কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েছে সাপের উপদ্রব
৭ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০৬
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : সম্প্রতি কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসের আবাসিক হল ও একাডেমিক ভবন সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক বিষধর সাপের দেখা মিলেছে। সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলে আধাঘণ্টার ব্যবধানে খৈয়া, গোখরাসহ তিনটি বিষধর সাপ ধরা পড়ে। ঘটনার পর হলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে সাপে কাটার যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
ক্যাম্পাস সূত্রে সম্প্রতি একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, বিভিন্ন দোকানপাট এবং আশপাশের এলাকাগুলোয় কালাচ, কেউটে, পদ্ম গোখরা ও খৈয়া গোখরাসহ বিভিন্ন বিষধর সাপের উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে সাপে কাটার যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীসহ সবার মাঝে ভীতির মাত্রা বাড়িয়ে তুলেছে। অন্যদিকে মেডিকেল সেন্টারে সাপে কাটার প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যতীত অ্যান্টিভেনম ব্যবহারের অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছেন মেডিকেল কর্তৃপক্ষ। অ্যান্টিভেনম ব্যবহারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং সাপোর্টিভ চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুমোদন নেই বলে জানিয়েছে সূত্রে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ক্যাম্পাসে অ্যান্টিভেনম সরবরাহ করা এবং তা প্রয়োগের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এছাড়া ঝোপঝাড় পরিষ্কার ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নতি করে সাপের উপদ্রব কমানো উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আল ফিকহ এন্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, আবাসিক হলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিষধর সাপের দেখা মিলছে, যা সবার মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক। প্রশাসনের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার্থীসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মুহিব বলেন, এখন সাপের প্রজনন মৌসুম। লালন শাহ হলের বিভিন্ন ব্লকে (নিচতলা হতে শুরু করে চারতলা পর্যন্ত) প্রাণঘাতী বিষধর খৈয়া গোখরোর বাচ্চা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। রুমেও সাপ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার ডাক্তার সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের মেডিকেল প্রাইমারি সেন্টার হওয়ায় সর্পদংশনে কেউ এলে তাকে সাপোর্টিভ ট্রিটমেন্ট দিয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া এটি দেওয়া সরকারিভাবে নিষেধ হওয়ায় এখানে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের সুযোগ নেই।