বচ্ছ থাকবে। আলবেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার যেসব টেন্ডারের মাধ্যমে বেসরকারি কোম্পানির সাথে চুক্তি করবে, ডিয়েলা সেসব টেন্ডার পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করবে। তিনি আরো বলেন, তিনি এআইকে একটি সম্ভাব্য কার্যকর দুর্নীতিবিরোধী হাতিয়ার হিসেবে দেখেন যা ঘুষ, হুমকি ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব দূর করবে। দ্য গার্ডিয়ান।
গ্রন্থনা ও সম্পাদনা : আবদুল কাইউম খান