বিচার বিভাগে সরকারের হস্তক্ষেপের কারণে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন হয়নি : গোলাম পরওয়ার
৪ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:০৮
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রোবচার ৪ অক্টোবর বিকেল ৫টায় মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিমানবন্দরের ঘটনাকে উপলক্ষ করে রাজনৈতিক কারণে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেয়া জামিনযোগ্য মামলায় আদালতে তার জামিন নামঞ্জুর করা হয়েছে। এর পিছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানোর প্রতিবাদে রোবচার ৪ অক্টোবর বিকেল ৫টায় মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিমান বন্দরে অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে কথা বলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের ঘটনা সাধারণ কোনো বিষয় নয়। সরকারের নীতি নির্ধারণী জায়গা থেকে নির্দেশনা ছাড়া এটি ঘটতে পারে না। আখতারুজ্জামান জামায়াতে যোগ দেয়ার আক্রোশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বিমান বন্দরের অব্যবস্থাপনার বিষয়ে তিনি বলেন, বিমান বন্দরে ট্রলি পাওয়া যায় না। লাগেজ পেতে কয়েক ঘণ্টা দেরি হয়। জনাব আখতারুজ্জামান অনিয়মের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে পরে মামলা দেয়া হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারের মন্ত্রী মধ্যরাতে বিমানবন্দরে গিয়ে জাতির সামনে সেদিনের ঘটনা নিয়ে অসত্য কথা বলে শপথ ভঙ্গ করেছেন। মন্ত্রী সৎ হলে অব্যবস্থাপনার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেন, তাদের প্রত্যাহার করতেন এবং মামলা দিতেন; কিন্তু মন্ত্রী তা করেননি। বরং অব্যবস্থাপনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করা কর্মকর্তার দ্বারা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আখতারুজ্জামান সমাজে একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। অথচ তাকে হাতকড়া, হেলমেট ও জ্যাকেট পড়িয়ে আদালতে আনা হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আখতারুজ্জামানকে ডিভিশন দেয়া হয়নি। তিনি যে সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা- সে গেজেট আমরা আদালতে উপস্থাপন করেছি। তবুও তাকে ডিভিশন দেওয়া হয়নি। ৭৫ বছর বয়সী আখতারুজ্জামান অসুস্থ, কিন্তু তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা অবিলম্বে তার ডিভিশনের আদেশ কারাগারে পাঠানোর দাবি জানাচ্ছি। বিচারকরা ভয় পাচ্ছেন তাকে ডিভিশন দিলে তার কি না হয়, এর পিছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আদালতে বিএনপি আইনজীবীরা মব সৃষ্টি করেছে। আখতারুজ্জামানের আইনজীবীদের উপর হামলা চালিয়েছে, আমাদের নেতাকর্মী ও আখতারুজ্জামানের আত্মীয়স্বজন যারা তাকে দেখতে গিয়েছিলেন, তাদের উপর হামলা করেছে। আমরা ধিক্কার জানাই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগে আদালতে যে দৃশ্য করা হতো, যে ঘটনা ঘটানো হতো, আমরা তারই পুনরাবৃ্ত্তি দেখতে পাচ্ছি। আচরণের দিক থেকে কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আর এখনকার বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
তিনি বলেন, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদ সারা দেশে হচ্ছে। প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দারুণভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছে, প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে। তাকে মুক্তি না দিলে রেমিট্যান্স শাটডাউনের ঘোষণা দেবে বলেও হুমকি দিয়েছেন তারা। এসব বিবেচনায় নিয়ে আখতারুজ্জামানকে অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানান গোলাম পরওয়ার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মাওলানা আবদুল হালিম, এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের; কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ঢাকা উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত।