খিচুড়ি রহস্য
৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১৪:৫১
॥ তাহমিদুল্লাহ সারাসিনী ॥
বাগানটি চমৎকার মনোহর ও সমৃদ্ধ, আবার ঐশ্বর্যমণ্ডিতও। নাম জানা না জানা অসংখ্য অজস্র ফুলের মনমাতানো গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে রাজপ্রাসাদ। প্রাসাদের সুদৃশ্য, সুরম্য, সুদীর্ঘ ও সুউচ্চ অট্টালিকার আড়াল থেকে সকালের সূর্যটা আস্তে আস্তে উঁকি দিচ্ছে বাগানটায়; তাই তার স্নিগ্ধ আরক্ত সূক্ষ্ম রশ্মি এসে বাগানের ফুলগুলোর মাথা ছুঁয়ে বাগানটাকে ঝলমলিয়ে তুলছে।
এই স্নিগ্ধ পরিবেশে চারপাশটা যতই দেখার চেষ্টা করছে, ততই বিমোহিত হয়ে পড়ছে রাজপুত্র। সুদর্শন তার চেহারা, সুঠাম দেহ আর মাথার ওপর ঢেউ খেলানো চুলের বাহার। একেকটা ফুলকে সে গভীর মনোযোগের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে- হাতের ছোঁয়া দিয়ে শিহরিত করে তুলছে ফুলদের, নাকের কাছে এনে চোখ-মুখে গভীরভাবে তাদের সুঘ্রাণ নিচ্ছে প্রাণ ভরে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে ফুলগুলোর সৌন্দর্য আর মহান আল্লাহর সৃষ্টি নৈপুণ্যের বৈচিত্র্যে বিমুগ্ধ হয়ে পড়ছে।
এমন সময় হঠাৎ তার মনে হলো, এই মনমুগ্ধকর পরিবেশের উপস্থিতিতে যদি একটু বইয়ের প্রেমে আচ্ছন্ন হওয়া যায়, তবে দারুণ হবে। তাই দ্রুত পা ফেলে প্রাসাদের ভিতর প্রবেশ করে সোজা চলে গেল নিজের বিশাল লাইব্রেরিতে। হলঘরের মতো বিস্তৃত ও প্রশস্ত লাইব্রেরির রুমটি, নানা প্রকার বিচিত্র বইয়ে একদম ঠাসা। সেখান থেকে বেশ কিছুক্ষণ খুঁজে একটা চমৎকার বই নিল সে। রূপার তৈরি চেয়ারটা টেনে বাগানের সামনের খোলা রোয়াকে এসে বসল, তারপর গভীরভাবে মগ্ন হয়ে পড়লো বইয়ের অভ্যন্তরে যেভাবে ডুবুরিরা মণি মাণিক্যের জন্য ডুব দেয় গভীর অতল মহাসাগরে।
রোয়াকের পাশে একটা শিমুল গাছের ডালে বসে কয়েকটা বুলবুলি পাখি অবিরাম ঝর্ণার মতো নিরন্তরভাবে ডেকেই চলছে। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ সকালে ডাকা ঝুটিওয়ালা মোরগের মতো “মা! কোথায়?” বলে চিৎকার দিয়ে উঠলো যুবরাজ। অপরূপ মসলিন কাপড় পরিধায়ী রানি হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলে, “কী হয়েছে বাছা?! কোনো সমস্যা নয় তো?”
-‘আমি সোনাভাজা খেতে চাই, যা অতীব সুস্বাদু ও সুখাদ্য বলে এই বইতে লেখা আছে।’
-‘কী, সোনাভাজা?’, রানি বিনা মেঘে বজ্রাহত ব্যক্তির মতো প্রচণ্ড আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলো। ‘হ্যাঁ, সোনাভাজা এবং তা না পাওয়া পর্যন্ত আর একটি দানাপানিও আমার পেটে পড়বে না- এই বলে দিচ্ছি’। (চলবে)
লেখক : শিক্ষার্থী।