৩১ অক্টোবর খুলনা অভিমুখে ১১ দলের লংমার্চ

অপশক্তি উসকানি দিলেও চরম ধৈর্য্য ও সংযমের সাথে আমরা লংমার্চ সফল করবো : মিয়া গোলাম পরওয়ার

সোনার বাংলা অনলাইন
৫ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৪৮

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চে যদি কোনো অপশক্তি উসকানি দেয় এবং অশান্তির চেষ্টা করে তবুও ১১ দলের নেতাকর্মীরা চরম ধৈর্য্য ও সংযমের সাথে লংমার্চ শান্তিপূর্ণভাবে সফল করবে।

সোমবার দুপুরে ৫ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলের লিঁয়াজো কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলনা আবদুল হালিম।

ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর শনিবার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে ঢাকা-খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া রুটে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে তৃতীয় দফার লংমার্চের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। চট্টগ্রাম ও রংপুরের লংমার্চ আল্লাহর রহমতে দেশবাসীর সহযোগিতায় সফল হয়েছে, আলহামদুল্লিাহ। ঢাকা থেকে খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ সফল করতে আবারও সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যার শিকার হয়ে গত ১ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সাথে দুর্ব্যবহার করা ও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে তাকে হেলমেট, জ্যাকেট ও হাতকড়া পরানো হয়েছে, রিমান্ড দেয়া হয়েছে। বৈঠকে এসবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে ১১ দলের নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে সরকার ও তার পেটুয়া বাহিনীর আক্রোশের শিকার হয়ে কুষ্টিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৈঠকে হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে দাবি জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের উপর নির্দয়ভাবে হামলা চালায় সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের কর্মীরা। নেতৃবৃন্দ এর তীব্র নিন্দা জানান।

গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা অভিমুখে সাত দফা দাবিতে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সরকার সংবিধান সংশোধনের নামে কমিটি করে যে নাটক মঞ্চস্থ করছে আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এ গণভোটের রায় মেনে নিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়, জুলাই সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার অনেক অপরাধীর বিচার হয়নি, তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার হচ্ছে তা এখনো কার্যকর করা হচ্ছে না। এজন্য জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একটি দাবি। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার , জ্বালনি সংকট নিরসন করতে হবে। এলপিজির দাম আবার বাড়ানো হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় চাল ডালের দাম বেড়েছে, পণ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। দ্রব্যমূল নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের অন্যতম দাবি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে সরকারের উচিৎ কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। নতুবা তাদের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করা। আমরা সবাই নিরাপত্তহীন হয়ে পড়ছি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, এখন আবার মিছিলে হামলা-বাধা, মিথ্যা মামলা এবং সেই ফ্যাসিবাদী কায়দা শুরু হয়েছে। সরকার সংকীর্ণ ও নির্লজ্জ দলীয়করণ করছে। উপর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের স্কুল, কলেজ কমিটি, হাট-বাজার কমিটি, এমপিদের বরাদ্দসহ প্রত্যেকটি জায়গায় দলীয় হস্তক্ষেপ চলছে। সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী এমপিদের বিরোধীদলীয় নির্বাচিত এমপিদের উপর খবরদারি করতে লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারি,আধা সরকারি বিভিন্ন পদে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির চিহ্নিত লোকদের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। বিসিএস ও প্রাইমারী স্কুলের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের নামে তাদের নিয়োগ না দিয়ে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়ার অপচেষ্টা চলছে। দুর্নীতি, দখল ও চাঁদাবাজি সারা দেশে চলছে। সরকারের ৭ মাসে তা বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন, আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখের লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেবেন। সকাল ৮টায় মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মাসেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, ফকিরহাট(বাগেরহাট), রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা। অতঃপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার জিলা স্কুল মাঠের সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।

পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা (সকাল ৯টা); বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড় (সকাল ১১টা); খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর (বেলা ১২:৩০) ও ফুলতলার বাসস্টান্ডের স্বাধীনতা চত্বর (দুপুর ২টা); যশোরের চাচড়ার মোড় (বিকেল ৩:৩০); ঝিনাইদহের চুয়াডাঙ্গা বাসস্টান্ডে (বিকেল ৫টায়) পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশে রাত সাড়ে ৮টায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।

তিনি বলেন, আমাদের লংমার্চ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। লংমাচের বহরকে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য পুলিশ প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ ও গোয়েন্দা বিভাগের সদস্য, পথচারী, দোকানদার, সড়ক পরিবহনের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, ট্রেড ইউনিয়নসহ সকলের কাছে অতীতের মতো আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। যদি কোনো অপশক্তি কোনো রকম উসকানি, অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে তারপরও চরম ধৈর্য্য ও সংযমের পরিচয় দিয়ে আমরা এগিয়ে যাবো, লংমার্চ সফল করবো। আমাদের কর্মীরা কোনো উসকানিতে পা দেবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, খুলনা বিভাগের কমিশনার, জেলা প্রশাসক, রেঞ্জ ডিআইজিসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করছি আমরা ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে এ রুটের সড়কগুলোর বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে চলাচল উপযোগী করার জন্য। লাখ লাখ মানুষ লংমার্চের বহরকে অভিবাদন জানাবে। এ কর্মসূচি আমাদের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকার।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাহ হোসেন মিয়াজী; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমীর আব্দুল মাজেদ আতহারী ও মহাসচিব মুসা বিন ইযহার; আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান ও মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম তালুকদার; জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসাইন; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম ও যুগ্ম মহাসচিব মো. হোসাইন আকন; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন ।